শুক্রবার, ২৩ অগাস্ট ২০১৯, ১০:৩৮ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ
কেন্দুয়ায় কৃষ্ণের জন্মাষ্টমীর র‍্যালী ও আলোচনা সভা মদনে ডিবি পুলিশের হাতে পাঁচ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক জামালপুরের ডিসি ও এক নারীর ভিডিও নিয়ে তোলপাড় আগৈলঝাড়ায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বর্র্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহে ক্রীড়া পল্লীতে জুয়া খেলার আসরে র‌্যাবের অভিযানে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা।  কেন্দুয়ায় বিদ্যুৎ স্পর্শে একজনের মৃত্যু আগৈলঝাড়ায় জন্মাষ্টমী উপলক্ষে গৈলা বাজার কির্ত্তন ও পূজা উদযাপন কমিটির শোভাযাত্রা বকশীগঞ্জে মিঞাবাড়িতে হামলার প্রতিবাদে এলাকাবাসীর সংবাদ সম্মেলন ও মানব বন্ধন শ্রীপুর থানা থেকে চুরি যাওয়া “মোটরসাইকেল” এসআই’র গাড়ি চালকসহ তিনজন গ্রেপ্তার। কেন্দুয়ায় সায়মা শাহজাহান একাডেমীর ৪তলা ভবনের ভিত্তি প্রস্থর শুভ উদ্বোধন




আগৈলঝাড়ায় ধানের বাম্পার ফলন হলেও শ্রমিক সংকটে ধান ঘরে তুলতে পারছে না কৃষকেরা

আগৈলঝাড়ায় ধানের বাম্পার ফলন হলেও শ্রমিক সংকটে ধান ঘরে তুলতে পারছে না কৃষকেরা




স্বপন দাস, বরিশাল বিভাগীয় ব্যুরোচীফ॥
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হলেও ধানের দাম কম, ধান কাটা শ্রমিক শংকটের কারনে ধান ঘরে তুলতে পারছে না কৃষকেরা। এ কারণে আগৈলঝাড়ার কৃষকরা তাদের ক্ষেতের ফসল ঘরে তুলতে না পারায় দুঃচিন্তায় ভুগছে। জমির পাকা ধান জমিতেই নষ্ট হওয়ার আশংকায় রয়েছে কৃষকরা। বাজার মনিটরিং না থাকায় উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে চাষিরা। চলতি মৌসুমের একমাত্র ফসল ইরি-বোরো পাকা ধানের ফলন ভালো হলেও ধানের দাম কম হওয়ায় গোপলগঞ্জ, ফরিদপুর, খুলনা, বাগেরহাট, শরণখোলা, রাজাপুর, মোড়েলগঞ্জ জেলা-উপজেলার ধানকাটা শ্রমিকরা আসবে না বলে জানিয়ে দেওয়ায় চরম বিপাকে পরেছে এ জনপদের চাষীরা। যদিও এরই মধ্যে ওই সব এলাকার কিছু সংখ্যক শ্রমিক ধান কাটার জন্য আগৈলঝাড়া এলাকায় আসলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা নগন্য। যারাও এসেছে তাদের অনেকেই ধানের দাম কম ও জমিতে বৃষ্টির পানি জমে যাওয়ার কারনে ধান কাটতে চাইছেন না। অনেকে আবার এসে জমিতে পানি দেখে ও ধানের দাম কম হওয়ায় নিজ এলাকায় ফিরে গেছেন। ধান কাটা শ্রমিকদের ৫-৬ ভাগায় ধান ও তিন বেলা খাবার দিতে হচ্ছে। আবার স্থানীয়ভাবে ধানের বাজার মূল্য পূর্বের চেয়ে কম হওয়ায় স্থানীয় শ্রমিকরা ধান কাটতে অনিহা প্রকাশ করছে। উফশি হাই ব্রীড জাতের ধান স্থানীয় বাজার মূল্য ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা ও ব্রী-২৯ জাতের ধানের বাজার মূল্য ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা। যা চাষীর উৎপাদন খরচের অর্ধেক। ধানের বাজার মূল্য কম হওয়া, শ্রমিক সংকট ও প্রতিকুল পরিবেশের কারনসহ সব মিলিয়ে উঠতি পাকা ফসল ঘরে তুলতে না পেরে কৃষকরা চরম হতাশাগ্রস্থ হয়ে পরেছেন। অনেক কৃষি পরিবারে দেখা গেছে, ধানকাটা শ্রমিক না পেয়ে স্ত্রী, ছেলে-মেয়েসহ পরিবারের লোকজন নিয়ে ধান কাটার প্রাণপন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কৃষকের কাছে আবহাওয়া অনুকুলে না থাকলে বৃষ্টি-বাদলের আশংকায় আতঙ্কিত হয়ে পরছে। তারা জানিয়েছে বৃষ্টি আসলে পাকা ধানের আর্ধেকও ঘরে তোলা সম্ভব হবে না। এদিকে প্রান্তিক চাষিরা তাদের “মরার উপর খরার ঘা” দাদন ব্যবসায়ী মহাজনদের দাদনের ধান ও সুদের টাকার চিন্তায় বিপর্যস্ত হয়ে পরেছেন। জানাগেছে, বেশিরভাগ প্রান্তিক চাষি স্থানীয় মহাজনদের কাছ থেকে মৌসুমের শুরুতে ১ হাজার টাকার লভ্যাংশে ১ মন ধান ও নগদ ১ হাজার টাকা হারে দাদন নিয়ে বেশী ফলনের আশায় উচ্চ মুল্যে বীজ ক্রয় করে বীজতলা তৈরীসহ চাষাবাদ করেছেন। জ্বালানী তেলসহ কৃষি উপকরণের মূল্য বৃদ্ধির কারণে কৃষকদের গত বছরের চেয়ে এ বছর উৎপাদন খরচ বেশী টাকা গুনতে হয়েছে।
চাষীরা জানান, এবছর প্রতি মন ধানের উৎপাদন খরচ হয়েছে ৮শ’ টাকা। কিন্তু বর্তমানে বাজারে প্রতি মন ধান বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেতে ৪৫০ টাকায়। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় দাদন ব্যবসায়ীদের টাকা ও ধান পরিশোধ করা নিয়ে হতাশায় ভুগছেন। ধানের বাজার মূল্য কম হওয়ায় শ্রমিকেরা ধান না কেটে অন্যান্য কাজে ঝুকে পড়ায় বর্তমানে ধান কাটা শ্রমিকের সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার বেশীরভাগ প্রান্তিক, ুদ্র ও বর্গা চাষীরা স্থানীয় দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা এনে পরিশোধ করার ব্যাপারে এখন চোখে অন্ধকার দেখছেন। বর্তমানে গোয়ালের গরু, স্ত্রীর গহনা বিক্রি করেই মহাজনের দাদনের টাকা সুদসহ পরিশোধ করতে হবে বলে একাধিক কৃষকরা জানিয়েছেন। উপজেলা কৃষি অফিসসূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় চলতি বছর ১০ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষ করা হয়েছে। তবে সরকার কৃষকদের জন্য ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণের ব্যবস্থা করলেও ব্যাংকিং সেক্টরের নিয়মনীতি সহ নানা জটিলতায় কৃষকরা ব্যাংক ঋণ নিতে না পেরে দাদন ব্যাবসায়ীদের কাছ থেকেই তাদের টাকা সংগ্রহ করতে হয়েছে। গত বছরের চেয়ে এবছর কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি হওয়ায় কৃষি উৎপাদন খরচ প্রায় দ্বিগুণ পরেছে। আর এ সুযোগে দাদনব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা আরও সম্প্রসারিত করেছে।
কৃষকদের অভিযোগ, উৎপাদিত ফসলের বাজার মূল্য এক শ্রেণীর মুনাফালোভী ব্যাবসায়ীরা নিয়ন্ত্রণ করলেও সরকার এখন পর্যন্ত বাজার মনিটরিং না করায় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *













©২০১৩-২০১৯ সর্বস্তত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | দুর্জয় বাংলা
Desing & Developed BY DurjoyBangla
error: Content is protected !!