অভাবের তাড়নায় গাছের ডালে ঝুঁলে কিশোরীর আত্বহত্যা!

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:: সুনামগঞ্জের দক্ষিণ সুনামগঞ্জে অভাবের তাড়না সইতে না পেরে ফলজ গাছের ডালে ঝুঁলে সুরাইয়া বেগম (১৫) নামে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের এক কিশোরী আত্বহত্যা করেছেন।
মঙ্গলবার (০৫নভেম্বর)সকালে পুলিশ লাশ জেলা সদর মর্গে প্রেরণ করেছেন।
নিহত সুমাইয়া উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের কাদিপুর গ্রামের মামুন মিয়া ও শানু বেগম দম্পতির মেয়ে।,
এ দম্পতির পাঁচ ছেলে ও চার মেয়ের মধ্যে সুমাইয়া ছিলেন চতুর্থ সন্তান।
পুলিশ ও নিহতের পারিবারীক সুত্র জানায়, উপজেলার কাদিপুর গ্রামের কিশোরী সুমাইয়া নিজ বসতবাড়ির আঙ্গিনায় থাকা আতা ফলের গাছের ডালে গলায় ওরনা পেছিয়ে ফাঁস লাগিয়ে সোমবার সন্ধায় আত্বহত্যা করেন।,
পরিবার ও প্রতিবেশীরা ওইদিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে গাছের ঢালে তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান।,
পরে পুলিশ এসে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরীর পর রাতে লাশ থানা হেফাজতে নিয়ে যায়।
মঙ্গলবার(০৫নভেম্বর) নিহতের পিতা মামুন মিয়া গণমাধ্যমকে জানান, স্ত্রী সন্তান সহ ১১ জনের সংসারে প্রতিনিয়ত অভাব লেগেই লাগত। এমনকি পরিবারটি সুবিধাবঞ্চিত হওয়ায় প্রতিদিন নিয়মিত তিন বেলা আহারই জুটত না। আত্বহত্বার দুদিন পুর্বে সুমাইয়া দুপুরের খাবার গ্রহনের সময় সাদা ভাতে তরকারি না থাকায় মায়ের সাথে কথাকাটাকাটি হয়।
মা শানু বেগম মেয়েকে কিছুটা বকাঝকা করলে অভিমান ঝেঁকে বসে তাকে।,
এক পর্যায়ে আভাবের তাড়নায় ও অভিমানেই হয়ত মেয়ে আমার চিরতরে আমাদের অভাবের সংসার ছেড়ে যেতে আত্বহত্যার পথ বেচে নেয়।,
মামুন মিয়া আরো জানান, আমি অসুস্থ, নিজের জমি জমা বা আয় রোজগার করার সামর্থ নেই, একমাত্র ছেলে রাজধানী ঢাকায় বেসরকারি একটি কোম্পানীতে হাজার পাঁচেক টাকা বেতনে চাকুরি করে।
ছেলে নিজের থাকা খাওয়া খরচ বাচিয়ে মাসে হাজার দুয়েক টাকা বাড়িতে পাঠালেও তাতে পরিবারের সব সদস্যদের তিন বেলা ভরন পোষণ ঠিকমত চালিয়ে যেতে পারছিলামনা। কোন কোন দিন এক বেলা/দু’েবেলা উপোষ থাকার পর চুলায় ভাত রান্না হলেও তা তরকারি ছাড়া শুধু লবন মাখিয়েই আমাদের আহার করতে হত।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার এসআই জহিরুল ইসলাম তালুকদার মঙ্গলবার(০৫নভেম্বর) জানান, পারিবারীক অভাব ও মায়ের সাথে তরকারি নিয়ে বাক বিতন্ডতা এবং বকাঝঁকার কারনেই অভিমানের জের ধরে ওই কিশোরী আত্বহনন করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ,

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

Please enter your comment!
Please enter your name here