1. durjoybangla24@gmail.com : durjoy bangla : durjoy bangla
  2. afzalhossain.bokshi13@gmail.com : Afjal Sharif : Afjal Sharif
  3. aponsordar122@gmail.com : Apon Sordar : Apon Sordar
  4. awal.thakurgaon2020@gmail.com : abdul awal : abdul awal
  5. sheblikhan56@gmail.com : Shebli Shadik Khan : Shebli Shadik Khan
  6. jahangirfa@yahoo.om : Jahangir Alam : Jahangir Alam
  7. mitudailybijoy2017@gmail.com : শারমীন সুলতানা মিতু : শারমীন সুলতানা মিতু
  8. nasimsarder84@gmail.com : Nasim Ahmed Riyad : Nasim Ahmed Riyad
  9. netfa1999@gmail.com : faruk ahemed : faruk ahemed
  10. mdsayedhossain5@gmail.com : Md Sayed Hossain : Md Sayed Hossain
  11. absrone702@gmail.com : abs rone : abs rone
  12. sumonpatwary2050@gmail.com : saiful : Saiful Islan
  13. animashd20@gmail.com : Animas Das : Animas Das
  14. Shorifsalehinbd24@gmail.com : Shorif salehin : Shorif salehin
  15. sbskendua@gmail.com : Samorendra Bishow Sorma : Samorendra Bishow Sorma
  16. swapan.das656@gmail.com : Swapan Des : Swapan Des
উপমহাদেশের প্রখ্যাত লোকগবেষক চন্দ্রকুমার দে’র ভিটেবাড়ীর স্মৃতিচিহ্ন টুকুও আর নেই! - durjoy bangla | দুর্জয় বাংলা
বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২০, ০১:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
মিরকাদিম পৌরসভার নগর কসবা গ্রা‌মের বিশিষ্ট সমাজ আলহাজ্ব গিয়াসউদ্দিন মুন্সী আর নেই টঙ্গীবাড়ীতে বন্যা ও নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণ ইসলামপুরের চরপুটিমারী বিট পুলিশিং কার্যক্রম উদ্বোধন। সবুজায়ন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বাড়ীর আঙ্গিণায় ৫টি করে বৃক্ষরোপন করুন সমাজকল্যান প্রতিমন্ত্রী কলমাকান্দায় চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক ডিজি আজাদকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুদক আজ খুলছে সুপ্রিমকোর্ট ৩ নম্বর সতর্ক সংকেতসমুদ্রবন্দরকে কক্সবাজারের এসপি-ওসির বিরুদ্ধে মামলা করতে যাচ্ছেন সাংবাদিক মোস্তফার স্ত্রী বন্ধ হচ্ছে আজ থেকে স্বাস্থ্য বুলেটিন




উপমহাদেশের প্রখ্যাত লোকগবেষক চন্দ্রকুমার দে’র ভিটেবাড়ীর স্মৃতিচিহ্ন টুকুও আর নেই!

দুর্জয় বাংলা ডেস্কঃ
  • বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২০, ৮:০৭ অপরাহ্ণ
  • ২৫১ বার পঠিত
উপমহাদেশের প্রখ্যাত লোকগবেষক চন্দ্রকুমার দে’র ভিটেবাড়ীর স্মৃতিচিহ্ন টুকুও আর নেই!

রাখাল বিশ্বাসঃ

উপমহাদেশের প্রখ্যাত লোকগবেষক ও লোকঐতিহ্য সংগ্রাহক চন্দ্রকুমার দে সম্পর্কে অনেকের ধারণা তিনি শুধু মৈমনসিংহ গীতিকার একজন খ্যাতিমান সংগ্রাহক। কিন্তু না, তাঁকে নিয়ে পরবর্তীতে যারা কাজ করেছেন তারা জেনেছেন বাংলার লোকসাহিত্য এবং সংস্কৃতির একজন বিশিষ্ট ব্যাখ্যাকার ও তাত্তি¡ক। এছাড়া তিনি ছিলেন প্রাবন্ধিক, গল্পকার, কবি ও গীতিকার। “মাটির কলসী” গল্পটিতে তার প্রমান পাওয়া যায়। চন্দ্রকুমার মহোদয়কে নিয়ে কিছু লিখার আগে তাঁর জীবনের উপর নিজের কিছু লেখা দিয়ে এই প্রবন্ধ শুরু করা আমি অবশ্যক মনে করছি। তাই সৌরভ পত্রিকার সম্পাদক শ্রীযুক্ত বাবু কেদারনাথ মজুমদার মহাশয়কে লেখা তাঁর লেখক জীবনের অনুগল্প তুলে ধরছি। চন্দ্রকুমারদে তাঁর লেখক জীবনের কথা বর্ণনা করতে গিয়ে লিখেছেন- “সর্ব প্রথম আমি সৌরভ পত্রিকায় তিনটি কবিতা পাঠাই- তিনটিই অমনোনীত হয়। আমি হাত গুটাইয়া বসি। দুই টাকা বেতনের সামান্য একজন তালুকদারের পাটোয়ারীর পক্ষে এটা যে কেবলি বিড়ম্বনা তাহা বেশ বুঝিতে পারিয়া নিরস্ত হই। কিছুদিন পর কেদার বাবুর চিঠি পাই। ‘একেবারে নিবিয়া গেলে কেন ?” তখন তাঁহার সঙ্গে আমার আলাপ পরিচয় কিছুই নাই। আবার লিখতে আরম্ভ করি;
বেশ মনে আছে- সেটা “ময়মনসিংহের মেয়েলী সঙ্গীত”, তাহাও অমনোনীত হইয়া ফিরিয়ে আসে। তখন ছিঁড়িয়ে ফেলিয়া প্রতিজ্ঞা করি জীবনে আর কোনদিন কলম ধরিব না। দিন পনের পর চিঠি পাইলাম- তুমি আমার সঙ্গে দেখা করো।
লজ্জায় তাঁহার সঙ্গে দেখা করিতে সাহস হইল না। ক্রমে চার পাঁচ খানা চিঠি পাইলাম। আমার জন্য তাহার এতো দরদ কেন ? অথচ তিনি স্পষ্টভাবে জানতে পারিয়াছেন আমি একজন গেঁয়োযোগী, আমার উচ্চ শিক্ষা মোটেই নাই। আমাকে গড়িয়া তোলার এতো স্বাদ কেন হইল! অথচ যে ব্যাক্তি “আমি” লিখিতে আমী লিখে বসে! যা হউক সঙ্কোচিত ভাবে একদিন তাঁর চরণে প্রনাম করিয়া দাঁড়াইলাম। তিনি দিন চার পাঁচ আমাকে তাঁর বাসায় রাখিয়া প্রবন্ধ লিখার প্রণালী ও দোষগুণ শিক্ষা দিলেন। তাঁহার বাসায় বসিয়া “চন্দ্রাবতী” লিখলাম। “কৃত্তিবাস” যে শুদ্ধ এবং কীর্তিবাস যে আশুদ্ধ এতটুকু পর্যন্ত তাঁহার নিকট হইতে আমাকে শিখিতে হইয়াছে। যা হউক, ক্রমে সাহস বাড়িল; তার পর আরো কয়েকটি প্রবন্ধ লিখিলাম। সেই সকল প্রবন্ধ যে খুব ভাল হইয়া ছিল, তাহা নহে। তবু সেই সকল প্রবন্ধের কোন কোনটি নিয়া তিনি আমাকে নিজ খরচে বঈীয় সাহিত্য সম্মিলনে উপস্থিত হইয়া, বড় বড় লোকদের সঙ্গে আমার পরিচয় করাইয়া দিতেন। আমি লজ্জায় মরিয়া যাইতাম। কিন্তু খুবই বুঝিতাম ইহা কেবল আমাকে উৎসাহ দিবার জন্য।




তথ্যসূত্র- বাংলা একাডেমীর তৎকালীন পরিচালক শ্রদ্ধামান শমসুজ্জামান খান সম্পাদিত চন্দ্রকুমার দে অগ্রন্থিত রচনা দ্বিতীয় খন্ড ১৯৯৪ ইং বাংলাএকাডেমী- ঢাকা।
১৯৬২ ইং সনে কোলকাতার মাসিক ফোকলর পত্রিকায়- “চন্দ্রকুমার দে জীবন কথা” নামে একটি লেখা প্রকাশ করেন ফোকলরবিদ শঙ্কর সেনগুপ্ত। পরে এই “জীবন কথাটি” বাংলা গ্রন্থে (১৬২-৬৭) সংকলিত করেন। এ ছাড়া চন্দ্রকুমারদের প্রথম জীবনী গবেষক অধ্যাপক যতীন সরকার স্যার তাঁকে নিয়ে বিস্তর লিখেছেন।
চন্দ্রকুমার দের জন্ম নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার বর্তমান কেন্দুয়া পৌরসভাধীন রাজ্বেশ্বরী নদী বিধৌত আইথর গ্রামে। তাঁর পিতা রামকুমার দে এবং মাতা তারাসুন্দরী (ওরফে কুসুম কামিনী)। তিনি ছিলেন দরিদ্র পিতা মাতার একমাত্র সন্তান। তাঁর জন্ম তারিখ ১৮৮৯ইং মতান্তরে ১৮৮১ইং এবং মৃত্যু ১৯৪৫ইং সনে। কিন্তু তাঁর জন্ম এবং মৃত্যুর দিন তারিখ বা মাসের নাম কোথাও পাওয়া যায়নি। তিনি গ্রামের পাঠশালায় পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করে ছিলেন। নি:সন্তান চন্দ্রকুমারদের দত্তকপুত্র বিনয়কুমার সরকারের পুত্র কলকাতা নিবাসী প্রদীপকুমার দে যিনি চন্দ্রকুমারদের উপর অনেক লেখা লেখি করেছেন। তিনিও চন্দ্রকুমারের সঠিক জন্ম মৃত্যু তারিখ উদ্ধার করতে পারেননি।

চন্দ্রকুমার দে মাত্র এক টাকা মাইনে নিজ এলাকার মুদি দোকানে চাকরী নেন পরে অন্যত্র দুই টাকা বেতনে চাকরী করেন। কিন্তু নেশা তার গ্রামে গ্রামে ঘুরে পালা গাঁথা কাহিনী শোনা আর লিপিবদ্ধ করা। যে কারণে মুদি দোকানের চাকরী চলে যায়। তিনি দমে যাননি, পরবর্তীতে তাঁর সংগ্রীহিত লেখাগুলো থেকে ময়মনসিংহের কেদারনাথ মজুমদার সম্পাদিত সৌরভ পত্রিকায় ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে “মহিলা কবি চন্দ্রাবতী” শিরোনামে প্রথম লেখা প্রকাশ হয়। এভাবে সৌরভ পত্রিকায় নিয়মিত লিখতে থাকেন তিনি। কেদারনাথ মজুমদার চন্দ্রকুমারকে পুত্রবৎ ¯েœহ করতেন। যা চন্দ্রকুমার নিজের লেখাতে প্রকাশ করেছেন। কেদারনাথ মজুমদারের সহযোগীতাতেই এবং কেদারনাথের পরম আত্মীয় কৃষ্ণকুমারের সুপারিশে গৌরীপুরের কালীপুর এস্টেটের জমিদার বিজয়কান্ত লাহিড়ীর অধীনে মাসিক ৮ টাকা বেতনে তহসিলদারের চাকরী হয় চন্দ্রকুমারের। এই চাকরীর সুবাদে গ্রামাঞ্চলে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ বৃদ্ধি পায়। ফলে তহসিলদারীর কাজের চেয়ে বেশী গুরুত্ব দিয়ে লিখে আনতে থাকেন পল্লীগ্রামের গায়েনদের গাওয়া বিভিন্ন লোকগাঁথা উপাখ্যান। এসব কারণে একদিন এ চাকরীও হারাতে হয়। এতে অর্থকষ্ট দেখা দিলেও তিনি হতাশ হননি। বরং আরো বেগবান হয় সংগ্রহেরকাজ। থেমে যায়নি সৌরভ পত্রিকায় লেখা-লেখিও।




তাঁর এ মসস্ত লেখার উপর দৃষ্টি পড়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশ চন্দ্র সেনের। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মাসিক ৭০ টাকা বেতনে পালাগান সংগ্রহের কাজে নিযুক্ত করেন। এতে তাঁর জীবিকা নির্বাহের পাশাপাশি সচ্চলতা ও সমবৃদ্ধি হয় গাঁথা সংগ্রহের কাজ। পরবর্তীতে ড. দীনেশ চন্দ্রসেন সম্পাদিত তাঁর “মৈমনসিংহ গীতিকা” বিশ্ব সাহিত্য দরবারে তাঁকে পরিচিত করে তুলে। চন্দ্রকুমারের জীবনে যেমন আশির্বাদ স্বরূপ হন কেদারনাথ মজুমদার, ডা. দীনেশ চন্দ্রসেন- তেমনি এই দুই বাঙালী মনিষীও আন্তর্জাতিক মর্যাদায় অভিষিক্ত হন। তিনি জীবৎকালের চল্লিশ বছর সাহিত্য জীবনে “মৈমনসিংহ গীতিকা, পূর্ববঙ্গ গীতিকাসহ আরো কিছু গ্রন্থ রচনা করেছেন। চন্দ্রকুমারদের অগ্রন্থিত পান্ডলিপি থেকে “চন্দ্রকুমার দে অগ্রন্থিত রচনা” নামে দুইটি গ্রন্থ ১৯৯৩ ও ১৯৯৪ইং সনে সম্পাদনা করে প্রকাশ করেন বাংলা একাডেমীর তৎকালীন পরিচালক শামছুজ্জামান খান।

চন্দ্রকুমারদের ৪ খন্ডে প্রকাশিত গ্রন্থের ৫৪টি মুদ্রিত পালা উপখ্যানের মধ্যে ২৫টি পালার সংগ্রাহকই চন্দ্রকুমারদে। তার পালাসমূহ মহুয়া, মলুয়া, চন্দ্রবতী, কমলা, দেওয়ান মদিনা, ধোপারপাট, মইষাল বন্ধু, ভেলুয়া, কমলারানী, দেওয়ান ঈশাখাঁ মসনদ এ আলী, ফিরোজখাঁ দেওয়ান, আয়না বিবি, শ্যামরায়ের পালা, শিলাদেবী, আন্ধাবন্ধু, কংক-লীলা, বেওলার বারমাসি, রতন ঠাকুরের পালা, পীরবাতাসী, জিরালনী, সোনারায়ের জন্ম, ভারাইয়া রাজার কাহিনী ইত্যাদি।
চন্দ্রকুমারদে এক সময় নিজ গ্রাম থেকে “মহাভারতী” নামে একটি মাসিক সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশ করেছিলেন এবং “ত্রিপত্র” নামে তাঁর একটি বই প্রকাশিত হয়েছিল। চন্দ্রকুমার দে শেষ জীবন কাটিয়েছেন ময়মনসিংহ শহরের নওমহল চকসেহরায়। তাঁর ক্রয়করা দুই শতাংশ ভূমির একটি বাড়িতে ১৯৪৫ইং সনে তিনি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুর পর সে বাড়িটিও বিক্রি হয়ে যায়। চন্দ্রকুমার দের শবযাত্রার শবদেহ বহনকারী আত্মীয় তারিনীকান্তদেও চন্দ্রকুমারের জন্ম-মৃত্যুর মাস ও তারিখ বলতে না পারায় সঠিক তারিখ পাওয়া যায়নি।




এই খনজন্মা মহাপুরুষ চন্দ্রকুমারদেকে দাহ করা হয়েছিল ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে কেওয়াটখালী শ্মশানঘাটে। পরে তার পরিবারের পক্ষ থেকে সেখানে ছাতাকৃতির একটি স্তম্ভ নির্মান করে ছিলেন। কিন্তু স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকহানাদার বাহিনী সে স্তম্ভটিও ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দেয়।
এভাবেই দিন দিন বিস্মৃতির গহŸরে হারিয়ে যেতে থাকে চন্দ্রকুমারের স্মৃতিচিহ্ন।
চন্দ্রকুমার দে বলে ছিলেন “আমি হীন নহি, উপেক্ষিত নহি আমি ময়মনসিংহ গীতিকার সংগ্রাহক। ইহার চাইতে গর্ব-গৌরব করিবার জিনিষ আমার কিছুই নাই”।
যতার্থই বলে ছিলেন। তিনি কলকাতায় বিরল সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন। পেয়ে ছিলেন স্বর্ণপদক। কলকাতা সংবর্ধনা কমিটির সভাপতি কর্তৃক প্রেরিত চিঠি এবং সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের উপর লিখাটি হুবহু তুলে ধরছি।

গত ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬ ঘটিকার সময় কলিকাতা আশুতোষ প্রাসাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় সদস্য এবং পোষ্ট গ্রেজুয়েটর বাংলা বিভাগের শিক্ষক ও ছাত্রগণের চেষ্টায় ময়মনসিংহের পালাগীতি সংগ্রাহক শ্রীমান চন্দ্রকুমার দে মহাশয়কে একটি অভিনন্দন দেয়া হইয়াছে। সভায় ডা: নীলরতন সরকার, ডা: দীনেশ চন্দ্রসেন, ডা: সুনীত চট্টোপাধ্যায়, রায়বাহাদুর জলধর সেন, নাট্যচার্য্য অমৃত লাল বসু প্রভূতি গন্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। ডা: নীলরতন সরকার সভাপতির আসন গ্রহন করিয়া ছিলেন। ডা: সরকার মহাশয় সুললিত ভাষায় বক্তৃতা দ্বারায় ময়মনসিংহ গীতিকার সংগ্রাহককে পুষ্পমাল্যে ভূষিত করিয়া এই অভিনন্দনসহ সূবর্ণ পদক ও টাকার তোড়া প্রদান করেন। সভায় মিস রোলান্ড নাম্মী একটি ইউনোপীয় ভদ্রমহিলা অর্ধঘন্টাকাল অনর্গল বিশুদ্ধ বাঙ্গালায় বক্তৃতা দিয়া সকলকে চমৎকৃত করিয়াছেন।
বিনয় প্রকাশ করিয়া চন্দ্রকুমার যে উত্তর প্রদান করিয়াছেন তাহা স্থানাভাবে এবার প্রকাশিত হইতে পারিল না। চন্দ্রকুমারের এই গৌরবে আমরা গৌরবান্বিত।
চন্দ্রকুমারকে সংবর্ধনা দেওয়ার জন্য যে পত্র দেয়া হয়েছিল তা নি¤œরূপ:-




“মহাশয় আপনি আপনার জন্মভূমির যে রতœখনির পরিচয় দিয়াছেন তাহাতে দেশ বিদেশে বঙ্গ সাহিত্যের গৌরব বর্ধিত হইয়াছে। পূর্ববঙ্গের নিভৃত পল্পীর নিকেতনে যে এরূপ অসাধরণ কাব্য সাহিত্য লোকায়িত ছিল তাহা বঙ্গবাসীরা জানিতেন না। এই গীতিরতœরাজি প্রকাশে বঙ্গসাহিত্য নব শ্রীমন্ডিত হইয়া উজ্জলতর হইয়াছে। আপনি জাতীয় সাহিত্যের সম্ভারে নতুন আলোপাত করিয়া এদেশের সাহিত্যিকগণকে বিস্ময়ান্বিত ও মুগ্ধ করিয়াছেন। মহামনা ডা: সিলভেন্ লিভি, রোমান রোঁলা, স্যার জর্জ্জ গীয়ার্সন প্রভৃতি জগদ্বিখ্যাত পন্ডিতগণ যে সমস্থ পল্লীগাঁথার এত প্রসংসা করিয়াছেন, তাহার আবিস্কারের মূলে আপনার অসাধারণ কর্ম্মঠতা, দেশপ্রীতি ও অক্লান্ত অধ্যবসায়। আমরা আপনার নি:সার্থ পরিশ্রম ও নানাবিধ সদগুনের পক্ষপাতি হইয়া অদ্য এই সভা আহŸান পূর্বক আমাদের আন্তরিক প্রীতি নিদর্শন স্বরূপ এই অভিনন্দন পত্রখানি প্রদান করিতেছি। আশা করি ইহা গ্রহন করিয়া আমাদিগকে সুখি করিবেন। শ্রীনীলরতন সরকার- সভাপতি।




গত ২৬ জানুয়ারী/২০২০ইং তারিখ নেত্রকোণার অবসর প্রাপ্ত ডিআইজি সংস্কৃতি মনস্ক আব্দুল হান্নান, গবেষক রাজুরবাজার কলেজিয়েট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা, গীতিকার নূরুল ইমলাম, পালা-নাট্যকার রাখাল বিশ্বাস, কবি সাজ্জাত খানসহ দুই বাংলার লেখক গবেষক (কলকাতা, নেত্রকোণা ও কিশোরগঞ্জের) বিদগ্ধ গুণী বিশজনের একটি দল এসেছিলেন কেন্দুয়ার গুণীজনদের ভিটেবাড়ী পরিদর্শনে। তারা প্রথমে আসেন রামপুর আব্দুল মজিদ স্মৃতি সঙ্গীত বিদ্যালয়ে। সেখানে বাউল সাধক আব্দুল মজিদ তালুকদারকে নিয়ে আলোচনা হয়। পরে মরমী বাউল সাধক জালাল উদ্দিন খাঁর সিংহের গাঁওয়ের বাড়ী, পল্লী কবি রওশন ইজদানীর বিদ্যাবল্লভ গ্রামে বাড়ী, মৈমনসিংহ গীতিকার সংগ্রাহক চন্দ্রকুমারদের আইথর গ্রামের বাড়ি, অবিভক্তবাংলার অর্থমন্ত্রী নলিনী রঞ্জন সরকারের সাজিউড়া গ্রামের বাড়ী, গানে প্রশ্ন গানে উত্তর খ্যাত বাউল কবি দ্বীনশরতের সাজিউড়া গ্রামের বাড়ি, বাউল গীতিকার সুমঙ্গ শীলের সাজিউড়া গ্রামের বাড়ি এবং সবশেষে ঐতিহ্যবাহী কেন্দুয়া প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে দীর্ঘ মতবিনিময় করেন অতিথিবৃন্দ। অতিথিগণ চন্দ্রকুমারদের স্মৃতি রক্ষার্থে নানা প্রতিশ্রæতি দেন। শোনান বহুবিদ আশার বাণী। ইত্যাদি বিষয়ে আইথর গ্রামের মানুষের অনুভূতি জানতে গিয়ে অনেকের সাথে কথা হয়। এক পর্যায়ে চন্দ্রকারদের ভিটেবাড়ীর বর্তমান মালিক সত্তর বছরের বৃদ্দা জুবেদা আক্তারের সঙ্গে আলাপ হলে তিনি জানান, অনুমান ১৯৩০ সনের দিকে চন্দ্রকুমারদের ভাগ্নে (শুনেছি পালকপুত্র) বিনয়কুমার সরকার ওরফে হিরণ কুমার দে কে ১৫ কাঠা (১৫০ শতক) জমি চন্দ্রকুমার দে দান করে দিয়ে তিনি ময়মনসিংহ চলে যান। পরবর্তীতে ভাগ্নে হিরণ কুমার সাড়ে ৭ কাঠা নামাজমি গ্রামের মানুষের কাছে বিক্রি করে দেন। সবশেষে আইথর পাশ্ববর্তী ভাটিকোনা গ্রামের আমার পিতা সোনাফর মিয়ার কাছে সাড়ে ৭ কাঠা বাড়ী সাফকাওলা মূলে বিক্রি করেন। এই খরিদকৃত বাড়ী সোনাফর মিয়া, হাসিম উদ্দিন এবং মনফর আলী তিন ভাই আড়াই কাঠা করে সমবন্টনে নেন। জুবেদা আক্তার আরো জানান, চন্দ্রকুমার যে ভিটেয় বসত করতেন সেই ভিটে সোনাফর মিয়ার ভাগে পড়ে। সোনাফর মিয়ার ছেলে সন্তান ছিলেন না। তার ৩ মেয়ে যথাক্রমে আমি জুবেদা আক্তার, হামেদা আক্তার এবং মজিদা আক্তার। সোনাফর মিয়া মারা গেলে ওই তিনবোন হয় এই বাড়ির মালিক। পরে ছোট বোন মজিদা হিস্যা অনুযায়ী তার অংশ বিক্রি করে সলক কমলপুর গ্রামে চলে যান। বর্তমানে জুবেদা আক্তার ও হামেদা আক্তার বাড়িটির মালিক। জুবেদা আক্তারের দুলাল মিয়া ও রিয়াজ উদ্দিন নামে দুই ছেলে রয়েছে। দুই মেয়ে ছিল বিয়ে দিয়েছেন অনেক আগেই।
চন্দ্রকুমারদের স্মৃতি বিজড়িত বাড়িটির ২৫ শতাংশের মাঝে চার শতাংশ আবার বোনপো খায়রুলের কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে ২১ শতাংশ বাড়ি রয়েছে জুবেদার। তিনি এই প্রতিবেদকের কাছে দৃঢ় কন্ঠে বলেন, চন্দ্রকুমারের মত বিখ্যাত ব্যাক্তির স্মৃতির জন্য আমি আমার জায়গা দিতে রাজি আছি। তাঁর স্মৃতির জন্য আমার ঘর ভেঙ্গে গাছ কেটে হলেও জায়গা দেবো।




তিনি আরো জানান, বহুদিন আগে বাংলা একাডেমী থেকে ড. আশরাফ সিদ্দিকী এসেছিলেন, কেন্দুয়া থেকেও অনেক গণ্যমান্য ব্যাক্তিরা এসেছিলেন। তারা চন্দ্রকুমারের স্মৃতি স্তম্ভ নির্মানের জন্য আমার বাড়ীর সামনটায় ‘ইট’ কোপে স্থান নির্ধারণ করে ছিলেন এবং পরবর্তীতে এক টন মালও দিয়ে ছিলেন। কিন্তু এখানে আর কোন কাজই কেউ করেনি। আমি চাই চন্দ্রকুমারের নামে যেখানে ইট কোপা হয়েছিল সেখানেই যেন “চন্দ্রকুমারদে স্মৃতি স্তম্ভ” নির্মান করা হয়।
আইথর গ্রামের প্রবীন শিক্ষক ও লেখক এম এ হামিদ জিলু, চানমিয়া সরকার, সোনা মিয়া, নারায়ন সরকার জানান, চন্দ্রকুমারদের বাড়ি উপলক্ষে আমাদের গাঁয়ে বহুবার বহু জ্ঞানী-গুণীজন এসেছেন। তারা নানা প্রতিশ্রæতি, বিভিন্ন আ:শ্বাস দিয়েছেন। কতকিছু করে দেওয়ার বহু কথা শোনেছি। এসব কথা আর শোনতে চাইনা। সরকারসহ কেউ যদি কিছু করতেই চান তাহলে কথার কথা না বলে কাজ করে দেখান। আমরা আর মিথ্যা প্রতিশ্রæতি শোনতে চাইনা এবং চন্দ্রকুমারের মত গুণী মানুষের আত্মাকেও আর কষ্ট দিতে চাইনা। এখানে যদি কেউ কিছু করে দিতে পারেন আমরা গ্রামবাসী সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকবো এবং মর্যাদার সাথে চন্দ্রকুমারের স্মৃতি আগলে রাখবো।

প্রকাশকালঃ পহেলা মে ২০২০ইং

আপনার মতামত লিখুনঃ
নিউজটি সেয়ার করার জন্য অনুরোধ রইল!
এই জাতীয় আরো সংবাদ
durjoybangla.com







©২০১৩-২০২০ সর্বস্তত্ব সংরক্ষিত | দুর্জয় বাংলা

কারিগরি সহযোগিতায় দুর্জয় বাংলা