13.7 C
New York
মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২১

কেন্দুয়ায় বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে একজন নিবেদিতপ্রাণ -কল্যাণী হাসান

বিজ্ঞাপন

‘নারীকে শুধু নারী নয়, মানুষ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। সমাজের সর্বস্তরে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হবে। আর এজন্য বাল্যবিয়ে, নারী নির্যাতন মুক্ত সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই আমাদের এই দেশ উন্নয়নের শীর্ষে পৌঁছে একটি সমৃদ্ধশালী দেশ হিসাবে বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত হবে।’

বিজ্ঞাপন

কথাগুলো বলছিলেন, ২০১৫ সালে অর্থনৈতিকভাবে সফলতা অর্জনের জন্য ‘জয়িতা’ পুরস্কার ও ২০১৬ সালে আনসার ভিডিপি’র পুরস্কারপ্রাপ্ত সফল নারী বিশেষ করে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে নিবেদিতপ্রাণ নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার জালালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কল্যাণী হাসান।

তার বাড়ি কেন্দুয়া পৌর শহরের দিগদাইর গ্রামে। তার স্বামী কামরুল হাসান ভূইয়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করলেও স্ত্রীর প্রতিটি কাজেই সহযোগিতা করেন।

বিজ্ঞাপন

কল্যাণী হাসান আজ শুধু একজন শিক্ষকই নন, তিনি সমস্ত উপজেলা জুড়ে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে একজন নিবেদিতপ্রাণ এবং সফল একজন সংগঠক ও সমাজ উন্নয়ন কর্মী। তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি অবসর সময়ে কেন্দুয়া বাজারে একটি জুয়েলারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছেন এবং উপজেলা নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা জুয়েলারি সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘কল্যাণী ফাউন্ডেশন’ নামে একটি সংগঠন। এ সংগঠনের মাধ্যমে তিনি সমাজের বিভিন্ন সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় মানুষকে সেবা দিয়ে আসছেন। এ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক বাল্যবিয়ে বন্ধ করার কারণে উপজেলার সর্বত্র আজ সুপরিচিত নাম কল্যাণী হাসান। তাই এলাকার কোনো মেয়ের বাল্যবিয়ের খবর পেলেই ছুটে যান তিনি। প্রথমে অভিভাবকদের বাল্যবিয়ের কুফল ও আইনগত দিক সম্পর্কে বোঝানোর চেষ্টা করেন। তাতে কাজ না হলে স্থানীয় প্রশাসনকে খবর দেন। এভাবে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় এবং নিজ উদ্যোগে কেন্দুয়া উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামের এ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করেছেন তিনি। কোথাও বাল্যবিয়ের আয়োজন দেখলেই সচেতন এলাকাবাসী কল্যাণী হাসানকে ফোন করেন। অনেক সময় বাল্যবিয়ের শিকার কিশোরীরাও সরাসরি তাকে খবর দেন। ছুটির দিনগুলোতে তিনি গ্রামে গ্রামে, স্কুল-কলেজে গিয়ে বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে সভা, উঠোন বৈঠক করেন।

শুধুমাত্র বাল্যবিয়েই নয়, নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধেও তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন। এলাকার কোনো নারী নির্যাতিত হলে তিনি তার ন্যায়বিচার প্রাপ্তির জন্য সহযোগিতার হাত বাড়ান। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, স্থানীয় প্রশাসন এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে এ পর্যন্ত বহু বয়স্ক, দুস্থ, বিধবা ও প্রতিবন্ধীর ভাতা প্রাপ্তিতে সহায়তা করেছেন তিনি। অত্যন্ত মেধাবী সফল এই নারী ছোটবেলা থেকেই তার জীবনের প্রত্যেকটি কাজে সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। ছাত্রজীবনে পঞ্চম শ্রেণি ও অষ্টম শ্রেণিতে তিনি বৃত্তিপ্রাপ্ত হন। মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিকেও স্টার মার্কস পেয়ে উত্তীর্ণ হন তিনি। পরবর্তীতে ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজ থেকে উদ্ভিদবিদ্যায় বিএসসি (অনার্স) ও এমএসসি (মাস্টার্স) সমাপ্ত করেন।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ সংবাদ

বিজ্ঞাপন
x