13.7 C
New York
সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২১

ইসলামপুরে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী বাইচের নৌকা তৈরি

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। এ দেশের জমিনে জালের মতো ছড়িয়ে আছে অসংখ্য নদী-খাল। আবহমানকাল থেকে এসব খাল-বিল আর নদীতে বিভিন্ন ধরনের নৌকা সগৌরবে বয়ে চলছে।

বিজ্ঞাপন

বর্ষাকাল এলে নৌকার ব্যবহার বেড়ে যায়। নৌকার চালককে বলা হয় মাঝি। নৌকায় বিভিন্ন অংশ থাকে। যেমন : খোল, পাটা, ছই বা ছাউনি, হাল, দাঁড়, পাল, পালের দড়ি, মাস্তল, নোঙর, গলুই, বৈঠা, লগি ও গুণ। নৌকা প্রধানত কাঠ দিয়ে তৈরি করা হয়।

এক সময় বর্ষাকালে মানুষের একমাত্র ও প্রধান বাহন ছিল নৌকা। তাই এ দেশের শিল্প-সাহিত্য থেকে শুরু করে নানা বিষয়ে নৌকার প্রসঙ্গ বিজড়িত।

বিজ্ঞাপন

গঠনশৈলী ও পরিবহনের ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের নৌকার প্রচলন রয়েছে। যেমন : ছিপ, বজরা, ময়ূরপঙ্খী, গয়না, পানসি, কোষা, ডিঙ্গি, পাতাম, বাচারি, রফতানি, ঘাসি, সাম্পান, ফেটি ইত্যাদি।

এর মধ্যে অধিকাংশই প্রায় বিলুপ্তির পথে। কিছু একেবারেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে। গ্রাম বাংলা এ নৌকা গুলোর ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্য ইসলামপুর উপজেলার নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের সোনামুখী, উলিয়া বাজার খেয়া ঘাট ও রামভদ্রা গ্রামে নৌকা তৈরির হিড়িক পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সোনামুখী, উলিয়া বাজার খেয়া ঘাট ও রামভদ্রা গ্রামে কারিগররা বাইচের নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। দেখে মনে হয় যেন গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ফিরিয়ে আসছে।

নৌকাগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বাইচের নৌকা। বাইচের নৌকা বাংলাদেশে এতটাই জীবন ঘনিষ্ঠ ছিল যে, এই নৌকাকে ঘিরে হতো অনেক মজার মজার খেলা।

নৌকা বাইচ এখনো একটি জনপ্রিয় খেলা। বর্ষাকালে সাধারণত এ খেলার আয়োজন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ইসলামপুর উপজেলার নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের সোনামুখী গ্রামে লম্বায় ৭৫ ফিটের একটি বাইচের নৌকা তৈরি করা হয়েছে। এ নৌকায় প্রতিযোগিতার সময় ৫৩জন পর্যন্ত মাঝি থাকতে পারবে।

নোয়ারপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ সুরুজ্জামান জানান, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য নৌকা বাইচ খেলার জন্য আমার ইউনিয়নে যমুনা নদীতে নৌকা বাইচ খেলার আয়োজন করা হয়।

ঠিকঠাকভাবে নৌকাগুলো তৈরি করা হলো জাকজমকভাবে একটি নৌকা বাইচ খেলার আয়োজন করব। এ আয়োজনে বিভিন্ন এলাকার বাইচের নৌকায় অংশ নিতে পারবে।

সোনামুখী গ্রামের নৌকার কারিগর ফারুক জানান, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই নৌকাটি আমরা ৫জন কারিগর দিন রাত পরিশ্রমে করে ১৫দিন যাবৎ তৈরি করছি এখনোও শেষ হয়নি আরো প্রায় ১৫ দিন সময় লাগবে।

সোনামুখী গ্রামবাসীর পক্ষে ফেলু মন্ডল জানায়, আমাদের এলাকার মানুষের সার্বিক সহযোগীতায় এ নৌকা তৈরি করা হচ্ছে। নৌকা তৈরিতে প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকা খরচ হবে।

নৌকা তৈরী দেখার জন্য আশপাশের উৎসুক জনতা এসে ভিড় করছে। যা দেখে আমরা খুবই আনন্দিত। প্রতিদিন সন্ধ্যায় নৌকার মাঝিরা বাইচ প্রতিযোগীতায় সারী গানের সুর মেলাচ্ছে।

মাঝিদের সুর শুনে এলাকাবাসীর মন ভরে যাচ্ছে। এবারের নৌকা তৈরি শেষ হলে পরবর্তীতে এর চাইতেও আরোও বড় নৌকা আমরা তৈরি করব।

আরও পড়ুনঃ ইসলামপুরে ধর্মপ্রতিমন্ত্রীর সাথে এফএও প্রতিনিধিগণের সৌজন্য সাক্ষাত

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ সংবাদ

বিজ্ঞাপন
x