13.7 C
New York
সোমবার, জানুয়ারি ২৫, ২০২১

চট্টগ্রামে দোকান ও ঘর ভাড়া মওকুফের দাবি

বিজ্ঞাপন

জাহাঙ্গীর আলম,নির্বাহী সম্পাদকঃ
করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে সরকারি নির্দেশনা মেনে ঘর থেকে বাইরে আসছেন না মানুষ। হঠাৎ আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার শ্রমজীবী ও ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ীদের দুশ্চিন্তাটাই বেশি। এছাড়া বেসরকারি চাকুরিজীবীরাও আছেন মাস শেষে ঘর ভাড়া দেওয়ার ভয়ে।

বিজ্ঞাপন

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর জরিপ মতে, চট্টগ্রাম মহানগরীতে বসবাসরতদের মধ্যে ৯০ শতাংশই ভাড়াটিয়া। জীবিকার তাগিদে থাকতে হয় ভাড়া বাসায়, থাকেন শিক্ষার্থীরাও। এমনিতেই বছর শেষে দিতে হয় বাড়তি ভাড়া। তার ওপর বর্তমান পরিস্থিতিতে কর্মক্ষেত্রে যেতে না পারা, শিক্ষার্থীদের টিউশনি, কোচিং ক্লাস বন্ধ থাকায় আয়ের উৎস থেমে গেছে।

করোনার কারণে ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে চলতি মার্চের মাসের ভাড়া না নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে কক্সবাজারের সাংবাদিক ও সুজনের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান সব মহলের প্রশংসা পেয়েছেন। ঢাকাসহ দেশের কয়েকটি জেলায় কয়েকজন বাড়ির মালিক এক বা দুই মাস বাসা ভাড়া না নেওয়ার ঘোষণা দেন।

বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রামের সাংবাদিক নাসির উদ্দিন হায়দার বলেন, করোনার কারণে গোটা দেশ একধরনের অবরুদ্ধ। বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলো কর্মীদের বিনা বেতনে ছুটি দিয়েছে। দোকানপাট, শপিং মল বন্ধ হয়ে গেছে, সেখানে যারা চাকরি করেন তারা বেতন পাওয়ার আশা কম। যারা দিনমজুরি করেন তাদের কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। তাহলে তারা বাসা ভাড়া কোথা থেকে দেবে?

তিনি বলেন, যারা বাড়ি ভাড়া দিয়ে সংসার চালায় তাদের বিষয়টা ভিন্ন। কিন্তু এই দেশে এমন বাড়িওয়ালা কত শতাংশ? ৫ তলা-১০ তলা বাড়ি যাদের আছে তাদের কি বাড়ি ভাড়া লাখের কম আসে? আর আমি অর্ধেক ভাড়া নেওয়ার কথা বলছি। যে বাড়ির মালিক মাসে ৬০ হাজার টাকা বাড়ি ভাড়া পায়, তিনি না হয় এক মাস ৩০ হাজার টাকা দিয়ে চলবেন, তাতে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। যাদের হুট করে চাকরি চলে গেল, বেতন বন্ধ হয়ে গেল তারা এই দুঃসময়ে বাড়ি ভাড়া কোথা থেকে দেবেন?

বিজ্ঞাপন

তামাকুমন্ডি লেইন বনিক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব সামশুল আলম দুর্জয় বাংলাকে বলেন আমাদের সমিতি আওতাধীন প্রায় ১১১টার এর অধিক মার্কেট আছে আমরা ব্যাবসায়ীরা ১২ মাষ ব্যাবসা ভালো হ্য়না। ব্যাবসার মৌসুমে ব্যাবসা ভালো থাকে ।বাকী মাস গুলোমতে আমরা মূলধন থেকে খরচ বহন করি ।এর মাঝে দেশের মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে যে দুর্যোগ মুহুর্তে দোকানের মালিখ ও বাসাবাড়ির মালিকদের উচিৎ ১/২মাস ভাড়া মওকুফ করা ।

তামাকুমন্ডি লেইন বনিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন দুর্জয় বাংলাকে বলেন, আমরা ব্যাবসায়ীরা বিভিন্ন মার্কেটের পক্ষ থেকে সমিতি বরাবর দুর্যোগ মুহুর্তে দোকান ভাড়া মওকুফের জন্য আবেদন করেছি ,সমিতির মাধ্যমে মার্কেটের মালিক ও দোকান মালিকদের সাথে আলোচনা করে ভাড়া মওকুফ করার জন্য।আশাবাদী আশাকরি মালিক পক্ষগণ আমাদের দাবী মেনে নিয়ে ব্যাবসায়ী ও কর্মচারী ভাইদের পাশ্বে থাকবেন।

চট্টগ্রাম সিটি লালখান বাজার এলাকার বাসিন্দা আরাফাত হোসেন পেশায়ে একজন ছোট টেইলার্স এর দোকানদার । তিনি আমার সময়কে বলেন, দুই কক্ষের বাসা ভাড়া দিতে হয় ১০.৫০০ হাজার টাকা। তার বাইরে বিদ্যুৎ বিল। ভাড়া বাসায় নানা ধরনের সমস্যা থাকলেও সব হজম করছি,প্রতিবছর বিভিন্ন বাহানায় ৫০০/১০০০ হাজার টাকা বাড়ান মালিকগণ । বাড়িওয়ালার সঙ্গে বাড়ি ভাড়া নিয়ে কথাও বলা যায় না। এখন করোনাভাইরাসের কারণে বাসায় অলস সময় কাটাচ্ছি। স্টাফ বেতন দোকান ভাড়া বাসা ভাড়া সব মিলিয়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছি । মালিক যদি ভাড়া মওকুফ করে দেন, তাহলে আমার মতো ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ী ও দরিদ্ররা উপকৃত হতো।

চট্টগ্রাম ভাড়া মওকুফের সরকারি নির্দেশনা চেয়েছেন চট্টগ্রামের ভাড়াটিয়া ও ব্যাবসায়ী ও ব্যাবসায়ী নেতৃবৃন্দরা । তারা বলছেন, সংকটকালীন এই সময়ে সরকারের নির্দেশনা পেলে মালিকরা ভাড়া মওকুফ করতে বাধ্য হবেন।

এদিকে এমন পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামসহ সারাদেশের ভাড়াটিয়াদের বাসাভাড়া, দোকানভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিলসহ সব ধরনের ইউটিলিটি বিল মওকুফের দাবি জানিয়েছে ভাড়াটিয়া পরিষদ। ভাড়াটিয়া পরিষদের সভাপতি মো. বাহারানে সুলতান বাহার ও সাধারণ সম্পাদক খাতুনে জান্নাত ফাতেমা খানম যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানান।

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ সংবাদ

x