13.7 C
New York
Saturday, July 31, 2021

জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে বেঁচে আছে অসহায় মানুষগুলো,রামগড়ের ইউএনও বদরুদ্দোজা

বিজ্ঞাপন

জাহাঙ্গীর আলম,নির্বাহী সম্পাদকঃ
প্রধানমন্ত্রীর উপহার নিয়ে অসহায় মানুষের পাশে রামগড়ের ইউএনও বদরুদ্দোজা ।
মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সারবিশ্বের মতো বাংলাদেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। করোনার কারনে মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ছে, এসময় নেই কোনো কাজ, ঘরে নেই খাবার। জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে বেঁচে আছে অসহায় মানুষগুলো। এই অসহায়ত্ব নিয়ে দিন পার করছেন খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় উপজেলার হাজার হাজার মানুষ। তবে এই হতাশাগ্রস্থ অসহায় মানুষের পাশে থেকে সর্বক্ষণ কাজ করে যাচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আ.ন.ম বদরুদ্দোজা।
তিনি বরাদ্দকৃত খাদ্য সামগ্রী প্রতিনিয়ত মানুষের দরজায় পৌঁছে দিচ্ছেন। তাকে থামাতে পারেনি রোদ কিংবা বৃষ্টি। পাহাড়ের প্রত্যন্ত এলাকায় ছুটে বেড়াচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর উপহার খাদ্য সহায়তা নিয়ে। রামগড়ে যোগদানের মাসখানেকের মধ্যে করোনায় থাবায় দিশেহারা মানুষের আপনজন হয়েছেন অল্প সময়ে।

বিজ্ঞাপন

জানা যায়, চক্ষু লজ্জার কারণে যেসব মধ্যবিত্ত ও নিন্ম মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজন ত্রাণ নিতে আসতে পারছেন না, এসএমএস করলেই সেই সব অভাবী মানুষের বাড়িতে গোপনে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন ইউএনও বদরুদ্দোজা ও তাঁর টিম।
এছাড়াও করোনার এই মহাদুর্যোগে দিন রাত মানুষের পাশে থেকে পুরো উপজেলায় সাড়া জাগিয়েছেন এই কর্মকর্তা। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে প্রতিদিনই ছুটে চলেছেন উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামেগঞ্জে। ঐতিহ্যবাহী রামগড় বাজারের সাপ্তাহিক হাট বাজার উন্মূক্ত জায়গায় হাইস্কুল মাঠে স্থানান্তর করায় সর্বত্র প্রশংসিত হয়েছেন তিনি। বর্তমান পরিস্থিতিতে সমস্যায় নিমজ্জিত পরিবারকে সহায়তা করতে হটলাইন সেবার ব্যতিক্রম এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকায় সর্বমহলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

উপজেলার সকল মসজিদের ইমাম মুয়াজ্জিন, এতিমখানার এতিম ছাত্র ছাত্রী, বেসরকারী নন এমপিও সকল শিক্ষক, সকল শ্রমিক সংগঠন, সকল ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, দিনমজুর, কাঠুরিয়া ও নিন্ম আয়ের মানুষকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার পৌঁছে দিয়েছেন।
ছবি: বাম থেকে-থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সামসুজ্জামান, উপজেলা চেয়ারম্যান বিশ্ব প্রদীপ ত্রিপুরা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আ.ন.ম বদরুদ্দোজা।

বিজ্ঞাপন

প্রবাসীর স্ত্রী নিলুফার বলেন, শুধুমাত্র প্রবাসীর কারনে এতদিন কেউ তাদের খোঁজ নেননি। বিদেশে স্বামীর কাজ বন্ধ থাকায় টাকা না পাঠানোর কারনে ছেলে সন্তান নিয়ে কষ্ঠে ছিলাম। হটলাইনে আবেদন করে খাদ্য সহায়তা পেয়েছি। প্রশাসনের খাদ্যদ্রব্য পেয়ে তিনি খুবই খুশি বলেও জানান। একই কথা বলেন একজন এনজিও কর্মী সাইদুর, তিনি বলেন, কিছুদিন ধরে কাজ কর্ম না থাকায় প্রায় অনাহারে দিন কাটছিল। ইউএনও স্যারকে ম্যাসেজ পাঠিয়ে খাদ্য সামগ্রী পেয়েছেন।

এ ব্যাপারে রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আ.ন.ম বদরুদ্দোজা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার মাধ্যমে পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। কেউ অনাহারে থাকবে না। প্রধানমন্ত্রীর উপহার থেকে কেউ বঞ্চিত হবেনা। মধ্যবৃত্ত পরিবারের যারা লাইনে দাঁড়িয়ে খাবার নিতে পারবেন না বা যারা চাইতে পারেন না তারাও হটলাইন নাম্বার চালুর পর অনেকে সাহায্যের জন্য এসএমএম পাঠান, আমরা যাচাই-বাছাই করে এ পর্যন্ত ৪শত জনকে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছি।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরো বলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, আইনশৃংঙ্খলা বাহিনী ও সাংবাদিকেরা নিরলসভাবে কাজ করছেন বিধায় কর্মহীন অসহায় মানুষের ধারে ধারে সাহায্য পৌঁছাতে পেরেছি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মনসুর আলী জানান, রামগড় উপজেলার জন্য এ পর্যন্ত ১৫৫ টন চাউল, নগদ ৭লক্ষ ৭৫হাজার টাকা এবং শিশু খাদ্যের জন্য নগদ ১লক্ষ ৫০হাজার টাকা বরাদ্দ এসেছে তারমধ্যে ১৩৫ টন চাউল, নগদ ৬লক্ষ ৬০হাজার টাকা ও শিশু খাদ্য বাবত ১লক্ষ টাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দিকনির্দেশনায় সুষ্ঠুভাবে বিতরন করা হয়েছে

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

Please enter your comment!
Please enter your name here

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ সংবাদ

x