অবশেষে চাঞ্চল্যকর ট্রলি ব্যাগে পূর্বধলার বকুলের খন্ডিত গলিত লাশ হস্তান্তর

মোঃ এমদাদুল ইসলাম, পূর্বধলা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি:
অবশেষে প্রায় তিন সপ্তাহ পরে চাঞ্চল্যকর ট্রলি ব্যাগে ময়মনসিংহ ও কুড়িগ্রামে পাওয়া খন্ডিত গলিত লাশের অংশবিশেষ বৃহস্পতিবার রাতে ময়মনসিংহ ডিবি অফিস থেকে বকুলের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহত বকুল (২২) নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলার হোগলা ইউনিয়নের সোহাগীডহর গ্রামের মইজ উদ্দিনের ছেলে।



পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রেমের জের ধরে চলতি বছরের ১৫ মে একই গ্রামের বাবুল মিয়ার মেয়ে মোছাঃ সাবিনা আক্তার রিয়ার (১৮) সাথে নোটারী পাবলিক এফিডেভিটের (বিবাহ সংক্রান্ত) মাধ্যমে বকুল-বিয়ার ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক বিবাহ সম্পন্ন হয়। স্বামী-স্ত্রী হিসেবে জীবনযাপন শুরু করতে চাইলে সমাজ তাদেরকে মেনে নেইনি। পরবর্তীতে গ্রাম্য সালিশে অর্থবিনিময়ের মাধ্যমে উপজেলার খলিশাউড় ইউনিয়নের হাপানিয়া গ্রামের আকরাম হোসেনের ছেলে আবু সিদ্দিকের সাথে সাবিনাকে জোড় পূর্বক বিয়ে দিয়ে দেয়। গত ১১ অক্টোবর বকুলের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে ভোররাতে সাবিনা স্বামীর বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। পরদিন সাবিনার দ্বিতীয় স্বামী আবু সিদ্দিক বাদী হয়ে পূর্বধলা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
১২ অক্টোবর বকুল সাবিনার সাথে ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ঢাকুয়া গ্রামে ফুফাত ভাইয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান। পরদিন সকালে তারা মুন্সিগঞ্জের সদর উপজেলায়র গোপালরায়দীঘির পাড় ইউনিয়নের মালিপাথর গ্রামে বোন মালার বাড়িতে ৫ দিন অবস্থান করার পর সেখান থেকে ১৯ অক্টোবর সাবিনার বড় ভাই ফারুক মিয়ার ভাড়াটে বাসায় গিয়ে উঠে। আনুমানিক রাত নয়টার সময় থেকে মোবাইল ফোনে পাওয়া যাচ্ছিলনা বলে জানায়।



পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ অক্টোবর সাবিনার দুই ভাই মো. ফারুক মিয়া (২৫) ও মো. হৃদয় মিয়া (২০) এবং ভাই বউ ফারুকের স্ত্রী মৌসুমী আক্তারকে (২২) নিয়ে গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর থানার বাঘের বাজার বানিয়ারচালায় (জনৈক লিটন ডালীর ভাড়া বাসার ভাড়াটিয়া) বকুলকে হত্যার পর পলিথিনে মুড়িয়ে দু’টি ট্রলি ব্যাগের ভেতর ঢুকিয়ে চারজনই ময়মনসিংহে এসে পাটগোদাম ব্রহ্মপুত্র নদের ব্রীজের পাশে একটি লাল ট্রলি ব্যাগ রেখে যায়। ব্যাগের সাইজ ও ওজন সন্দেহজনক হওয়ায় ঢাকা থেকে বোমা ডিসপোজাল টিম এসে ব্যাগটি খুলে হাত-পা ও মাথাবিহীন একটি দেহ, একটি চিরকুট উদ্ধার করে। ঘণ্টাখানিক ব্যবধানে অন্য ব্যাগটি নিয়ে সাবিনা ও মৌসুমী কুড়িগ্রাম (মৌসুমী কুড়িগ্রাম জেলার কৃষ্ণপুর মিয়াপাড়া গ্রামের মোজাফর আলীর কন্যা) চলে যায়। সেখানে দু’টি পৃথক স্থানে খন্ডিত দেহ ফেলে তারা গাজীপুরের বানিয়ারচালায় ফিরে আসে। ঘটনাটি দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং সর্বত্রই ভীতির সঞ্চার করে।



ময়মনসিংহের ডিবি পুলিশ বিষয়টি চাঞ্চল্যকর হিসেবে চিহ্নিত করে তদন্ত শুরু করেন। সিসি ক্যামেরার ছবি ও চিরকুটের সূত্র ধরে ময়মনসিংহের ডিবির ওসি শাহ কামাল আকন্দ, এসআই আক্রাম ও জুয়েলসহ ডিবি পুলিশ নেত্রকোনার পূর্বধলা, ময়মনসিংহের তারাকান্দা ও গাজীপুরের বানিয়ারচালায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে সহোদর তিন ভাই-বোন ও এক ভাই বউকে গ্রেফতার করা হয়। এরা চারজনই আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। তাদের দেখানো মতে নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার সুতারপাড় থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত একটি ছুরি (গার্মেন্টসে ব্যবহৃত), মোবাইল ফোন, একটি ব্যাগ ও এক টুকরো ইট (হত্যাকান্ডে-ব্যবহৃত) আলামত হিসেবে উদ্ধার করা হয়েছে।



বকুলের বিরুদ্ধে নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় এলাকাবাসীর। প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গরা তাকে দিয়ে নানান অপকর্মসহ ইয়াবার ব্যবসা করাতেন। জানা গেছে প্রেমিকা সাবিনার অযোক্তিক দাবীদাওয়া পূরণ করতে তিনি নানা অপকর্মে লিপ্ত থাকতেন। পূর্বধলা থানায় তার নামে একাধিক মামলাও রয়েছে।
বকুলের বাবা মইজ উদ্দিন জানান, সাবিনার পরিবার পরিকল্পিতভাবে আমার ছেলেকে নৃশংস্যভাবে হত্যা করেছে। হত্যাকারীদের দ্রুত ফাঁসির দাবী জানান তিনি।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

Please enter your comment!
Please enter your name here