13.7 C
New York
Saturday, July 31, 2021

ঝিনাইগাতীতে কাল্লাকাটা গুজব সাজাতে গিয়ে যৌতুক লোভী স্বামী শ্রীঘরেঃ

বিজ্ঞাপন

মোহাম্মদ দুদু মল্লিক ঝিনাইগাতী শেরপুর প্রতিনিধিঃ শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার প্রতাবনগর এলাকায় এক গৃহবধুকে যৌতুক আদায়ে ব্যর্থ হয়ে ধারালো রাম দা দিয়ে তারি ঔরসজাত ছেলে সন্তানকে কাল্লা কেটে মেরে ফেলার চেষ্টা চালিয়ে ছিল ছেলের বাবা।এমনত অবস্থায় বাবার হাত থেকে বাচাতে আপ্রান চেষ্টা চালায় তার মা বালিশ হাতে নিয়ে দায়ের কুপ ফিরাতে থাকে নানান ভাবে একপর্যায়ে তার স্ত্রী ধারালো দায়ের সামনে বালিশ দিয়ে।

বিজ্ঞাপন




প্রথমের দায়ের কুপ বালিশে লাগে ২ য় কুপ স্ত্রীর বাম হাতের কুনির উপরে লেগে মারাত্মক ভাবে কেটে যায়। স্ত্রী ও বাচ্চার চিতকারে পাশের ঘরের লোকজনের ঘুম ভেঙ্গে উঠে আসার সব্দ পেয়ে দরজা খুলে দৌড়ে পালিয়ে যায়। আবার সকালে স্ত্রী ঝিনাইগাতী সদর হাসপাতালে ভর্তী হওয়া স্ত্রীকে দেখতে যায় ঐ নরপশু স্বামী তাকে একনজর দেখার পর স্ত্রী জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন এমতাবস্থায় হাসপাতাল কর্তিপক্ষ বিষয়টি জানতে পেয়ে স্বামীকে আটক করে থানায় ফোন দিলে পুলিশ এসে তাকে গ্রেফতার করেন। নিয়মিত ভাবে তদন্তের মাধ্যমে ঝিনাইগাতী থানায় একটি মামলা রুজু হয়। মামলার বিবরণে জানা গেছে ৮ বছর আগে ঝিনাইগাতী উপজেলার প্রতাবনগর গ্রামের মোঃ ছামেদ আলীর মেয়ে মোছাঃ শামসুন্নাহারের সাথে একই উপজেলার গান্ধিগাও গ্রামের মোঃআমির আলীর ছেলে মোঃ আতিকুল ইসলাম(৩৫)পারিবারিক ভাবে বিয়ে সম্পন্ন হয়।

বিজ্ঞাপন




বিয়ের পর ভালো মতোই চলছিল দাম্পত্য জীবন হটাৎ করে ঝিনাইগাতী সদর বাজারে দোকান দিবেন বলে স্ত্রীকে টাকা এনে দিতে চাপ দিলে দাবি মতে বাবা – মাকে বুঝিয়ে অংশ মূলে ২ লক্ষ টাকা এনে দেয় স্বামীকে।এর কিছু দিন পর আবারও যৌতুক হিসেবে আরো টাকা এনে দেওয়ার দাবি করে আসতে ছিলো মাঝে মাঝেই খারাপ ব্যাবহার করতে থাকে এক সময় চরম পর্যায়ে মারপিট,নির্যাতন করে প্রতিনিয়ত স্বামী আতিকুল ইসলাম। সকল কিছু সহ্য করে শামসুন্নাহার স্বামীর ঘর করার জন্যে বাবা মাকে না জানিয়ে চলতে থাকে সংসার ঘরের আসবাবপত্র গুলোও বাবা মার কাছ থেকে আনা হয়েছে কি করে বাবা মাকে বলবো এসব বেভেই চলতে থাকে।মেয়ের জামাই নিয়ে সুখে শান্তিতে আছে বলেই বাবা মা জানেন।অত্যাচার সইতে না পেরে ঐ নারী স্বামীর নির্যাতনের কথা তার দাবীর কথা এক পর্যায়ে বাবা মা ভাইদেরকে জানানো হলে বুঝ পরামর্শ করে তাদের সংসার জীবনে সুখ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাতে থাকে নানাভাবে।এর মাঝে কুল জুড়ে একে একে দুইটি সন্তান চলে আসে সংসারে কিন্তু অবশেষে অত্যাচার,নির্যাতন দিন দিন বারতেই থাকে তবুও সহ্য করেন ঘরে ২টি ছোট ছোট সন্তান রেখে কি করবেন শত অত্যাচারেও মুখ বন্ধ করে চলে সন্তান ২ টির দিকে তাকিয়ে স্বামীর বাড়িতে সাংসারিক জীবন অতিবাহীত করতে থাকেন।

বিজ্ঞাপন




গত দুই মাস আগে প্রকাশ পায় পূর্বে দেয়া যৌতুকের টাকা খরচ হয়ে গেছে টাকা নেই এর ফলে আবারও ব্যাবসায় টাকা লাগবেই বাপের বাড়ি থেকে ১ লাখ টাকা যৌতুক আনতে স্ত্রীকে চাপ দিয়ে সন্তান সহ স্বামীর বাড়ি থেকে তারিয়ে দেয় স্বামী যৌতুক লোভী আতিকুল।তার কথা মতো স্ত্রী উপায় না পেয়ে সামসুন্নাহার নিরুপায় হয়ে প্রতাবনগর বাপের বাড়িতে সন্তান সহ আশ্রয় নেয় প্রায় দুই মাস থেকে। গত ২৪শে জুলাই ২০১৯ ইং রাত সাড়ে বারোটার দিকে স্ত্রী থাকার টিনসেট ঘরের পিছনের দিকে ঘরের পিরার মাটি কেটে টিনের বেড়ার নিজ দিয়ে ঘরে চোরি করে প্রবেশ করেন স্বামী আতিকুল।ঘুমে থাকা স্ত্রীকে বলেন যৌতুকের টাকা দিবি কি না বল স্ত্রী উত্তরে বলেন বাবা মার অবস্থা ভালো না এই মহুর্তে টাকা দিতে পারবে না এই কথা বলার সাথে সাথে লুকিয়ে সাথে নিয়ে আসা ধারালো দা, বাহির করে বাচ্চার কাল্লা কাটার উদ্দেশ্য করে কুপ মারলে স্ত্রী বাচ্চাকে বাচানোর জন্যে বালিশ দিয়ে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যায় প্রথম দায়ের কুপ বালিশ দিয়ে প্রতিহত করেন পরের কুপ স্ত্রী সামসুন্নাহারের বাম হাতের কুনির উপরে লাগলে তার ও বাচ্চার চিত্কারে অন্য ঘরের লোকজন আসার সব্দ পেলে স্বামী আতিকুল ঘরের মূল দরজা খুলে দৌড়ে পালিয়ে যায়।




তারপর বাবা মার চিত্কারে আশেপাশের লোকজন এসে দেখেন মারাত্মক ভাবে রক্তাত্ব অবস্থায় মেয়ে পড়ে আছে অজ্ঞান হয়ে, বাচ্চা ভয়ে কান্না করছে।তাকে জুরুরি ভাবে ঝিনাইগাতী সদর হাসাতালে নিয়ে যাওয়া হয় ততক্ষণে অনেক রক্ত ঝরছিল জুরুরিভাবে কর্তব্যারত চিকিৎসক হাতে সিলাই দিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা নেন এবং হাসপাতালে ভর্তি করেন। বুধবার সকাল ১১টার দিকে চথুর স্বামী হাসপাতালে গিয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করলে অসুস্থ স্ত্রী তাকে দেখে আবারও ভয় পেয়ে জ্ঞান হারালে জানাজানি হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আটক করেন স্বামী আতিকুলকে।ঝিনাইগাতী সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থানা পুলিশ কে অবগত করলে এস আই অহিদ্দুজ্জামান স্বামী আতিকুলকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে ঝিনাইগাতী থানায় স্ত্রী শামসুন্নাহার বাদি হয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে(সং/০৩) এর ১১(খ) ধারায় মামলা দেয় মামলা নং ১৬ তাং ২৫/৭/১৯ ইং ২৫ শে জুলাই ২০১৯ ইং আতিকুলকে শেরপুর কোর্টে সোর্পদ করলে বিজ্ঞ আদালত কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। এ ব্যাপারে গ্রামবাসী ও সামসুন্নাহারের মা জবা বেগম জানান মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার পর থেকে যৌতুকের জন্যে অনেক নির্যাতন করে আসছে জামাই আতিকুল ।২ লাখ টাকা ইতিপূর্বে দিয়েছি পূণরায় ১ লাখ টাকার জন্যে চাপ দিলে মেয়ে আমার বাড়িতে এসে আশ্রয় নেয়। রাতে সিধ কেটে জামাই আতিকুল ঘরে প্রবেশ করে মেয়েকে, এবং তার ছেলে আমার নাতির কাল্লা কেটে খুনের দায় দায়িত্ব আমাদের উপর চাপানোর জন্যেই এমন কাজ করতে পারেন বলে আমার দারনা করা হচ্ছে।অল্পের জন্যে আল্লাহপাক আমার মেয়েকে এবং বাচ্চা-নাতিকে বাচিয়েছেন।এ ব্যাপারে ওসি আবু বক্কর সিদ্দিক জানায় মামলা নিয়ে আসামিকে গ্রেফতার করেছি আসামিকে কোর্টে সোপর্দ করা হয়েছে। এলাকাবাসীর দারনা কাল্লাকাটা গুজব থেকেই এমনটা করতে চেয়েছিল বলে মতামত।

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

Please enter your comment!
Please enter your name here

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ সংবাদ

x