13.7 C
New York
শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২১

জীবন সংগ্রামে জয়ী কেন্দুয়ার কল্যাণী হাসান

বিজ্ঞাপন

কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধিঃ

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে দেশে নারী উন্নয়ন, নারী ক্ষমতায়ন, লিঙ্গবৈষম্য, প্রজনন স্বাস্থ্য, গড় আয়ু, মাতৃমৃত্যু ইত্যাদিতে সাফল্য এসেছে। তারপরও কত অজানা জীবনের গল্পইনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে দেশের আনাচে কানাচে। নীরবে জীবনের সফলতার গল্প তৈরি করে দেশের উন্নয়নের পাটাতনকে করছেন মজবুত। তেমনি এক গল্পের নারীর নাম কল্যাণী হাসান। যিনি নিজেকে সফলতার গল্পের পাশাপাশি অন্য নারীদের নিজের শ্রম ও মেধা কাটিয়ে সমাজের সর্বোচ্চ শিখরে তুলে ধরতে চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

জীবন সংগ্রামে জয়ী ওই নারী নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া পৌরসভার সাউদপাড়া মহল্লার বাসিন্দা। তার স্বামীর নাম কামরুল হাসান ভূঞা। তিনিও বর্তমানে কেন্দুয়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি। কল্যাণী হাসান জীবন সংগ্রামে জয়ী একজন নারী। বর্তমানে অন্য নারীদের জয়ী করতে চলছে তার চেষ্টা।

বিজ্ঞাপন

জীবন সংগ্রামে জয়ী নারী কল্যাণী হাসানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, তিনি শৈশব থেকে নিজের জীবনের সাথে প্রতিকূল পরিবেশের সাথে যুদ্ধ-সংগ্রাম করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন। তার সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে এক ইতিহাস। তাদের পরিবারের দুই বোন এক ভাইয়ের সংসারে তিনি বড় হয়েছেন। তার বাবা নিয়মিত ভাত কাপড়ের ব্যবস্থা করতে পারতেন না। দু- বেলা পেট ভরে ভাত খেয়েছেন এমন দিন তার ছোট বেলায় কমই ছিল । তবু কখনো হাল ছাড়েননি। 




বিজ্ঞাপন

শিক্ষা জীবনে তার বাবা কখনোই তাকে বই কিনে দিতে পারতেন না। তাই প্রথমে সবাই মিলে তাকে ৮ম  শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় বিয়ে দিতে চেয়েছিল। অনেক কষ্টে সেদিন প্রতিবাদ করেছিলেন। তাই তিনি আজ উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত।
জীবন যুদ্ধে সংগ্রামী নারী কল্যাণী হাসান আরও বলেন, শিক্ষা জীবনে ৫ম ও ৮ম শ্রেণিতে বৃত্তি, এস.এস.সি ও এইচ.এস.সি- তে স্টার মার্কসসহ ময়মনসিংহ আনন্দ মোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগ থেকে বিএসসি (অনার্স) ও এম.এস.সি (মাস্টার্স) ভালোভাবেই উত্তীর্ণ হয়েছি ।

তিনি ২০০০ সালে এম,এস,সি পড়া অবস্থায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। চাকুরির পাশাপাশি ২০০২ সালে কেন্দুয়া পৌর সদরে “মা জুয়েলার্স” নামে একটি জুয়েলারী ব্যবসা শুরু করেন। এছাড়াও তিনি বলেন, নিজে বাল্য বিয়ের হাত থেকে মুক্ত হয়েছিলাম বলেই আজ আমি প্রতিষ্ঠিত।
সেই অনুপ্রেরণা থেকেই বাল্য বিয়ে বন্ধে রাত দিন পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। আজ পর্যন্ত প্রশাসন ও উপজেলা নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সহায়তায় ৬৮টিরও বেশি বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি।




তিনি বলেন, বর্তমানে আমি কেন্দুয়া উপজেলা নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির দুই বারের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছি। আর বাল্যবিয়ে ঠেকাতে সর্বদাই মা বোনদের বোঝাতে চেষ্ঠা করি যে, মেয়েদের ১৮ বছর ও  ছেলেদের ২১ বছরের আগে বিয়ে করানো অন্যায় । তাই উপজেলা জুড়ে আমাকে বাল্য বিবাহ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধের আতঙ্ক বলে সবাই চিনেন। 
কল্যাণী বলেন, নারী হিসেবে প্রথম দিকে আমার শ্বশুর বাড়ির লোকজনও তা মেনে নিতে চায়নি। তাই তাকে সংসারের যাবতীয় কাজকর্ম সেড়ে এবং স্কুল ছুটির পর তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ সামাজিক কর্মকাণ্ডে আসতে হতো। তবে এই সব ব্যাপারে তার স্বামী তাকে বিশেষভাবে সহায়তা করেছেন। বর্তমানে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ৬/৭ জন লোক কাজ করছেন। এছাড়াও তিনি কেন্দুয়ায় কল্যাণী ফাউন্ডেশন নামে একটি সেবা মূলক প্রতিষ্ঠান খুলে তিনি সমাজের অসহায় বৃদ্ধা পুরুষ মহিলাদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, কল্যাণী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে নারীদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে নারীদের বাঁশ বেতের কাজের প্রশিক্ষন, বিউটিফিকেশনের প্রশিক্ষণ, সেলাই এর প্রশিক্ষণ, শাড়ি, থ্রি-পিচ, পাঞ্জাবী, লেহেঙ্গার উপর কারচুপির কাজের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় বিনামূল্যে। প্রশিক্ষণ শেষে তারা যাতে নিজের জীবনে শেখাটাকে কাজে লাগাতে পারে, তার জন্য অর্থসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হয়।
তাছাড়া কন্যাদায়গ্রস্থ পিতা মাতার পাশে, অসুস্থ মানুষের সেবায়, অসহায়, মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে, আপন স্বজনহীন মৃত ব্যক্তিদের দাফন কাফনসহ নানাবিদ কাজ করছে কল্যাণী হাসান।
কল্যাণীর ওই সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে ৫৫ জন নারী-পুরুষ কাজ করছেন।




ব্যক্তিগত জীবন ও সাফল্য বিষয়ে তিনি বলেন, ২০০৫ সালে অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী হিসেবে তিনি জয়িতা পুরস্কার পেয়েছেন। ২০১৬ সালে আনসার ভিডিপি একাডেমি থেকে সফল নারী উদ্যোক্তার পুরস্কারসহ আরও একাধিক পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক কন্যা অদিতি সরকার ঝরা(১৭) এবং এক পুত্র ভূইয়া রাহুল হাসান সাম্য(১০) সন্তানের জননী। ছেলে মেয়ে দুই জনেই ময়মনসিংহ থেকে লেখাপড়া করছে।

কল্যাণীর ভাষায়, আমি নিজে নারী, একজন নারী হিসেবে আজ মোটামোটি প্রতিষ্ঠিত। তাই তো নিজেকে একজন নারী নয় মানুষ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই এবং সমাজের অন্যান্য নারীদের মানুষ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।

আরো পড়ুন>>> ময়মনসিংহে “চেতনায় অম্লান” বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে মহানগর প্রেসক্লাবের শ্রদ্ধা

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ সংবাদ

বিজ্ঞাপন
x