1. durjoybangla24@gmail.com : durjoy bangla : durjoy bangla
  2. afzalhossain.bokshi13@gmail.com : Afjal Sharif : Afjal Sharif
  3. aponsordar122@gmail.com : Apon Sordar : Apon Sordar
  4. awal.thakurgaon2020@gmail.com : abdul awal : abdul awal
  5. sheblikhan56@gmail.com : Shebli Shadik Khan : Shebli Shadik Khan
  6. jahangirfa@yahoo.om : Jahangir Alam : Jahangir Alam
  7. mitudailybijoy2017@gmail.com : শারমীন সুলতানা মিতু : শারমীন সুলতানা মিতু
  8. nasimsarder84@gmail.com : Nasim Ahmed Riyad : Nasim Ahmed Riyad
  9. netfa1999@gmail.com : faruk ahemed : faruk ahemed
  10. mdsayedhossain5@gmail.com : Md Sayed Hossain : Md Sayed Hossain
  11. absrone702@gmail.com : abs rone : abs rone
  12. sumonpatwary2050@gmail.com : saiful : Saiful Islan
  13. animashd20@gmail.com : Animas Das : Animas Das
  14. Shorifsalehinbd24@gmail.com : Shorif salehin : Shorif salehin
  15. sbskendua@gmail.com : Samorendra Bishow Sorma : Samorendra Bishow Sorma
  16. swapan.das656@gmail.com : Swapan Des : Swapan Des
বাউল সাধক আবেদ আলী ও তাঁর গান - durjoy bangla | দুর্জয় বাংলা
শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২০, ১২:০০ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ




বাউল সাধক আবেদ আলী ও তাঁর গান

দুর্জয় বাংলা ডেস্কঃ
  • বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২০, ৮:২৪ অপরাহ্ণ
  • ৩১৩ বার পঠিত
বাউল সাধক আবেদ আলী ও তাঁর গান

রাখাল বিশ্বাস:
নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার গন্ডা ইউনিয়নের ছায়াঘন নিভৃত পল্লীর একটি গ্রাম বৈশ্যপাট্টা। এ গ্রামটির নিকটবর্তী ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ীর জমিদারদের বংশীয় নামে প্রতিষ্ঠিত রায়ের বাজার। জমিদার প্রমোদ চন্দ্র রায় চৌধুরীর সুনজরে প্রসিদ্ধ রায়ের হাটের গৌরবে গৌরান্বিত হয় এলাকাটি। জমিদারীপ্রথা বিলুপ্তিরপর রাজবাড়ীটি পবিত্যাক্ত হলেও এলাকার চতুরদিকের গ্রামগুলোর প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠে এই বর্তমান রায়ের বাজারটি। এই বাজারটির অতি নিকটবর্তী হওয়ায় বৈশ্যপাট্টা গ্রামের মানুষদের জীবনও অনেকটা আবর্তিত হয় এই বাজারকে কেন্দ্র করেই। একে তো এলাকাটি কৃষি নির্ভর অন্যদিকে ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসিদ্ধ মোকাম এই দুয়ে মিলে এলাকার মানুষের কর্মব্যস্ত জীবন। এতে কৃষিপণ্য উৎপাদন এবং রপ্তানী এই এলাকার মানুষের প্রধান কাজ।
বৃহত্তম কৃষক জনগোষ্ঠীর বিনোদনের সুযোগ ছিল খুবই কম। ফলে সে সময়কার কৃষিকর্মজীবি মানুষ কর্মের ফাকে অবস্বাদ দূর করতে হাওরের লোকেরা নিজেরাই মুখে-মুখে না না রকম গান, পুঁথি, কিচ্ছাপালা ইত্যাদি তৈরী করে নেচে গেয়ে আনন্দ উপভোগ করতেন। এহেন সময়টিতে বৈশ্যপাট্টা গ্রামের সম্পন্ন কৃষক জৈমত আলী ও কদরজান বিবি (আদরির মা) এর ঘর আলো করে ১৩২৮ বাংলা ১৯২৩ ইং সনের ৬ জানুয়ারী জন্ম নেন বাউর সাধক আবেদ আলী। শৈশব থেকে রায়ের বাজারের কোলাহল বর্জন করে গ্রামের হাওরের কৃষিশিল্পী বাউল ভাবনায় মত্ত হয়ে উঠেন তিনি। তাঁর কঠিন সাধনা আর অধ্যাবসায় দিয়ে ধীরে ধীরে তিনি হয়ে উঠেন মোহাম্মদ আবেদ আলী থেকে প্রসিদ্ধ বাউল সাধক আবেদ আলী রূপে। তাঁর আধ্যাত্মচেতনা- মুর্শিদীবাদ গুরুবাদ ভাববাদের উম্মেষে মানুষের মনের কথায়ই যেন স্ফুরণ ঘটে তাাঁর প্রতিটা গানের কথায়। তাঁর গানের সৃষ্টিতে চেনারকথা এবং মানব প্রেমের কথা উঠে আসায় তাঁকে সুফিবাদের বাউলও বলা হয়।
এছাড়া তাঁর বিচ্ছেদী এবং ভাটিয়ালী গানে রয়েছে ভিন্ন বৈশিষ্ট। যা দেশের অগণিত মানুষের মন মাতিয়েছেন। তিনি তৎকালীন সময় “নন মেট্রিক” অর্থাৎ দশম শ্রেণী পর্যন্ত লেখা পড়া করেছিলেন।




তাঁর প্রথম গুরু কেন্দুয়া উপজেলার রোয়াইলবাড়ী ইউনিয়নের কলসহাটী গ্রামের শিক্ষক এবং বাউল গবেষক দুলুখা। তাঁরপর বাউল গানের ওস্তাদ কেন্দুয়া উপজেলার সান্দিকোনা ইউনিয়নের ধাইবনা গ্রামের বাউল নঈমুদ্দিন। তাঁদের চরণ আর্শিবাদে সারাদেশে বাউল গান পরিবেশন করে খ্যাতি অর্জন করেছেন ঈর্ষনীয়। লম্বাচুলের দীর্ঘদেহী এই বাউল সাদা পায়জামা পাঞ্জাবী কালো হাফ কোট গায়ে পড়ে গান গেয়ে বেড়িয়েছেন এক আসর থেকে আরেক আসরে। তেমনি ১৯৮৮ ইং সনের বন্যা পরবর্তী সময়ে নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার ডাকবাংলার সামনে আয়োজন করা হয়েছিল বাউল গানের আসর।
এই আসরে যারা গান পরিবেশন করেছিলেন তাদের মধ্যে যাদের নাম মনে আছে তাঁরা হলেন বাউল সাধক আবেদ আলী (বৈশ্যপাট্টা), বাউল আব্দুল হেকিম (ছবিলা), বাউল মগবুল হোসেন (তাড়াইল), বাউল জাহের উদ্দিন (বেজগাতী), বাউল নীশিকান্ত (পূর্বরায়), বাউল ইসলাম উদ্দিন (ক্ষিদিরপুর) প্রমূখ।
সে দিনের সেই আসরে বাউল সাফল্যের রাজটিকাটি যেন বাউল কবি আবেদ আলী সাহেবের কপালেই জোটেছিল। এর কারণ- গ্রাম বাংলার ঐহিত্য এবং শহরের যান্ত্রীক জীবন নিয়ে তার ব্যাতিক্রমি রচিত অসম্ভব সুন্দর বাস্তবমুখি একটি গান পরিবেশন। গানটি ছিল-
“এগো- টাউনের থাইকা গেরাম ভালা
গেরামেরই খাদ্য দিয়া টাউনের মানুষ যায় গো পালা \ ঐ
টাউনে হয়না নালিতা ধান, টাউনে হয়না সুপারী পান
টাউনে হয়না ফলের বাগান, আম, কাঁঠাল, জাম, লিচু, কলা \ ঐ
গেরামেরই সবুজ মাঠে, সোনার ফসল গজাইয়া উঠে,
সেই ফসল আছে পেটে টাউনের যত লুন্দি ওয়ালা \ ঐ
গেরামের খাদ্য টাউনে না গেলে- মন চলেনা ছবির হলে
দালানের ইট ভাইঙ্গা খাইলেও মিটবে না ভাই ভাতের জ্বালা \ ঐ
টাউনে নাই গেরামের আনন্দ, চতুরদিকে ময়রার গন্ধ,
কৃত্তিম ইলেকট্রিক পাখার বাতাস, তুলা দুধে কি বাঁচে পোলা \ ঐ
টাউনের থাইকা গেরাম ভালা \”




অত্যান্ত জনপ্রিয় বাউল আবেদ আলী সাহেবের দরাজকন্ঠে এই গানটি যখন পরিবেশিত হলো- সমস্ত শ্রæতা বিমোহিত হয়ে গেলেন। আসর বাজিমাত। বাউলের কাছ থেকে ভিন্ন এক পল্লী প্রশ্বস্তী শোনতে পেলেন গ্রামের সাধারণ মানুষ।
আবেদ আলী সাহেবের বহু জনপ্রিয় গান রয়েছে- যা নিয়ে আলোচনা করলে এই ছোট প্রবন্ধে শেষ করা যাবেনা। তারপরও তাঁর অসম্ভব জনপ্রিয় কয়েকটি গানের দুই একটি চড়ণ এখানে তুলে ধরছি। যে গানগুলো দেশের প্রখ্যাত বহুশিল্পী বিভিন্ন মাধ্যমে গেয়ে প্রশংসিত হয়েছেন।
 বন্ধুর বাড়ী আমার বাড়ীরে মধ্যে প্রেমের নদী
পাখা নাই যে উইড়া যাইতাম রে বাদী দারুন বিধিরে \ ঐ
 ঘোড়ার বেপারী তোমায় জিজ্ঞাসা করি
কত লাভ করিলে ঘোড়া বাইয়া রে-
কত লাভ করিলে ঘোড়া বাইয়া \ ঐ
 তুমি চিঠি দাওনা পত্র দাওনা, আমি দাসির খবর লও না-
কি দুষের লাগিয়া, কন্দে আমার হিয়া \
 আমি এবার মরলে পুরুষ হবো- প্রাণের সখি গো-
আর আমি হবোনা কূলবালা \ ঐ
 রজনী তুই হইসনারে প্রভাত
সখি, সাজাও কুঞ্জ গাঁথো মালা
আসবে আমার প্রাণনাথ \ ঐ
রজনী তুই হইসনারে প্রভাত \
 আমায় বিদেশে আনিয়া গিয়াছে চাপিয়া
পাইনা খুঁজিয়া তোমার দিদার \
 মেঘনা নদীর বাঁকে পিত্লা কলসি খাঁকে
কোন রমনী জল ভরিতে যায় \
 সৃষ্টি হতে গোল বাঁধিল মিমাংশা নাই আজ পর্যন্ত
সকল শেরের হয় সেরামূল যার তার মতে শাস্ত্র গ্রন্থ \
 তুষেরই আগুনের মত সদাই পুড়ে অন্তরে-
পুড় পড়া কি পুড়া দেহ আর কত পুড়ে \
এমন শত সহ¯্রগান রচনা করেছেন এই বাউল সাধখ। তাঁর বেশীর ভাগ গানই রচিত হয়েছে স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে। ১৯৬৪ ইং সনে তাঁর প্রথম বই প্রকাশ হয় “পাকিস্তান গীতা সিন্ধু” নামে। তাঁর পরবর্তীতে আবেদ নীতিকা, আবেদ জুলেখা এবং বাংলাদেশ সঙ্গীত। তাঁর চারটি গ্রন্থে ৫ শতর মত গান স্থান পেয়েছে বলে জানা গেছে। বৈবাহিক জীবনে ২টি বিবাহ বন্ধনে আবন্ধ হয়েছিলেন তিনি। তাঁদের সংসারে ১১ পুত্র এবং ৬ কন্যা সন্তান ছিলেন। তার মধ্যে ২০০২ ইং সনে মানিক মিয়া নাকে এক পুত্র মৃত্যুবরণ করেন। বোনেরা সবাই স্বামী সংসার নিয়ে সুখে আছেন এবং ১০ ভাই সবাই যার যার মত ভালই আছেন। ভাইদের মধ্যে বাবার বাউলী পথে সঙ্গীত জীবনে রয়েছেন বাউল দুলাল সরকার, বাউল লিটন সরকার, শিক্ষক শামীম আহম্মেদ এবং অপর এক ভাই কাঞ্চন মিয়া বাউল গানের সুনামধন্য বংশীবাদক। এ তথ্যগুলো নিশ্চিত করেছেন আবেদ পুত্র বাউল দুলাল সরকার।
গত ১০ জুন/২০২০ ইং তারিখ কেন্দুয়া প্রেসক্লাব ভবনে দীর্ঘক্ষন কথা হয় আবেদ পুত্র বাউল দুলাল সরকারের সাথে। তিনি জানান, আমার পিতা বাউল সাধক আবেদ আলী সাহেব খুব সৌখিন লোক ছিলেন। অজ¯্র সম্পদের মালিক ছিলেন- তাই লাকজারী জীবন যাপন করেছেন। শহর থেকে দামী সুরমা এনে চোখে ব্যবহার করতেন। মনকাঠের ফ্রেমকরা দোলনা বানিয়ে এনে সেই দোলনায় ঘুমাইতেন। আমরা এতোজন ভাইবোন হলেও- আমাদের কোন সমস্যা হয়নি। কারণ আমাদের বাড়ীটি অনেক বড়।
বাড়ীতে পুরনো প্রচুর ফলজ ও বনজ, ঔষধী গাছ রয়েছে। পিতা এতই সৌখিন ছিলেন যে দেশীয় প্রায় সব রকম ফলের গাছ তিনি লাগিয়ে ছিলেন। পিতা চলে গেছেন দীর্ঘদিন আমাদের এত বড় পরিবার হলেও সারা বছর খেয়ে পড়ে যা ব্যায় হয় তার দ্বিগুন ধান চাল বিক্রি করতে পারি। পিতা বাউল সাধণ করেছেন আসরে-আসরে বাউল গান গেয়ে মানুষকে আনন্দ দেওয়ার পাশাপাশি আলোকিত সমাজগড়ার উপদেশ দিয়েছেন- এ শুধু টাকা পয়সা রোজগারের জন্য নয়- মানুষের মনের সেবা দেয়ার জন্য।
তিনি আরো বলেন, পিতাকে দেখেছি শেষ জীবনেও তিনি প্রচুর বই পড়তেন। বাড়ীতে তাঁর সময় কেটেছে বই পড়ে এবং গাছ-গাছালীর পরিচর্যা করে। অনেক উচ্চ শিক্ষিত জনেরা প্রায় সময়ই আমার পিতার কাছে আসতেন বাংলা ও আরবি শিক্ষা সম্পর্কে জ্ঞান নেওয়ার জন্য। তিনি গভীর রাতে লিখতে বসতেন।




এই জন প্রিয় বাউল সাধকের বহু শিষ্য রয়েছেন। তাদের মধ্যে দেশে বর্তমানেরর খ্যাতিমান বাউলদের একজন আব্দুস সালাম সরকার অন্যতম।
বাউল সাধক আবেদ আলী সাহেব ৫৩ বছর বাউল জীবন সম্পন্ন করে ১৯৯৮ ইং সনের ২৩ এপ্রিল বৈশ্যপাট্টা গ্রামের নিজ বাড়ীতে ৭৫ বছর বয়সে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন।
বাউল দুলাল সরকার আরো জানান, তার বাবার নামে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে “বাউল আবেদ আলী স্মৃতি সংঘ”। এই সংগঠনের মাধ্যমে ২০০৯ ইং সন হতে প্রতিবছর বাউল সাধক আবেদ আলী স্মরণে বাউল মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
তেমনি গত ১১ ও ১২ জানুয়ারী/২০২০ ইং তারিখ ২দিন ব্যাপী বাউল মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক ও নেত্রকোণা-৩ কেন্দুয়া-আটপাড়া আসনের সংসদ সদস্য অসীম কুমার উকিল।
স্থানীয় আব্দুল হেলিম কনট্রাক্টরের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এড. আব্দুল কাদির ভূঞা, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দুয়া পৌরসভা মেয়র আসাদুল হক ভূঞা, গন্ডা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান সাজেদুল ইসলাম সঞ্জু, আঠারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন, চন্দিপাশা ইউপি চেয়ারম্যান এমদাদুল হক ভূঞা, সরিষা ইউপি চেয়ারম্যান শাহ্জাহান ভূঞা প্রমূখ।
দুইদিন ব্যাপী বাউল মেলায় বাউল গান পরিবেশন করেন দেশের বিখ্যাত বাউল শিল্পীগণ। তাদের মধ্যে ছিলেন বাউল ফকির চান, শাপলা বেগম, খাদিজা ভান্ডারী, মনি সরকার, আনোয়ার হোসন, আলমগীর সরকার, রোমানা বেগম, মুকুল সরকার, শফিকুল ইসলাম প্রমূখ বাউল শিল্পীগণ।

প্রকাশকাল- ১২/০৬/২০২০ ইং

আপনার মতামত লিখুনঃ
নিউজটি সেয়ার করার জন্য অনুরোধ রইল!
এই জাতীয় আরো সংবাদ
durjoybangla.conlm_৮ বছরে







©২০১৩-২০২০ সর্বস্তত্ব সংরক্ষিত | দুর্জয় বাংলা

কারিগরি সহযোগিতায় দুর্জয় বাংলা