রবিবার, ২৬ মে ২০১৯, ০৩:১৬ অপরাহ্ন

ব্রেকিং নিউজঃ
লেখা ও বিজ্ঞাপন আহব্বান, দুর্জয় বাংলা পত্রিকার আয়োজনে "ঈদ সংখ্যা" প্রকাশিত হবে।
সংবাদ শিরোনামঃ
মিরপুরে সন্তানকে পাঁচতলা থেকে ছুড়ে ফেলে হত্যাকারী ‘মা’ আটক বাংলাদেশ পুলিশে কনস্টেবল পদে ৯,৬৮০ জনকে নিয়োগ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে নিয়োগ বাকৃবি’র নতুন ভিসি নিয়োগের আলোচনায় জনশ্রুতির শীর্ষে রয়েছেন ড.লুৎফুল হাসান।  সৌন্দর্যের লীলাভূমি সিলেটের বিছনাকান্দি গোয়াইনঘাট উন্নয়ন ফোরামের বিভিন্ন আয়োজনে ইফতার মাহফিল সম্পন্ন পুলিশ মানুষের বন্ধু বলে বকশীগঞ্জে ৩টি চোড়াই গরু উদ্ধার আন্তঃজেলা পুলিশ সুপার হামদ/নাত,ক্বিরাত ও আযান প্রতিযোগীতার অনুষ্ঠানে-শিক্ষামন্ত্রী ঝিনাইদহের মহেশপুরে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক শেরপুরে রেজা ফাগুন হত্যার বিচার দাবীতে মানববন্ধন ও ৫ দিনের কর্মসূচী ঘোষণা।  




ধর্মপাশায় পৃথক সংবাদ সম্মেলন 

ধর্মপাশায় পৃথক সংবাদ সম্মেলন 




মো.ইসহাক মিয়া ধর্মপাশা প্রতিনিধিঃ আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় স্থানীয় এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের ছোট ভাই ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোজাম্মেল হোসেন রোকনসহ তার কর্মি সমর্থকদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলণ করেছেন আ.লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী শামীম আহম্মেদ মুরাদ।

গতকাল শুক্রবার বিকেল ৪টায় উপজেলা আ.লীগের দলীয় কার্যালয়ে স্থানীয় এমপির প্রভাব খাটিয়ে তাঁর ছোট ভাইয়ের কর্মি সমর্থকরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নৌকার কর্মি সমর্থকদের উপর হামলা, মারধর ও হুমকির প্রতিবাদে তিনি এ সংবাদ সম্মেলণের আয়োজন করেন।

সংবাদ সম্মেলণে নৌকার প্রার্থী শামীম আহম্মেদ মুরাদ তাঁর লিখিত বক্তব্যে বলেন, তিনি দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই তাঁর প্রতিদ্বন্দি ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও স্থানীয় এমপির ছোট ভাই মোজাম্মেল হোসেন রোকনসহ তাঁর কর্মি সমর্থকরা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ও হাট-বাজারে নৌকার কর্মি সমর্থকদের উপর হামলা, মারধর করাসহ তাদেরকে একের পর এক হুমকি দিয়ে আসছে।
এ ধরনের একাধিক ঘটনার উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, গত ৪ মার্চ দুপুরে উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের উত্তর বীর গ্রামের বাসিন্দা আলীম উদ্দিনসহ তার পরিবারের লোকজন আমার নৌকার পক্ষে কাজ করায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে তারা আলীম উদ্দিনের বাড়ি ঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে এবং আলীম উদ্দিন ও তার স্ত্রীকে গুরুতর আহত করে তারা। এমনকি স্থানীয় এমপি সাহেবের ক্ষমতাবলে তাঁর ছোট ভাইয়ের লোকজন এ পর্যন্ত উপজেলার রাজাপুর, রামদীঘা, বাবুপুর ও জলুষা গ্রামের কমপক্ষে আমার ১৫-১৬ জন কর্মি সমর্থককে আহত করেছে।

শামীম আহম্মেদ মুরাদ বলেন, স্থানীয় এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতন ও তাঁর ছোট ভাই স্বতন্ত্র প্রার্থী মোজাম্মেল হোসেন রোকন তাঁরা নির্বাচনী এলাকায় আমার জনপ্রিয়তা দেখে ঈর্ষন্বিত হয়েই তারা আমার নৌকার কর্মি সমর্থকদের উপর এ ধরনের অত্যাচার নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি তারা নির্বাচনের দিন ভোট কেন্দ্রে নৌকার এজেন্ট না হওয়ার জন্যও আমার অনেক কর্মি সমর্থককেও হুমকি দিচ্ছেন বলেও তিনি সংবাদ সম্মেলণে অভিযোগ করেন। এমতাবস্থায় আগামি ১০ মার্চ অনুষ্টিতব্য নির্বাচন সুষ্টু ও নিরপেক্ষ করার জন্য তিনি আইন শৃংখলা বাহিনীসহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেন।

এসময় সংবাদ সম্মেলণে উপস্থিত হয়ে নির্বাচন থেকে সড়ে যাওয়া আনারস প্রতীকের অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী ফখরুল ইসলাম চৌধুরী আনুষ্টানিকভাবে নৌকাকে সমর্থন জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলণে উপজেলা আ.লীগের সাবেক সভাপতি রফিকুল হাসান চৌধুরী, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মনিন্দ্র তালুকদার, উপজেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম আহম্মেদ, উপজেলা মুক্তিযুদ্ধা সংসদের কমান্ডার রুহুল আমিন তালুকদার,উপজেলা আ.লীগ নেতা হাফিজুর রহমান শেলী, মধ্যনগর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সজল কান্তি সরকার, ধর্মপাশা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক আল-আমিনসহ প্রায় শতাধিক নেতাকর্মি ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।

এ ব্যাপারে এমপির রতনের ছোট ভাই স্বতন্ত্র প্রার্থী মোজাম্মেল হোসেন রোকনের সাথে কথা বলার জন্য তাঁর ব্যবহৃত ০১৭১৬-৯৭০১১১ মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোনটি ধরেননি।

স্থানীয় সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন তাঁর বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বিকার করে বলেন, আমার ছোট ভাই স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও আমি প্রথমে দলীয় নেতাকর্মিদের নিয়ে নৌকার পক্ষে কয়েকটি মিটিং করেছি এটিত সবারই জানা। আর এর পর থেকেইতো আমি এলাকাতেই নেই। তবে যে দুইজন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করছে তারা দুইজনই আমার ছোট ভাই। ভোটে যেই নির্বাচিত হবে আমি তাকেই স্বগত জানাব।

এদিকে একই দিন সকাল ১১টার দিকে নৌকার প্রার্থী শামীম আহম্মেদ মুরাদের বিরোদ্ধে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন চেয়ারম্যান পদে মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন থেকে সড়ে যাওয়া অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহম্মেদ বিলকিস। থানা রোডস্থ তাঁর নিজ কার্যালয় ‘হাওর চোখে’ অনুষ্টিত সংবাদ সম্মেলণে তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, উক্ত নির্বাচনে আমি দলীয় মনোনয়ন পাওয়া জন্য বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের স্থানীয় সরকার নির্বাচনী বোর্ডের কাছে আবেদন করেছিলাম। আমার আবেদনের প্রেক্ষিতে মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনা ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাচনে চেযারম্যান পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে আমাকে মনোনীত করেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় সে ক্ষেত্রে আমি গভীর ষড়যন্ত্রের স্বীকার হয়েছি। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় বাংলাদেশ আ,লীগের সভানেত্রীর কার্যালয় ধানমন্ডি ৩/ই থেকে জনাব ইউনুছ চৌধুরী ৮৮০২৯৬৬৬৬৩০ নম্বর টেলিফোনে ফোন করে তিনি আমার নৌকা প্রতীকের নির্বাচনী এলাকার খোঁজ খবর নেন। তখন আমি তাঁকে বলি যে নৌকা প্রতীক আমাকে দেওয়া হয়নি। সেটি দেওয়া হয়েছে শামীম আহম্মেদ মুরাদকে। তখন তিনি হতবম্ভ হয়ে আমাকে বলেন এটা ঠিক নয় নৌকা প্রতীকে দল থেকে আপনাকেই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
বিলকিস আরো বলেন, আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে এ ব্যাপারে লিখিতভাবে অভিযোগ জানিয়ে আমি এর সুষ্ট বিচার চাইব।

এব্যাপারে আ.লীগ মনোনীত প্রার্থী শামীম আহমেদ মুরাদ এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে বলেন, এই মূহুর্তে আমার বিরুদ্ধে যেসব অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে তা নির্বাচনে আমার কর্মি সমর্থকদের বিভ্রান্ত করা ছাড়া আর কিছুই নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *













©২০১৩-২০১৯ সর্বস্তত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | দুর্জয় বাংলা
Desing & Developed BY DurjoyBangla