নকলায় এ্যাম্বুলেন্স চালক কর্তৃক ডাক্তার লাঞ্ছিত

হত্যার হুমকি: ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন

নকলায় এ্যাম্বুলেন্স চালক কর্তৃক ডাক্তার লাঞ্ছিত

শেরপুরের নকলায় রোগী পরিবহনের জন্য সরকার নির্ধারিত ফি জনসম্মুখে টানিয়ে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ রবিউল আকরামকে লাঞ্ছিত ও হত্যা করার হুমকী দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এ্যাম্বুলেন্স চালক হীরার বিরুদ্ধে। ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবনের ভেতরে ওই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।জানা যায়, নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এ্যাম্বুলেন্স চালক হীরা নকলা থেকে ময়মনসিংহ রোগী পরিবহন ভাড়া নির্ধারিত ফি ১১১০ টাকার পরিবর্তে রোগীদের কাছ থেকে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা আদায় করতেন।

বুধবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে সরকারিভাবে নকলা থেকে ময়মনসিংহ রোগী পরিবহন ভাড়া ১১১০ টাকা চার্ট টানিয়ে দেন ডাঃ রবিউল আকরাম। এতে ক্ষিপ্ত হয় এ্যাম্বুলেন্স চালক হীরা।এ বিষয় নিয়ে লাঞ্ছনার শিকার ডাঃ রবিউল আকরাম ফেসবুক মেসেঞ্জারের মাধ্যমে একটি মেসেজ দেন। যার হুবুহু তুলে ধরা হলো: “আমি ডাক্তার রবিউল আকরাম ভারপ্রাপ্ত ইউএইচএফপিও হিসেবে দায়িত্বরত অবস্থায় গত ২৮/১০/২০২০ তারিখে সরকারি অফিসিয়াল ডকুমেন্ট দেখে জনকল্যাণার্থে “নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পর্যন্ত অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া এগার শত দশ টাকা” শিরোনামে কিছু লিফলেট হাসপাতালের বিভিন্ন পয়েন্টে আমার নির্দেশনায় দেয়ালে লাগানো হয়। এরপর ২৮/১০/২০২০ রাত সাড়ে দশটার দিকে এম্বুলেন্স ড্রাইভার হীরা আমার মোবাইল ফোনে কল দেয় এবং আমার সাথে উচ্চবাচ্যসহ অকথ্য ভাষায় (২৮ বছর যাবৎ আমি চাকরি করতে করতে আমার বা…ল পেকে গেছে) কথাবার্তা বলতে থাকে।



পরদিন ২৯/১০/২০২০ তারিখ সকাল বেলা অফিসে আউটডোরে ড্রাইভার হীরা আমাকে পিছন থেকে ডাক দেয়, “এই দাঁড়ান। আমার সাথে আসেন। আপনার সাথে কথা আছে।” আমি বললাম, যা কিছু বলার এইখানেই বলেন। সে আবারো বলল, আপনি আমার সঙ্গে আসেন। আমি বললাম, ডাক্তারদের সবাইকে নিয়ে বসি তারপর আপনার যা কিছু বলার বলবেন। এ সময় সে প্রচন্ড মারমুখী এবং ক্ষিপ্ত ছিল। সে আমাকে লক্ষ্য করে বলতে থাকে, “বাইনচোদ ফাজিল ইত্যাদি। সে আমাকে লক্ষ্য করে বলতে থাকে, “তোরে মাইরা গাইরা ফেলবো (তোকে মেরে পুঁতে ফেলবো)”। এ সময় ড্রাইভার হিরার গলার কন্ঠ অত্যন্ত চড়া এবং উত্তেজিত ছিল। মুহূর্তের মধ্যেই ডাক্তার এবং অন্যান্য স্টাফরা আমার নিকট চলে আসে। বর্তমানে আমি আমার কর্মস্থলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।



এ্যাম্বুলেন্স চালক হীরা বলেন, আমি শুধু ডা: রবিউল স্যারকে বলেছি এই ১১১০ টাকার ভাড়ায় চলে না, আরো বেশি খরচ হয়। রাস্তায় অনেক আরো খরচ আছে। আমার সাথে পরামর্শ করে ভাড়াটা নির্ধারণ করা উচিৎ ছিল। আমি স্যারকে ডাক দিয়ে বলেছি কিন্তু কোন লাঞ্ছিত বা হত্যার হুমকী দেইনি।এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন ডাঃ একেএম আনওয়ারুর রউফ বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই ওই এ্যাম্বুলেন্স চালককে শোকজ করা হয়েছে। সেইসাথে ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সদ্য যোগদানকৃত ডাঃ মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফাকে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রত তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ওই চালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরো পড়ুন:.কাওরাইদ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র গোয়াল ঘরে পরিণত

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

Please enter your comment!
Please enter your name here