13.7 C
New York
সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২১

খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে খালিয়াজুরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

খালিয়াজুরী প্রতিনিধি:

বিজ্ঞাপন

হাওর এলাকার একমাত্র স্বাস্থ্য সেবার স্থান নেত্রকোণার খালিয়াজুরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। উদ্ধোধনের পর খেকেই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। খালিযাজুরী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩১ শয্যা নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও মিলেছে না তার সুফল। ১৯৯৯ সালে উদ্বোধনের পর হাসপাতালে অধ্যাবধি পর্যন্ত এক্সরে মেশিন, আল্ট্রাসনোগ্রাফী চালু করা হয়নি জনবলের অভাবে।

বিজ্ঞাপন

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রথম শ্রেনী কর্মকর্তার ১৫ জনের মধ্যে ১০ টি পদ শূণ্য দ্বিতীয় শ্রেনীর ১৮ জনের মধ্যে পাঁচটি শূণ্য। তৃতীয় শ্রেনীর কর্মচারীর ৬৫ টি মধ্যে ২০ টি পদ শূণ্য। চতুর্থ শ্রেনী ২২ জনের মধ্যে ১৮ টি পদ শূণ্য। ডাঃ মোঃ মিজানুর রহমান খান (আর্য়ুবেদিক) ২৯ জুন থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত তিনি মাঝে মধ্যে আসেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মচারী বলেন হারবাল স্যার সবসময় থাকেন না। মাসে দুই তিন থাকে।

জানা যায়, বছর দেড়েক আগে ডাঃ রাজিব হোসেন ভূইয়া নিজ উদ্যোগে আল্ট্রাসনোগ্রাম চালু করে গর্ভবতী মায়েদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি উচ্চ ডিগ্রী লাভের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেলে চলে যাওয়ার পর সেটা বন্ধ রয়েছে। গর্ভবতী মহিলারা গর্ভকালীন স্বাস্থ্য সেবা নিতে পারে না পরীক্ষা নিরীক্ষার অভাবে।

বিজ্ঞাপন

তাছাড়াও জরুরী বিভাগে নেই ইমারজেন্সী মেডিকেল অফিসার। চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী দিয়ে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে জরুরী সেবা। জরুরী বিভাগে নেই পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি। যার কারণে যে কোন একটু সামন্য সমস্যা দেখা দিলেই হাতে নিতে হয় রেফার্ডের কাগজ। মুমুর্ষ অবস্থায় যেতে হয় নেত্রকোণা অথবা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে।

জরুরী রোগীর জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে দেওয়া নৌ এম্বুল্যান্সটির চাকা ঘুরেনা বছরে একবার। নৌ এম্বুল্যান্সটির জ্বালানি খরচ এত বেশি হওয়ায় গরীব রোগীদের ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব হয় না। যদি কোন কারণবসত জরুরী রোগী নিয়ে যাত্রা শুরু করে রাস্তায় যেকোন মুহুর্তে বন্ধ হযে রোগী নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় দক্ষ চালক না থাকার কারণে। আন্তঃ বিভাগে ঠিক মত সেবা পায়না ভর্তিকৃত রোগীরা। রাতে পাওয়া যায় না চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত সেবিকাদের।

বিজ্ঞাপন

একজন কর্তব্যরত চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আসলেই দুইজন মেডিকেল অফিসার দিয়ে হাসপাতাল দেখা শুনা করা খুবই কষ্টকর। আশা রাখি উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে আশানুরূপ ভূমিকা রাখবেন।’

খালিয়াজুরী উপেজলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আতাউল গণি উসমানি বলেন, ‘জনবল সংকট নিয়ে মাসিক সভা, ভারচ্যাুয়ালী সভায় এ বিষযে আলোচনা করেছি। তিনি আরো বলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পরিচালনা করে ডাক্তার কিন্তু নিয়োগ বিষয়টা পরিচালনা করে মন্ত্রণালয়। তাতে আমাদের কিছু করার থাকে না।’

এ বিষযে সিভিল সার্জন মোঃ সেলিম মিয়া বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি জনবল সংকট দূরীারণের জন্য। তাছাড়া হাওড় এলাকায় কেউ আসতে চায় না। তবুও উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। প্যাথলজী ও ল্যাব এসিস্টেন্সের নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

জনবল সংকট সমাধানে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা রাখবে সরকার এমনটাই প্রত্যাশা হাওর উপজেলাবাসীর।

আরও পড়ুন: তারাকান্দায় কোভিড -১৯ সংক্রান্ত বিষয়ে ইমামদের সাথে সচেতনতা মুলক আলোচনা সভা

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ সংবাদ

বিজ্ঞাপন
x