13.7 C
New York
মঙ্গলবার, আগস্ট ৩, ২০২১

কেন্দুয়ায় ৯ জুয়ারী আটক নিয়ে পুলিশ বিপাকে: থানা হাজতে আসামী নির্যাতনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান ওসির

বিজ্ঞাপন

সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মা, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

বিজ্ঞাপন

তিন জনপ্রতিনিধি সহ ৯ জুয়ারীকে আটক করতে গিয়ে বিপাকে পরেছে পুলিশ। গত ৪ জুন রাতে অভিযান চালিয়ে কেন্দুয়া পৌর শহরের সাউদপাড়া মহল্লার জনৈক এনামুল হকের বাড়ি থেকে দুই পৌর কাউন্সিলর ও এক ইউপি মেম্বার সহ ৯ জনকে আটক করা হয়। এসময় পুলিশ জুয়া খেলার সরঞ্জামাদি সহ নগদ দেড় লক্ষাধিক টাকাও জব্দ করে। পুলিশের দাবী, ৫ জুন তাদেরকে সুস্থ অবস্থায় নেত্রকোণা আদালতে পাঠায়। কিন্তু আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার দুই দিন পর চিরাং ইউনিয়ন যুবলীগের বিতর্কিত সাধারন সম্পাদক ছিলিমপুর গ্রামের গোলাম মোস্তÍফার স্ত্রী রতœা আক্তার পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগ করেন, তার স্বামীকে কেন্দুয়া থানা পুলিশ হেফাজতে নির্যাতন করা হয়েছে। তিনি তার অভিযোগে দাবী করে বলেন, কেন্দুয়া থানার ওসি মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান তার স্বামীকে ওসির বিরুদ্ধে একটি অভিযোগের স্বাক্ষী দেওয়ার জের ধরে থানা হাজতে পায়ুপথে মরিচের গুড়া দেয় এবং অমানবিক নির্যাতন করে।




বিজ্ঞাপন

এ ঘটনার তিনি বিচার দাবী করেন। এ বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাল্টা পাল্টি মতামত দিয়ে বিভিন্নজন লেখালেখি করছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে কেন্দুয়া থানার ওসি মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান বলেন, গত ৪ জুন রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে পৌর এলাকার সাউদপাড়া মহল্লায় এনামুল হকের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে জুয়ার আসর থেকে তিনজন জনপ্রতিনিধি সহ ৯ জনকে আটক করে পুলিশ। অভিযানের সময় কয়েকজন দৌড়ে পালিয়ে যায়। গোলাম মোস্তফাও দৌড়ে পালানোর সময় পুলিশের সঙ্গে দস্তাদস্তি করতে গিয়ে কিছুটা ব্যাথা পান। পরে রাতেই স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দিয়ে সুস্থ অবস্থায় পরদিন নেত্রকোনা আদালতে পাঠানো হয়। তিনি আরো বলেন, পায়ুপথে মরিচের গুড়া দেওয়ারতো প্রশ্নই আসে না। তাকে কোন নির্যাতনও করা হয়নি। ওসি রাশেদুজ্জামান বলেন, যে ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এদের বিরুদ্ধে কেন্দুয়া থানায় এর আগেও জুয়া আইন সহ অন্যান্য আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। ৯ জনের মধ্যে পৌরসভার কাউন্সিলর আব্দুল কাইয়ুম ভূঞা, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ মোফাজ্জল হোসেন ভ‚ঞার সহোদর।




বিজ্ঞাপন

কয়েকমাস আগে উপজেলা সদরের সোনালী ব্যাংকের সামনে মোফাজ্জল হোসেন ভ‚ঞার চেম্বারের পেছনে একটি ঘরে নিয়মিত নারিকেল জুয়া খেলা চলে আসছিল। সেখান থেকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রায় ১৫ জনকে আটক করে। ভাইস চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন ভ‚ঞা তাদেরকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিতে এসছিলেন। তার কথামত জুয়ারীদের ছেড়ে না দেওয়ায় তিনি আমার বিরুদ্ধে নিজে এবং বিভিন্ন লোক দিয়ে কর্তৃপক্ষের নিকট একাধিক অভিযোগ সাজিয়ে দায়ের করছে। থানা হাজতে আসামীর পায়ুপথে মরিচের গুড়া দেয়া এবং নির্যাতনের অভিযোগ সম্পূর্ণ সাজানো। তিনি এই সাজানো অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত দাবী করেন। এ প্রসঙ্গে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ মোফাজ্জল হোসেন ভ‚ঞার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ওসি রাশেদুজ্জামানের বিভিন্ন অনিয়ম দূর্নীতির প্রতিবাদ করার পর থেকেই তিনি আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের নানা ভাবে নাজেহাল করছেন। আমি এসবের সুষ্ঠু তদন্ত চাই।




এদিকে উপজেলা যুবলীগের আহŸায়ক মোস্তাফিজউর রহমান বিপুল বলেন, ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারন সম্পাদক গোলাম মোস্তফা খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির চাল কালোবাজারে বিক্রি সহ জুয়া খেলায় অংশ নিয়ে একাধিকবার গ্রেফতার হয়েছে। এসব অভিযোগের কারনে তাকে দল থেকে বহিষ্কারের জন্য জেলা যুবলীগ বরাবর চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে। ৯ জুয়ারী আটক ও থানা হাজতে আসামী নির্যাতন প্রসঙ্গে কেন্দুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট আব্দুল কাদির ভ‚ঞা বলেন, ওসি রাশেদুজ্জামান কেন্দুয়া থানায় যোগদান করার পর থেকেই মাদক জুয়াকে জিরো টলারেন্স ঘোষনা দিয়ে সফলতার সঙ্গে কাজ করছেন। জুয়ারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওসির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ সাজিয়ে তাকে থানা থেকে প্রত্যাহারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে একটি মহল। আমরাও দলের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সেসবের সুষ্ঠু তদন্ত দাবী করছি।

আরো পড়ুন>>> মাদক জুয়া ইভটেজিং অপরাধীদের আতংকের নাম কেন্দুয়া’র ওসি রাশেদুজ্জামান!

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

Please enter your comment!
Please enter your name here

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ সংবাদ

x