13.7 C
New York
বৃহস্পতিবার, আগস্ট ৫, ২০২১

পদ্মার বুকে স্বপ্নের পুরো সেতু দৃশ্যমান!!

স্টাফ রির্পোটারঃ

বিজ্ঞাপন

পদ্মা সেতুর মূল অবকাঠামো নির্মাণের ৫ বছর পূর্তির দুই দিন আগে খুঁটির ওপর বসল সর্বশেষ ৪১তম স্প্যান। বহুল কাঙ্ক্ষিত এই স্প্যান বসার মধ্য দিয়ে সেতুর মূল অবকাঠামো শতভাগ দৃশ্যমান হলো। বাস্তবে ধরা দিল দীর্ঘদিনের এক স্বপ্ন।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মাওয়া প্রান্তে ১২ ও ১৩ নম্বর খুঁটির ওপর সর্বশেষ ৪১তম স্প্যানটি বসানোর কাজ শুরু হয়। দুপুর ১২টার দিকে শেষ হয় কাজ। এই দৃশ্য প্রচার করা হয় টেলিভিশন, অনলাইন সংবাদ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে। ঐতিহাসিক এই মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছে বাংলাদেশ, পুরো বিশ্ব।

১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের এ স্প্যানটি স্থাপিত হওয়ার মধ্য দিয়ে মিলিত হলো প্রমত্ত পদ্মার দুই তীর। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২৯ জেলার সঙ্গে সারাদেশের সরাসরি সংযোগ স্থাপিত হওয়ার পথও এখন উন্মুক্ত হওয়ার পথে। আগামী বছরে অর্থাৎ আর ১০ থেকে ১১ মাসের মধ্যেই এই সেতু যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলে সম্প্রতি জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বিজ্ঞাপন



মূল সেতুর প্রকল্প ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আবদুল কাদের জানান, দুপুর ১২টা ২ মিনিটে ৪১তম স্প্যানের জোড়া লাগানোর মাধ্যমে পদ্মার দুই পাড় যুক্ত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে বাংলাদেশ ও চীনের পতাকায় সজ্জিত স্প্যানটি কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডের স্টক জেটি থেকে ক্রেনবাহী জাহাজ ‘তিয়ান-ই’তে করে নেওয়া হয় দুই পিলারের কাছে।

২০০১ সালের ৪ জুলাই পদ্মা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর প্রায় সাত বছর কাজ এগোয়নি। স্থান নির্ধারণের পর অর্থায়ন জটিলতায় যায় আরও পাঁচ বছর। কথিত দুর্নীতির অভিযোগে বিশ্বব্যাংক সরে যাওয়ার পর নিজস্ব অর্থায়নে ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর সেতু অবকাঠামো নির্মাণ শুরু হয়।



ঠিক পাঁচ বছর পর সবক’টি স্প্যান বসানোর মাধ্যমে ছয় দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু পুরোপুরি দৃশ্যমান হলো। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর প্রথম স্প্যান বসেছিল। সেবার বড় আয়োজন থাকলেও করোনার কারণে শেষ স্প্যান বসানোর কোনো আনুষ্ঠানিকতা নেই। শুধু সেতুর কর্মীরা রয়েছেন।

৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকার দ্বিতল পদ্মা সেতুর ওপরের ডেকে চলবে গাড়ি, নিচের ডেকে ট্রেন। ২০১৮ সালের নভেম্বরে কাজ শেষ হওয়ার লক্ষ্য থাকলেও নানা প্রতিবন্ধকতায় তা হয়নি। দুই দফা সময় বেড়েছে। নতুন লক্ষ্য আগামী জুনে কাজ শেষ করা। কিন্তু করোনা ও বন্যার কারণে তা হচ্ছে না। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন ২০২২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সময় চেয়েছে। তবে সেতু কর্তৃপক্ষ আশাবাদী ২০২১ সালের ডিসেম্বরে কাজ শেষ হবে।

আরও পড়ুনঃ মোহনগঞ্জে জয়িতা নারী পদক পেলেন আশামনি

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

Please enter your comment!
Please enter your name here

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ সংবাদ

x