দুর্গাপুরে পৌরসভা নির্বাচন: সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীর ছড়াছড়ি

কলিহাসান,দুর্গাপুর(নেত্রকোনা)প্রতিনিধি:

নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। অনেক প্রার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক এ তাদের নিজ আইডিতে প্রার্থী হওয়ার আভাস দিচ্ছেন। স্থানীয় নেতৃবৃন্দ থেকে কেন্দ্রীয় দলীয় নেতাদের সাথে জোড় লবিং শুরু করেছেন অনেক প্রার্থী। নভেল করোনা ভাইরাস মহামারির প্রাদূর্ভাব বিশ্বজুড়ে তুলপাড় শুরু হলেও, কবে মুক্তি মিলবে ব্যাখ্যা নেই। এরই মধ্যেই দেশে সময় ঘনিয়ে আসছে পৌরসভা নির্বাচন। আর দুমাস পেরোলেই মেয়াদাত্তীর্ন হয়ে যাবে দুর্গাপুর পৌরসভার মেয়াদ। বিগত ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২০১৬ সালের ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের অধিকাংশ পৌরসভার নির্বাচন সম্পন্ন হয়। নিয়মানুযায়ী এ বছরের ডিসেম্বর মাসের শেষ দিকে এসব পৌরসভার মেয়াদ শেষ হবে। পৌরসভা নির্বাচন বিধি অনুযায়ী মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পূর্বেই ওইসব পৌরসভায় নির্বাচন সম্পন্ন করার প্রস্তুতি রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। দুর্গাপুর পৌরসভার সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর। নৌকা প্রতীক নিয়ে হাজী আব্দুছ সালাম পৌর মেয়র নির্বাচিত হন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, মহামারি করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে (নিয়ন্ত্রণে থাকলে) এবং বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে মেয়াদোত্তীর্ণ পৌরসভাগুলোতে ডিসেম্বর মাসের শেষ দিকে তফসিল হতে পারে। জানুয়ারি ও ফেব্রæয়ারি মাসের যেকোন দিন ভোট গ্রহণ হতে পারে। তবে ৪০ থেকে ৪৫ দিন সময় হাতে রেখে এসব পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। এ বছরও দলীয় প্রতীকে পৌরসভা নির্বাচন হতে যাচ্ছে।

দুর্গাপুর পৌরসভার নির্বাচনে ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীরা দৌঁড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। সম্ভাব্য মেয়র, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা করোনা পরিস্থিতির কারণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ভোটারদের সাথে কুশল বিনিময় এবং খোঁজ খবর নিচ্ছেন। মহামারি করোনাকালীন সময় কেউ কেউ বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রাণ বিতরণ করছেন। পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নিতে ইচ্ছুক মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের করোনার সময় খাদ্য সামগ্রী হিসেবে চাল, ডাল, আলু, তেল, পেয়াঁজ, রসূন এবং মাক্স,সাবান ও হ্যান্ড স্যানিটাজার,পানির ট্যাঙ্ক বিতরণ করতে দেখা গেছে। তবে করোনার কারণে সম্ভাব্য প্রার্থীরা ভোটারদের সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুক ও মোবাইল ফোনে খোঁজ খবর নিতেও দেখা যায়। এমনকি ধর্মীয় উৎসবে দুর্গাপুর পৌরসভা নির্বাচনে শহীদ পরিবারের সন্তান আওয়ামীলীগ দলীয় মেয়র প্রার্থী আলাউদ্দিন আলাল দরিদ্র ও অতিদরিদ্র পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রি ও বস্ত্র বিতরণ করেছেন।
আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগ থেকে ৮ জন, বিএনপি থেকে ২ জন দলীয় মনোনয়ন ভাগিয়ে নিতে তৎপড়তা চালিয়ে যাচ্ছেন। উপজেলার সর্বস্তরের জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব,বীরমুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সন্তান,সমাজ সেবক,মানবতার নিবেদিত স্বজ্জন আওয়ামীলীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হেভিওয়েট প্রার্থী আলাউদ্দিন আলাল, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি বর্তমান পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব আব্দুছ সালাম, সাবেক পৌর চেয়ারম্যান কামাল পাশা,সাবেক পৌর মেয়র শ.ম জয়নাল আবেদিন, জেলা পরিষদের সদস্য আওয়ামীলীগ সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক, উপজেলা যুবলীগ সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান আব্দুল হান্নান, তরুণ সমাজসেবক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সজয় চক্রবর্তী, পৌরসভা ৩নং ওয়ার্ড আ.লীগ সভাপতি নিজাম উদ্দিন আজাদ, উপজেলা যুবলীগের সহ সভাপতি সুমন চৌধুরী পাভেল দলীয় মনোনয়ন পেতে প্রার্থীরা জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতাদের সাথে রীতিমতো যোগাযোগ রক্ষা করছেন বলেও বিশ^স্ত সূত্রে জানা গেছে।

বিএনপি থেকে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হলেন হাজী জামাল উদ্দিন, সাবেক পৌর চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র শুভেন্দু সরকার পিন্টু। দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশায় বিএনপি থেকে সম্ভাব্য এ উভয় প্রার্থীই দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করছেন এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে যার যার অবস্থান তুলে ধরছেন। এছাড়া আরো কয়েকজনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।
আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বীরমুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সন্তান,সমাজ সেবক,মানবতার নিবেদিত প্রাণ আওয়ামীলীগের হেভিওয়েট প্রার্থী আলাউদ্দিন আলাল মেয়র পদে নির্বাচনে মতামত ব্যক্ত করে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা করেছেন। ওই সভায় তিনি বলেন, জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণির জনগণের প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। কথায় নয় আমি কাজে বিশ্বাস করি এবং নির্বাচিত হলে মুরব্বীদের যথোপযুক্ত সম্মান প্রতিষ্ঠা করব। আল্লাহ যদি আমাকে পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত করে তবে জনসাধারণের কোনো কাজের জন্য বেগ পেতে হবে না। প্রয়োজন মাফিক সেবা বাড়িতে পৌঁছে দিব। তিনি আরো বলেন, সকল ওয়ার্ডের জনসাধারণ আমাকে মেয়র পদে নির্বাচন করার জন্য আশ্বস্থ করেছেন এবং জনসাধারণের আন্তরিক ভালোবাসা ও স্নেহভাজন আলাল হয়ে সব সময় তাদের পাশে থাকতে চাই। আমি ইতিমধ্যে তাঁদের পাশে থেকে সর্বাত্বক সহযোগিতা ও ভালবাসা দিতে বিন্দু মাত্র কুন্ঠাবোধ করিনি। সবার পাশে,সুখে,দুঃখে সর্বদাই নিবেদিত থাকবো এটা আমার নির্বাচনী প্রতিজ্ঞা।



আওয়ামী লীগ থেকে অপর সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব আব্দুছ সালাম পৌরসভায় উন্নয়নের কাজ করেছেন দাবি করে বলেন, দুর্গাপুর পৌরসভাকে তৃতীয় শ্রেণি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নিত করেছি। দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে প্রথম শ্রেণিতে রূপান্তরের প্রক্রিয়া চলমান। তিনি আরো বলেন, দল ও জনগণ যদি সুযোগ দেয় তবে আমি অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করবো।
বর্তমান জেলা পরিষদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক জানান, আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক। চিন্তা,চেতনা আর মননে আওয়ামীলীগের নিবেদিত কর্মী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি। আমি কারও সাথে ক্ষমতার অপব্যবহার করিনি। আমি দলীয় মনোনয়ন পেতে সর্বাত্বক চেস্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি দলীয় নমিনেশন পাবো। দুর্গাপুর পৌর সদরে একটি লোকের সাথেও কালো মুখে কথা বিলিনি। পৌরসদরের সর্বস্থরের ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছি।
প্রাক্তন মেয়র শ.ম জয়নাল আবেদিন দাবি করে বলেন,আমি বিগত সময়ে পৌরসভাকে ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করছি। আবারও মেয়র পদে নির্বাচিত হলে একটি উন্নত পৌরসভায় রুপান্তর করা হবে।
উপজেলা যুবলীগ সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সন্তান আব্দুল হান্নান পৌর নির্বাচনে মেয়র হিসেবে প্রার্থী হওয়ার এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আমি সারাটা জীবন আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত থেকেছি। আমি জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হলে একটি আদর্শ ও সমৃদ্ধ পৌরসভা গঠন করাই হবে আমার মূল লক্ষ্য। আমি আপাদমস্তক আওয়ামীলীগার হিসেবে দলীয় মনোনয়ন পাবো আশা করছি। দলের ত্যাগী একজন কর্মী হিসেবে মাননীয় নেত্রীর কাছে প্রত্যাশা করবো নৌকার টিকিট যেন আমাকে দেন। আমি দলের সাথে সম্পৃক্ত থেকে সারাটি জীবন পাড় করে দিলাম।

মাঠ পর্যায়ের পরীক্ষিত আওয়ামীলীগ তরুণ নেতা, উদার, বিনয়ী ও সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞ আইনজীবী সজয় চক্রবর্তী মেয়র পদে নির্বাচনে অংশ গ্রহণের মতামত ব্যক্ত করে বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের নিয়ে গ্রæফওয়ার্ক কাজ করছি। জনবান্ধব,ডিজিটাল ও আধুনিক মানের পৌরসভা গঠনই হবে আমার মূল লক্ষ্য। জনগন তার সুফল ভোগ করবে। জনভোগান্তি লাগবে আমি নিরন্তর উদার,জনসেবাই আমার রন্ধ্রে রন্ধ্রে কাজ করে। আমি ভোগে নই,ত্যাগী বিশ^াসী মানুষ। সীমান্তবর্তী এ দুর্গাপুরটিকে ঢেলে সাজানোর জন্যে আমি কাজ করতে চাই। ডিজিটাল যুগে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বুকে ধারণ করে একটি অপার সম্ভাবনাময় পৌরসভা গঠন করাই হবে আমার মূল উদ্দেশ্য।
বিএনপি থেকে দলীয় মনোনয়ন পেতে চান পৌরসদরের দশভূজা বাড়ি মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর চেয়ারম্যান ও প্রাক্তন পৌর মেয়র শুভেন্দু সরকার পিন্টু বলেন, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জনগণ আমাকে মূল্যায়ন করবে এবং বিপুল ভোটে জয়লাভ করব। আমি বিশ^াস করি দুর্গাপুর পৌরবাসী যথেস্ট সচেতন, কর্মমূখী মানুষকে সচেতন ব্যক্তিদ্বয় মূল্যায়ন করবেন। তাঁদের ভোটাধিকার প্রদানের মধ্য দিয়ে,তারা কোয়ান্টিতে নয়, বিশ^াসী কোয়ালিটিতে।



এদিকে, বিএনপি থেকে অপর প্রাথী হাজী জামাল উদ্দিন দলীয় সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে মাঠে কাজ করছেন মত প্রকাশ করেন তিনি বলেন, আমি বিগত নির্বাচনেও বিএনপি দলীয় প্রতীকে পৌর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করি। দল ও জনগণ আমাকে সমর্থন দিলে এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আমি জয়লাভ করব। তিনি আরো বলেন, পৌরসভার জনগণের প্রতি আমার শতভাগ আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে এবং নির্বাচিত হলে জনসাধারণের সকল প্রকার নাগরিক সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হবে।
উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি সুমন চৌধুরী পাভেল দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণে আশা প্রকাশ করে শারদীয় দূর্গাৎসব উপলক্ষে পৌরবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি দলীয় সমর্থনে মেয়র পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ হলে আমি জয়লাভ করবো এবং আমার জনগণের প্রতি আমার পূর্ণ বিশ্বাস রয়েছে। জনগণ আমাকে মূল্যায়ন করে পৌর মেয়র নির্বাচিত করবেন।

আরো পড়ুন>> কেন্দুয়ায় ৪৬ মন্ডপে সুষ্ঠুভাবে দূর্গাপূজা উদযাপনে প্রশাসনের প্রস্তুতি মুলক সভা

আপনার মতামত লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here