13.7 C
New York
সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২১

কর্মিবান্ধব দক্ষ সংগঠক: অসীম ও অপু উকিল

মোঃ আসাদুজ্জামান খান সোহাগ, স্টাফ রিপোর্টারঃ

বিজ্ঞাপন

অনেক সময় সাদাকে সাদা কালোকে কালো বলতে গিয়ে বা লিখতে গিয়ে তোষামোদির তকমাভুক্ত হতে হয়।

আজকের প্রয়াসঃ
আজকে যাঁকে নিয়ে লিখতে চাই তিনি একজন তুখোড় রাজনৈতিক সংগঠক, অনলবর্ষী বক্তা, টকশোতে আলোড়নকারি ব্যক্তিত্ব, সংস্কৃতিমনা ও সংগীত শিল্পী, রূপে গুণে গুণান্বিত ও সর্বোপরি কর্মিবান্ধব নেতা। আমার মত স্বল্প মেধার মানুষ তাঁকে যথার্থ মূল্যায়নে তাঁর সম্পর্কে গুছিয়ে লিখা খুবই দুরূহ কাজ। তিনি ভাটি বাংলার বধু বিশেষ করে কেন্দুয়া, আটপাড়া তথা নেত্রকোণার সুপ্রিয় বৌদি, বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের বিপ্লবী সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি অধ্যাপিকা অপু উকিল

বিজ্ঞাপন

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে অনার্স সহ মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করে তেজগাঁও বিশ্ব বিদ্যালয় কলেজে পেশা জীবন শুরু করেন। কিন্তু বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দানকারী ব্যক্তির রক্তধারা তাঁকে পেশাজীবী জগতে বেশি দিন থাকতে দেয়নি।
২০০১-২০০৬ সময়ে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের দুঃশাসন বিশেষ করে আওয়ামী পরিবারের সদস্যদের উপর অমানবিক নিপীড়ন-নির্যাতনে দিশেহারা। এ অবস্থায় তিনি কলেজের ছাত্র-ছাত্রী পড়ানোতে মনঃসংযোগ করতে পারেননি। এক সময়ের সহযোদ্ধাদের নৃশংস দৃশ্য সহ্য করতে না পেরে স্বৈরাচার সরকারের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ার লক্ষ্যে চাকুরী ছেড়ে রাজপথে নামার সিদ্ধান্ত নেন।

তাঁর স্বামী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক (বর্তমানে আ’লীগের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক ও নেত্রকোণা-০৩ আসনের মাননীয় সাংসদ) বাবু অসীম কুমার উকিলের প্রেরণায় ছাত্রলীগের সাবেক একঝাঁক মেধাসম্পন্ন নেত্রি নিয়ে তখনকার বিরোধী দলীয় নেত্রী আজকের উন্নয়ন বান্ধব সরকার প্রধান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে জোট সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে নামার বাসনা ব্যক্ত করেন।
নেত্রীর নির্দেশ মোতাবেক ২০০২ সালের জুলাই মাসের ৬ তারিখে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের তালিকা ভুক্তির প্রত্যয়ে শেখ হাসিনার আন্দোলনের গতি আরও বেগবান করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী যুব মহিলা লীগ নামে একটি ব্যানার নিয়ে রাজপথে নেমে পড়েন।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য ঐসময় ছাত্রলীগ, যুবলীগ সহ অন্যান্য সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোও মাঠে নামতে হিমশিম খাচ্ছিল।
কিন্তু অধ্যাপক অপু উকিল ও নাজমা আক্তারের নেতৃত্বে ঢাকার রাজপথ সহ বাংলাদেশের আনাচে কানাচে যুব মহিলা লীগ জোট সরকারের অপশাসনের বিরুদ্ধে যে তীব্র প্রতিরোধের দেয়াল তৈরি করেছিল তা সারা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল।
ফলশ্রুতিতে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের পতন ঘটে এবং কিছুটা কালক্ষেপনের এক পর্যায়ে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভে সরকার গঠন করে।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্যা কণ্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা দ্বিতীয় বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।
বিশ্বস্ত ভ্যানগার্ডের কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ, সাংগঠনিক দক্ষতা ও সাহসিকতার পুরস্কার হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের কেন্দুয়া, আটপাড়া তথা নেত্রকোণার প্রিয় বৌদি অধ্যাপিকা অপু উকিলকে মহিলা আসন-০২ এর সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করেন। উল্লেখ্য যে সংরক্ষিত মহিলা আসনের ক্রম সাধারণত নেত্রীর একান্ত বিশ্বস্ত ও আস্হাভাজন হিসেবে সাজানো হয়।

বৌদি তাঁর রাজনীতির প্রায় শুরু থেকেই দাদার সাথে দাদার পৈতৃক নিবাস কেন্দুয়া উপজেলার মানুষকে আপন করে নেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার সাথে সাথে ভালবাসার হাত বাড়িয়ে দিলেন আটপাড়া উপজেলা সহ নেত্রকোণা জেলার আওয়ামী পরিবারের সকল সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সহ আপামর জনতার প্রতি।
সময় যত যাচ্ছে কেন্দুয়া, আটপাড়া তথা নেত্রকোণা জেলার মানুষের সাথে বৌদির সম্সর্ক ততই গভীর থেকে গভীরতর হচ্ছে।
সাধারণত নেতারা যখন কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছেন তখন অধিকাংশ নেতারাই কেন জানি কর্মিবান্ধ থেকে দূরে সরে কর্মী বিচ্ছিন্ন হন।
বর্তমানে অধ্যাপিকা অপু উকিলের স্বামী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক বাবু অসীম কুমার উকিল নেত্রকোণা-০৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য। কিন্তু বৌদির ক্ষেত্রে পরিবর্তনের লেশ মাত্র নেই। আগেও যেমন নেতা কর্মিদের নিয়ে খোশ গল্প, হৈ হুল্লোড়, ফটোসেশন, সেলফি তোলায় মত্ত থাকতেন এখনো সেই রকমই।

বিজ্ঞাপন

উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের পর পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে দীর্ঘদিনের গ্রুপিংয়ের কারণে অনেক যোগ্য নেতার জায়গা না হলেও বৌদি ত্যাগী ও বঞ্চিতদের সাথে স্ব-উদ্যেগে যোগাযোগ করে রাজনীতির ধারাবাহিকতায় থাকার জোরালো আহ্বান জানিয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
নেতা ও জনপ্রতিনিধি অনেকেই হচ্ছেন, ভবিষ্যতেও হবেন। কিন্তু কর্মিবান্ধব নেতা কয়জন হতে পারেন?
আশা করি আমরা একজন কর্মিবান্ধব নেতা মিসেস এমপি পেয়েছি যিনি আমাদের সবার কাছে বৌদি হিসেবেই অনেক বেশি প্রিয়ভাজন।
আপনার ও এমপি মহোদয়ের আগামী সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড হোক আরো গতিশীল ও কর্মিবান্ধব।

আরও পড়ুন: চিকিৎসকের অবহেলায় করোনা রোগীর মৃত্যেুর অভিযোগ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ সংবাদ

বিজ্ঞাপন
x