নতুন দিনের প্রেরণাদায়ী নেতা

0
163
শেখ হাসিনা

আজ ২৮ সেপ্টেম্বর আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার মানবতার বাতিঘর জাতির জনক তনয়া বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মাননীয় সভাপতি ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার ৭৪ তম জন্মদিন। এই পূর্ণ তিথিতে শুভ দিনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে জানাই শতকোটি বর্ণিল শুভেচ্ছা। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায় আমাদের অনন্ত প্রত্যাশা।

”প্রভাত সূর্য এসেছে রুদ্র সাজে
দু:খের পথে তোমার তুর্য বাজে
অরুণ বহ্নি জ্বালাও চিত্ত মাঝে
মৃত্যুর হোক লয়-তোমারই হোক জয়”



১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ার ছায়া সুনিবিড় পল্লীতে তিঁনি জন্ম গ্রহণ করেন। ছোট বেলায় নদীতে মাছ ধরা পুকুরে শালুক তোলা আর স্নিগ্ধ গৌরবে বিলে ফুটে থাকা শাপলা দেখে অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থেকেছেন। ছাত্র জীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয় থেকে সুনামের সঙ্গে ডিগ্রী অর্জন করেছেন। জননেত্রী শেখ হাসিনা রচিত স্মৃতির দখিনা দুয়ার বইতে তিনি লিখেছেন “দুমুঠো অন্নের আকাঙ্খায় যে কৃষক উদয়াস্ত পরিশ্রম করে চৈত্রের রোদে পুড়ে রুক্ষ ক্ষেতে লাঙ্গল টানে বর্ষায় বুক সমান পানিতে ডুব দিয়ে পাট কাটে তাঁর জীবন সংগ্রাম কি অন্য যে কোন সংগ্রামের চেয়ে কম মূল্যবান? দু:খী দরিদ্র লাঞ্ছিত বঞ্চিত মানুষের ভাগ্যন্নোয়নের জন্য গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক মুক্তির লড়াইয়ের পাশাপাশি লেখালেখির মাধ্যমেও তাঁর চিন্তা-চেতনার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন।

পৈশাচিক পচাঁত্তরের পনের আগষ্ট বত্রিশ নম্বর বাড়িটিতে সারি সারি লাশ। বাংলার সবচেয়ে পবিত্র শিশু শেখ রাসেলের ছিন্নভিন্ন দেহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সর্বত্র। বঙ্গঁমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের গুলিবিদ্ধ গ্রীবা। শেখ কামাল শেখ জামাল তাঁদের নব-পরিণীতা স্ত্রী শেখ আবু নাসেরের লাশের রক্তগঙ্গাঁ। জাতির জনকের বুলেটে ঝাঝরা ক্ষত-বিক্ষত শরীর। দোতলার সিঁড়ি বেয়ে গড়াতে গড়াতে নীচে এসে থেমেছে। টকটকে তাজা রক্ত স্রোত যেন গড়িয়ে পড়ছে আজও। পিতা-মাতা ভাই হারানোর এত শোক কিভাবে সইছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা।



আকাশসম দেশপ্রেম পিতার স্বপ্নই জীবনের লক্ষ্য জয়ধ্বনী চোখে তাঁর উদ্ভাসিত প্রত্যয়ের দিগন্ত সরণী। ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্রের উদ্যত খড়গ মুখে নির্ভীকভাবে নিরন্তর তাঁর পথ চলা। তিঁনি কোন চ্যালেঞ্জের মুখে কখনো পিছপা হননি। অতি দু:সময়েও তাঁর শির উর্ধে তুলে রেখেছেন। আমরা তাঁর দিকে তাকিয়ে থাকি এজন্য যে তিনি সেই শক্তির অধিকারী যিনি কখনো আশাহত হন না। আশা এবং আলোর অভিযাত্রী তিঁনি।

জননেত্রী শেখ হাসিনা তাঁর রচনা সমগ্র-১ এ লিখেছেন- “দেখেছি পূর্ণিমার রাত। বালুকা বেলায় জোছনাভরা রাতে পূর্ণ জোয়ার সাগরের। শুনেছি দুরন্ত গর্জন। পূর্ণিমা রাতে যখন ভরা জোয়ার সগর তখন কানায় কানায় ভরা। সাগর পাড়ে বসে দেখেছি সে অপরূপ রূপ । দুচোখ ভরে দেখেছি আর মুগ্ধ হয়েছি। এত সুন্দর!

সকল বাধা অতিক্রম করে ১৯৮১ সালের ১৭মে তিঁনি তাঁর প্রাণের স্বদেশের মাটিতে পা রাখলেন। চারিদিকে শূন্যতা। ধানমন্ডি বত্রিশ নম্বর বাড়িতে ঢুকতে সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান বাধা দেন। আত্মীয়দের বাড়িতে থেকেছেন। তখন টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত অবৈধ সামরিক সরকারের শোষণ থেকে বাঁচবার দুর্বার আকাঙ্খার অবিরাম প্রহর গুনেছে লক্ষ জনতা। পিতার স্বদেশকে রক্ষার জন্য তাঁর শোকের শাড়ির আচল বেদনার সমুদ্রে ভিজে যায়। অশ্রু হয় বরফগলা নদী। শোক হয় সংকল্প। সংকল্প হয় আগুন। নেতৃত্ব দেন গণ-সংগ্রামের । মহা সমুদ্র জনতার ঢেউ নামে। লাখো লাখো জনতা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কাল বৈশাখীর বেগে বিদ্যুতের ফলার মতো রাজপথ আলোকিত করে স্বৈরশাসকের পতন নিশ্চিত করে। উনিশবার তাঁকে হত্যা করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। পিতা-মাতা, ভাইয়ের মতো তাঁকেও হত্যা করা হবে এই প্রচেষ্টা এবং ষড়যন্ত্র অব্যাহত আছে। ২০০৪ সালের একুশে আগষ্ট তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার এর রাষ্ট্রীয় মদদে গ্রেনেড মেরে তাঁকে হত্যার মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে। মহান স্রষ্টা নিজ হাতে বঙ্গবন্ধু কন্যাকে রক্ষা করেন।



২০০৯ সালের পঁচিশ জানুয়ারী জননেত্রী শেখ হাসিনা দ্বিতীয় বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন। বিএনপি-জামায়াতের দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ সন্ত্রাসের লেলিহান শিখায় পুড়ে যাওয়া বাংলাদেশকে তিনি নব সৃষ্টির কেতন উড়ান। নাগিনীর নির্মম ছোবল হাসি মুখে তিনি নীল কন্ঠের মতো সয়ে যান। দেশ ও জাতির কল্যানে কীর্তির অনির্বান মশাল আর ত্যাগের সুরধ্বনী হাতে নিয়ে আপন প্রতিভা ও ব্যক্তিত্বের মাহাত্মে নব দিগন্তের সূচনা করে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হয়েছেন। দেশকে করেছেন গৌরবান্বিত।
আমাদের প্রিয় স্বাধীনতা ক্র্যাচে ভর করা সূর্য সৈনিক ক্ষত-বিক্ষত সংবিধান তৃষ্ণার্ত পতাকা মানবিক নেতা শেখ হাসিনার নামেই বিশ্বাস খুঁজে পায়। তাঁর জ্যোর্তিময় দুটি চোখ মমতায় ভরা মুখ ইস্পাত দৃঢ় মনোবল অনাবিল স্নিগ্ধ হাসি আমাদের মূল্যবোধের প্রতীক। তিঁনি বাংলাদেশকে বদলে দিয়েছেন। আজকের বাংলাদেশ এক যুগ পূর্বের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বাংলাদেশ। এদেশের মানুষ আজ অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। যে কোন অসাধ্য সাধনে অনেক বেশি আত্মপ্রত্যয়ী সংকল্পবদ্ধ । এর নেপথ্য কারিগর জননেত্রী শেখ হাসিনা। তিঁনি জনগণকে উদ্বুদ্ধ করেছেন দেশের কল্যানে নতুন কিছু করতে। তিঁনি চান প্রত্যকে তাঁর মতন পরিবর্তনের নিয়ামক হয়ে উঠুক। তাঁর গভীর প্রত্যাশা প্রতিটি মানুষ স্বদেশ বাসীর প্রতি দরদ ও সমবেদনার মূল্যবোধ পরিশীলন করুক। আপন ইতিহাস ঐতিহ্যের অনুসন্ধিৎসু আগামী প্রজন্ম মানবিক ঐশ্বর্যের আলোয় উদ্ভাসিত হোক। সত্যের সংগ্রামে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করবার সুমহান ব্রতকে ধারণ করুক।

জাতির জনকের কণ্যা শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে ইংরেজ সমালোচক ও লেখক জর্জ ওয়াশিংটন কারভারের একটি উক্তি উল্লেখ্য- “ Where there is no vision, there is no hope”. তিনি দেশবাসীকে স্বপ্ন দেখিয়েছেন এবং নিয়ে গেছেন বাস্তবতায়।
১৯৬৩ সালের ২৮ আগষ্ট জনতার উত্তরঙ্গঁ স্রোতে দাঁড়িয়ে মার্টিন লুথার কিং বলেছিলেন- “ I have a dream, that one day on the red hill of georgia, the son of former slaves and the son of former slave owners will be able to sit together at the table of brotherhood.



ঠিত তেমনি বিশ্ব শান্তির অগ্রদূত মনবতার বাতিঘর মানীয় প্রধানমন্ত্রী এই জাতিকে নতুন স্বপ্নে উজ্জীবিত করে বলেন- “ We have a national dream. We want to see an ideal important attractive glorious dynamic tecnological literate city in Bangladesh.

তিনি দেশবাসীকে বলেছেন, বিশ্বাস আর হতাশার পর্বত থেকে আমরা সৃষ্টি করবো আশার প্রস্তর। বেসুরে কোলাহল থেকে জন্ম দেব মানবতার বন্ধনের সুন্দরতম সঙ্গীতের। সমস্বরে গেয়ে উঠবো “ আমার সোনার বংলা আমি তোমায় ভালবাসি”।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু রক্ত দিয়ে জীবন দিয়ে উর্বর করেছেন স্বাধীন বাংলার মাটি। তাঁরই কন্যার হাতে সেখানে উৎকর্ষিত হচ্ছে সোনার বাংলার নতুন দিনের আধুনিক মানুষ । পিতার স্বপ্ন পূরণে তিঁনিই উন্নত সমৃদ্ধ কাঙ্খিত গন্তব্যে পৌঁছে দেবেন বাংলাদেশকে।

প্রাণের নেত্রীর শুভ জন্মদিনে আবারও অযুত শুভেচ্ছা। পরম স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা তিঁনি দীর্ঘায়ু হোন।

লেখক পরিচিতি: অধ্যাপক অপু উকিল- সম্পাদক ও প্রকাশক পানকৌড়ি নিউজ

আরো পড়ুন>> অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীদের শোক

আপনার মতামত লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here