শুক্রবার, ১৯ Jul ২০১৯, ০৮:২৫ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ
কেন্দুয়ায় প্রধানমন্ত্রীর অর্থ সহায়তা তহবিল থেকে প্রাপ্ত চেক বিতরণ করেন -এমপি অসীম কুমার উকিল বারহাট্টায় বন্যার্ত মানুষের পাশে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু শৈলকুপায় ১ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ, থানায় মামলা সরল বিশ্বাসের ভূল,কী বোঝাতে চেয়েছেন দুদক চেয়ারম্যান! “দুর্নীতি মানে দুর্নীতি” ওবায়দুল কাদের অধ্যক্ষ আবদুল কাদের বাশঁখালীর শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ নির্বাচিত সিরাজগঞ্জে মাদক বিরোধী কুইজ প্রতিযোগিতা ও বৃক্ষরোপন কর্মসূচী পালিত কেন্দুয়ায় মোটর সাইকেলের ধাক্কায় নারীর মৃত্যু জৈন্তাপুরে এপিবিএন’র অভিযানে গাজাসহ আটক ১ সরিষাবাড়ীতে বন্যাদুর্গতদের মাঝে মেয়রের ত্রান বিতরন কেন্দুয়ায় শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় হুমায়ূন আহমেদকে স্মরণ




৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে যুদ্ধাহত নেত্রকোনার সালেহা আজও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পায়নি

৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে যুদ্ধাহত নেত্রকোনার সালেহা আজও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পায়নি




নেত্রকোনা থেকে এ কে এম আব্দুল্লাহঃ ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে পিঠে বুলেটবিদ্ধ হয়ে দুঃসহ স্মৃতি নিয়ে আজো বেঁচে আছেন মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্যকারী এক সাহসী নারী সালেহা বেগম।
নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলার বাজিতপুর গ্রামের আব্দুর রহিম কাঁচু মিয়ার মেয়ে সালেহা বেগম স্মৃতিচারণ করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আমার বয়স তখন ১০ কি ১১ বছর। আমাদের গ্রাম বাজিতপুর সহ বেশ কয়েকটি পয়েন্টে বিভিন্ন বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধারা থাকতেন। আমি মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহনকারী নারী মুক্তিযোদ্ধা মিরাশী বেগমের সহচর হিসাবে কাজ করে আসছিলাম। আমার দায়িত্ব ছিল থানায় অবস্থানকারী ম্যালিটারীদের দিকে সার্বক্ষনিক নজর রাখা। তারা কোথায় যাওয়া আসা করে এসব খোঁজ-খবর মুক্তিযোদ্ধা মিরাশী বেগম ও তৎকালীন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এখলাছ আহমেদ কোরাইশী’র কাছে পৌঁছে দেয়া। অক্টোবরের শেষ দিকে মদন উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার আল-বদরদের বেশ কয়েকটি সরাসরি তুমুল যুদ্ধ হয়। ৩০ অক্টোবর থেকে থেমে থেমে ১৭২ ঘন্টা যুদ্ধ চলছিল। সে সময় আমি হানাদার বাহিনীর খবর সংগ্রহ করে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে পৌঁছে দেয়ার সময় হঠাৎ আমি পিঠে বুলেটবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ি।
তখন মুক্তিযোদ্ধারা আমাকে উদ্ধার করে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক মতিয়র রহমানের কাছে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে। পল্লী চিকিৎসক হওয়ায় তিনি সে সময় আমার পিঠ থেকে বুলেটটি বের করতে পারেননি। আল্লাহ’র অশেষ রহমত আর সকলের দোয়ায় আমি সুস্থ হয়ে উঠি। যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে আমার পরিবারের লোকজন আমাকে নেত্রকোনা সদর উপজেলার লক্ষীগঞ্জ ইউনিয়নের বাইশদার গ্রামের নুরুল হক বকুলের সাথে বিয়ে দেন। আমাদের দাম্পত্য জীবনে চার ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান জন্ম গ্রহণ করে। ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষের মতো মানুষ করতে আমরা বর্তমানে জেলা শহরের কুরপাড় এলাকায় বসবাস করছি।
বয়স বাড়ার সাথে সাথে পিঠে বুলেটবিদ্ধ থাকার কথা প্রায় ভূলেই গিয়েছিলাম। মাঝে মধ্যে যখন পিঠে অসহ্য ব্যাথা অনুভুত হয় তখন আমার মনে সেই ভয়াল যুদ্ধের দুঃসহ স্মৃতির কথা মনে পড়ে যায়। পিঠে বুলেট নিয়েই দুঃসহ যন্ত্রনায় জীবনের অনেকগুলো বছর পার করেছি। বয়স বাড়ার সাথে সাথে পিঠের ব্যাথার যন্ত্রনা বাড়তে থাকায় এবং শরীরে নানা উপসর্গ দেখা দেয়ায় দীর্ঘদিন যাবৎ বিভিন্ন ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা নিচ্ছি কিন্তু কিছুতেই কোন কাজ হচ্ছে না। কিছুদিন আগে জনৈক অর্থোপেডিক্স ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা নিতে গিয়ে এক্স-রে করার পর রঞ্জন রশ্মিতে ধরা পরে আমার পিঠে রয়ে যাওয়া ৭১ এর সেই বিদ্ধ বুলেটটি। আমি একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য বার বার মুক্তিযোদ্ধা সংসদে গিয়ে আবেদন নিবেদন করলেও তারা আমার বিষয়টি আমলে নিয়ে কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেননি। আমার বয়স এখন প্রায় ৬০ এর উর্ধে। মুক্তিযুদ্ধের ৪৮ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও আমি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সরকারের পক্ষ থেকে পাইনি স্বীকৃতি, পাইনি কোন ধরনের সাহায্য সহযোগিতা।
বুলেটবিদ্ধ যুদ্ধাহত সালেহা বেগমের বড় ছেলে মোঃ রাসেল বলেন, আমরা ছোটবেলায় শুনেছি মায়ের আহত হওয়ার গল্প। কিন্তু এখনো যে তাঁর শরীরে বুলেট আছে, তা আমরা জানলাম ডাক্তারের কাছে গিয়ে। মুক্তিযুদ্ধে নারীদের বড় বড় অবদান থাকলেও তা খুব বেশি একটা আমাদের সামনে আসেনি। তারা আজও অবহেলিত। আমাদের মা মুক্তিযুদ্ধের এমন একটি স্মৃতি বহন করে আছে, যার জন্য আমরা গর্বিত। আমরা চাই আমাদের মাকে একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বর্তমান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার স্বীকৃতি দিক।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধ সংসদ নেত্রকোনা জেলা ইউনিটের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা এখলাছ আহমেদ কোরাইশী সাথে যোগাযোগ করলে তিনি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সালেহা বেগমের পিঠে বুলেটবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তখনকার দিনে সালেহা ছিলো অত্যন্ত সাহসী একটি শিশু। আমি তাকে বকাবকি করতাম যে, তুমি এত ছোট তারপরও কেনো মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করতে এগিয়ে আসো? বকাবকি শুনেও নারী মুক্তিযোদ্ধা মিরাশী বেগমের সাথে এসে দেখা করে পাক বাহিনী ও তাদের দোসরদের অবস্থান জানাতো। আমি এই যুদ্ধাহত সাহসী নারীকে জানাই লাল সালাম।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *













©২০১৩-২০১৯ সর্বস্তত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | দুর্জয় বাংলা
Desing & Developed BY DurjoyBangla
error: Content is protected !!