কেন্দুয়ায় জুঁই আত্মহত্যায় প্রেমিকসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় স্কুল ছাত্রী জুঁই আক্তার তৃষ্ণা (২০) আত্মহত্যায় প্রেমিক পুলিশ কনস্টেবল সাইফুল্লাহ তারেকসহ ৫ জনকে আসামী করে কেন্দুয়া থানায় মামলা করেছেন জুঁই আক্তার তৃষ্ণার মা আসমা আক্তার। অন্য আসামীরা হচ্ছেন প্রেমিক সাইফুল্লাহ তারেকের পিতা আবুল কালাম, মামাতো বোন রিয়া আক্তার, প্রিয়া আক্তার ও মামা সৈয়দুজ্জামান স্বপন। মামলা সূত্রে জানা যায়, কেন্দুয়া উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়নের গাড়াদিয়া কান্দা গ্রামের রতন আহম্মেদের মেয়ে জুঁই আক্তার তৃষ্ণা উলুয়াটি আদর্শ একাডেমীতে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে লেখাপড়া করা কালীন পাশ্ববর্তী শিবপুর গ্রামের আবুল কালামের ছেলে সাইফুল্লাহ তারেক জুঁইকে স্কুলে যাতায়াতের পথে নানাভাবে উত্যক্ত করত। এক পর্যায়ে মেয়েকে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে আবার জুঁইকে রওশন ইজদানী একাডেমীতে ভর্তি করানো হয়। জানতে পেরে সাইফুল্লাহ তারেক জুঁইকে প্রেমের প্রস্থাব দিতে থাকে। এক পর্যায়ে বিবাদী সাইফুল্লাহ তারেক শিবপুর গ্রামের তার মামাতো বোন রিয়া আক্তারের মাধ্যমে প্ররোচিত করে জুঁইয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক স্থাপন করে। এ অবস্থায় ২০১৯ সনের ঈদুল আযহার পরের দিন তারেক জুঁইকে নিয়ে সারাদিন বিভিন্ন স্থানে ঘুরাঘুরি করে।



পরে শিবপুর গ্রামে মামা সৈয়দুজ্জামান স্বপনের বাড়ির পেছনে রাস্তায় রেখে চলে যেতে চাইলে জুঁই তাকে বিয়ে করার জন্য চাপ দেন। এতে উভয়ের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। এমতাস্থায় তারেকের মামাত বোন রিয়া ও প্রিয়া আক্তার এসে জুঁইয়ের চুলের মুঠি ধরে মারধর করে টেনে হিঁচড়ে তাদের বাড়ি নিয়ে যায় এবং অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে। খবর পেয়ে জুঁইয়ের পরিবারের লোকেরা মেয়েকে বাড়ি নিয়ে আসেন। এ সময় বিবাদী পক্ষ আনুষ্ঠানিক ভাবে বিয়ের প্রস্থাব দিয়ে বিয়ে করিয়ে নেবেন বলে জানান। কিন্তু পরে ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও আর কোন যোগাযোগ করেনি। উল্টো কু-রুচিপূর্ণ কথাবার্তা বলেন। এ অবস্থায় পুলিশ কনস্টেবল সাইফুল্লাহ তারেক অন্যত্র বিবাহ করবে প্রচার এবং কু-রুচিপূর্ণ কথাবার্তা শুনে গত ১৯ আগস্ট সন্ধ্যায় বসতঘরের ধর্নার সঙ্গে গলায় শাড়ি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে জুঁই।



খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেন এবং ইউডি মামলা করেন। পরে গত ২৮ আগস্ট কেন্দুয়া থানায় উপরোল্লিখিত ৫ জন কে আসামী করে একটি মামলা করেন জুঁইয়ের মা। অপরদিকে জুঁই আক্তার তৃষ্ণার চাচা আব্দুল মান্নানকে মামলা তুলে নিতে হুমকি প্রদানের প্রেক্ষিতে গত ২৯ আগস্ট একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক হাবিবুল্লাহ খান জানান, মামলাটি তদন্তাদীন আছে। ১নং আসামী যেহেতু পুলিশ সদস্য, আমরা তার চাকরি স্থলে চিঠি পাঠিয়েছি। তদন্তে দোষি প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা হবে।

আরো পড়ুন>>> ময়মনসিংহের চরাঞ্চলের শম্ভুগঞ্জ থেকে বোররচর পর্যন্ত সড়কে বেহাল দশা।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

Please enter your comment!
Please enter your name here