ধর্মপাশায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি,

মিঠু মিয়া, ধর্মপাশা প্রতিনিধি: ভারতের সীমান্তের ওপার থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে ও টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিপাতে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের প্রায় শতাধিক গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে।

পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ধর্মপাশা উপজেল প্রায় ৫০হাজার জনগোষ্টি। সেই সাথে প্লাবিত হয়েছে উপজেলার অর্ধশতাধিক স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বন্যার জন্য স্থগিত করা হয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়েে ২য় সাময়িক পরিক্ষা।

জানা যায়, সপ্তাহব্যাপী বৈরী আবহাওয়ায় ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে দফায় দফায় নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে ধনু নদী দিয়ে বিপদসীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। সেইসাথে স্থানীয় অন্যান্য নদী ও হাওরের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ধর্মপাশায় বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
শনিবার সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়,বিশেষ করে উপজেলার মধ্যনগর এলাকার নিম্নাঅঞ্চল চামরদানী ইউনিয়নের সাজদাপুর,কাহালা,দরাপপুর,নওগাঁ আবিদনগর । জয়শ্রী ইউনিয়নের বাদে হরিপুর,সানবাড়ি,শেখের গাঁও,চান পুর,দুর্গাপুর।সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিন ইউনিয়নে ঘুলুয়া,রাজাপুর,দৌলত পুর,মামুদ নগর সহ বিভিন্ন গ্রামের ঘর-বাড়ি-রাস্তাঘাট- হাটবাজার,স্কুল মাদ্রাসা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। অতি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে ব্যাপক ভাবে উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্তাা সর্বত্রই থমকে গেছে ।

বিভিন্ন স্থানের নিচু এলাকা তলিয়ে গেছে। তাই জনজীবনে নেমে এসেছে অস্তিরতা । অনাকাংখিত বন্যার কারণে নানা মূখী সমস্যার মধ্যে পড়েছে বন্যা কবলে সাধারণ মানুষ।একটানা সপ্তাহব্যাপী বৃষ্টিতে হাওর অঞ্চলের কেটে খাওয়া মানুষ পরিবার পরিজন নিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে দিনাপিত করছেন। বর্তমানে দিনে ও রাতের ভারী বর্ষণে এবং পাহাড়ি ঢলে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এভাবে পানি বৃদ্ধি পেলে ঘর বাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা হচ্ছে ।যাতাযাত রাস্তা প্লাবিত হওয়ার কারণে অনেকেই খাদ্য সংগ্রহ করতে পারছেনা এমনটাই জানালেন চামরদানী ইউনিয়নের সাজদাপুর গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল শিকদার ও শুসেন সরকার। বন্যা কবলিত এলাকায় দেখা দিয়েছে প্রাকৃতিক নানা ব্যাধি।হাটবাজারের সাথে যোগাযোগ বন্ধ থাকায় সাময়িক চিকিৎসা সেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে এলাকার মানুষেরা।সর্বপরি খদ্য সংকট,রোগব্যাধি,যোগাযোগে ব্যঘাত, গোটা চামরদানী সহ আশপাশের বিভিন্ন ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা। মানুষের পাশাপাশি গবাধি পষুদের পষু খাদ্যেও প্রভাব পড়েছে।সবমিলিয়ে জনজীবনে চরম আকার ধারণ করেছে। সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিন ইউনিয়নের ঘুলুয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. ইউনুছ আলী বলেন,বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের কষ্ঠ লাগব করার উদ্দেশ্যে এখনও পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসন ,এনজিও বা কোন সামাজিক সংগঠন বন্যা কবলিত এলকার মানুষের পাশে এগিয়ে আসেননি।
শনিবার উপজেলার সদর ইউনিয়নের কান্দা পাড়া বাজার ব্রীজ সংলগ্ন জায়গায় গিয়ে দেখা যায় সেখানে রাস্তার অনেক জায়গা ভেঙ্গে গেছে এবং রাস্তার উপরে প্রায় ২ ফুট উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হচ্ছে
মেউহারী সরকারি জুনিয়র উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক আব্দুল গণি জানান, গত কয়েকদিন ধরে বৃষ্টিপাতের কারণে স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি খুবই কম।
ধর্মপাশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শোয়েব আহম্মেদ জানান, যদি বৃষ্টি এভাবে চলতে থাকে তা হলে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রায় ৪৫০০হেক্টর চাষকৃত রুপা আমন জমি ও ২৮০ হেক্টর বীজতলা সহ বিভিন্ন প্রকার রবিশস্য এর জমি পাহাড়ী ঢলের পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশংখা দেখা দিবে।
পাউবোর উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার দাস জানান, লাগাতার বৃষ্টিপাত পাহাড়ি ঢল এবং ভারতের বরাক উপত্যকায় পানি বাড়ায় সুনামগঞ্জের সুরমা নদীসহ অন্যান্য নদীতে পানি আশংকাজনক ভাবে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪৭ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে চামরদানী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাকিরুল আজাদ মান্না বলেন,আমার নির্বাচনী এলাকার পানিবন্দি বন্যা কবলিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করে এসেছি। আমার এলাকা বন্য কবলিত মানুষ গুলোর জন্য উপজেলা প্রশাসন এগিয়ে আসার জন্য জোরদাবী জানাচ্ছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মামুন খন্দকার বলেন,আমি স্বস্ব এলাকার চেয়ারম্যানদের সাথে কথা বলে বন্যায় কবলিত এলাকার মানুষদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here