অবৈধ সম্পদের অভিযোগে দুদকের জালে ময়মনসিংহের কাউন্সিলর দুলাল

অবৈধ সম্পদের অভিযোগে দুদকের জালে ময়মনসিংহের কাউন্সিলর দুলাল

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দূর্নীতি দমন কমিশনের জালে পড়েছেন ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের ৪নং ওয়ার্ডের প্রভাবশালী কাউন্সিলর মাহাবুবুর রহমান দুলাল। এ নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের ভেতরে-বাইরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্র জানায়, নগরীর ৪নং ওয়ার্ডে মাহাবুবুর রহমান দুলাল টানা ৪ বার নির্বাচিত কমিশনার ও কাউন্সিলর। ১৯৯৯ সালে তিনি প্রথম বার ময়মনসিংহ পৌরসভা নির্বাচনে কমিশনার নির্বাচিত হয়ে অটেল সম্পদের মালিক হতে শুরু করেন।



এরপর টানা তিন বার কমিশনার ও চতুর্থ বার সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিল পদে বিজয় লাভ নগরীর অন্যতম প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ফলে বিভিন্ন সেক্টরে ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার করে নামে-বেনামে অটেল সম্পদের মালিক হয়েছে বলেও দাবি একাধিক সূত্রের।

অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, পৈত্রিক সম্পত্তির বাইরেও মাহাবুবুর রহমান দুলাল ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে অসংখ্য সম্পদের মালিক হয়েছেন। তাঁর রয়েছে বিলাস বহুল প্রাইভেটকার, প্রাডো গাড়ীসহ নগরীর উত্তর দাপুনিয়ায় কোটি টাকা মূল্যের ২০শতাংশ জমি, ঢোলাদিয়া এলাকায় রয়েছে এক কোটি টাকা মূল্যের ৩৪ শতাংশ জমি, সানকিপাড়া সিনেমা হল সংলগ্ন স্থানে রয়েছে অর্ধকোটি টাকা মূল্যের ২ শতাংশ জমি।



এছাড়াও নগরী সানকিপাড়া এলাকায় ৫তলা বিলাস বহুল বাড়ীসহ নামে-বেনামে রয়েছে ব্যাংক একাউন্ট। সেই সাথে তাঁর হলফনামার সম্পত্তির হিসেবেও রয়েছে ব্যাপক গড়মিল, দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

সূত্র মতে, কাউন্সিলর দুলাল দুদকের অনুসন্ধানের বিষয়টি টের পেয়ে অভিযোগ ধামাচাপা দেয়ার জন্য প্রশাসনের উচ্চ মহলে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে। ইতিমধ্যে সম্পদের হলফনামা সংশোধনের জন্যও ঘুরছেন কর-কমিশনের উচ্চ পর্যায়ে।

অভিযোগ রয়েছে, বিধি লঙ্গন করে কাউন্সিলর দুলাল ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের মিনি চিড়িয়াখানাটি কোন রকম টেন্ডার ছাড়াই বরাদ্ধ নিয়ে লুটপাটের মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। সেই সাথে চিড়িয়াখানার পশু-পাখিদের খাবার বরাদ্ধে ব্যাপক নয়ছয়ের অভিযোগ।



ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের সম্পত্তি রক্ষনাবেক্ষন সহকারী মো: সিদ্দিকুর রহমান জানান, মিনি চিড়িয়াখানাটি কাউন্সিলর দুলাল অন্য একজনের নাম দিয়ে ৪ বছরের জন্য লিজ নিয়েছেন মাত্র লক্ষাধিক টাকায়। পরবর্তীতে ওই লিজে আরো ৬ বছর সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে।

ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী মো: আনোয়ার হোসেন বলেন, মূলত ওই পার্কটি কাউন্সিলর মাহাবুবুর রহমান দুলাল লিজ নিয়েছেন। তিনিই এর দেখভাল করেন।

তবে মাহাবুবুর রহমান দুলাল দাবি করেন, কোন ধরনের অবৈধ সম্পদ নেই আমার। যা আছে সব আমার পিতার নামে। দুদক কর্মকর্তারা আমাকে ডেকে ছিল। আমি তাদের ৬৫ শতাংশ জমির কাগজ দেখিয়েছি। আমার মাত্র ২৪ শতাংশ জমি আছে। তা এক যুগ আগে কিনেছি। মূলত আমার জনপ্রিয়তার কারণে একটি মহল হিংসা করে এসব করছে।



পার্ক চিড়িয়াখানার বিষয়ে তিনি বলেন, ওই পৌর পার্কের আমি পরিচালক মাত্র। এ জন্য আমাকে মাসিক সম্মানী দেয়া হয়। এর মালিক সেলিম এন্টাপ্রাইজ, আমি কেয়ারটেকার হিসেবে দেখভাল করি। আর আমার গাড়ীগুলোর মালিকও অন্য লোকজন।

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধানের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন দূর্নীতি দমন কমিশন ময়মনসিংহ আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো: ফারুক আহমেদ।

তিনি বলেন, ক্ষমতা প্রয়োগ করে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান চলমান আছে। প্রতিষ্ঠানিক বাধ্যবাধকতার কারণে এর বেশি কিছু বলা যাবে না। তবে অনুসন্ধানের প্রাথমিক পর্যায়ে বেশ কিছু সত্যতা মিলেছে। ফলে আরো গভীর অনুসন্ধান চলমান আছে।

আরো পড়ুন>>> মদন সরকারি কলেজে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ

আপনার মতামত লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here