দৃষ্টির মধ্যেই তবুও জানতোনা পুলিশ!

বদরুল আমীন, ময়মনসিংহ থেকে:

দৃষ্টির মধ্যেই তবুও জানতোনা পুলিশ!

ময়মনসিংহ শহরের রমেশ সেন রোডের যৌনপল্লী ছিলো অবৈধ মদ মওজুদের ভান্ডার। জানতোনা থানা কিংবা ফাড়ি পুলিশ! থানা থেকে মাত্র আনুমানিক ১ কিলোমিটার দূরে ও ফাড়ি থেকে চোখের দৃষ্টির মধ্যেই। তবুও জানতোনা থানা-ফাড়ির পুলিশ! গত ১৪ নভেম্বর ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৪০ লিটার চুলাই মদ উদ্ধার করে ৪ জন মদ ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেন। ভাঙ্গে হাটে হাড়ি। এর পর দু-দফা অভিযান চালায় ১ নং ফাড়ি পুলিশ। তারাও ১ হাজার ৬০ লিটার অবৈধ মদ উদ্ধার করে। ডিবি পুলিশে অভিযানে অনেক সাংবাদিক ও কতিপয় পুলিশ এটি ভালো চোখে দেখেনি।

তবে সাধারন মানুষ ও সুশীল সমাজ এই অভিযানের ব্যাপক প্রশংসা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পুলিশ সুপার ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশদের অভিনন্দন জানানোর ধুম পড়ে।
সুত্র জানায়, স্থানীয় এশটি সাপ্তাহিক পত্রিকায় সংবাদটি ফলাও হলে উর্ধতন পুলিশ কর্মকর্তাদের নজরে আসে। জেলা গোয়েন্দা সংস্থাও সংবাদটি নজরে আনের। গোয়েন্দা পুলিশ ঘটনাটি অনুসন্ধান চালানোকালে কতিপয় সাংবাদিক ও প্রভাবশালী ব্যক্তি অভিযানের বিরোধীতা করে জেলা গোয়েন্দা সংস্থার পুলিশদের তদবির করেন। কোন ভাবেই গোয়েন্দা পুলিশদের থামাতে পারেনি। এতেও নাখোঁশ হয় পুলিশের কতিপয় কর্মকর্তা। অথচ শহরের প্রানকেন্দ্রে এমন অবৈধ মদের বিশাল ভান্ডার থানা ও ফাঁড়ি পুলিশের দৃষ্টি সীমানায় থাকলেও অজ্ঞাত কারনে অভিযান হয়নি।



রমেশ সেন রোডের যৌনপল্লীর সর্বেŸাচ্চ সীমানা মাত্র ২ শ গজ। ৪ শতাধিক যৌনকর্মী। ৮ বাড়ি ও ২শ ৩৮ টি কক্ষে যৌনকর্মীদের বসবাস। নিত্যদিন রয়েছে পুলিশী টহল ব্যবস্থা। চুন থেকে পান খসলেই থানা-ফাড়িঁতে খবর পৌছে যায়। অথচ ৬৭ জন বিক্রী করতো অবৈধ মদ, এ খবর জানতোনা কেউ! এখানেই রয়েছে সরকার অনুমোদিত দেশীয় মদের একটি দোকান। যা এতোসব অবৈধ মদের দোকান হওয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে রেখেছে।

১৪ নভেম্বর ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা সংস্থার পুীলশের আভিজানিক দল সন্ধার পর অভিযান চালায় রমেশ সেন রোডে মদের ভান্ডারে। পুলিশ পরিদর্শক শাহ মোঃ কামাল আকন্দের নির্দেশে এস আই আলাউদ্দীন সঙ্গীয় পুলিশ নিয়ে অভিযান চালায়। পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান মদ উদ্ধার করে ৪ জনকে গ্রেফতার করেন। সারা শহরের মানুষ ডিবি পুলিশের অভিযানকে অভিনন্দন জানানোর ধুম পড়ে।



থানা ও ফাড়ি পুলিশের ব্যর্থতা আড়াল করার জন্যই হউক কিংবা দায়িত্ব থেকেই হউক পরদিন ১৫ নভেম্বর ১ নং ফাড়ি পুলিশের পুলিশ পরিদর্শক মোঃ দুলাল আকন্দ রমেশ সেন রোডে চিরুনি অভিযান চালায়। উদ্ধার করেন ২ শ লিটার অবৈধ মদ । সেই সাথে এককে গ্রেফতার করেন।
ফাঁড়ি পুলিশ ও ডিবি পুলিশের দুটি চিরুনী অভিযানের পর ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার পুলিশ অভিযান চালায় রমেশ সেন রোডের যৌনপল্লীতে। অবাক করার মত ঘটনা, আলাদীনের আচার্য প্রদীপের মতই চমক দেখিয়ে থানা পুলিশ সেখান থেকে ১ হাজার ৯০ লিটার অবৈধ মদ উদ্ধার করে! ৬ জনকে আটক করে। সকল ব্যর্থতা আড়াল করে শীর্ষেই থেকে গেল থানা পুলিশ। বিড়ালের গলায় ডিবি পুলিশ ঘন্টা বেধেঁ দেয়ার পর থানা ও ফাঁড়ি পুলিশের তোরজোর অভিযান দায়সারা বলেই অনেকে বন্তব্য করেন।
শহরের সব চেয়ে জনবহুল ও বানিজ্যিক এলাকায় রমেশসেন রোড যৌনপল্লী। মদ্যপরা এখানেই মদ্যপান করে সারা শহরের পরিবেশ নষ্ট করতো। আর দু-পাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা তেমন নাথাকায় নগরবাসীর জন্য এট বিষফোঁড়া।

আরো পড়ুন: গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের বক্সকালভার্ট নির্মাণে ধীরগতি জনগণের দুর্ভোগ চরমে

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

Please enter your comment!
Please enter your name here