ড.সিদ্দিকুর রহমান ভাই এর প্রতি খোলা চিঠি

0
172
ড.সিদ্দিকুর রহমান ভাই এর প্রতি খোলা চিঠি

শ্রদ্ধেয় সিদ্দিক ভাই,
সশ্রদ্ধ সালাম জানবেন। আপনি আমার অগ্রজ হিসাবে আপনার প্রতি যথাযথ সন্মান প্রদর্শন করে বলতে চাই; বিগত ২২ আগষ্ট’২০ সাপ্তাহিক আজকাল পএিকায় আপনার কর্তৃক প্রেরীত বিবৃতির বিভ্রান্তি মুলক বিষয়ের সাথে আমি দ্বিমত পোষন করি। নিন্মে দফাওয়ারী উহা বর্ননা করা হ’লো:



ক) কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাএ লীগ প্রতিষ্ঠার দাবী: আপনার প্রেরিত বিবৃতির ০৫ অনুচ্ছে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাএ লীগ প্রতিষ্ঠায় আপনি ছিলেন বলে দাবী করেছেন এবং প্রথম সাধারন সম্পাদক জনাব রহমত উল্লাহ ভাইকে স্বাক্ষী মেনেছেন।যদিও বিগত ২০ আগষ্ট’২০ তারিখ একই পএিকায় আপনি ব্যক্তিগত স্বাক্ষাৎকারে দাবী করেছিলেন যে, “১৯৬৮ সালে আরো ১০/১২ জনকে নিয়ে আপনি ছাএলীগ গঠন করেছেন এবং কুতুব উদ্দিন ও রহমত আলীকে যথাক্রমে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত করেছিলেন”। আপনার দাবীর প্রেক্ষিতে উক্ত বিষয়ে জনাব কুতুবী ভাই ও রহমত ভাইকে জিজ্ঞাসা করায় উক্ত নেতৃবৃন্দ লিখিত ভাবে আপনার দাবীর প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন যে আপনি ছাএলীগ গঠন প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিলেন না( তাঁদের লিখিত প্রতিবাদ আমার কাছে রক্ষিত আছে)।তাই কৃষিবিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম ছাএ লীগ গঠনে আপনি ছিলেন বা গঠন করেছেন বলে আপনার দাবী সম্পুর্ন অসত্য ও কাল্পনীক।

খ) বাকসু নির্বাচনে মনোনয়নে আপনার দাবী:
গত ২২ আগষ্ট’২০ তারিখ সাপ্তাহিক আজকাল পএিকায় আপনার কর্তৃক প্রেরিত বিবৃতির একই অনুচ্ছে(০৫)উল্লেখ করেছেন যে “কুতুবী ভাই ও রহমত উল্লার সহায়তায় মরহুম ফয়সল আহমেদ চৌধুরী ও শহীদ নাজমুল আহসানকে আপনি মনোনয়ন দিয়েছিলেন”; তবে সন বলতে পারেন নাই। আপনার এই বক্তব্যটিও অসত্য। কারন কুতুবী ভাই ও রহমত ভাই সহ আমিও নমিনেশন বোর্ডের সদস্য ছিলাম। কিন্তু আপনি নমিনেশন বোর্ডের কোন মেম্বারও ছিলেন না।তা হলে আপনি তাঁদেরকে নমিনেশন দিলেন কি ভাবে? অধিকন্তু কুতুবী ভাই ও রহমত ভাই আপনার দাবীটিকে অসত্য বলেছেন(তাঁদের লিখিত প্রতিবাদ আমার কাছে রক্ষিত আছে)।

গ)১৯৭১ সালের ৩’রা মার্চ শহীদ নাজমুল ভাইয়ের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে যাওয়া প্রসংগে:
গত ২২ আগষ্ট’২০ সাপ্তাহিক আজকাল পএিকায় প্ররীত বিবৃতির ৬ নং অনুচ্ছেদে জানিয়েছেন যে,”শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজমুল আহসান আর আপনি সম্ভবত মার্চের ৩ তারিখ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রাবাস থেকে দেশের বাড়িতে যাই। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরি। আমি কোন ক্লাস করিনি বা পরীক্ষা দেইনি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে”।কিন্তু আপনার ঐ বক্তব্যটি সঠিক নয়। কারন প্রথমত: ০৩ মার্চ বা তৎপরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় খোলা ছিল বিধায় বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করার প্রশ্নই আসেনা।
দ্বিতীয়ত: ঐতিহাসিক ০৭ মার্চ’৭১ জাতির পিতা বংগবন্ধুর নির্দেশনা অনুযায়ী ০৯ মার্চ’৭১ তারিখ থেকে আমরা ছাএলীগের নেতা কর্মীরা মরহুম রওশন ইয়াজদানী ও শহীদ নাজমুল ভাইয়ের নেতৃত্বে বাঁশের তৈরী রাইফেল দিয়ে ২৩শে মার্চ পর্যন্ত যুদ্ধের প্রশিক্ষন গ্রহন করি।অত:পর প্রশিক্ষন শেষে মরহুম ইয়াজদানী ভাই ও শহীদ নাজমুল ভাই সহ আমরা ২৪ মার্চ’৭১ বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করে ২৬ মার্চের পর মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করি।অতএব শহীদ নাজমুল ভাইয়ের সাথে ০৩ মার্চ’৭১ আপনার বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করার বর্ননা সঠিক নয়।তৃতীয়ত: আপনার সহপাঠি সহ হাজারো প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন শাখায় কারা কারা মুক্তিযুদ্ধ কালীন ক্লাশ করেছেন, পরীক্ষা দিয়েছেন তার রেকর্ড রয়েছে। প্রসংগত উল্লেখ্য যে পরিবেশ পরিস্হিতি বা সুযোগের অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক নেতা কর্মী সহ হাজারো ছাএ মুক্তি যুদ্ধে অংশ নিতে পারে নাই; তাদেরকে নিয়ে কেউ কোন দিন প্রশ্ন তুলে নাই। কিন্তু আপনি মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান কেড়ে নিয়ে তাঁদেরকে পদদলিত করে নিজেকে মুজিব সৈনিক ঘোষনা করায় ১৯৭১ সালে আপনার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।প্রশ্ন উঠেছে ১৯৭১ সালে জাতির পিতা বংগবন্ধু শেখ মুজিব যখন পাকিদের অন্ধকার কারাগারে মৃত্যুর প্রহর গুনছিলেন; ঐ সময়ে উপযুক্ত বয়স হওয়া সত্বেও আপনি জাতির পিতাকে মুক্ত করার জন্য মুক্তি যুদ্ধে না গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাশ করায় আপনি কি ভাবে মুজিব সৈনিক হতে পারেন?



ঘ) ১৫ আগষ্ট’৭৫ প্রতিবাদ মিছিল প্রসংগে:
অত্যন্ত দু:খের সাথে জানাচ্ছি যে ১৫ আগষ্ট’৭৫ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন প্রতিবাদ মিছিল হয় নাই; তবে হ্যাঁ ৩রা নভেম্বর জেলহত্যা ও বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদে ছাএলীগের নেতৃত্বে কৃষি বিশ্ব বিদ্যালয়ে প্রতিবাদ মিছিল হয়েছিল। অথচ আপনি দাবী করেছেন ১৫ আগষ্ট’৭৫ প্রতিবাদ মিছিল করেছেন; গ্রেফতার হয়েছিলেন, আর্মি এসে আপনাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল, আপনার নামে ওয়ারেন্ট ইস্যু হয়েছিল এবং আপনি জীবন বাঁচাতে আমেরিকায় চলে এসেছেন ইত্যাদি কল্পকাহিনী বিগত ৬ আগষ্ট’ ২০১৭ তারিখ এনআরবি২৪ নিউজ ডট কম পএিকায় ও ১১ জুলাই’২০ সাপ্তাহিক আজকাল পএিকায় এবং ২২ আগষ্ট’২০ একই পএিকায় প্রেরীত লিখিত বিবৃতিতে একেক সময় একেক রকম বক্তব্য প্রদান করে প্রমান করেছেন যে আপনি উপরিউক্ত বিষয়ে অসত্য কথা বলছেন।

ঙ)উচ্চ শিক্ষার্থে সরকারী আদেশ প্রসংগ:
বাংলাদেশ সরকারের নীতি মালা অনুযায়ী সরকারী বা আধা সরকারী প্রতিষ্ঠানের বা বিশ্ববিদ্যালয় সমুহে কর্মরত কর্মকর্তা/শিক্ষক/কর্মচারীদেরকে বহির্বাংলাদেশে সেমিনার/সিম্পোজিয়াম/ট্রেনিং/উচ্চ শিক্ষায় যেতে হলে তাঁকে/তাঁদেরকে অবশ্যই সরকারী আদেশ বা জিও গ্রহন করতে হয়। আপনিও ১৯৭৯ সালে প্রথমে লন্ডনে এবং পরে আমেরিকায় আসার জন্য জিও গ্রহন করেছিলেন এবং উক্ত জিও’র অনুলিপি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিকট রক্ষিত রয়েছে।কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, আপনি খুনি জিয়া সরকারের আমলে গ্রেফতার হলে বা আপনার নামে ওয়ারেন্ট ইস্যু বা মামলা হয়ে থাকলে ঐ সরকারের আমলে আপনি মাএ ছয় মাসের ব্যবধানে কি ভাবে দুই দুইবার উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশ যেতে সরকারী অনুমতি পেলেন?



পরিশেষে আপনার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি; মাননীয় প্রধান মন্ত্রী জননেএী শেখ হাসিনা আপনাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি দেশে আওয়ামী লীগের মতো একটি বিশাল সংগঠনের সভাপতি নির্বাচন করেন এবং এটি ছিল আপনার জন্য অনেক বড় পাওয়া।তারপরও কিসের আশায় বা কেন আপনি পিতা মুজিবের শাহাদৎ বার্ষিকীসহ অন্যান্য নানা বিষয়ে মিথ্যাচার করছেন? আর কি হতে চান আপনি? যার জন্য এত সব বিষয়ে মিথ্যাচার করতে হবে? আপনার অসত্য বর্ননা এবং নানাবিধ অসাংবিধানিক কর্মকান্ডের ফলে ইতিমধ্যেই আপনি জাতির জনকের হাতে গড়া আমাদের প্রান প্রিয় সংগঠন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগকে জন বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছেন। এতদভিন্ন, আপনার দাম্ভিক আচরন, অনৈতিক কর্মকান্ড ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার অভাবেই ২০১৮ সালে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর সম্বর্ধনা সভায় “নো মোর সিদ্দিক” বলে উপস্হিত আওয়ামী নেতা কর্মীগন শ্লোগানে ফেটে পড়েন এবং যার কারনে আপনি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি হওয়া সত্বেও ২০১৯ সালে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর সম্বর্ধনা সভায় তিনি আপনাকে মন্চে উঠতে না দিয়ে দর্শক সারিতে বসিয়ে রেখেছিলেন;যা কিনা আপনার জন্য সন্মান জনক ছিলনা।
আপনি বিশ্বাস করুন আর নাই করুন; আমি আপনার একজন শুভাকাংখী এবং আপনার সাথে আমার কোন বিরোধ নেই।আপনি ও আমি প্রায় সমসাময়িক সময়ে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখা পড়া করেছি এবং আপনার দোয়ায় ও আল্লাহ’র রহমতে আজও জীবিত রয়েছি।যেহেতু ছাএ জীবনে ছাএলীগের একজন লড়াকু নেতা/কর্মী হিসাবে ১৯৬৮ সাল থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল সামাজিক সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক কর্মকান্ডের আমি একজন জীবন্ত স্বাক্ষী। সেহেতু ঐ সময়ের কোন রাজনৈতিক বিষয়ে কেউ অসত্য কথা বল্লে ব্যথিত হই এবং সংগত কারনেই প্রতিবাদ করে থাকি। তাই আপনার অসত্য বচনের প্রতিবাদ করি। তবে আপনার একজন অনুজ হিসাবে বিনয়ের সাথে অনুরোধ করছি, অসত্য কথা না বলে সত্য বচনে ব্রত হউন এবং প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করুন।
জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।

ইতি,
আপনার স্নেহধন্য
মুক্তিযোদ্ধা ও কৃষিবিদ মকবুল হোসেন তালুকদার।
নিউইয়র্ক, আমেরিকা।

আরো পড়ুন>>> জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৫তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

আপনার মতামত লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here