দেশের উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার বিকল্প নাই: সংসদে বেগম রওশন এরশাদ এমপি

আরিফ রববানী, ময়মনসিংহ থেকে:

রওশন এরশাদ

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ বলেছেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের স্বাধীন-সার্বভৌমত্ব বাংলাদেশ উপহার দিয়েছেন। এটা আমাদের হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ উপহার। এই উপহার নিয়ে আমরা স্বাধীন ভাবে নিরাপদ বসবাস করছি। যার ত্যাগের বিনিময়ে আমরা আজ পরাধীনতার শৃঙ্খলমুক্ত হয়ে চলছি সেই বঙ্গবন্ধুকে যারা ইতিহাস থেকে মুছতে চেয়েছিলেন তারাই এখন ইতিহাস থেকে মুছে গেছেন। এখন সোনার বাংলাকে তার আদর্শের আলোকে গড়ে তুলতে হবে প্রিয় বাংলাদেশকে। তারই সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই দেশকে উন্নত দেশে পরিণত কাজ করতে হবে।
তিনি রবিবার রাতে মহান জাতীয় সংসদে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কর্মময় ও বর্ণাঢ্য জীবনের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তব্যে একথা বলেন।

জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ওই আলোচনায় তিনি বলেন, এই দেশের গণমানুষের জন্য বঙ্গবন্ধুর সীমাহীন ত্যাগ-তিতীক্ষা রয়েছে। তিনিই আমাদের অন্ধকারের মধ্যে আলো দেখিয়েছেন। এখন তার দেখানো আলোতেই আমরা পথে হাঁটছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমানবিক কেন্দ্রের মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। সার্বিক উন্নয়নে ব্যাপক কর্মকাণ্ড চলছে।

বক্তব্যের মধ্যে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন বেগম রওশন এরশাদ। সেটা ছিল ১৯৭৪ সালের শেষ দিকের। তিনি বলেন, এই মহামানবের সঙ্গে একই প্লেনে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে থাকা কর্নেল জামিল এসে আমাকে বলেন, ভাবি বঙ্গবন্ধু আপনাকে ডাকছেন। আমি বলি যাবো না? কর্নেল জামিল পুনরায় যেতে বললে, বঙ্গবন্ধুর কাছে গেলাম। বঙ্গবন্ধু তখন শুয়েছিলেন। আমাকে দেখে উঠে বসতে গেলে বললাম, আপনি উঠবেন না। শুয়ে থাকেন, আমি আপনার মাথার কাছে বসছি। তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলাম। তিনি আমার মা-বাবার কথা জিজ্ঞাসা করলেন। আমার স্বামীর কথা জিজ্ঞাসা করলেন। আমাকে প্রাণ ভরে আশীর্বাদ করলেন। সেদিন দেখা না হলেও অনেক কিছুই অজানা থাকতো।



বঙ্গবন্ধু নানান সাহসী বক্তব্য তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, আমি যদি কখনও পাকিস্তানের শাসনতন্ত্র প্রণয়নের সুযোগ পাই তাহলে সেই শাসনতন্ত্রে এই প্রদেশের নাম হবে বাংলাদেশ। সেই বাংলাদেশ আমরা পেয়েছি।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষের জন্য তার অনুভূতি ছিল অত্যন্ত গভীর। তার এই গভীর অনুভূতি দেখে আশ্চার্য হয়ে যেতাম। গরিব-দুঃখী মেহনতি মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য তিনি আজীবন লড়াই করেছেন।

বঙ্গবন্ধুকে হারানো কষ্টের কথা তুলে ধরে রওশন এরশাদ বলেন, বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যা না করলে তাহলে শতায়ু হতেন হয়তো। তাইতো কেবলই বিখ্যাত একটি গান মনে হয়, যদি রাত পোহালে শোনা যেত বঙ্গবন্ধু মরে নাই… আমরা পেতাম ফিরে জাতির পিতা, বিশ্ব পেতো এক মহান নেতা।



তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর কথা বলতে গেলে আমার কান্না চলে আসে। বঙ্গবন্ধুর আকাঙ্ক্ষা থেকে অনেক দূরে। তবে আশার কথা, তার যে রাজনৈতিক দর্শন তার প্রতিফলন দেখতে পাই আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যে। প্রধানমন্ত্রী দিনরাত প্রায় ২৪ ঘণ্টা কাজ করে যাচ্ছেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা তার সফলতা কামনা করি।

আরো পড়ুন: সাবেক ডেপুটি স্পিকার কর্নেল(অব.) শওকত আলীর মৃত্যুতে বিরোধীদলীয় নেতার শোক

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

Please enter your comment!
Please enter your name here