শুক্রবার, ২৩ অগাস্ট ২০১৯, ০৯:৪৬ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ
জামালপুরের ডিসি ও এক নারীর ভিডিও নিয়ে তোলপাড় আগৈলঝাড়ায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বর্র্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহে ক্রীড়া পল্লীতে জুয়া খেলার আসরে র‌্যাবের অভিযানে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা।  কেন্দুয়ায় বিদ্যুৎ স্পর্শে একজনের মৃত্যু আগৈলঝাড়ায় জন্মাষ্টমী উপলক্ষে গৈলা বাজার কির্ত্তন ও পূজা উদযাপন কমিটির শোভাযাত্রা বকশীগঞ্জে মিঞাবাড়িতে হামলার প্রতিবাদে এলাকাবাসীর সংবাদ সম্মেলন ও মানব বন্ধন শ্রীপুর থানা থেকে চুরি যাওয়া “মোটরসাইকেল” এসআই’র গাড়ি চালকসহ তিনজন গ্রেপ্তার। কেন্দুয়ায় সায়মা শাহজাহান একাডেমীর ৪তলা ভবনের ভিত্তি প্রস্থর শুভ উদ্বোধন বারহাট্টায় শোক সভা বারহাট্টায় শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী পালিত




চাচাতো দুলাভাইয়ের মিথ্যা মামলায় শ্যালক সজীব কারাগারে

চাচাতো দুলাভাইয়ের মিথ্যা মামলায় শ্যালক সজীব কারাগারে




বিশেষ প্রতিনিধিঃ

গাজীপুর মহানগর ২১ নং ওয়ার্ডের কাউলতিয়া
সরকার পাড়া গ্রামে ক্রয় কৃত জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে আপন বড় ভাই মৃত তাহের হোসেন এর মেয়ের জামাই আবুল খায়ের তার চাচা শশুর তালেবর হোসেন,স্ত্রী মমতাজ বেগম ও ছেলে মেহেদী হাসান সজীব কে আসামী করে গাজীপুর মেট্রোপলিটন সদর থানায় বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং৩/১৭৩।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায় গত ২০/২/১৯ ইং তারিখ রাত ১১ টার দিকে তালেবের হোসেন, স্ত্রী মমতাজ বেগম,ছেলে সজীব সহ অজ্ঞাত ৭,৮ জন সন্ত্রাসী নিয়ে আবুল খায়েরের ক্রয় কৃত জমির ভেতর থাকা আকাশমনি গাছ কেটে নিয়ে চুরি করে নিয়ে যায়।

এবং ক্রয় কৃত জমির বাউন্ডারি দেয়াল ভেঙে ফেলার সময় আবুল খায়েরের শাশুড়ি নুরজাহান বেগম ( ৬৫) ও তার আপন শ্যালক মাহমুদুল হাসান সবুজ (২৭) খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দিলে শাশুড়ি ও শ্যালক সবুজকে প্রাণে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে।

শাশুড়ি নুরজাহান বেগমের সাথে থাকা প্রায় এক লক্ষ বিশ হাজার টাকা মূল্যের অলংকার গলার চেইন ও হাতের বালা ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
আবুল খায়েরের মামলার অভিযোগে আরও উল্লেখ করা আছে যে তালেবর ও তার ছেলে সজীব সহ সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলা কালে সবুজের মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করতে গেলে ডান হাত দিয়ে সবুজ প্রতিহত করার চেষ্টাকালে তার ডান হাত ভেঙে যায়।

জমি দখল হামলার ঘটনার দুই মাস পর ০২/০৪/১৯ ইং আবুল খায়ের বাদী হয়ে গাজীপুর সদর থানায় মামলা দায়ের করেন এবং পুলিশি হয়রানি করেন।

গত ৩০ শে মার্চ গাজীপুর আদালতে মামলার জামিন নিতে আসলে অভিযুক্ত তালেবর হোসেন ও তার স্ত্রী মমতাজ বেগম জামিন পেলেও অভিযুক্ত মেহেদি হাসান সজিবের জামিন না মঞ্জুর করেন আদালত এবং তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

জমি জবর দখল ও হামলার ঘটনার দুই মাস পর থানায় মামলা দায়েরের ঘটনা খটকা লাগায় সরোজমিনে কাউলতিয়া গ্রামে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে জানা যায় এরকম কোন ঘটনাই ঘটেনি।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দাদের তথ্য মতে জানা যায় ১৭৯৫ নং দাগের জমি চাচা শশুর তালেবের হোসেন ও তার আপন ভাতিজী সাথী আক্তার এবং জামাই আবুল খায়েরের দুজনের জমির বিক্রেতার মালিক দুজন।২০০০ সালে তালেবের হোসেনের কাছে মৃত আম্বিয়া বেগম তাঁর নিজ বাবার বাড়ি থেকে প্রাপ্য জমি বিক্রি করেন।

২০১৬ সালের আবুল খায়ের আম্বিয়া বেগমের বড় বোনের সন্তানাদির থেকে জমি ক্রয় করেন।

বিগত দেড় বছর আগে তালেবর হোসেন তার ক্রয় কৃত জমিতে বাড়ি করে বসবাস শুরু করলে আবুল খায়ের বাধা প্রদান করেন এবং তাকে ক্রয় কৃত জমি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা চালান।

যে জমি জবরদখল ও হামলার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে সেই জমিতে তালেবের হোসেন দেড় বছর যাবত তার দ্বিতীয় স্ত্রী মমতাজ বেগমকে নিয়ে বসবাস করছেন।

ওই জমির আশে পাশে বসবাসরত স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি ও আবুল খায়েরের কাছে জমি বিক্রেতার বোন নাসিমা খাতুন বলেন যে, তালেবের মামার বাড়ি ও আমার বাড়ি পাশাপাশি।এত বড় মারামারি ও গাছ চুরি হয়েছে আমরা কিছুই জানতে পারলাম না। আমরা তো এরকম ঘটনা কিছু শুনি নি, সজীবকে জেলখানায় পাঠানোর পর আমরা সব জানলাম।

আমাদের এলাকার জামাই থানায় সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলা করেছে আর সবুজের হাতই যদি ভাঙ্গতো তাহলে প্রতিদিন হোন্ডা চালাইয়া দোকানে কিভাবে গেছে। আমাদের এলাকায় এ ধরনের কোন ঘটনাই ঘটে নাই।

এলাকার স্থানীয় একাধিক মুরুব্বি বলেন যে আমাগো সজিবের মত পোলা হয় না। এত বড় হইছে কখনো কারো লগে মারামারি করে নাই, কারো সাথে খারাপ ব্যবহার করে নাই।জমির ঝামেলা লইয়া এলাকায় বইসা মীমাংসা করা যায় তো।
কিন্তু আপন চাচাতো ভাই রে মিথ্যা মামলায় জেলে পাঠাইয়া সবুজ কাজটা ঠিক করে নাই শুধু শুধু পোলাডারে জেল খাটাই তাছে।

মেহেদী হাসান সজীব জামিন না পেয়ে কারাগারে যাওয়ার পর থেকে তার বাবার তালেবর হোসেন ও বৃদ্ধা দাদী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

সজীবের পরিবারের সদস্যদের দাবি তাকে মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হোক।

এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব ইন্সপেক্টর ইমতিয়াজুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে এ মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন যে মামলার সুষ্ঠু ও সঠিকভাবে তদন্ত করছি, এখন কিছু বলতে পারব না। তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত জানাতে পারবো। ইমতিয়াজু্র রহমানের কাছে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করেছেন কিনা এবং স্থানীয় বাসিন্দারা এ ব্যাপারে কিছু জানেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন যে, মামলা দায়ের হয়েছে এখন তদন্ত করে দেখব।

আবুল খায়ের বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের পর ঘটনাস্থলে তদন্ত না করে কিভাবে মামলা দায়ের করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামলা নেয়ার দায়িত্ব আমার আছে কি ?

মামলা নেন ওসি স্যার। তিনি মামলাটি নিয়ে আমাকে তদন্ত করার দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি সঠিকভাবে তদন্ত করে আদালতে রিপোর্ট জমা দিবো।

এই মিথ্যা মামলায় একজন নির্দোষ ব্যক্তি জেল খাটছে, হয়রানির শিকার হচ্ছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন আমি সজীব কে গ্রেপ্তার করিনি। ছেলেটি আদালতে জামিনের জন্য আসলে বিচারক তাকে জেলে পাঠিয়েছে এর দায় আমার না, আমি কিছু জানি না।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *













©২০১৩-২০১৯ সর্বস্তত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | দুর্জয় বাংলা
Desing & Developed BY DurjoyBangla
error: Content is protected !!