কেন্দুয়ার মাটিতে জঙ্গী, সন্ত্রাস,মাদক ও জুয়ারীদের কোন ঠাঁই হবে না- ওসি রাশেদুজ্জামান

 মাদক জুয়া ইভটেজিং অপরাধীদের আতংকের নাম কেন্দুয়া’র ওসি রাশেদুজ্জামান!

জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাস, মাদক ও জুয়া নিমূর্লে বদ্ধ পরিকর কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান। তিনি সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বলেন, আমার বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। বঙ্গবন্ধুর ডাকে আমার বাবা জীবনের মায়া ত্যাগ করে পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের পরাজিত করে আমাদেরকে একটি স্বাধীন দেশ উপহার দিয়েছেন। এই দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা ও আইন শৃংখলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়নে আমি আমার পুলিশ বাহিনীকে নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমি ওসি হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে এই প্রথম নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া থানায় যোগদান করার পর মহামারী করোনা মোকাবেলার পাশাপাশি কেন্দুয়াকে জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাস, মাদক ও জুয়ামুক্ত করার যে ঘোষনা দিয়েছিলাম, তা বাস্তবায়নে সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। আমার কাছে অপরাধীদের কোন দলীয় পরিচয় নেই। অপরাধী যত বড়ই হোক কিংবা তার ক্ষমতা যতই শক্তিশালী হোক, অপরাধ করে কেউ ছাড় পাবে না। আমি ইতিমধ্যে মহা-পুলিশ পরিদর্শক ও পুলিশ সুপারের নির্দেশে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় কেন্দুয়া থানাকে অনেকটাই জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাস, মাদক, জুয়া ও দালাল মুক্ত করতে পেরেছি। এসব দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যাদের স্বার্থে আঘাত লেগেছে, তারা আমার বিরুদ্ধে নানা ধরণের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তিনি আরো বলেন, গত ৬ মে কেন্দুয়া পৌর এলাকার সাউদপাড়ায় অভিযান চালিয়ে জুয়ার আসর থেকে দুই পৌর কাউন্সিলর ও এক ইউপি সদস্য সহ ৯ জনকে আটক করি। কেন্দুয়া উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন তার ছোট ভাই কাইয়ুম কাউন্সিলরসহ অন্যান্য জুয়ারীদের ছাড়িয়ে নিতে চেষ্টা চালায়। আমি তাদের নামে মামলা দিয়ে আদালতে সোপর্দ করি। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে কেন্দুয়া উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনয়ন করে পুলিশ-মহা পরিদর্শক বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেই ক্ষান্ত হননি। তারই প্ররোচনায় পাড়াতলী গ্রামের মোঃ গোলাম মোস্তফার মেয়ে নুসরাত জাহান নাদিয়াকে (রোজিনা) এসএসসি পরীক্ষার্থী দেখিয়ে ঘটনার ৬ মাস পর তার ভাই কামরুলকে দিয়ে গত ১৫ জুন নেত্রকোনা জেলা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে করে বলেন, ওসি রাশেদ মামলা না নিয়ে তার বোন রোজিনাকে বেশ্যা বলে গালমন্দ করে থানা থেকে বের করে দিয়েছে। অথচ গত ২৯ জানুয়ারী কেন্দুয়া বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন হোটেল নুরজাহানে একটি মেয়েকে নিয়ে গন্ডগোল হচ্ছে হোটেল ম্যানেজারের ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রোজিনাসহ কয়েকজন ছেলেকে ধরে থানায় নিয়ে আসে। জিজ্ঞাসাবাদে রোজিনা জানায় সে এসএসসি পরীক্ষার্থী। তাকে শান্তিনগর এলাকার একটি বাসায় নিয়ে বাবু নামক এক যুবক ধর্ষন করেছে। কেন্দুয়া থানার ওসি (তদন্ত) হাবিবুল্লাহ বিষয়টি তদন্ত করে জানতে পারেন, রোজিনা এসএসসি পরীক্ষার্থী নন। সে মজলিশপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৬ সালে অষ্টম শ্রেণি পাশ করে, পরে আর পড়াশুনা করেনি। সে বিবাহিত। ২০১৭ সালে ২রা জানুয়ারী জাহাঙ্গীর আলম নামক এক যুবকের সাথে তার বিয়ে হয়। পরবর্তীতে তার সাথে বনিবনা না হওয়ায় ২০১৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়।
বিবাহ বিচ্ছেদের পর থেকেই সুচতুর রোজিনা কৌশলে ছেলেদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রভাবশালীদের কাজে লাগিয়ে বø্যাক মেইল করে তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিতো।
ওসি রাশেদ আরো বলেন, মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে আমাকে আমার দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখা যাবে না। আমি যতদিন কেন্দুয়ার ওসি হিসেবে থাকবো, ততদিন কেন্দুয়ার মাটিতে জঙ্গী, সন্ত্রাস, মাদক ও জুয়ারীদের কোন ঠাঁই হবে না। তিনি তার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে সকলের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

Please enter your comment!
Please enter your name here