অপহরণ ও গুমের মামলা ভিন্নখাতে নিতেই নানা পরিকল্পনার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

মোহাম্মদ দুদু মল্লিক, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি:

অপহরণ ও গুমের মামলা ভিন্নখাতে নিতেই নানা পরিকল্পনার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে গত ৭ মাস ধরে নিখোঁজ পঞ্চান্ন বছর বয়সী বিধবা জমেনা বেওয়ার তদন্তাধীন মামলা ভিন্নখাতে প্রবাহের লক্ষ্যে অপচেষ্টা ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে পরিবেশিত সংবাদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জমেনার দুই কন্যা মর্জিনা, মোর্শেদা ও ভাই আবজাল। শনিবার (২১ নভেম্বর) বেলা দুইটার দিকে তিনানী বাজার খামারপাড়াস্থ নিজ বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিধবা জমেনা বেওয়া চলতি বছরের গত ২১ মার্চ বিকেলে কন্যা মর্জিনার বাড়ি থেকে তিনানী বাজারের উদ্দেশ্যে বের হয়। এরপর সন্ধ্যায় বাড়ি না ফিরলে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করে। প্রায় ২০দিন মাইকিং, পোস্টারিং, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারসহ নানা উপায়ে খোঁজাখুঁজির পর ১১ এপ্রিল ঝিনাইগাতি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন মর্জিনা।

এরপর মর্জিনার খালু বিল্লাল হোসেন জমেনাকে খুঁজে পেতে তার সাথে হাত মেলাতে পরামর্শ দেন কন্যা মর্জিনা ও মোর্শেদাকে। একপর্যায়ে মামা আবজালের বিরুদ্ধে হত্যা ও গুমের মামলা করার পরামর্শ দেন এবং মামলা করলে মোটা অংকের টাকায় আদায় ও মায়ের মরদেহ হলেও উদ্ধার করে দেবেন বলে কন্যাদের পরামর্শ দেন খালু বিল্লাল। এতে কন্যাদ্বয়ের সন্দেহ হলে শেরপুরের আদালতে মা জমেনা বেওয়াকে গুমের অভিযোগ এনে খালু বিল্লালের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন মর্জিনা। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে ঝিনাইগাতি থানা পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ প্রদান করেন।
এরপর থেকেই তদন্তকারী কর্মকর্তা বিল্লালের সাথে যোগসাজশ করে উল্টো বিষয়টি নিখোঁজ জমেনার ভাই আবজালের উপর চাপাতে চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেন আবজাল হোসেন। শুধু তাই নয়, প্রকাশ্যে তাকে তিনানী বাজারে বেআইনীভাবে হলেও দেখে নেওয়ার হুমকী দেন ওই তদন্তকারী কর্মকর্তা।



সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, মামলাকে ভিন্নখাতে প্রবাহ করতে বিল্লাল নানা অপকৌশল করে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে গেল সপ্তাহে শেরপুর থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক কালের ডাক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে জমেনার নিখোঁজের বিষয়ে আবজালকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। একইসঙ্গে বিল্লালের সঙ্গে আবজালের জমি সংক্রান্ত কোন বিরোধ নেই বলেও জানান আবজাল হোসেন। তিনি বলেন, আদালতের মাধ্যমে আরও আগেই জমি নিয়ে বিরোধের নিষ্পত্তি হয়ে গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রকৃতপক্ষে জমেনা বেওয়ার সাথে বিল্লাল হোসেনের দীর্ঘদিন যাবত জমি নিয়ে পরিবারিক বিরোধ চলে আসছিল। ওই বিরোধের জেরে বিল্লাল হোসেন জমেনা বেওয়াকে গুম করতে পারে বলে তাদের সন্দেহ।

আরো পড়ুন: ভালুকায় হাজ্বী সালাউদ্দিন সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

Please enter your comment!
Please enter your name here