13.7 C
New York
সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২১

দুর্গাপুরের ইউএনও ফারজানা খানম’র সাফল্যের ৮মাস

বিজ্ঞাপন

কলিহাসান,দুর্গাপুর(নেত্রকোনা)প্রতিনিধি:

বিজ্ঞাপন

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে ৩০ মে ২০১৯ইং তারিখে উপজেলা’র প্রথম নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) হিসেবে যোগদান করেন ফারজানা খানম। মাত্র আট মাসেই তিনি এ উপজেলায় বিভিন্ন কর্মকান্ড ও আর্তমানবতার সেবায় দৃষ্টান্তের নজির স্থাপন করে এলাকায় ব্যাপক সুনাম লাভ করেছেন। গত ১১ নভেম্বর স্থানীয় একটি প্রগতিশীল সংগঠন মুক্তি‘চেতনায় ৭১’ এর প্রসাশনিক ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখায় গুণীজন সম্মাননা স্মারকে ভূষিত হয়েছেন ইউএনও ফারজানা খানম।
চলতি মাসের ২৩ জানুয়ারি উপজেলা বিরিশিরি গাভিনা গ্রামের জলসিঁড়ি পাঠাগার কেন্দ্রের ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতেও শুভেচ্ছা স্মারকে ভূষিত হয়েছেন তিনি।




বিজ্ঞাপন

জানাগেছে, সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার ৩০তম ব্যাচে উত্তীর্ণ হয়ে জেলার চুয়াডাঙ্গা ডিসি অফিসের (কালেক্টর) প্রথমে সহকারী কমিশনার হিসেবে যোগদান করে তিনি। সেখান থেকে পরে নাটোর জেলায় সহকারী কমিশনার(ভূমি) পদে যোগদান করেণ। পরে তিনি পদোন্নতি পেয়ে পাবনা জেলার ভেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। সেখানে ৬মাসের অধিক সময় তিনি যথেষ্ট সুনামের সহিত চাকুরি করেণ।

গত বছর ২০১৯ইং (৩০ মে) বৃহস্পতিবার দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে যোগদানের পর তিনি অনেক দুঃস্থ্য ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান। এলাকা এলাকা ঘুরে স্থানীয় চেয়ারম্যানদের সহায়তায় তিনি বিভিন্ন দুঃস্থ্য অসহায় সহায় সম্বলহীন মানুষের খোঁজ খবর নেন।

বিজ্ঞাপন




নিজের ব্যক্তিগত অর্থ থেকে বিভিন্ন সময়ে মাকরাইল গ্রামের নজরুল ইসলামের কন্যা নাহিদা সুলতানা সহ অসংখ্য স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ অসংখ্য দরিদ্র ও অতিদরিদ্র পরিবারে লোকজনদের আর্থিক সহায়তা করে থাকেন বলে জানিয়েছেন বেশক’জন সহায়তাভোগী। দুর্গাপুরে সাম্প্রতিক সময়ে উজান থেকে নেমে আসা বন্যার পানিবন্দিদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তিনি তাঁদের খোঁজ খবর নিয়েছেন।

পানিবন্দি বন্যার্ত লোকজন ইউএনও কে কাছে পেয়ে অনেকে আবেগাপ্লুত, আতঙ্কের মাঝেও যেন স্বস্তির নিঃশ^াস পেলেছে বানবাসিরা। নারী হয়েও এই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিন রাত বাঁধ ভাঙা রাস্তা পরিদর্শন, বন্যার্তদের মাঝে শুকনো খাবার নিয়ে লোকজনের কাছে ছুটে গেছেন। নিজ হাতে তাঁদের অধিকারটুকু পেয়ে অনেকটাই উচ্ছ¡সিত স্থানীয় বন্যার্তরা।




চলতি বছরের অক্টোবরে সরকারি,খাস জমি অবৈধ দখল উচ্ছেদ বন্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে গতিশীল ভূমিকা রেখেছেন। পৌরসদরে অবাধে গড়ে উঠা নির্মাণ কাজ বন্ধ ও অবৈধ দখল উচ্ছেদ ঠেকাতে তিনি দৃড়তার সাথে কাজ করেছেন। বিগত চার বছরেও এত সংখ্যক ভ্রাম্যমান আদালত কোন ইউএনও পরিচালনা করেননি।

অনিয়ম প্রশ্নে মানছেন না কারও কোন ধরণের সুপারিশ। চলতি বছরের নভেম্বর মাসে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে রেকর্ড পরিমাণ ১লক্ষ ২৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেণ। দুর্গাপুরে অবাধে চলা লড়ি ট্রাক্টর বন্ধে কার্যকর ভুমিকা রাখছেন তিনি। ন্যায়ের প্রশ্নে তিনি আপোষহীন,অটল। উপজেলার সর্বস্থরের সেবা গ্রহিতারা নিচ্ছেন তাঁদের সেবা। মনখোলা পরিবেশে ভুক্তভোগীরা নিজেদের অভিযোগ বলতে পেরে আনন্দিত অসংখ্য সেবাগ্রহিতা। আর্তমানবতার এক জলন্ত উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন ইউএনও ফারজানা খানম। শুধু আর্তমানবতার সেবাই নয় তিনি দুর্গাপুর উপজেলায় যোগদানের পর প্রতিটি সরকারী প্রতিষ্ঠানের দূর্নীতি কঠোর হস্তে দমন করতে সক্ষম হয়েছেন বলে এমন দাবী করেছেন নাম প্রকাশে অচ্ছিুক একাধিক দফতরের কর্মকর্তা।




সোমেশ্বরী নদীর অব্যাহত ভাঙন রোধে উপজেলার কুল্লাগড়া ইউনিয়নের খামারখালী,রানীখং,ভুলিপাড়া গ্রামে বেরিবাঁধ প্রকল্পের আওতায় তিনি স্থানীয় এমপির সহযোগিতায় নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডে যোগাযোগ করে তাৎক্ষনিক নতুন বেরিবাঁধ নির্মাণ করার ব্যবস্থা করেণ।

মাকরাইল গ্রামের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, তার অসহায়ত্বের খবর শুনে একদিন দুপুরে তার নিজ কার্যালয়ে ডেকে এনে আর্থিক সহযোগিতা করেণ। পরে আরো সহায়তা করার ঘোষণা দেন তিনি।




নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা খানম স্যার এ উপজেলার ইউএনও যোগদানের পর থেকেই ঘুষ দূর্নীতি অনেকটা শুন্যের কোটায় নেমে এসেছে। তাঁর অফিসে আগত লোকজন তাঁদের কাঙ্খিত সেবা পেয়ে অনেক খুশি। অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের সাথে গড়ে তুলেছেন ভ্রাতৃত্বের বন্ধন। উপজেলা সকল দপ্তরের কর্মকর্তা আর কর্মচারী নির্ভিঘেœ সামলিয়ে নিচ্ছেন কাজ। অফিসে ডুকতে লাগছেনা কোন অনুমতি,সবার জন্য এ দরজা উন্মুক্ত এমন দাবী ইউএনও ফারজানা খানম’র।

বাকলজোড়া ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম প্রতিবেদককে জানান, এরকম একজন নির্বাহী কর্মকর্তা দুর্গাপুরের মানুষ আর কখনো পাবে বলে মনে হয় না। এর আগে আমরা কামাল হোসেন ইউএনওকে পেয়েছিলাম। তাঁর ছায়া যেন আমরা বর্তমান ইউএনও ফারজানা খানম স্যারের কাছে দেখতে পাই। যিনি তার বেতনের অনেকাংশ টাকাও নিজে খরচ করেণ না। গরিব,অসহায় মানুষের মাঝে বিলিয়ে দেন।




উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি সুমন চৌধুরী পাভেল বলেন, দলীয় ভাবমূর্তি রক্ষার ক্ষেত্রে তিনি যেন উদার দৃষ্টান্ত পালন করছেন। স্থানীয় সাংসদ মানু মজুমদারের সর্বাত্বক সহযোগিতা নিয়ে তিনি যেভাবে প্রশাসনিক কাঠামো পরিচালনা করছেন,তাতে দুর্গাপুরবাসী আনন্দিত।

উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ বলেন, ইউএনও মহোদয় বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে অংশ নেন। উপজেলার বিভিন্ন অনিয়ম ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন। যা কিনা পূর্বের কোন ইউএনও এতো পরিমান ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করতে দেখিনি। তিনি আসলে নতুন একটি অধ্যায়ের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন। আমরা উনাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছি।




নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মানু মজুমদার বলেন, দুর্গাপুর উপজেলার বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা খানম এক কথায় খুবই ভালো নারী। তিনি যেমন মানবিক তেমনি তিনি দুরন্ত সাহসিক নারী। বিভিন্ন সময়ে আমি দুঃস্থদের অনুদান প্রদান করার জন্য তাকে দ্বায়িত্ব দিয়ে দেখেছি তিনি সততার সাথে সঠিক দুঃস্থ্যদের মাঝে তা বন্টন করেছেন। আমি উনার কার্যক্রমে খুশি।
এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিনিধিকে ইউএনও ফারজানা খানম বলেন বলেন, এ উপজেলার জন্য কতটুকু করতে পেরেছি জানিনা। তবে এতটুকু বলতে পারি,আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি সেবা দেবার জন্যে। তবে বাল্য বিবাহ,নারী নির্যাতন,যৌতুক,সমাজের সকল ধরণের অন্যায় কাজ বন্ধে উপজেলা প্রশাসন নিবির ভাবে কাজ করছে। এসময় তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করছেন।

আরও পড়ুন>>> আটপাড়ায় ব্রীজের কাজ শুরু করার দাবীতে মানববন্ধন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ সংবাদ

বিজ্ঞাপন
x