13.7 C
New York
শনিবার, মে ৮, ২০২১

বাংলা টিভির আশুলিয়া প্রতিনিধির বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

বিজ্ঞাপন

একজন সাংবাদিককে বলা হয় সমাজের আয়না। আর সেই আয়নাই যখন অপরিষ্কার দেখায় তাহলে সমাজের কুৎসিত অসংগতির চিত্র তুলে আনবে কে? রাজধানীর শিল্প এলাকা আশুলিয়ায় কর্মরত সাংবাদিক আলমগীর হোসেন নীরব। সাংবাদিকতায় বাংলা টিভিতে আসার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ সাধারণ মানুষের কাছে।

বিজ্ঞাপন

অনুরূপভাবে, তার বিরুদ্ধে গত ১৩ জুলাই ২০২০ ইং আশুলিয়া থানায় একটা অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। যেখোনে আশুলিয়ায় পত্রিকা এজেন্টের অফিসে হামলা ও প্রায় ৫০ হাজার টাকা লুটপাটের ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে।

এ সময়ে মোঃ খোরশেদ আলম নামের এক সাংবাদিক আহত হয়েছে। এঘটনায় এজেন্টের ম্যানেজার মোঃ নেছার উদ্দিন খাঁন বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকার করিম সুপার মার্কেটে পত্রিকার এজেন্ট অফিসে এ হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত খন্দকার আলমগীর হোসেন নীরব আশুলিয়ার গাজীরচট এলাকার মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে। সে বেসরকারি টেলিভিশন বাংলাটিভি’র আশুলিয়া প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো ভোর ৬টার দিকে নিজ পত্রিকা এজেন্ট অফিসে পত্রিকা বিক্রি শেষে শাটারে ভুলে তালা না লাগিয়েই চলে যান ব্যবসায়ী নেছার খান ও তার কর্মচারীরা। পরে সকাল সাড়ে ১১টার হঠাৎ বিষয়টি মনে হলে অফিসে এসে আলমগীর হোসেন নীরবসহ অজ্ঞাত ৭-৮জনকে অফিসে ঢুকে তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি ওলট-পালট করতে দেখেন। এতে ব্যবসায়ী নেছার উদ্দিন খান ও তার সহকর্মী খোরশেদ আলম বাঁধা দিলে তাদেরকে কিছু না বুঝে ওঠার আগেই অশ্লীল গালিগালাজ করা হয়। প্রতিবাদ করলে আলমগীর হোসেন নীরব, ফরহাদ, বিপ্লব, আলতাফসহ বেশ ক’জন তাদের এলোপাথারি মারতে থাকে। এসময় নীরব এজেন্ট অফিসের ক্যাশে থাকা প্রায় ৫০ হাজার টাকা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

এছাড়াও আশুলিয়ায় পিকআপ ভ্যানের এক চালককে ডেকে নিয়ে জামায়াত-শিবিরের নেতা বলে মিথ্যা আখ্যা ও হুমকি দিয়ে ফায়দা হাসিলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্ত আলমগীর হোসেন নীরবের বিরুদ্ধে। এঘটনায় তার বিরুদ্ধে থানায় জিডি করেছেন ভুক্তভোগী।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে আশুলিয়া থানায় ওই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে জিডি করেন অসহায় ভুক্তভোগী পরিবহন শ্রমিক শফিকুল ইসলাম।
ইতোপূর্বেও অভিযুক্ত আলমগীর হোসেন নীরবের বিরুদ্ধে সাংবাদিকতাকে পুঁজি করে অবৈধ এমএলএম প্রতারণা ব্যবসা পরিচালনা, চাঁদাবাজি, নারী কেলেঙ্কারী, মারধরসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবহন শ্রমিক শফিকুল ইসলাম জানান, গত ১৩ জুলাই সকালে আশুলিয়ার বাইপাইলে করিম সুপার মার্কেটে তাকে ফোন করে ডেকে আনেন সাংবাদিক নীরব। এসময় তাকে জামায়াত-শিবিরের নেতা আখ্যা দিয়ে বোম তৈরি ও মোটরসাইকেল চুরির অপবাদ দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন ওই সাংবাদিক। এমনকি তাকে শারিরীক নির্যাতনের ভয়ও দেখায় সে। এসময় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবী করে তার পরিবার ও পরিচিত পুলিশ সদস্যদের সাথে কথা বলার অনুরোধ জানালেও রাজি হয়নি সে। উল্টো ওই সাংবাদিকের অপর সঙ্গীরা তার এলোপাতাড়ি ছবি তুলে তাকে আতঙ্কে ফেলে দেয়।
তিনি আরো বলেন, এঘটনার পর ভীতসন্ত্রস্থ হয়ে গতকাল রাতে তিনি ও তার পরিবারের লোকজন ঘুমাতে পারেননি। এমনকি নবীর সুন্নত তার রাখা দাড়িও কেটে ফেলতে বলছে পরিবারের সদস্যরা। এমতাবস্থায় করোনাকালীন এই মহামারির মধ্যে চরম অসহায়ত্ব ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এব্যাপারে অভিযুক্ত আলমগীর হোসেন নীরবের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হারুন-অর রশিদ জানান, বিষয়টি তিনি থানায় দায়েরকৃত জিডির মাধ্যমে অবগত হয়েছেন। পরবর্তীতে তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

Please enter your comment!
Please enter your name here

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ সংবাদ

x