বুধবার, ২৬ Jun ২০১৯, ০১:০৭ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ
ঠাকুরগাঁওয়ে চালসহ ট্রাক চুরি ঘটনায়  ফিলিং স্টেশন বন্ধ করে দিয়েছে শ্রমিকরা নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মহিলা ইউপি সদস্য বিউটি আক্তার কুট্টিকে কুপিয়ে হত্যা সুনামগঞ্জে দুই উপজেলায় দুই লাশ উদ্ধার সুনামগঞ্জে সপ্তম শ্রেণির স্কুলছাত্রী অপহরণের ঘটনায় নারী আসামী গ্রেফতার রাজারহাটে স্কুল শিক্ষক মনিবুলের লটকন চাষে সাফল্য নীলফামারীতে নতুন জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চৌধুরীর যোগদান জৈন্তাপুরের স্কুল ছাত্র শামীম বাঁচতে চায় ডিআইজি মিজানুর রহমানকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। মুক্তাগাছা টু ময়মনসিংহ রুটে বিআরটিসি বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী  পিসি রোড নিমতলায় ৭৫ কোটি টাকার জায়গা উদ্ধার করলো চসিক ভ্রাম্যমান আদালত




সংবাদপত্রের একাল ও সেকাল তখন সংবাদ পাঠাতাম খোলা ডাকে

সংবাদপত্রের একাল ও সেকাল তখন সংবাদ পাঠাতাম খোলা ডাকে




সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মাঃ

আশির দশকে আমরা যারা কেন্দুয়ায় সংবাদকর্মী ছিলাম তারা সবাই সংবাদ পাঠাতাম ডাক ঘরের মাধ্যমে খোলা ডাকে। আর এখন সেই সংবাদ পাঠাই ই-মেইল ইন্টারনেটের মাধ্যমে। এখন সংবাদপত্র ছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক খবরাখবর মুহুর্তেই প্রচারিত হয়। কিন্তু আগে এই সুযোগটি ছিলনা। এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কতকিছু লিখা হয় তা বলে শেষ করা যাবেনা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি ব্যবহারের অবাধ স্বাধীনতা আছে। কিন্তু এই অবাধ স্বাধীনতাকে পুঁজি করে অনেক ভালো লিখার পাশাপাশি অনেকেই যা ইচ্ছে তাই লিখে থাকেন। বানান ভুল, শব্দচয়ন, ছন্দপতন, অপ্রাসঙ্গিক অনেক কিছু লিখা হয়ে থাকে। আবার এই লিখার জন্য অনেকেরই শাস্তিও হচ্ছে। কিন্তু আগের দিনে সংবাদপত্রে যা ইচ্ছা তাই লিখা যেতনা। প্রকাশিত সংবাদের গুরুত্বও ছিল অনেক বেশি। কোন অনিয়ম দূর্ণীতির বিষয়ে বস্তু নিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশিত হলে চারিদিকে হৈচৈ পড়ে যেত। যারা দূর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকতেন তাদের কঠিন শাস্তি পেতে হতো। আবার ভুল সংবাদ প্রকাশিত হলে এটির জন্যও সংবাদ কর্মীদের দুঃখ প্রকাশ সহ অনেক বড় মাশুল দিতে হতো।
একটু পেছনের কথা বলি। ১৯৮০ সালে আমার এস.এস.সি পরীক্ষা দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু অনেক চড়াই উৎড়াই পেড়িয়ে ১৯৮৪ সনে গন্ডা দ্বিমুখি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস.এস.সি পাশ করেছি। এই পরীক্ষা দেয়ার সুযোগটি যিনি আমাকে সৃষ্টি করে দিয়েছেন তার ঋণ আমি সারা জীবনেরও শোধ করতে পারবনা। তিনি হলেন, গন্ডা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষাক জনাব তফিল উদ্দিন স্যার। ১৯৮০ সালে এস.এস.সি পরীক্ষার ঠিক ১৫ দিন আগে আমি টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হই। বসবাস করি জন্মস্থান চিরাং ইউনিয়নের গোপালাশ্রম গ্রামে। ৩-৪ মাস বিছানায় শুয়ে ছিলাম জ্বরের প্রতাপে। জীবন প্রদীপ প্রায় নিভু নিভু। তবুও সুন্দর পৃথিবীতে বাঁচার আকুতি ছিল আমার অনেক। জ্বরের কারণে মাথার সব চুল উঠে গিয়েছিল। সারাক্ষন হাত, পা, শরীর কাপত। চোখেও দেখতাম ঝাপসা। অনেক চিকিৎসার পর কিছুতেই ভাল হচ্ছিলনা শরীর। তাই আমার আশা একরকম ছেড়েই দিয়েছিল সবাই। মা বাবা ভাই বোন সহ গোপালাশ্রম গ্রামে প্রাকৃতিক পরিবেশে বসবাস করতাম। আমার জন্ম বাবার ডায়রী থেকে তুলে এনেছি ১৯৬৩ সনে। কিন্তু এস.এস.সি পরীক্ষার সনদপত্রে জন্ম তারিখ লিপিবদ্ধ হয়েছে ১৯৬৮ সনের ৩০ নভেম্বর। আমরা পাঁচ ভাই ও তিন বোন, ভাইদের মধ্যে আমি দ্বিতীয়। জ্বরে আমার হাত বাঁশির মতো চিকন হয়ে গিয়েছিল। বুকের কড়া ভেসে জীর্ণশির্ণ দেহে আস্তে আস্তে কথা বলতাম। তবে এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকার জন্য বিছানায় শুয়ে শুয়ে কেঁদে কেঁদে পরম করুনাময় দয়ালের কাছে আকুতি জানাতাম। হে দয়াল তুমি আমাকে বাঁচতে দাও, আমি তোমার সুন্দর পৃথিবীতে বাঁচতে চাই। আমার মা বাবা আত্মিয় স্বজন সবাই আমার জন্য খুব চেষ্ঠা করেছেন। আদমপুর হাসপাতালে বড় বড় ডাক্তারগণ চিকিৎসা করতেন। কিন্তু ভালো হচ্ছিলনা রোগ। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে বেদনা দায়ক যে বিষয় তা হলো ডাক্তারদের পরামর্শে আমাকে ভাত খেতে দেয়া হয়না। গ্রামের ডাক্তার ধীরেন্দ্রনাথ সরকারের ছেলে ডাক্তার বরুণ কান্তি সরকার ডাক নাম কানন বাবু। তিনি বেড়াতে গিয়েছিলেন কলকাতায়। যে কারনে আমার চিকিৎসা অন্যেরা করেছেন। তিনি বাড়িতে এসেই আমাদের বাড়িতে গেলেন বেড়াতে। আমার বাবার সঙ্গে খুব ভাল সম্পর্ক ছিল। বাবাকে ডাকতেন গৌরাঙ্গ দা বলে। বাড়িতে গিয়ে তিনি আমাকে দেখেই আশ্চর্য হয়ে বললেন সমরেন্দ্রর কী হয়েছে? বাবা বললেন টাইফয়েড জ্বর। আমাকে কী ঔষধ খাওয়ানো হচ্ছে তা তিনি জানতে এবং দেখতে চাইলেন। ঔষধগুলো দেখে সব বাদ দিয়ে তিনি আমাকে নতুন ঔষধ খেতে বললেন। খাবার বিষয় জানতে চেয়ে তিনি জানলেন আমাকে ভাত খেতে দেয়া হয়না। সঙ্গে সঙ্গে তিনি রাগান্বিত হয়ে বললেন, এক্ষনি তাকে ভাত খেতে দাও। আমদের ঘরে সারা বছর দই দুধ থাকত। একটি গাভী ছিল শুক্কুর আলী ভাই এই গাভীটির লালন পালন করত। ৩ থেকে ৫ সের দুধ দোহন করা যেত। কিন্তু শুক্কুর আলী ভাই এক ফোটা দুধও খেতনা। আমার সামনে দই দিয়ে ভাত এনে দিল মা। ভাত দেখেই আমার জীবনটা ফিরে এল। এর পর দিন থেকে ছোট ছোট মাছ, শিং মাছের ঝুল খেতে শুরু করলাম। আস্তে আস্তে শরীরে শক্তি সঞ্চয় হতে লাগল। আমি এভাবেই কানন কাকার চিকিৎসায় এবং পরম করুনাময়ের অশেষ দয়ায় বেঁচে গেলাম আজও আছি। যাকগে সে কথা।
মূলত যে কথা বলছিলাম আশির দশকে সংবাদ পাঠাতাম খোলা ডাকে। অর্থাৎ ১৯৮৫ সনে কেন্দুয়া কলেজে ভর্তি হই। বাড়ি থেকে হেটে হেটে কলেজে আসি। কলেজে আসার পথে প্রায় দিনই গোপালাশ্রম গ্রামের কৃতি সন্তান প্রয়াত সাংবাদিক রমেন দত্ত যিনি দৈনিক গণকণ্ঠের সহকারি সম্পাদক ছিলেন, তাঁর কাছ থেকে সাহিত্য সংস্কৃতি এবং সাংবাদিকতার কথা শুনে অনুপ্রানিত হতাম। তাছাড়া ইতিহাসের পাতায় কেন্দুয়া গ্রন্থের প্রণেতা খন্দকার শফিকুল ইসলাম তিনিও আমাকে লেখালেখির জন্য অনেক প্রেরণা দিতেন। এছাড়া কলেজের ক্লাস শেষ করে সন্তোষদার এখানে বসতাম। সন্তোষ দা একজন আর্টিষ্ট ছিলেন। এর পাশাপাশি তিনি থানার দরখাস্তও লিখে দিতেন এবং ফাঁকে ফাঁকে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় সংবাদ পাঠাতেন। তার মুখ থেকেই আলোচনা শুনে বিভিন্ন পত্রিকায় শুরু হয় চিঠিপত্র কলামে লেখালেখি। কিন্তু সন্তোষ দা আমাকে সরাসরি মানা না করলেও তিনি আমাকে যে কথাটি বলতেন। সাংবাদিকতা খুব কঠিন পেশা, মহৎ পেশা এই পেশায় টিকে থাকা মফস্বল এলাকায় খুবই কঠিন। আর সত্য কথা লিখতে গেলে সবাই শত্রু হয়ে পড়ে। ছোট এলাকা, তিনি বলতেন, আমি লেখা লেখি করে বেশ কয়েকবার কঠিন সমস্যা মোকাবেলা করেছি। এখন সাবধানে পথ চলি। সন্তোষ দার পাশাপাশি দৈনিক আজকের বাংলাদেশ পত্রিকায় লেখালেখি করতেন আনিসুর রহমান আঞ্জু ভাই। সে সময় সাহিত্য সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ও সাংবাদিকতায় ছিলেন অধ্যাপক রনেন সরকার, আব্দুস সাত্তার ভাই, আনিসুর রহমান আঞ্জু, সৈয়দ নুরুর রহমান, শরীফ কায়সার রাজা, লাভলু পাল চৌধুরী, রেজাউল করীম সেলিম, এডভোকেট আব্দুর কাদির ভূঞা, জয়নাল আবেদিন, আব্দুল লতিফ ভূঞা, সৈয়দ আবু রাগেব সাজেদ, দুজাহান তালুকদার, শাহজাহান মিয়া, সালেহ আহম্মদ, ফকির আনোয়ার হোসেন সহ আরো অনেকেই। স্বরচিত কবিতা ও ছড়া নিয়ে সাপ্তাহিক আড্ডা হত প্রত্যাশা সাহিত্য গোষ্ঠীর কার্যালয়ে। এছাড়া খেলাঘরের শাখা হিসেবে আমরা মহুয়া খেলাঘর আসর প্রতিষ্ঠা করলাম। মেয়ে শিল্পিদের মধ্যে তখন আমাদের সঙ্গে কাজ করেছে রোকসানা রহমান লাকী, কুমকুম রাণীধর, রীনা আক্তার, ফাহিমা, মেহেরুন্নেছা নেলী, মনি, সুমি ও ম্যাজিষ্ট্রেট আব্দুল হামিদের কণ্যা সোহেলি মমতাজ মায়া প্রমুখ। উপজেলা পরিষদ হলরুমে খুব ভাল ভাল কর্মসূচি পালন করেছি। তখন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং অন্যান্য বিভাগী কর্মকর্তা সহ ম্যাজিষ্ট্রেট এবং মুনসেফ যারাই এখানে দায়িত্ব পালন করেছেন প্রত্যেকেই পরিবার পরিজন নিয়ে এখানে বসবাস করেছেন এবং আমাদের সব অনুষ্ঠান স্বপরিবারে মিলে একসঙ্গে বসে বসে উপভোগ করেছেন। আমি এসব অনুষ্ঠানের সংবাদ লিখে এক টাকার টিকিট ব্যবহার করে খোলা ডাকে পাঠাতাম অফিসে। পাবলিক হলের একটি কক্ষে প্রেসক্লাব ছিল। সভাপতি ছিলেন এডভোকেট আব্দুর রহমান ভূঞা এবং সাধারন সম্পাদক আব্দুস সাত্তার ভাই। কিন্তু এই প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে আমাদেরকে সদস্য করা হয়নি যেমন, আঞ্জু ভাই, লাভলু, কাদির কাকা, লুৎফুর, হারেছ ভাই, বিজয় রজক সহ আরো অনেকেই। পরে আমরা কেন্দুয়া জয়হরি স্প্রাই সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে পিছনের দু’তালার ঘরটিতে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার কার্যালয় স্থাপন করি। কমিটির সভাপতির দায়িত্বে আনিসুর রহমান আঞ্জু ভাই এবং সম্পাদক একবার লাভলু পাল চৌধুরী, আরেকবার সেকুল ইসলাম খান। আমি একবার যুগ্ম সম্পাদক ও একবার সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি। ১৯৮৫ সনের মাঝামাঝি থেকে দৈনিক নব অভিযান পত্রিকায় আমার লেখা লেখি শুরু। এর পর দৈনিক সমাচার, দৈনিক খবর, দৈনিক জাহান, বাংলার দর্পন, আজকের কাগজ, যুগান্তর, রাজধানী বার্তা, সমকাল, সহ আরো বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লেখা লেখি করেছি। এখনও সমকাল পত্রিকায় কেন্দুয়া নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। তখন ডাকযোগে যে লেখাটি পাঠাতাম, সেই লেখাটি সবাই একসঙ্গে বসে লিখতাম। আঞ্জু ভাই ও সন্তোষ দা আমাদের অগ্রজ। তবুও আঞ্জু ভাই একটি নিউজ লেখেই আমাকে অথবা লাভলুকে বলতেন দেখ নিউজটা ঠিক হয়েছে কিনা। তার লিখায় ভুল ধরার কোনরকম সুযোগ ছিলনা। বাংলা বানানের দিকে তিনি ছিলেন খুব সতর্ক। তবুও তিনি আমাদেরকে বলতেন, নিউজটা দেখার জন্য। এটি তার একটি বড় গুণ ছিল। বিভিন্ন অফিস আদালতে আঞ্জুভাইকে সঙ্গে নিয়েই আমরা যেতাম সংবাদ সংগ্রহের জন্য। তার উপস্থিত বুদ্ধিও ছিল অনেক। তিনি মুহুর্তেই সবকিছু সামলাতেও পারতেন। সে সময় ডাকযোগে যে সংবাদটি পাঠাতাম পরদিন পত্রিকা অফিসে গিয়ে পৌঁছত। পত্রিকায় ছাপা হলে আমরা ডাকযোগে তার একদিন পর খোলা ডাকে ১৫ পয়সার টিকিট লাগিয়ে আমাদের ঠিকানায় পাঠানো হতো। পোষ্ট অফিস থেকে পত্রিকা সংগ্রহ করতে গিয়ে কোন দিনই আঞ্জু ভাইয়ের আগে সংগ্রহ করতে পারিনি। আঞ্জু ভাই পোষ্ট অফিসে গিয়ে সব পত্রিকা দেখতেন। তখন গরম কোন সংবাদ থাকলে তা তিনি লুকিয়ে ফেলতেন এবং আমাদেরকে বলতেন এটা কাউকে দেখানোর দরকার নাই। এটা ছিল তার একটি সামাজিক গুণ। আমার মনে পড়ে “কেন্দুয়ায় মদ, জুয়া, গাঁজা ও ভ্রাম্যমান পতিতা বেড়েছে” এই শিরোনামে দৈনিক জাহান পত্রিকায় একটি সংবাদ প্রকাশিত হয় ১৯৯০ সালে। সংবাদটি প্রকাশিত হলে, থানায় গেলে কোন এক নেতা (নাম প্রকাশ করা হলোনা) পুলিশের এস.আই শওকত আলমের সামনেই আমাকে বললেন, এই সাংবাদিকের বাচ্চা এই সংবাদটি কে লিখেছে, উত্তরে আমি বললাম আমি লিখেছি। তখন তিনি চিৎকার দিয়ে বললেন, এখন যদি তোরে এখানে জবাই করে ফেলি তোর কোন বাপে ফিরাইব। এই বলে আমাকে হুমকী দেন। আমার পকেটে ছোট একটি টেপ রেকর্ডার ছিল। তার সব কথাই আমি রেকর্ড করেছি। সে দিন শওকত ভাই অনেক সাহসী ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি ওই নেতাকে বলেছেন, আর একটি কথা বললে আমি আপনাকে হাজতে ঢুকাতে বাধ্য হব। তখন ওই নেতার বন্ধু ছিলেন, ওসি সাব নিজে। সেদিন আমার সঙ্গে ছিল আমার অনুজ সংবাদকর্মী লুৎফুর রহমান। সে এখনও আছে। পরে বিষয়টি আমার পত্রিকার সম্পাদক হাবিবুর রহমান শেখ, চীফ রিপোর্টার কাজী ইয়াসিন ভাইকে জানানোর পর তারা দুজনেই ডি.আই.জি এবং সে সময়কার নেত্রকোনার এস.পি আনোয়ার হোসেন খান সাহেবকে ফোনে জানান। এস.পি সাহেব তখন ওই নেতাকে গ্রেফতার করার নির্দেশ দেন। পরে অবশ্য সামাজিক ভাবে বসে এ ঘটনা মিটমাট করা হয়েছে, তিনি আমার কাছে শালিশে বসে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। প্রেসক্লাবে স্থান না হওয়ায় এর কিছুদিন পর ১৯৯২ সালে এক নোটিশ দিয়ে কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন করি। সেই কমিটির সভাপতি নিযুক্ত করা হয়েছিল এডভোকেট আব্দুল কাদির ভূঞাকে। সাধারন সম্পাদক হয়েছিলাম আমি নিজেই। সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলেন আঞ্জু ভাই। লাল সবুজ পত্রিকায় বিজয় রজক আমাদের ছবি দিয়ে সংবাদ পাঠালেন। সংবাদ প্রকাশিত হলো। পরে দুই প্রেসক্লাব হওয়াতে তৎকালীন কান্দিউড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব আব্দুল হক ভূঞা উদ্যোগ নিয়ে ডাকবাংলোর প্রাঙ্গনে বসে আমাদেরকে এক করে দিলেন। আমি এডভোকেট আব্দুল কাদির ভূঞাকে সভাপতি হিসেবে রাখার দাবী দিয়ে আমার পদ থেকে আমি সরে গেলাম। এসব রেকর্ডপত্র এখনও আমার কাছে আছে। পরে সন্তোষ দাকে করা হলো সাধারন সম্পাদক। এই ধারাবাহিকতায় আমি তিনবার কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছি। এর পর ২০০৫ সালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বর্তমান দূযোর্গ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রলালয়ের অতিরিক্ত সচিব জনাব আকরাম হোসেনের পৃষ্ঠপোষকতায় ও সকলের সহযোগিতা প্রথমবার কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের নামে ৪ শতাংশ ভূমি ক্রয় করেছি। দ্বিতীয়বার তৎকালীন নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক বর্তমান রেল মন্ত্রনালয়ের সচিক জনাব মোফজ্জেল হোসেনের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রেসক্লাবের পাঁকা ভবন নির্মান করেছি সকলের সহযোগিতায়। তৃতীয় বার প্রেসক্লাবের অভ্যন্তরিন রাস্তা, বাউন্ডরী দেয়াল, গেইট নির্মান, বারান্দার ছাঁদ নির্মান সহ প্রায় ৭ লক্ষ টাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। কিন্তুআদর্শীক একটি প্রতিবাদ করতে গিয়ে আমি প্রেসক্লাব থেকে অব্যাহতি নিয়েছি আর প্রেসক্লাবের ভাষা তারা আমাকে বহিষ্কার করেছেন। পরে ২০১৭ সালের ৩০ জুন সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় আমাদের পথ চলা এ অঙ্গীকারে “কেন্দুয়া উপজেলা প্রেসক্লাব” নামে একটি সংগঠন করি। সকলেই আমাকে সেই সংগঠনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করার জন্য মনোনীত করেন। আমার মূল কথা হলো আগে আমরা সংবাদ পাঠাতাম ডাকঘরের মাধ্যমে খোলা ডাকে। এখন এক মিনিটের মধ্যেই ই-মেইল ইন্টারনেটের মাধ্যমে সংবাদ পাঠাই। এ সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছেন যিনি, তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তনয়া দেশরত্ন বিশ্বমানবতার জননী পদকে ভূষিত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমি বলতে চাই, এই ডিজিটাল ব্যবস্থায় যেমন সুবিধা তেমন অসুবিধা, যেমন প্রচার, তেমন অপপ্রচার, যেমন ভালো, তেমন খারাপ তাই দাবী রাখব, এই ডিজিটাল ব্যবস্থার স্বাধীনতায় যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন পোষ্টে লিখা দিয়ে থাকেন, তারা অত্যন্ত সাবধান সতর্কতার সঙ্গে তা পরিচালনা করবেন। নতুবা সমাজে এর যথেষ্ট উল্টো প্রভাব পড়বে। তাই মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের সকলকে এই প্রযুক্তির ব্যবহার সঠিক ভাবে করার অনুরোধ রাখি এর মূল্যায়ন বাড়ানোর জন্য। না হয় এই ভুল দেখতে দেখতে এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রতি, অনলাইন পত্রিকার প্রতি জনগণের একটা খারাপ মনোভাব জাগ্রত হবে। অতীতে এই সুবিধা না থাকায় তখন ভুল খুব কম হতো। একটি সংবাদ পাঠালে তা পত্রিকার অফিসে সম্পাদনা করার লোক ছিল। যদিও এখনও আছে তবু আগের মতো না। আগে ভুল সংবাদ খুব কমই প্রকাশ হতো। এজন্য সততার পথে সুন্দরের পথে সভ্যতার ক্রমবিকাশে সকলকে সুন্দর মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। এটাই আমার কামনা ও বাসনা।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *













পিকনিক বুকিং চলছে!

©২০১৩-২০১৯ সর্বস্তত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | দুর্জয় বাংলা
Desing & Developed BY DurjoyBangla
error: Content is protected !!