13.7 C
New York
বুধবার, অক্টোবর ২৭, ২০২১

পানির অপর নাম জীবন তবে তা হতে হবে বিশুদ্ধ পানি!

মোঃ শহীদুল ইসলাম রানা,বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি।

বিজ্ঞাপন

“পানির অপর নাম জীবন”বান্দরবানে বিশুদ্ধ পানি উৎপাদন ও বিপণনকারী ৩ টি প্রতিষ্ঠানের কোনটিরি অনুমোদন নেই, বিএসটিআই এর অনুমোদনহীন ভাবেই বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে এ ব্যাবসা।

বিজ্ঞাপন

আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কোনো অনুমোদন ছাড়াই খাবার পানির ব্যবসা করছে এসব প্রতিষ্ঠান।

অনুমোদনহীন এসব প্রতিষ্ঠানের পানি ব্যাবহার হচ্ছে বিভিন্ন হোটেল মোটেল ও রেস্টুরেন্ট ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি অফিস সহ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অফিস আদালতে।

বিজ্ঞাপন

অনুমোদোন হীন পানি বাজারজাত করে অসাধু ব্যাবসায়িরা জনসাধারণের জন্য বয়ে আনছেন স্বাস্থ্যঝুঁকি।

পানির ব্যাবসা লাভজনক হওয়ায় পার্বত্য বান্দরবানে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি পানি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান।সরজমিনে দেখাগেছে এ সকল প্রতিষ্ঠানের নেই নিজস্ব কোন পরিক্ষাগার,পানি বিশুদ্ধ করনের সংয়ংক্রিয় বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম,নেই নিজস্ব কেমিস্ট,কয়েকজন অনভিজ্ঞ কর্মি দিয়েই তারা এ ব্যাবসা করে যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বিএসটিআই সূত্রমতে, আইএসও গাইড-৬৫ অনুযায়ী প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে পানি ভর্তি ও জার পরিষ্কারের জন্য স্বয়ংক্রিয় মেশিন থাকতে হবে। সার্বক্ষণিক কেমিস্ট অথবা মাইক্রোবায়োলজিস্ট নিয়োগ করতে হবে। শীততাপ নিয়ন্ত্রিত কারখানায় পরীক্ষাগার স্থাপন ও প্রতিদিনই কারখানার শ্রমিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকতে হবে।

এছাড়া বিএসটিআই অফিসে হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স,স্থাপিত কারখানার পরিবেশগত ছাড় পত্র,আয়কর প্রত্যয়নপত্র, কারখানার লে-আউট, প্রসেস ফ্লো-চার্ট, কারখানায় স্থাপিত সব ধরনের যন্ত্রপাতির তালিকা, কর্মরত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর পূর্ণাঙ্গ জীবনবৃত্তান্ত, প্রিমিসেস সনদ, বিডিএস ও মোড়কজাতকরণ বিধিমালা অনুযায়ী মুদ্রিত লেবেল জমা দেয়ার কথা থাকলেও এ নিয়ম-নীতির কোনো তোয়াক্কাই করছে না অসাধু এসব ব্যবসায়ীরা।

ফলে বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান বিশুদ্ধ না ভেজাল পানি সরবরাহ করছে তা নির্ণয় করাও সম্ভব হচ্ছে না সাধারণ গ্রাহকদের।ভেজাল নির্ণয় না করেই বিশুদ্ধ খাবার পানির চটকদার স্টিকার মেরে তা প্রতিদিনই ভোক্তাদের নিকট তুলে দিচ্ছে বিশুদ্ধ পানির নামে ভেজাল পানি। ৩ টি প্রতিষ্ঠাণের মধ্যে ১ টি প্রতিষ্ঠানে এর কিছু নিয়ম মানা হলেও মান নিয়ন্ত্রন ব্যাবস্থা বজায় রাখার জন্য কোন প্রতিষ্ঠানেই নেই নিজস্ব কেমিস্ট ।

বিএসটিআই চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পার্বত্য জেলা বান্দরবানে বি.এম ড্রিংকিং ওয়াটার বর্তমানে মেঘ ড্রিংকিং ওয়াটার,শৈমেপ্রু বিশুদ্ধ পানি বিপনন,স্বপ্ন ড্রিংকিং ওয়াটার এই ৩টি প্রতিষ্ঠান বিশুদ্ধ পানি বিক্রয় ও বিপণন করছে বান্দরবান জেলা সদর সহ আশেপাশের উপজেলা গুলোতে।

৩টি প্রতিষ্ঠানের কোনটিরই লাইসেন্স হাল নাগাদ নেই, বিএসটিআইর অনুমোদন নেই। এই ৩টি প্রতিষ্ঠান যথাযথ বিজ্ঞানসম্মত যাচাই-বাছাই ও বৈধ কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধান ছাড়া বিশুদ্ধ পানির নামে নগরীতে প্রতিদিন হাজার হাজার লিটার পানি বিক্রি করছে।

ফলে বিশুদ্ধ পানির নামে সাধারণ পানি অথবা জীবাণুযুক্ত পানি পানে সাধারণ লোকজনের জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে।

প্রতিদিনি জেলা সদরের বাসা-বাড়ি, হোটেল-রেস্তোরাঁ এমনকি সরকারি দপ্তরেও প্লাস্টিকের জারে করে বিক্রি করা হচ্ছে মান পরীক্ষা বিহীন খাবার পানি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিপণনকারী সকল প্রতিষ্ঠানের বিশুদ্ধ খাবার পানি বিক্রয় ও বিপণনের লাইসেন্স থাকলেও বেশিরভাগের মেয়াদ শেষ হয়েছে ৬ থেকে ৭ মাস আগে বা তারো আগে।

নিয়ম অনুযায়ী লাইসেন্স নবায়নের কথা থাকলেও এসব প্রতিষ্ঠান এখনো লাইসেন্স নবায়নের আবেদন পর্যন্ত করেনি।

আর যারা আবেদন করেছেন বিএসটিআইর শর্ত পূরণ না হওয়ায় তাদের লাইসেন্স নবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। নিয়ম অনুযায়ী কেমিস্ট না থাকলে এবং মাননিয়ন্ত্রন ব্যাবস্থা সচ্ছ না হলে বিএসটিআই কোনো প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নবায়ন করে না।

এতো অনিয়মের মধ্যেই বিশুদ্ধ পানির নামে বিক্রি করা হচ্ছে ভেজাল ও নিম্নমানের পানি। ফলে মানব স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে গুণগত মান সনদ (সিএম লাইসেন্স) ব্যবস্থা কার্যকর হচ্ছে না এই পার্ব্যত্য জনপদে।

এ বিষয়ে বান্দরবান সিভিল সার্জেন ডাঃ অংসুই প্রু বলেন খাবার পানি ভেজাল হলে তো আর রক্ষা নেই। ডায়রিয়া, পানিবাহিত রোগের পাশাপাশি কিডনি ও লিভার আক্রান্ত হতে পাওে,তাছাড়া হেপাটাইটিস এ এবং ই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

এজন্যে খাবার পানি হতে হবে একেবারেই বিশুদ্ধ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পার্বত্য বান্দরবান জেলায় প্রতিদিন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন ২১ জন মানুষ।বান্দরবান সিভিল সার্জেন এর পরিসংক্ষান বিভাগের প্রাথমিক সমিক্ষায় দেখা গেছে চলতি বছরের জানুয়ারী ২১ থেকে সেপ্টেম্বর ২১ পর্যন্ত পানি বাহিত রোগে আক্রান্ত রুগির সংখ্যা ৩০২০ জন।গত ১ মাসেই পানি বাহিত রুগীর সংখ্যা ছিলো ১২৭৪ জন।

বান্দরবানে বিশুদ্ধ খাবার পানি বিক্রয় ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান গুলো সম্পর্কে চট্টগ্রাম বিএসটিআই এর সহকারী পরিচালক (সি.এম) প্রকৌশলী শশি কান্ত দাশ বলেন আমরা প্রায় সময় এ ধরণের অভিযোগ পেয়ে থাকি,তবে কোন প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ঠ কোন অভিযোগ পেলে আমরা অবশ্যই এর বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা গ্রহণ করবো।

এদিকে বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আব্দুস সালাম (জুনিয়র কেমিস্ট) প্রতিবেদক কে জানান আমরা এ পর্যন্ত কোন ড্রিংকিং ওয়াটার প্লান্ট ব্যাবসা পরিচালনার জন্য পরিবেশগত ছাড় পত্রের আবেদন পাই নি।নিয়ম অনুযায়ি কারখানা স্থাপনের আগে অবশ্যই পরিবেশগত ছাড়পত্র সংগ্রহ করতে হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন এভাবে যদি নিয়মের তোয়াক্কা না করে অস্বাস্থ্যকর ভাবে খাবার পানি সংগ্রহ ও বিপনন কারী প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে এতে ব্যাবসায়িক সার্থ উদ্ধার হলেও সাধারণ মানুষের নাগরীক অধিকার ও স্বাস্থ্যগত অধিকার লঙ্ঘিত হবে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও স্বাস্থ্য বিভাগের দ্রুত ব্যাবস্থা গ্রহণ কার উচিত বলে মনে করেন অনেকেই।

আরও পড়ুনঃ ময়মনসিংহে অপরাধ নির্মুলে শিক্ষার্থীদের সহযোগীতা চাইলেন ওসি কামাল।।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ সংবাদ

বিজ্ঞাপন
x