বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৬:০০ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ




প্রকৃতির রূপসজ্জায় সজ্জিত বাংলার আমাজন রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট, এ যেন এক ভূ-সর্গ

প্রকৃতির রূপসজ্জায় সজ্জিত বাংলার আমাজন রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট, এ যেন এক ভূ-সর্গ




রিয়াজুল ইসলামঃ-এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি, সকল দেশের রাণী সে যে আমার জন্মভূমি।

কবি জীবনানন্দ দাশের রূপসী বাংলা। পল্লীকবি জসীমউদ্দিন এর সোনার বাংলা। কবি আল মাহমুদের বাংলাদেশ। আরো শত শত প্রকৃতিপ্রেমী কবির এই প্রিয় মাতৃভুমি বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশ সত্যিই এক রূপসী কন্যা। ৫৬ হাজার বর্গমাইল শুধু সবুজের সমারোহ। নদী, পাহাড় আর গ্রামের সবুজের সংমিশ্রণে এক অন্য রকম বাংলাদেশ। এর প্রতিটি পরতে পরতে শুধু সৌন্দর্য লুকায়িত আছে। তেমনি এক অবারিত সৌন্দর্যের আধার সিলেটের সিমান্ত জনপদ গোয়াইনঘাট উপজেলার ৬ নং ফতেহপুর ইউনিয়নে অবস্থিত ‘রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট’। বাংলাদেশের একমাত্র সোয়াম্প ফরেস্ট বা বাংলার আমাজন।

‘রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট’ এর নিজস্ব কিছু স্বকীয়তা রয়েছে। এর চারিদিকে শুধু পানি আর পানি আর মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে সবুজের অভয়ারণ্য। একদিকে পানি তৈ তৈ করে আবার অন্যদিকে নানা রকম বৃক্ষ। এ যেন এক অন্যরকম দৃশ্য। মনে হয় সবুজের আচ্ছাদনে ঘেরা। রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট মনে হয় যেন কোন নির্জন দ্বীপ। এই দ্বীপের মধ্যখানে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে গাছ আর গাছ। নৌকা করে যখন কেউ ঘুরাঘুরি করে তখন তার কাছে সেই দৃশ্যটা অপরূপ লাগে। এই বনের ভিতর বেত, কদম, হিজল, মুর্তাসহ নানা জাতের জলজ গাছ রয়েছে। যা বনের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।

রাতারগুল জলারবন সিলেট শহর থেকে ২৬ কিঃমিঃ দূরে। গোয়াইনঘাট উপজেলার ৬নং ফতেহপুর ইউনিয়নে গুয়াইন নদীর দক্ষিণে এই বনের অবস্থান। বনের দক্ষিণ দিকে রয়েছে দুটি হাওর। রাতারগুলের টাওয়ার থেকে দূরের হাওর দেখতে সত্যিই অসাধারণ মনে হয়। এ বনের আয়তন ৩, ৩২৫, ৬১ একর। এর মধ্যে ৫০৪ একর জায়গাকে ১৯৭৩ সালে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসাবে ঘোষণা দিয়েছে। রাতারগুলে বর্ষা মৌসুমে পুরোপুরি পানি থাকে। যখন পুরো পানি থাকে তখন এর আসল সৌন্দর্য অবলোকন করা যায়।

সিলেটকে প্রকৃতি তার দু-হাত ভরে অপরূপ সৌন্দর্য ঢেলে দিয়েছে। বাংলাদেশের ভ্রমনপিপাসু মানুষদের জন্য এক চমৎকার স্থান হচ্ছে সিলেট। সিলেটে প্রায় ১২ মাস পর্যটনকদের ভিড় লেগেই থাকে। জাফলং, বিছনাকান্দি, পান্তুমাই, লালাখাল, খাসিয়া পল্লি, মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, হামহাম জলপ্রপাত, শ্রীমঙ্গল, লাউয়াছড়া চা বাগান সহ আরো অনেক পর্যটন স্পট রয়েছে এই সিলেটে। বাংলাদেশ সরকার সিলেটকে পর্যটন নগরী বলে অভিহিত করেছিল কয়েকবছর আগে। বিভিন্ন মিডিয়ায় রাতারগুলের বিচিত্র সবুজ শ্যামল সুন্দর চিত্র দেখে ভ্রমণপিপাসু মানুষের ভিড় দিন দিন বেড়েই চলছে। প্রায় মানুষ এখন রাতারগুল দেখতে আসে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে। অনেকে তাদের পরিবার নিয়েই এখানে আসে। পরিবার নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর একটি চমৎকার জায়গা এই বন। বেশিরভাগ তরুণতরুণী এখানে আসেন প্রকৃতির এই অবারিত সুন্দরতা উপভোগ করার জন্য।

সিলেট শহর থেকে রাতারগুলে যাওয়ার জন্য দুইটি রাস্তা রয়েছে এয়ারপোর্ট রোড হয়ে যাওয়া যায় আবার হরিপুর এর রাস্তা দিয়েও রাতারগুল যাওয়া যায়। সিলেট শহরের আম্বরখানা থেকে সিনএনজি করে সরাসরি রাতারগুল স্পটে যাওয়া যায়। রাতারগুল স্পটে যাওয়ার পর সেখানে নৌকা পাওয়া যায়। সেখানে কোন মেশিনের শব্দ করে এমন ডিঙি ব্যবহার করা নিষেধ, যাতে বনের পরিবেশ নষ্ট না হয়। এছাড়া সেখানে নীরবতা বজায় রাখা পর্যটকদের দায়িত্ব। বনের কোন ক্ষতি হয় এমন কোন এহেন কাজ করা উচিত নয়। এ পর্যন্ত অনেক প্রাণী বিলুপ্তির পথে। তাই পর্যটকমহল এর এ ব্যাপারে সচেতন থাকা উচিত।

আমি নিজেও একজন প্রকৃতি প্রেমী। সময় পেলেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যাই। বিশেষ করে এই উপজেলায় বাড়ী এবং সংবাদকর্মী হওয়ার সুবাদে গোয়াইনঘাটের প্রত্যেকটি পর্যটন স্পটে প্রায়ই যাতায়াত হয়। গতকাল হঠাৎ আমরা ৩ জন মিলে আমাদের সহকর্মী সাংবাদিক শরীফ সালিহীন এর বাড়ীর পাশেই দেশের সেরা পর্যটনকেন্দ্র রাতারগুলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হল। আমি আমার বন্ধু সাংবাদিক কাওছার আহমেদ রাহাত, ছোট ভাই সংবাদকর্মী সাজিদুল ইসলাম ইয়াহইয়া সহ আমরা মোট ছিলাম ৪ জন। ১০ জুলাই…. দুপুরে বাইক নিয়ে আমরা রওয়ানা হলাম বিশ্বের ২২ টি সোয়াম্প ফরেস্টের একটি বাংলাদেশের আমাজন খ্যাত রাতারগুলের পথে।

গুড়িগুড়ি বৃষ্টির মাঝে বাইক নিয়ে আমরা পৌছে গেলাম রাতারগুল আমাদের সহকর্মী সাংবাদিক শরীফ সালেহীন এর বাড়ী, সেখানে চা নাস্তার পর উনাকে সাথে নিয়ে আমরা পৌছলাম নৌকা ঘাটে। সেখান থেকে নৌকার মাঝি ইবরাহীম আলী চাচা কে নিয়ে আমরা ঘুরে বেড়ালাম এই অনিন্দ্যসুন্দর এই জলারবনে।

বনের ভিতর আমরা প্রায় ২/৩ ঘন্টা মনের সুখে আড্ডা আর নানা খোশ গল্প করে শেষে ফিরে এলাম রাতারগুলের অনিন্দ্যসুন্দর দৃশ্য ফেলে। ফেরার সময় প্রতিমধ্যে বন্ধু জহিরের আমন্ত্রণে চৌমুহনী বাজারে তার ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে ফ্রুটো আর কোকোনাট বিস্কুটের মাধ্যমে দুপুরের নাস্তা শেষ করেই আমরা ফিরলাম নিজ নিজ গন্তব্যে। পিছনে রেখে এলাম রূপময় রাতারগুল! আমাদের বাইক যখন হুহু করে সামনের দিকে আসছিল আমার তখন রাতারগুলের লোভনীয় দৃশ্যগুলোর চিত্র চোখের সামনে ভেসে আসছিল।

ঘুরে এলাম এলাম প্রকৃতির অপার রূপসজ্জায় সজ্জিত বাংলার আমাজন রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট। প্রকৃতি প্রেমীরা আমাদের মত একটু অবকাশ পেলেই ঢুঁ মারবে রাতারগুলের এই রূপসীকন্যার তীরে এটাই আমার একান্ত কামনা।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন অসীম কুমার উকিল

পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন অধ্যাপক অপু উকিল







আজকের নামাজের সময় সূচী

সেহরির শেষ সময় - ভোর ৪:২৭
ইফতার শুরু - সন্ধ্যা ৬:০৬
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:৩২
  • ১১:৫৭
  • ৪:১৯
  • ৬:০৬
  • ৭:২০
  • ৫:৪৪
©২০১৩-২০১৯ সর্বস্তত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | দুর্জয় বাংলা
Desing & Developed BY DurjoyBangla