এসআই নাজিমের পুলিশ সোর্স হওয়ায় ওবায়দুলের দাদাগিরি

এসআই নাজিমের পুলিশ সোর্স হওয়ায় ওবায়দুলের দাদাগিরি

স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহঃ ময়মনসিংহে কয়েক কোটি টাকার সম্পদ সম্পত্তির মালিক এসআই নাজিমের সোর্স হওয়ায় কোতোয়ালী থানা এলাকার রাঘবপুর গ্রামের সোর্স ওবায়দুল ও তার বাবা কাশেম আলীর দাদাগিড়ি এখন তুঙ্গে। নিরিহ মানুষদের নির্যাতন, মাদক দিয়ে ফাঁসানো, চোরাই অটো নিজ হেফাজতে রেখে চালক দিয়ে চালানো ও মাদক বিক্রী যেন তার পেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরকিয়ার কারনে তার এক আত্নীয়কে প্রায় ৯ মাস ধরে স্বামীর বাড়িতে যেতে না দিয়ে নিজ হেফাজতে রেখেছেন। একাধিক মেম্বার, সাবেক মেম্বার ও মহিলার ভাই চেষ্টা করেও মহিলাকে স্বামীর বাড়িতে নিতে পারেননি। এমনকি গর্ভধারিনী সন্তানদ্বয় ৬/৭ বার এসেও তাদের মা’কে নিতে পারেনি। হতভাগ্য স্বামী তার স্ত্রীকে আনতে গেলে স্ত্রী শামছুন নাহার জানান, তাকে নিতে হলে নাজিম দারোগা ও ওবায়দুলের কাছে বলে নিতে হবে। ওবায়দুল বিপুল পরিমান মাদকসহ ময়মনসিংহ র‌্যাব-১৪ এর হাতে আটক হয়েছিল । এলাকাবাসী জানায়, পুলিশের সোর্স বিধায় মাদক বিক্রী করলেও তাকে পুলিশ ধরেনা।



রাঘবপুর গ্রামে বা চরঈশ্বরদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, মেম্বার ও সাধারন মানুষ ওবায়দুলকে এক নামে এসআই নাজিম দারোগার সোর্স ও মাদক বিক্রেতা বলে চিনে। পর নারী আসক্তি ওবায়দুল তার এলাকার এক ছেলের স্ত্রীকে না ছাড়ায় ছেলের চাচা হারেজ আলী ও বাবা কফিল উদ্দিনকে পিটিয়ে ছিল। পরে সামাজিক ভাবে তা আপোষ হয়।
জানা যায়, রাঘবপুর গাং পাড়ার হাবিব ও মজিবরকে নানা ভাবে হয়রানি করে ওবায়দুল। ওবায়দুল আইন প্রয়োগকারী একটি সংস্থার নামে বিভিন্ন জুয়ার বোর্ড ও মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা তোলে। এছাড়াও এসআই নাজিমের বিশাল সয়সম্পত্তি দেখ-ভাল করে। চোরাই করা অটোরিক্সা এসআই নাজিম উদ্ধার করে সোর্স ওবায়দুলকে দেয়। ওবায়দুল “সূচনা স্বরণ” ও এসআই নাজিম এর মোবাইল নাম্বার লিখা প্রায় ২০ টি অটোরিক্সা দেখাশুনা করে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে। ওবায়দুলের সন্তান “নওমী” নামে অন্তত ৭ টি অটোরিক্সা চলে। স্থানীয়রা জানায়, যে সকল রশিদ দেখায়, সেই প্রতিষ্ঠান তাদের আমদানী বা ইনপোর্ট করার কাগজপত্র দেখাতে পারবে না।
শামসুন নাহারের ভাই হযরত আলী জানান, ওবায়দুলের কারনে শামছুন নাহার স্বামীর ঘর করেতে পারেনি। আব্দুল হক ও তার দুই ছেলে বহুবার এসে নিতে চাইলে শামছুন নাহার যায়নি।



আব্দুর হক বলেন, ওবায়দুল ও এসআই নাজিমকে বলে বউ নিতে হবে এমন শর্তে আমি রাজি হইনি। শামছুন নাহার বেশীর ভাগ সময় ওবায়দুলের বাড়িতে থাকে। এলাকায় প্রচার, নাজিম দারোগাকে পাক করে দাওয়াত খাওয়ানোর ঘটনায় আমি কস্ট পেয়েছি। সাবেক মেম্বার আব্দুস সালাম জানান, ওবায়দুল এলাকার সাধারন মানুষদের পুলিশ দিয়ে নানা ভাবে হয়রানি করেছে। নাজিম দারোগার অস্থায়ী হাজত খানা ছিল ওবায়দুলের বাড়ি। আর এই অস্থায়ী হাজত খানা থেকে এক রাত্রী আটক থাকার পর পালিয়ে যায় মাদক ব্যবসায়ী হাছেন আলীর পুত্র হাসিম উদ্দীন হাসি। যাকে পুলিশ আজো গ্রেফতার করতে পারেনি। ওবায়দুল আগে থানার দালাল ছিলো। এখন এসআই নাজিমের সোর্স।
শফি মেম্বার জানান, আবুল কাশেমের মেয়ের বাড়ি ও ওবায়দুলের বোনের বাড়ি দশ নম্বর বাজারের পাশে, পিতা-পুত্র মিলে মাদক বিক্রী করতে গেলে জনগণ আটক করে। এগুলো দারোগার মাল (মাদক) বলে প্রকাশ করলে আরো জনরোষে পড়েন তারা। পরে সফি মেম্বার তাদের ছাড়িয়ে আনেন।



সম্প্রতি মাদক বিক্রী করতে অনিহা প্রকাশ করায়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা আনুমানিক ৭ ঘটিকায় ভাই ভাই হ্যাচারী থেকে জোর পূর্বক ওবায়দুল ও তার পিতা আবুল কাশেমসহ কতিপয় মহিলা মিলে রেজাউলকে ধরে অপহরন করে নিয়ে বেধরক পিটিয়ে মারাত্নক আহত করেছে। পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ শাহজাহান ও অভিযোগের তদন্তকারি অফিসার আবুল কাশেম সঙ্গীয় পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থল তদন্ত করেছেন।
বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, এসআই নাজিম অন্যের স্ত্রীকে ছিনিয়ে নিয়ে বিয়ে করেছেন। নাজিমের একাধিক রাড়ি রয়েছে এ শহরে। আগামীতে পড়ুন।

আরো পড়ুন>> জগন্নাথপুরে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে ২টি বেকারীকে ৪৫হাজার টাকা জরিমানা

আপনার মতামত লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here