13.7 C
New York
মঙ্গলবার, আগস্ট ৩, ২০২১

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদল, অযোগ্যতা ঢাকতে ত্যাগীদের সরানোর কৌশলে সভাপতি

বিশেষ প্রতিনিধি চট্টগ্রামঃ

বিজ্ঞাপন

২০১৮ সালের আগস্টে পাঁচ সদস্যের কমিটি ঘোষিত হয়, এর একমাস পরেই শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজের অভিযোগ এনে দুইজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি ‘বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের হাতে’ হামলার শিকার হন সভাপতি, এ অবস্থার জন্য অনেকেই দায়ী করছেন বিএনপি নেতাদের চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও এলাকায় হামলার শিকার হন দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শহিদুল আলম শহিদ। ‘মোবাইল চোর’ আখ্যা দিয়ে ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের হাতে গণধোলাইয়ের শিকার হন তিনি। কমিটি না দেয়ার জের ধরে এ হামলার ঘটনা হলেও এটাকে ‘দুস্কৃতিকারী কর্তৃক পরিকল্পিত হামলা’ বলছেন শহিদ। অন্যদিকে ত্যাগী নেতাদের কমিটিতে স্থান না দিতে ঘটনাটি ‘পরিকল্পিত সাজানো নাটক’ বলছেন স্বয়ং কমিটির সাধারণ সম্পাদক। হামলার পর তিনজন ছাত্রদল নেতাকে অভিযুক্ত করছেন শহিদুল আলম। অভিযুক্ত তিনজনই ছাত্রদলের ত্যাগী নেতা হিসাবে পরিচিত। দলীয় কর্মকান্ডে সক্রিয় অবস্থান ও দুঃসময়ে দলের পক্ষে সরব ছিলেন তারা।

ঘটনাকে ভিন্নখাতে নিয়ে ত্যাগী নেতাদের নামে মিথ্যা অপবাদ ছড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. মহসীন। মো. মহসীন বলেন, ‘ঘটনার পর ওনি (শহিদুল আলম) ফেসবুকে লাইভে এসে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত
বলেছেন। সেখানে কোথাও কারো নাম বলেননি, সন্ত্রাসী হামলা বলেছেন। পরে এসে দলের কারো নাম বলে ঘটনাকে রাজনৈতিক রূপ দিলে সেটার জন্য ওনাকে জবাবদিহি করতে হবে। যারা সংগঠনের ত্যাগী কর্মী, সংগঠনে যাদের অনেক অবদান,সবসময় রাজপথে ছিল এমন নেতাদের নাম বলা টেকনিক মনে করছি।’ হামলার ঘটনার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে শহিদুল আলম বলেন, ‘যারা করেছে তারা বলতে পারবে কেন করেছে। রিকশা করে আমি যাচ্ছিলাম। ১৫/২০ জন হামলার চেষ্টা চালায়। আমি তিনজনকে ছিনেছি। পরিকল্পিতভাবে এরা হামলা চালিয়েছে। হামলাকারীরা দলের কেউ নয়, এরা দুস্কৃতিকারী। দলের কোন কর্মকাÐে এরা নেই। সংগঠনের হলে কোন অভিযোগ থাকলে সেটা রাজনৈতিক ফ্লোরে তুলবে।

১৬ বছর পর ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের ৫ জনের একটি কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র। কমিটি ঘোষণার একমাস পরই দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজ করার অভিযোগ এনে সিনিয়র সহ-সভাপতি ইকবাল হায়দার চৌধুরী ও সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী মনিরকে অব্যাহতি দেয় কেন্দ্রীয় কমিটি। অব্যাহতি পাওয়া দু’জনই রাজনীতিতে জাফরুল ইসলাম চৌধুরী বিরোধী হিসেবে পরিচিত। কমিটি ঘোষণার আড়াই বছর চললেও এখনো হয়নি পূর্ণাঙ্গ কমিটি। ২ জন অব্যাহতি পাওয়ার পর সভাপতি শহিদুল আলম শহিদ, সাধারণ সম্পাদক মো. মহসীন ও সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক কেএম আব্বাসকে দিয়ে চলছে দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম। অভিযোগ রয়েছে, এই তিনজনের ভিতরেও চলছে অনৈক্য। কমিটি গঠনসহ নানা ইস্যুতে বিপরীতমুখী অবস্থানে রয়েছেন তারা। সিনিয়র বিএনপি নেতাদের অনুসারী হিসাবে মাঠে আছেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি- সম্পাদক। বিএনপি নেতাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে গিয়েই তাদের এমন বিপরীত অবস্থান। দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক সহ-সভাপতি এনামুল হক এনাম, ইদ্রিস মিয়াসহ বিশাল একটি অংশের সাথে বিরোধপূর্ণ
সম্পর্ক চলছে বেশকিছু দিন ধরে। তাদের বিরোধের জের ছাত্রদলের উপর প্রভাব বিস্তার করেছে। আর এই বিরোধকে কাজে লাগিয়ে ছাত্রদল সভাপতি আর্থিক লেনদেনে জড়িয়েছে। প্রতিটি উপজেলার একাধিক নেতার কাছে থেকে আর্থিক লেনদেনে জড়ানোর অভিযোগ আছে শহিদের বিরুদ্ধে। ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গেছে কেন্দ্রেও। শহিদুল আলম শহিদ বলেন, ‘যারা সাথে ছিল, ত্যাগ করেছে তাদের নাম প্রস্তাব করা কি অনৈতিক? কমিটি সংক্রান্ত লেনদেন করেছি দেখান। জেলার সভাপতি হতে গেলে সবার সাথে সম্পর্ক রাখতে হয়। যিনি অভিযোগ করছেন তার বিরুদ্ধে তো অনেক অভিযোগ। ৬ বছরে কোন কর্মকান্ডে ছিল না, কি করে সেক্রেটারি হলো? রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে না পেরে এখন আমার বিরুদ্ধে সস্তা রাজনীতিতে নেমেছে।’ একই বিষয়ে কথা হলে সাধারণ সম্পাদক মো. মহসীন বলেন, ‘সংগঠনকে এগিয়ে নিতে দু’জনের একতা দরকার। এখনো আমরা আলাদা কিছু করিনি। মতপার্থক্য থাকতে পারে কিন্তু সাংগঠনিকভাবে যারা ত্যাগ করেছে তাদের ঘায়েল করার চেষ্ঠা মেনে নেয়া যায় না। ব্যক্তিগত সমস্যাকে রাজ নৈতিকভাবে ব্যাখ্যা দেয়া অমূলক।’

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ‘নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে অন্যের উপর দোষ চাপানো উচিত নয়। ওনার বিরুদ্ধে অনেকে বিভিন্ন ধরনের লেনদেনের কথা বলেছেন। এসএমএসের স্কিনসর্ট দেখিয়েছেন। বিষয়গুলো কেন্দ্রকে অবহিত করা হয়েছে।’ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের প্রস্তাবিত কমিটির একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এখন শহিদুল আলমকে দিয়ে ছাত্রদল ধ্বংস করার জন্য গোপন মিশনে নেমেছেন বিএনপি নেতা। তারই আশ্রয় প্রশ্রয়ে শহিদুল আলম শহিদ দক্ষিণ জেলার নানা ইউনিটে থানা, কলেজ কমিটিতে পদ দেওয়ার নামে আর্থিক লেনদেন করছেন। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের পছন্দের লোক আনতে তাদের কাছ থেকেও নিচ্ছেন বড় অংকের টাকা। আর এসব কিছু হচ্ছে সিনিয়র নেতার সম্মতিতে।’
২০১৮ সালের গত ১ আগস্ট চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটির অনুমোদন দেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজিব আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান। চট্টগ্রাম কলেজের মাস্টার্সের ছাত্র শহীদুল আলম শহীদকে সভাপতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান মাস্টার্সের ছাত্র মো. মহসিনকে সাধারণ সম্পাদক, ইকবাল হায়দার চৌধুরীকে সিনিয়র সহ-সভাপতি, কেএম আব্বাসকে যুগ্ম সম্পাদক ও গাজী মনিরকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়। ছাত্রত্ব দাবি করা শহিদুল আলম এখন তিন সন্তানের জনক। বর্তমান কমিটির আগে ২০১১ সালে জসিম উদ্দিনকে আহŸায়ক এবং মরহুম শহীদুল ইসলামকে সিনিয়র যুগ্ম আহŸায়ক করে ১৪ সদস্যবিশিষ্ট আহŸায়ক
কমিটি করা হয়েছিল। তারও আগে ২০০২ সালের নভেম্বরে মহসীন চৌধুরী রানাকে সভাপতি ও রেজাউল করিম নেছারকে সাধারণ সম্পাদক করে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করা হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

Please enter your comment!
Please enter your name here

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ সংবাদ

x