দেওয়ানগঞ্জে ডব্লিউএফপি’র টাকা মেম্বারের পেটে!

দেওয়ানগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

বিশ্ব খাদ্য কর্মসুচি (wfp) পৃথিবীর সর্ব বৃহৎ মানব হিতৈষী ও ক্ষুধা নির্মুল সংস্থা। এর লক্ষ হচ্ছে ক্ষুধা নির্মুল ও খাদ্য সুরক্ষা। এর ধারাবাহিকতায় সারা দেশের ন্যায় জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ডাংধরা ইউনিয়নে সাড়ে তিন শতাধিক দুস্থ পরিবারকে ৪৫ শত টাকা প্রদান করা হয়।

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি), জাতিসংঘের খাদ্য সহায়তা সংক্রান্ত শাখা ক্ষুধা মোকাবেলা ও খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষায় বিশ্বের বৃহত্তম মানবিক সাহায্য সংস্থা। এই কর্মসূচি কোভিড-১৯ মহামারী মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকারের চলমান প্রচেষ্টার সাথে সংযুক্ত। তার ধারাবাহিকতায় জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ডাংধরা ইউনিয়নে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি ( WFP) কর্তৃক জন প্রতি ৪৫০০ টাকার অনিয়ম হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ডাংধরা ইউনিয়নের ০৩নং ওয়ার্ডের সোনাকুড়া গ্রামের উপকার ভোগীদের সাথে অনিয়ম হয়েছে বলে জানা যায়। স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, ডব্লিউএফপির কার্ডে উল্লেখিত বিকাশ নাম্বার এর সিম গুলো সব জমা রেখে টাকা উত্তোলন করে আসছে একটি চক্র। অর্ধেক সুবিধা বঞ্চিত কহিনুর/ইউসুব, কল্পনা /চান মিয়া, আম্বিয়া /আরফান, মাকসুদা / মঞ্জুর আলী, আজগর আলী সহ এদের ৪৫০০ টাকার মধ্যে ২৫০০ টাকা পেয়েছে। বাকি টাকা একই গ্রামের আজিজুর মেম্বারের ভাগিনা মৃত্য সাত্তার এর ছেলে নাজির হোসেন নিয়েছে বলে তারা জানান।



উপকার ভোগী রহিমা, আয়জান ও নাছিমা জানান- আমাদের সকল বিকাশ নাম্বার গুলো সিম-সহ নাজির হোসেন নিজের কাছে জমা রেখেছে। বিকাশে টাকা জমা হলে দিবে বলেও জানান। সুবিধা কার্ড হাতে দিলেও মোবাইলের সিম দেয়া হয়নি । লক্ষ্য করে দেখা যায়, কিছু কিছু কার্ডে যে বিকাশ নাম্বার গুলো রয়েছে সে নাম্বার গুলোও উপকার ভোগীর নিজের নাম্বারের সাথে মিল নাই। এসব মেম্বারের দালালগণ ইচ্ছে মতো নাম্বার দিয়ে দরিদ্র ও হত-দরিদ্র পরিবারের সাথে প্রতারণা করেছে নিয়মিত। এ ব্যাপারে নাজির হোসেন এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন- সিম ও টাকা আমি নেইনি, আজিজুর মেম্বার যা করতে বলছে আমি তাই করেছি। ৩নং ওয়ার্ডের আজিজুর মেম্বারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন- আমি নাজির হোসেনকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম, কত টাকা নিয়েছে আমি জানিনা, তবে আমার জানামতে ৫০০ টাকা করে রাখা হয়েছে ।



এব্যাপারে ডাংধরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহ মোঃ মাসুদ এর সাথে যোগাযোগ করলে, তিনি মুঠোফোনে জানান- কোন উপকার ভোগী আমার কাছে অভিযোগ করেনি, তবে এসব যদি করে থাকে সে যেই হোক আমি তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আমি চাই দোষীর উপযুক্ত বিচার হোক। সাধারণ জনগণের মতে এ রকম চক্র সব এলাকাতেই লক্ষ করা গেলেও কেউ মুখ খোলেনা বাহু বলের দাপটে।

আরো পড়ুন: নালিতাবাড়ীতে দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য হলেন কেয়া নকরেক

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

Please enter your comment!
Please enter your name here