রবিবার, ২১ Jul ২০১৯, ০১:০৭ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ
কেন্দুয়ায় বিদ্যুৎস্পর্শে এক ব্যক্তির মৃত্যু মদনে নৌকা থেকে পড়ে গিয়ে সবজি বিক্রেতার মৃত্যু জামালগঞ্জে বজ্রপাতে নিহত দুই পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান সুনামগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে পুড়ানো হলো তিনটি ড্রেজার মেশিন জামালগঞ্জে জন্মনিবন্ধন জালিয়াতি ও অশ্লীল ভিডিও রাখার দায়ে ভ্রাম্যমান আদালতের জরিমানা সৈয়দপুরে অসামাজিক কার্যকলাপের দায়ে ৩ জনের বিনাশ্রম কারাদন্ড শহিদুল ইসলাম ডিগ্রী কলেজ ২য় বার ঝিনাইদহ জেলার শ্রেষ্ঠ কলেজ নির্বাচিত নীলফামারীতে যুব মহিলা লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত রাজারহাটে অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ আটক- ২ নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলে একটি মৎস্য গবেষনা ইনষ্টিটিউট গড়ে তোলা হবে- মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু




শেরপুরের সীমান্তবর্তী উপজেলা ঝিনাইগাতীতে পাহাড়ি ঢলে হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দী

শেরপুরের সীমান্তবর্তী উপজেলা ঝিনাইগাতীতে পাহাড়ি ঢলে হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দী




মোহাম্মদ দুদু মল্লিক ঝিনাইগাতী প্রতিনিধিঃ

শেরপুরের সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলায় গত চার দিনের পাহাড়ি সীমান্তবর্তী আষাঢ় মাসের প্রবল বৃষ্টি বর্ষণে ও সীমান্তের ওপার থেকে আসা পাহাড়ী ঢলে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের নিম্নঅন্চলে প্রায় ২০ গ্রামের হাজার হাজার পরিবারের ঘর-বাড়ি প্লাবিত হয়ে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

প্লাবিত গ্রাম গুলোর কাঁচা ঘর-বাড়ি, রাস্তাঘাট, রোপা আমন ধানের বীজতলা, সবজি, পুকুরের মাছ পানিতে তলিয়ে গেছে। এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে সদর ইউপি চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন চাঁন বলেন, গত চার দিন ধরে ঝিনাইগাতী সীমান্তঅন্চল ঝিনাইগাতী উপজেলায় থেমে থেমে ও মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। সেই সঙ্গে সীমান্তের ওপার সীমান্তের উজান থেকে আসা পাহাড়ী ঢলে ঝিনাইগাতী সদর, ধানশাইল, মালিঝিকান্দা, হাতিবান্দা, গৌরিপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের প্রায় দশ হাজার পরিবার পানিবন্দী রয়েছে। তবে তার ইউনিয়নের আটটি গ্রামের সিংহভাগ পরিবার পানিবন্দী রয়েছে। এসব গ্রামের রোপা আমন বীজতলা, সবজি, পুকুরের মাছ পানিতে তলিয়ে গেছে।ধানশাইল ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল, গৌরিপুর ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান মন্টু, মালিঝিকান্দা ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম তোতা জানান, তাদের ইউনিয়ন গুলোর প্রায় ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে আমন ধানের বীজতলা, পুকুরের মাছ পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দীও রয়েছে কয়েক হাজার পরিবার।৬ নং হাতীবান্ধা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নুরুল আমিন দোলা জানান আমার হাতীবান্ধায় অনেক পুকুর তলিয়ে গেছে এবং কি আমার নিজের দুইটা মাছের প্রজেক্ট তলিয়ে বড় ধরনের ক্ষতি সাধন হয়েছে। সদর ইউনিয়নের কালিনগর গ্রামের গৃহবধু রসুনারা বেগম বলেন, গতকাল রবিবার ও আজ সোমবার দুইদিন ধরে ঘরের মেঝে ও চুলায় পানি উঠেছে। তাই রান্না বান্নাও করতে পারছিনা শুকনা খাবার খাচ্ছি। পোলা-পান (বাচ্চা) নিয়ে শুকনো খাবার খেয়ে বেচে আছি। তবে গৃহপালিত পশুগুলো শুকনো খড় ছাড়া অন্য কোন খাদ্য খেতে পায়নি। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধির পক্ষ থেকে তাদের কোন খোঁজ-খবর নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন। সারিকালিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সোমাইয়া, ফয়সাল জানান, বৃষ্টি ও ঢলের পানির জন্য গত তিন ধরে বিদ্যালয়ে যেতে পারছেন না। সড়িকালিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা স্বপ্না বেগম বলেন, তার বিদ্যালয়ে পানি প্রবেশ করায় বিদ্যালয়ের কার্যক্রম বন্ধ ছিল বৃহস্পতিবার।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, ঢলের পানিতে ১৫ হেক্টর জমির সবজি ও ২৫ হেক্টর রোপা আমন ধানের বীজ তলা নিমজ্জিত আছে। আজকে ( বৃহস্পতিবার) মধ্যে পানি নেমে না গেলে ক্ষতির সম্ভাবনা বেশি হবে বলে জানান তিনি । উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু সিরাজুস সালেহীন বলেন, ১০ থেকে ১৫ হেক্টর জমির ৫০ থেকে ৬০টি মাছের প্রজেক্ট পানিতে তলিয়ে গেছে আমার জানা মতে বৃষ্টির পরিমাণ আরো বেরে গেলে ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবেল মাহমুদ বলেন,আনুমানিক ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দী রয়েছেন। তবে আজকের মধ্যে পানি নেমে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে জানান তিনি।

উপজেলা চেয়ারম্যান এসএমএ আব্দুল্লাহেল ওয়ারেজ নাইম বলেন, আমি বেশ কিছু এলাকা পরিদর্শন করেছি। পাঁচটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের ১০ থেকে ১২ হাজার মানুষ পানিবন্দী রয়েছে আমি প্রতিটি গ্রামে নিজে যাওয়ার চেষ্টা করছি খুজ খবর নিতে, প্রশাসনের সাথেও কথা বলেছি। অবস্থার উন্নতি না হলে বন্যার্তদের মাঝে শুকনো খাবারসহ তাদের জন্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *













©২০১৩-২০১৯ সর্বস্তত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | দুর্জয় বাংলা
Desing & Developed BY DurjoyBangla
error: Content is protected !!