13.7 C
New York
সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২১

ঝালকাঠিতে আক্কাসের ভয়ঙ্কর সাম্রাজ্য বিচার দাবিতে সব সাংবাদিক সংগঠনের স্মারকলিপি

বিশেষ প্রতিবেদক :

বিজ্ঞাপন

প্রেসক্লাবের সেক্রেটারী হয়েও আক্কাস উকিল ছিলেন সাংবাদিক নির্যাতনের হোতা * তার ইন্ধনে হামলা-মামলার শিকার ঝালকাঠির দেড় ডজন সাংবাদিক নিঃস্ব হয়েছেন * নিজেই এবার আটকে পড়েছেন ডিজিটাল আইনের মামলা ফাঁদে * জেলা জুড়ে ভয়ঙ্কর চাঁদাবাজি চলে তার, দলীয় নেতারাও আক্কাসের চাঁদাবাজির শিকার * তার বিচার দাবিতে সব সাংবাদিক সংগঠনের স্মারকলিপি

বিজ্ঞাপন

গুরুত্বপূর্ণ দুটি পেশায় নাম লিখিয়ে আক্কাস সিকদার হয়ে উঠেছিলেন ঝালকাঠির সর্বেসর্বা। সাংবাদিক হয়েও তিনি ছিলেন সাংবাদিক নির্যাতনের মূল হোতা। নিজেই ইন্ধন দিয়ে একের পর এক মামলা করিয়েছেন সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেই। নিজেই সাংবাদিক বিরোধী মামলাগুলোও পরিচালনা করেছেন আদালতে। এ কারণেই ঝালকাঠর সর্বত্র তিনি রাক্ষুসে সাংবাদিক আক্কাস সিকদার নামেই সমধিক পরিচিত।
সাংবাদিকদের কোনো প্রতিবেদনে ক্ষতিগ্রস্ত অপরাধীর পক্ষ নিয়ে এই আক্কাস সিকদার নানারকম ফন্দি-ফিকির চালিয়ে থাকেন। শুরুতেই টার্গেট করা সাংবাদিকের পত্রিকা বা টিভি চ্যানেলের কার্যালয়ে নামে বেনামে নানা কল্পিত অভিযোগ পাঠিয়ে সংশ্লিষ্ট সংবাদকর্মিকে চাকুরিচ্যুত করার পাঁয়তারা চালানো হয়। এরপর ভুক্তভোগী সাজিয়ে থানায় কিংবা আদালতে দায়ের করা হয় মামলা। প্রেসক্লাব সম্পাদক হিসেবে এসব হয়রানির নেপথ্যের ইন্ধনদাতা হন তিনি।
নানা পদ পদবীর একাধিক পরিচিতি ব্যবহার করে ‘বহুরুপী আক্কাস সিকদার’ বিভিন্ন সময়ে ঝালকাঠির ডজনখানেক সাংবাদিককে হেনস্থা, মামলা, হামলা, পত্রিকাচ্যুত করেছেন। বাদ পড়েনি জুনিয়র-সিনিয়র কেউ। তার সিদ্ধান্তের বাইরে গেলেই প্রেসক্লাবের সদস্যপদ পর্যন্ত হারাতে হয়েছে অনেককে।
সাংবাদিক কাম উকিল পরিচয়ের আক্কাস সিকদারের ভয়ঙ্কর অত্যাচার থেকে রক্ষা পেতে এরইমধ্যে ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা প্রেস কাউন্সিল, বার কাউন্সিল, আইনজীবি সমিতি ও ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ পাঠিয়েছেন।
ঝালকাঠি শহরের উপজেলা পরিষদের সামনে বাপের ছোট্ট একটি চায়ের দোকান থেকে তার উৎপত্তি। কখনো বাদাম বিক্রি কখনো টেনিস বল টোকানো এই আক্কাস এখন ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের দু’বারের সাধারণ সম্পাদক। তার হাতে এখন কুক্ষিগত ঝালকাঠি প্রেসক্লাব। যখন যাকে যে পদে বসাবেন তিনি সেই পদেরই অধিকারী হবেন। যার কারনে প্রেসক্লাবের কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়না। এমনকি তার মোটর সাইকেল ড্রাইভারকেও প্রেসক্লাবের সদস্যপদ প্রদান করলেও কেউ টু শব্দটিও করতে সাহস পায়নি। আককাস বাসসেরও জেলা প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দৈনিক সমকাল প্রতিনিধি জিয়াউল হাসান পলাশ ও যমুনা টিভির প্রতিনিধি দুলাল সাহা তার কৌশলী রোষানলে পড়েন। নিম্মমানের ঠিকাদারী কাজের ও কাজ না করে বিল উঠিয়ে নেয়ার সংবাদ প্রকাশ করায় ওই ঠিকাদারকে পরামর্শ দিয়ে চাঁদাবাজি মামলা করিয়ে জেলহাজত খাটিয়েছেন। একুশে টিভির প্রতিনিধি আজমীর তালুকদারকে রাজাপুরে একটি সংবাদ প্রকাশের ঘটনা সাজিয়ে তার নিকটাত্মীয় ব্যক্তিকে বাদী সাজিয়ে ৩০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের করায়। এ ঘটনায় আসামি করা হয় আজমীর তালুকদারের স্ত্রীকেও।
সংবাদ প্রকাশের কারনে সাংবাদিকদের উপর হামলা, মামলা ও হয়রানি চালানোর প্রতিটি ঘটনার পেছনেই বাসস সাংবাদিক আক্কাসের হাত থাকার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। সর্বত্রই তার কুটকৌশলের কারণেই ভয়ঙ্কর খেসারত দিতে হয় সাংবাদিকদের।

রাক্ষুসে আক্কাস এবার নিজেই মামলার বেড়াজালে
ভ্রাম্যমাণ প্রতিবেদক : ঝালকাঠিতে সাংবাদিকদের উপর হামলা, মামলা, নির্যাতন, হয়রানির নেপথ্য কারিগর হিসেবে চিহ্নিত ‘রাক্ষুসে সাংবাদিক’ আক্কাস সিকদার এবার নিজেই মামলার বেড়াজালে আট্কে পড়েছেন। ফেসবুকে সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আপত্তিকর স্ট্যাটাস দেয়ায় তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। বুধবার রাতে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শারমিন মৌসূমী ঝালকাঠি সদর থানায় মামলাটি করেন। আক্কাস সিকদার চ্যানেল২৪ ও যুগান্তরের ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধি। তিনি জেলা আইনজীবী সমিতিরও সদস্য। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও তিন চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ১৫ জুলাই একজনের ফেসবুক পোস্টে আক্কাস সিকদার দুই মন্ত্রীকে ব্যঙ্গ করেন বলে বাদীর অভিযোগ। মামলার বাদী শারমিন মৌসূমী বলেন, আক্কাস সিকদারকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে অপসারণের দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মানববন্ধনেরও আয়োজন করা হয়। সেখানে ক্ষুব্ধ নেতারা বলেন, আক্কাস সিকদার একাই সাংবাদিকতা, ওকালতিসহ নানাবিধ পেশায় যুক্ত হয়ে বেশুমার দাপুটে হয়ে উঠেছেন। জেলায় যা খুশি তা করে বেড়ান তিনি, যাকে তাকে হুমকি দিতেও দ্বিধা করেন না। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হওয়া সত্তেও আক্কাস সিকদার গ্রেপ্তার এড়িয়ে পালিয়ে থাকার সুযোগ পাওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন বক্তারা। তারা বলেন, সাংবাদিকতার নামে ঝালকাঠিতে আওয়ামীলীগ ও সরকার বিরোধী জঘণ্য প্রচারণার ঠিকাদারীতে নেমেছেন তিনি। জেলায় জামায়াত বিএনপি ঘরানার কতিপয় সাংবাদিককে সঙ্গে নিয়ে সরকার বিরোধী সাংবাদিক সিন্ডিকেটও গড়ে তুলেছেন আক্কাস সিকদার।
এ ব্যাপারে ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খলিলুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের নেত্রীর করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় বিবাদীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। তবে মামলা দায়েরসহ উত্থাপিত অভিযোগুলো প্রসঙ্গে অভিযুক্ত আক্কাস সিকদার বলেন, আওয়ামীলীগ নেত্রী শারমিন মৌসূমীর বিরুদ্ধে আমি টিভি চ্যানেলে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ করার আক্রোশেই এ মামলা করেছেন তিনি।
কিন্তু এ বক্তব্যের প্রতিবাদ করে মামলার বাদী শারমিন মৌসূমী বলেন, সরকারের সফল দুই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে যে অশোভন পোস্ট দিয়েছেন তা হাজার হাজার মানুষ এই আক্কাস সিকদারের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে। মামলাবাজ, অত্যাচারী, জুলুমবাজ এই সিকদারের আক্রোশমূলক অপকর্ম থেকে তার নিজ পেশা’র সহকর্মিরাও রেহাই পান না। ঝালকাঠিতে অন্তত ১৬ জন সাংবাদিক তার ষড়যন্ত্রমূলক মামলার শিকার হয়েছেন। সেসব মামলা হয়রানির ঘানি টেনে টেনে নিরীহ সাংবাদিক পরিবারগুলো দুর্বিষহ অবস্থায় পতিত হয়েছেন।
জেলা পর্যায়ের আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ সাংবাদিক আক্কাস সিকদারের সিন্ডিকেটকে সাংবাদিকতার সুযোগ না দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ প্রকাশ হলেই সাংবাদিক আক্রান্ত
কতিপয় সংবাদকর্মীকে বছর দুয়েক আগের ঘটনা। শহরের বিশ্বরোডের এক ধনাঢ্য পুত্র তার মাকে গরুঘরের পাশে বছরের পর বছর থাকতে দিয়ে মানবতা লঙ্ঘিত করছিল। এমন খবরে ঝালকাঠির দিনকালের প্রতিনিধি ওমর ফারুক, যায়যায়দিনের তৎকালীন প্রতিনিধি এমদাদুল হক স্বপনসহ ৪-৫ জন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে যান। খবর পেয়ে আক্কাাস গৃহকর্তাকে বাঁচাতে তাকে বাদি সাজিয়ে একটি চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করান। পরে তদন্তে চাঁদাবাজির ঘটনা প্রমানিত হয়নি।
এদিকে বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিনিধি এসএম রেজাউল করিমসহ ২-৩ জন সাংবাদিককে অপসাংবাদিক আখ্যা দিয়ে ঝালকাঠি ছাড়তে হুলিয়া পর্যন্ত জারি করা হয়েছিল। দৈনিক দক্ষিনাঞ্চলের তৎকালীন প্রতিনিধি এজিএম মিজানুর রহমানকে প্রকাশ্যে আইনজীবি সমিতির হলরুমে লাঞ্ছিত করে তাকে দুটি মামলা দিয়ে হয়রাণী করে এই আক্কাস সিকদার। দৈনিক আমাদের সময়ের প্রতিনিধি এসএম রাজ্জাক পিন্টুকে অপসাংবাদিক আখ্যা দিয়ে তার বিরুদ্ধেও মামলা করাতে উদ্যত হয়।
মোহনা টিভি ও আলোকিত বাংলাদেশ’র প্রতিনিধি রুহুল আমিন রুবেল, বশির উদ্দিন খলিফাকে একাধিক চাঁদাবাজি মামলা দিয়ে ও মনির হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে দিয়ে ফেসবুকে মিথ্যা, মনগড়া ও কুরুচিপূর্ণ লেখা লিখিয়ে হয়রানি ও অর্থদন্ড করিয়েছেন। এছাড়াও দৈনিক তৃতীয়মাত্রা ও বাংলা দর্পনের তৎকালীন ঝালকাঠি প্রতিনিধি উদিয়মান সাংবাদিক জুবায়ের আদনানের নামে উদ্দেশ্যমূলক ভাবে সংবাদ প্রকাশ করে। প্রাপ্ত বয়ষ্ক এক তরুনীকে কিশোরী সাজিয়ে ইন্ধন দিয়ে মামলা করিয়ে নিজেই আদনানের বিপক্ষের আইনজীবী হয়ে আদালতে লড়ছেন এই দ্বৈত পেশার মানুষ আক্কাস সিকদার।
সর্বোপরি এই আক্কাস সিকদারের কবলে ঝালকাঠির অগনিত সাংবাদিক হয়রানি ও নিগ্রহের শিকার হচ্ছেন। ভুক্তভোগী অধিকাংশ সাংবাদিক মানসম্মানের ভয়ে প্রতিবাদটুকুও করেন না, বরং মুখ বুজে সহ্য করাকেই শ্রেয় মনে করেন। তার নাকি হাত অনেক লম্বা। কখনো আইনজীবি কখনো সাংবাদিক হিসেবে ঝালকাঠি জেলার সর্বত্র বেপরোয়া তদবির বাণিজ্যও চলে তার। এছাড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনও তাকে সমীহ করে থাকে। প্রেসক্লাব সেক্রেটারী আক্কাসের নামে বিভিন্ন ক্লিনিক, ইটভাটা সমিতি, কাজী সমিতি, বালি উত্তোলনকারী, আড়ৎপট্টি, টমটম, অটো, বাস মালিক সমিতিসহ বিভিন্ন স্পট থেকে দেদারছে মাসোয়ারা উত্তোলন হওয়ার খবর জানা গেছে। সাংবাদিক হয়রানির নেপথ্য ইন্ধনদাতা হিসেবে চিহ্নিত আক্কাস সিকদারের ঘনিষ্ঠ সহযোগিরা প্রচার করে বেড়ান তার হাত অনেক লম্বা। নেতা তার পরামর্শ ছাড়া নাকি একটা পদক্ষেপও নেন না, জেলা প্রশাসন তার কাছেই জিম্মি থাকে। স্থানীয় আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ ক্ষমতাসীন দল-সংগঠনের নেতা কর্মিরাও নাকি সিকদারের ভয়ে তটস্থ থাকেন।
সম্প্রতি সরকারের প্রভাশলী দুই মন্ত্রীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কটুক্তি করায় তার বিরুদ্ধে ঝালকাঠি জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদিকা শারমিন মৌসুমি কেকা বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরর পর আত্মগোপনে রয়েছে আক্কাস সিকদার।

সম্প্রতি ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আক্কাস সিকদারের নামে আইসিটি এক্টে মামলা করেছে শাসকদলের এক নেতা। পরে তাকে প্রেসক্লাবের পদ থেকেও অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তিনিও শাসকদলেরই লোক হিসেবে ঝালকাঠিতে চিহ্নিত। তার বিপদের সময় তার সহকর্মীরা অধিকাংশই পাশে নেই। তিনি এক সময় হয়তোবা ভাবতেন ক্ষমতা চিরস্থায়ী। তার সহকর্মীদের একাংশের দাবী, আক্কাস সিকদার নানারকম ফন্দি-ফিকির চালিয়ে সাংবাদিকদের নির্যাতন ও হয়রানি চালিয়ে থাকেন।
এছাড়াও আক্কাস সিকদারের অনুমতি ছাড়া কোন অনিয়ম ও দুর্নীতির নিউজও নাকি করা যেত না। নিউজ করতে গেলেই ভুক্তভোগী সাজিয়ে থানায় কিংবা আদালতে দায়ের করাতেন। প্রেসক্লাব সম্পাদক হিসেবে সাংবাদিকদের পক্ষে না দাঁড়িয়ে তিনি এসব হয়রানির নেপথ্যের ইন্ধন দিতেন। বাদ পড়েনি জুনিয়র-সিনিয়র কেউ। তার সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ায় প্রেসক্লাবের সদস্যপদ পর্যন্ত হারাতেও হয়েছে। যমুনা টিভি, একুশে টিভি টিভিসহ কমপক্ষে ১২ সাংবাদিকের নামে মামলার তিনি নেপথ্যে ভূমিকা পালন করেছেন। বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার সাংবাদিককে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার হুলিয়া দিয়েছেন। এখন সেই প্রভাবশালী আক্কাস সিকদার নিজেই মামলার আসামী। তার পাশে নেই সহকর্মীরা। এটা কি প্রকৃতির শাস্তি?

বিজ্ঞাপন

ঝালকাঠির ৪ সাংবাদিক সংগঠনের স্মারকলিপি
ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠিতে সাংবাদিক নির্যাতনকারী, অপসাংবাদিকতা, চাঁদাবাজি পাতানো মামলা-হামলা ও হয়রানী প্রতিরোধে ৪টি সাংবাদিক সংগঠন একত্রিত হয়ে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্বরাষ্টমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি পেশ করেছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হাজির হয়ে ৪টি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ /প্রতিনিধি জেলা প্রশাসক মো: জোহর আলীর হাতে স্বরাষ্টমন্ত্রী বরাবর স্মারক লিপি তুলে দেন। সংগঠনসমূহের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) ঝালকাঠি জেলা শাখা, ঝালকাঠি রিপোর্টার্স ইউনিটি, কাঠালিয়া প্রেসক্লাব(বাদল) ও বরিশাল সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ ।
স্মারক লিপি গ্রহন করে জেলা প্রশাসক বলেন, “ নিজেদের মধ্যে বিবেদ সৃষ্টি না করে সকল সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য থাকা উচিত।”
এ বিষয়ে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আবু জাফর জানান, “সাংবাদিক নির্যাতনকারী যে-ই হোক তাকে কোন রকম ছাড় দেয়া হবে না। যেখানেই সাংবাদিকদের নামে পাতানো, ষড়যন্ত্রমূলক মামলা-হামলার শিকার হবে সেখানেই বিএমএসএফ তাদের পাশে দাঁড়াবে এবং প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। ঝালকাঠির কিছু রাক্ষুসে সাংবাদিক নিরীহ সাংবাদিকদের মামলা, হামলা ও অপবাদের কালিমা লেপনের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ সকল রাঘব বোয়ালদের প্রশাসনের সহযোগীতায় যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
বিএমএসএফ ঝালকাঠি জেলা শাখার সভাপতি আজমীর হোসেন তালুকদার জানান, “বিএমএসএফ পেশাদার সাংবাদিকদের পাশে ছিল এবং থাকবে। আমরা স্বরাষ্ট মন্ত্রী বরাবর ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেছি। পরবর্তীতে সংগঠনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক গৃহীত কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা হবে।

বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) ঝালকাঠি জেলা শাখা, ঝালকাঠি রিপোর্টার্স ইউনিটি, কাঠালিয়া প্রেসক্লাব(বাদল) ও বরিশাল সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ সংগঠন সমূহের সভাপতি/সম্পাদকগণ ঝলকাঠি জেলা প্রশাসকের সাথে দেখা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ সংবাদ

বিজ্ঞাপন
x