13.7 C
New York
মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২১

নাগরপুরে করোনাকালীন সময়ে বিপাকে আছে নৌকা তৈরির মিস্ত্রিরা

মোঃ আশরাফুল হক বাবু নাগরপুর টাংগাইল প্রতিনিধি

বিজ্ঞাপন

নাগরপুরে বর্ষা মৌসুমে নৌকার কদর রয়েছে সবার কাছে। পুরো বর্ষা মৌসুমে প্রত্যন্ত এলাকায় চলাচল ও জীবিকার প্রয়োজনে এবং পণ্য পরিবহনের অন্যতম বাহন হিসেবে এখনো নৌকার ব্যবহার অনেক জনপ্রিয়। একসময় নৌকা তৈরি ও বিক্রি করে আর্থিক সচ্ছলতা পেলেও বর্তমানে করোনাকালীন সময়ে বিপাকে আছে এলাকার মিস্ত্রি পরিবারগুলো।

বিজ্ঞাপন

উপজেলার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবন জীবিকার প্রয়োজনে নিবিড় ভাবে নিজেদের জড়িত রেখেছেন মৎস্য শিকার ও বিক্রির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ সংসার চালানোর কাজে তাদের প্রধান চালিকাশক্তি নৌকা। জুন থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত মৎস্য শিকারে তাদের জীবনের জন্য নৌকার উপর নির্ভরশীল থাকেন। এ সময় তারা নৌকায় করে জাল পাতা, মাছ ধরার ফাঁদ অথবা বর্ষণে মৎস্য শিকার করে বাজারে বিক্রি করেন। অনেকে আবার নৌকায় শাপলা তোলে তা বাজারে বিক্রির মাধ্যমে সংসার চালাচ্ছেন।

তাই বর্ষা মৌসুম এলেই বেড়ে যায় নৌকার কদর। এ দিকে বর্ষা মৌসুমে ফসলের জমিতে কাজ না থাকায় এবং বাড়তি ঘর নির্মাণ করায় কাঠমিস্ত্রিরা এ সময় তাদের নিজেদের বাড়িতে ও রাস্তার পাশে অস্থায়ী ছাপড়া দিয়ে তৈরি করে বিভিন্ন ডিজাইনের নৌকা। বর্ষা মৌসুমের শুরুর আগেই কাঠমিস্ত্রিরা গ্রামে গ্রামে ঘুড়ে নৌকা নির্মাণের জন্য গাছ কিনে, চিরাই করে বাড়িতে তৈরি করে বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রির মাধ্যমে সংসারের ব্যয় নির্বাহ করে আসছেন। অনেকেই এই সময় নৌকা নির্মাণ ও বিক্রির মাধ্যমে আয় করে থাকেন। এভাবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সহ¯্রাধিক মিস্ত্রি পরিবার বাড়িতে বসে নৌকা তৈরি ও বিক্রি করে বাড়তি আয়ের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে জীবিকা নির্বাহ করছেন। বাড়িতে মিস্ত্রিদের নৌকা নির্মাণের কাজে সহায়তা করেন তাদের স্ত্রী ও সন্তান, কাঠমিস্ত্রিরা নিজেদের বাড়িতে বা রাস্তার পাশে টিনের ছাপড়া দিয়ে কয়েকজন মিস্ত্রিরা বাণিজ্যিকভাবে নৌকা তৈরি করে তারা হাট-বাজারে বিক্রি করে সংসারের বাড়তি আয় করছেন।

বিজ্ঞাপন

উপজেলার দক্ষিন নাগরপুর গ্রামের সিদ্দিক হোসেন কাঠমিস্ত্রি জানান বর্ষা মৌসুমে তেমন কোন কাজ না থাকায় নৌকা তৈরি করে তা বিক্রি করা হয়। তার তত্তাবধানে চারজন মিস্ত্রি রয়েছে। লকডাউনে এবছর বেচাকেনা অনেক কম তাছাড়া মোবাইল কোর্টের আতঙ্কে থাকেন তারা। বিভিন্ন সাইজের নৌকা নির্মাণ করছেন তারা, প্রতিটি নৌকা বিক্রি করেন ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা। একটি নৌকা নির্মাণে ২ হাজার ৪শত থেকে ২ হাজার ৫শত টাকা পর্যন্ত খরচ পরে। আকার ভেদে নৌকার দাম কম বেশি হয় তবে বর্ষা মৌসুমে এক একজনে ব্যবহার এর জন্য কমদামের নৌকা অনেক বেশি পছন্দ।

আরও পড়ুন: গৌরীপুরে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ সংবাদ

বিজ্ঞাপন
x