কেন্দুয়ায় ধানী গোল্ড জাতের ধান বীজে প্রতারিত কৃষক, ফলন বিপর্যয়ে দিশেহারা

কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) সংবাদদাতা ॥
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় ভারত থেকে আমদামীকৃত ধানী গোল্ড জাতের নকল আমন বীজ কিনে প্রতারিত চার কৃষকের ১০ একর জমিতে ফলন বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এতে প্রায় ৪ লক্ষ টাকা মূল্যের ফসলের ক্ষতির আশংকায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।



উপজেলার দলপা ইউনিয়নের বেখৈরহাটি গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক রাশিদুল কুবাদ বাদশা জানান, আমন আবাদের শুরুতে স্থানীয় বেখৈরহাটি বাজারের ব্যবসায়ী আলমগীরের দোকান থেকে বিশ প্যাকেট ধানী গোল্ড জাতের বীজ কিনে চারা তৈরি করে ৮ একর জমিতে ধান রোপন করেন। বীজ সংগ্রহের সময় প্যাকেটের গায়ে অৎরুব ধানী গোল্ড, বায়ার হাইব্রিড-৪ লেখা ছিল। আবাদকৃত জমিতে ধানের শীষ গজালে দেখা যায়, বিভিন্ন জাতের ধানের মিশ্রন রয়েছে। ধানী গোল্ড জাতের ধানের চেয়ে অন্য জাতের ধান বেশি। ফসলের দুরাবস্থা দেখে তিনি দিশেহার হয়ে পড়েন। পরে তিনি কেন্দুয়া উপজেলা কৃষি কর্মকতার কাছে এ ব্যাপারে অভিযোগ জানালে, মাঠপর্যায়ে কর্মরত উপ-সহকারি কৃষি কর্মকতা দিলীপ সরকার সরেজমিনে ঘটনা প্রত্যক্ষ করে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরে সচিত্র প্রতিবেদন দাখিল করেন।



এছাড়া একই গ্রামের প্রান্তিক কৃষক মমিন মেস্তরির ১ একর ১০ শতাংশ, জিয়াউর রহমানের ৫০ শতাংশ ও আব্দুর রাশিদের ছেলে আল্লাদ মিয়ার ৪০ শতাংশ জমিতে অনুরূপ অবস্থা বিরাজমান। তারাও বীজ বিক্রেতা আলমগীরের দোকান থেকে ধানী গোল্ড হাইব্রিড জাতের বীজ ধান কিনে জমিতে রোপন করেছিলেন। নকল বীজের কারণে ফলনে বিপর্যয় দেখে প্রায় ৪ লক্ষ টাকা ক্ষতির আশংকায় দিশেহারা হয়ে ৪ কৃষক এখন চোখে সরষে ফুল দেখছেন।



বীজ বিক্রেতা আলমগীরের সাথে কথা হলে তিনি জানান, অন্য এলাকার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে এ বীজ এনে তিনি বিক্রি করেছেন।
এ বিষয়ে কথা হলে উপজেলা কৃষি কর্মকতা মো: আনিসুজ্জামান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কাছে থেকে অভিযোগ পেয়েছি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে থেকে কৃষি অফিস তাদের সহযোগিতা করবেন বলেও জানান।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

Please enter your comment!
Please enter your name here