1. durjoybangla24@gmail.com : durjoy bangla : durjoy bangla
  2. afzalhossain.bokshi13@gmail.com : Afjal Sharif : Afjal Sharif
  3. aponsordar122@gmail.com : Apon Sordar : Apon Sordar
  4. awal.thakurgaon2020@gmail.com : abdul awal : abdul awal
  5. sheblikhan56@gmail.com : Shebli Shadik Khan : Shebli Shadik Khan
  6. jahangirfa@yahoo.om : Jahangir Alam : Jahangir Alam
  7. mitudailybijoy2017@gmail.com : শারমীন সুলতানা মিতু : শারমীন সুলতানা মিতু
  8. nasimsarder84@gmail.com : Nasim Ahmed Riyad : Nasim Ahmed Riyad
  9. netfa1999@gmail.com : faruk ahemed : faruk ahemed
  10. mdsayedhossain5@gmail.com : Md Sayed Hossain : Md Sayed Hossain
  11. absrone702@gmail.com : abs rone : abs rone
  12. sumonpatwary2050@gmail.com : saiful : Saiful Islan
  13. animashd20@gmail.com : Animas Das : Animas Das
  14. Shorifsalehinbd24@gmail.com : Shorif salehin : Shorif salehin
  15. sbskendua@gmail.com : Samorendra Bishow Sorma : Samorendra Bishow Sorma
  16. swapan.das656@gmail.com : Swapan Des : Swapan Des
বীরঙ্গনা সখিনার আত্মত্যাগ ইতিহাসের অমরগাঁথা - durjoy bangla | দুর্জয় বাংলা
শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২০, ১১:৩৬ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ




বীরঙ্গনা সখিনার আত্মত্যাগ ইতিহাসের অমরগাঁথা

দুর্জয় বাংলা ডেস্কঃ
  • সোমবার, ৮ জুন ২০২০, ৭:৫৭ পূর্বাহ্ণ
  • ৩১৭ বার পঠিত

রাখাল বিশ্বাস:
ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী গৌরপুর উপজেলার মাওহা ইউনিয়নের ছায়াঘন নিভৃত পল্লীর একটি গ্রাম কুমড়ি। বিলুপ্ত প্রায় কুন্দ কুশুম গাছের শীতল ছায়ার প্রাকৃতিক নির্জন পরিবেশে অনন্ত শয্যায় ঘুমিয়ে আছেন সপ্তদশশতাব্দির ইতিহাস খ্যাত পতিপ্রাণা বীরঙ্গনা সখিনা। মহিয়সী সাখিনার চৌকোণ বিশিষ্ট সমাধিটির চারপাশ সবুজে ঘেরা জঙ্গলকীর্ণ নানা গাছের সমাহার। বসন্তকালে বিভিন্ন ফুলের মৌ মৌ গন্ধে আমোদিত করে আশ-পাশের মানুষদের। সমাধি মাজারটির চতুরদিকে আঁকা-বাঁকা কুন্দ কুশুম গাছগুলো নজর কাড়ে দর্শনার্থীদের। এলাকার মহিলারা স্বামী সংসারের মঙ্গল কামনায় শিন্নি নিয়ে আসেন। মাঝে মধ্যে বিভিন্ন স্থান হতে পিকনিক করতে আসতেও দেখা যায়।
একজন বীর নারী সখিনা। যিনি স্বামীর মর্যাদা ও সম্মান সমোজ্জল রাখতে পিতার সুদক্ষ বিশাল বাহিনীর বিরুদ্ধে পুরুষের ছদ্মবেশে ঘোড়ায় চড়ে তলোয়ার হাতে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন। সেই যুদ্ধে বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে এসে ছলনার কাছে পরাস্থ হন তিনি। এখানেই শেষ নয়। যার জন্য এতো সংগ্রাম সেই স্বামী কর্তৃক তালাকনামা এবং যুদ্ধ বন্ধের নির্দেশে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে সখিনার আত্মদান পৃথিবীর ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা।
অপরদিকে সখিনার স্বামী ফিরোজখাঁ দেওয়ান কেল্লাতাজপুর এসে সখিনাকে এক নজর দেখেই মুগ্ধ হয়ে পড়েন। বিয়ের প্রস্তাব দেন সখিনার পিতা পরাক্রমশালী ওমরখাঁর কাছে। ওমরখাঁ সে প্রস্তাব প্রত্যাখান করেন। প্রত্যাখাত হয়ে মনের বেদনায় সৌর্যবীর্যের অধিকারী ফিরোজখাঁ দেওয়ান যুদ্ধের মাধ্যমে সখিনাকে জয় করে নিয়ে এসে জঙ্গলবাড়ীতে বিয়ে করেন। কে এই ফিরোজখাঁ ? ফিরোজখাঁ হলেন- ১৫৯৮ সনে এগার সিন্দুক দূর্গের সম্মুখে স¤্রাট আকবরের সেনাপতি শাহবাজখাঁ, উজিরখাঁ, রাজা টোডরমল্ল ও রাজা মানসিংহের পরাজয়ের পর স¤্রাট আকবর ঈশাখাঁর সঙ্গে সন্ধি করেন এবং দ্বাদশ পরগনার স্বাধীন শাসক ও মসনদে আলী উপধিতে ভূষিত করেন। ১৫৯৯ খ্রিষ্টাব্দে ঈশাখাঁর মৃতুর পর তৎপুত্র মুসাখাঁ শাসন কর্তৃত্ব গ্রহণ করেন। ঈশাখাঁর দ্বাদশ পরগনার সম্পূর্ণ পতন ঘটে তাঁর অধস্তন ৫ম পুরুষ আদমখার সময়ে। ঈশাখাঁর দ্বাদশ পরগনার মধ্যে সিলেটের কিয়দংশ এবং ইটনা ও মিটামইন এলাকা জলে নিমগ্ন থাকতো বিধায়- সেই পরগনার নাম ছিল ‘জলসায়র’। ঈশাখাঁর শাসন পরিষদের একজন প্রধান পর্ষদ জয়নশাহ ছিলেন তথাকার জিম্মাদার। তাড়াইল থানার বিস্তৃর্ণ এলাকা নিয়েছিল ‘তপ্পা হাজারা বা তপেহাজারী পরগনা’। এই পরগনার দায়িত্বে ছিলেন উসমান খাঁ। এই উসমানখাঁর পুত্রই ছিলেন ইতিহাস বিখ্যাত যোদ্ধাবীর মসনদে আলা বাংলার বারো ভূঞার অন্যতম এক ভূঞা ঈশাখাঁর শেষ বংশধর কিশোরগঞ্জের জঙ্গলবাড়ীর দেওয়ান ফিরোজখাঁ। অপরদিকে তাজপুর পরগনার দায়িত্বে ছিলেন বাহাদুরখাঁ। এমনিভাবে বিভিন্ন পরগনার শাসন পরিষদের একজন করে পর্ষদ প্রধান ছিলেন। পরে তাজপুরের প্রধান পর্ষদ হন উমরখাঁ। এদিকে প্রবল প্রতাভশালী মোঘল স¤্রাটের অনুগত কেল্লাতাজপুরের অধিপাতি ওমরখাঁর একমাত্র গুনবতী কন্যা সখিনাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে ঐতিহাসিক বীরত্বগাঁথা অমর কাহিনী। দেওয়ান ফিরোজ খাঁ’র মা ফিরুজা বেগমের ঐকান্ত্রিক চেষ্টাতেও একমাত্র পুত্র ফিরোজখাঁকে যখন বিবাহ করাতে পারছিলেন না, পুত্রবধূ দেখতে না পারার কষ্ট যখন মায়ের মনের মধ্যে প্রচন্ড নাড়া দিচ্ছে, এমনি সময় ফিরোজখাঁ জানতে পারেন অপরূপা পরমাসুন্দরী সখিনার কথা। তাকে এক নজর দেখার জন্য ব্যাকুল ফিরোজখাঁ ছদ্মবেশে আসেন কেল্লাতাজপুরে। দাসী দরিয়ার মাধ্যমে ফিরোজখাঁ ও সখিনার দেখা হয়। উভয়েই মুগ্ধ হন এবং দাসীর মাধ্যমে বারো ভূঞার অন্যতম ঈশাখাঁর বংশধর তেজদীপ্ত সুপুরুষ ফিরোজখাঁ সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে পারেন সখিনা।
এদিকে মোঘল স¤্রাটের প্রতিনিধি হিসেবে কেল্লাতাজপুরের অধিপতি উমরখাঁর একমাত্র কন্যা সখিনা। তিনি যেমন রূপবতী, গুনবতী, বুদ্ধিমতি তেমনি অস্ত্রবিদ্যায় পারদর্শী এবং প্রজ্ঞাবান রাজনৈতিক বোদ্ধা। কারণ সখিনা কন্যা হলেও পিতা উমরখাঁ তাকে সকল বিষয়ে পারদর্শী করে তুলেন নি:শংকুচে। অপর দিকে বহুপূর্বে মোঘল স¤্রাটের কিছু নীতি বৈরিতার কারণে ঈশাখাঁর সম্পর্ক ভাল ছিলনা স¤্রাটের সাথে। সে রেশ ফিরোজখাঁর আমলেও থেকে যায় তার প্রমাণ মেলে উমরখাঁ ও ফিরোজখাঁর যুদ্ধে। ১৫২৬ খ্রিষ্টাব্দের পানিপথের যুদ্ধে মুঘলদের গোড়াপত্তনের পর থেকে ষোড়স্ব এমন কি সপ্তদশ শতাব্দিতে এসে ফিরোজখাঁর আমলেও সে বিদ্বেষ দৃষ্টি ফেরাতে পারেনি মোঘল প্রশাসনা। এদিকে ফিরোজ ছিলেন আপোষহীন, ন্যায় পরায়ন দৃঢ়চেতা দক্ষ রাজনীতিবিদ, বীরযোদ্ধা এবং প্রশাসনিক পারঙ্গম অধিকর্তা।
ফিরোজ খাঁ, মায়ের কাছে সখিনার বিবরণ দিয়ে তার পছন্দের কথা জানান এবং ফিরোজা বেগমের অনুমতিক্রমে উমরখাঁর কাছে সখিনার বিয়ের প্রস্তাব পাঠান। এ প্রস্তাব উমরখাঁ ঘৃনাভরে প্রত্যাখান করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ফিরোজখাঁ দেওয়ান সেনাপতি সাদাত ও শাহবাজকে নিয়ে কেল্লাতাজপুর আক্রমন করেন। এক পর্যায়ে কেল্লা ধ্বংস করে সখিনাকে নিয়ে ফিরোজখাঁ বিজয় উল্লাসে জঙ্গলবাড়ী এসে পৌঁচ্ছেন।
পরে মা ফিরোজা বেগমের নির্দেশে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
এদিকে এতবড় অপমান সইতে না পেরে ফিরোজখাঁর উপর প্রতিশোধ নিতে উমরখাঁ মোঘলদের শরনাপন্ন হন।
ফিরোজখাঁর দম্ভ দমন করতে মোঘল ফৌজদার মহব্বতখাঁ ও রহমতের নেতৃত্বে যুদ্ধের জন্য প্রশাসনিক সহায়তা দেন উমরখাঁকে। ফলে দ্বিতীয় দফায় আবার কেল্লাতাজপুর এবং জঙ্গলবাড়ীর মাঝে যুদ্ধে বাঁধে। এবারও ফিরোজখাঁ যুদ্ধ করতে করতে তাজপুরের কেল্লায় আক্রমন করেন। এ সময় উমরখাঁর সৈন এবং মোঘল সৈন একত্রিত হয়ে দ্বিমুখী আক্রমন করে বন্দি করা হয় ফিরোজখাঁকে। এ সময় উমরখাঁর পক্ষ থেকে সখিনাকে “তালাক” দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়। কিন্তু ফিরোজখাঁ তা ঘৃণা ভরে প্রত্যাখান করেন।
এদিকে স্বামী বন্দির খবর জানতে পেরে সখিনা ফিরোজখাঁকে উদ্ধার করতে রণে যাবার জন্য শ্বাশুরী ফিরোজা বেগমের কাছে অনুমতি প্রার্থনা করেন। পরে অনুমতি পেয়ে পুরুষের ছদ্মবেশ ধারণ করে রণসাজে সজ্জিত হন সখিনা। ঘোড়ায় চড়ে তলোয়ার হাতে ছুটে এসে প্রচন্ড আক্রমন করেন তাজপুর কেল্লায়। পিতার বহু সুশিক্ষিত সৈনকে হত্যা করে কেল্লার দরজা ভেঙ্গে ভেতরে আগুন ধরিয়ে দেন। তার রণকৌশল এবং অস্ত্রচালনার পারঙ্গমতায় উমরখাঁসহ সকলকে ভাবিয়ে তুলে কে এই যুবক ? যার অশিচালানায় উমরবাহিনী এবং মোঘলবাহিনীর সৈনদেরকে পর্যুদস্ত করে দিচ্ছে, আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করছে ঐতিহ্যের কেল্লা। কে এই বীর যুবক ?
“আড়াই দিন হইল রণ কেউ না জিতে হারে,/ আগুন লাগাইল বিবি কেল্লাতাজপুর শ’রে \/
বড় বড় ঘর-দরজা পুড়িয়ে হইল ছাই,/ রণে হারে বাদশার ফৌজ শরমের সীমা নাই \/
দিনে-দুপুরে কাটিল হেলিয়া পড়ে বেলা,/ ঘোড়ার উপর থাকিয়া বিবি লড়েছে একেলা \/
আবারো পরাজয় আঁচ করে ছলনা ও প্রতারণার আশ্রয় নেন উমরখাঁ। তিনি আন্দাজকৃত সখিনার কাছে দূত মারফত ফিরোজখাঁর জবানীতে নির্দেশপত্র পাঠান। নির্দেশ পত্রে কেল্লাতাজপুর এবং সম্মিলিত মোঘল শক্তির বিরোদ্ধে জঙ্গলবাড়ীর বিজয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়। অপর পত্রে ফিরোজখাঁ কর্তৃক সখিনাকে “তালাক” দিয়ে উমরখাঁর সঙ্গে সন্ধিপত্র এবং যুদ্ধবন্ধের নির্দেশনা দেয়া হয়। পিতার এতবড় প্রতারণা বুঝতে না পেরে বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে এসেও স্বামীর এ হেন কান্ডে অনুরাগী সখিনা স্তম্ভিত, হতভম্ব এবং কিংকর্তৃব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন। স্বামীর এ হেন নির্দেশনায় যেন সজিববৃক্ষে অগ্নিপাত।
“যার জন্য জ্বলে আগুন জঙ্গলবাড়ী শ’রে,/ তালাক দিছে দেওয়ান সেই সখিনারে \/”
স্বামীকে বিজয়ী করে জয়নিশান উড়িয়ে জঙ্গলবাড়ী যাওয়ার যে দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে পুরুষের ছদ্মবেশে তালোয়ার হাতে ছুটে এসেছিল কেল্লা তাজপুরে। পিতার বিরোদ্ধে যুদ্ধ করে যে নারী বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছিল, অকস্মাৎ স্বামী কর্তৃক “তালাকনামা” পেয়ে মনোস্তাতিœক আঘাতে ঘোড়ার উপর ঢলে পড়ে সখিনা।
“সখিনা তালাকনামায় ঘোড়ার উপর পড়ে,/ সর্পে দংশিল যেন বিবির শিরে \/
ঘোড়ার পৃষ্ঠ হতে বিবি ঢলিয়া পড়িল,/ সেপাই লস্কর যত চৌদিকে ঘিরিল \/”
অজ্ঞান অবস্থায় সখিনা ঘোড়ার উপর হতে মাটিতে ঢলে পড়ে। উম্মেচিত হয় ছদ্মবেশ। সখিনার সহকারী সৈন সাদাত ও শাহবাজ হাহাকার করে।
“আউলিয়া পড়িল বিবির মাথার দীঘল কেশ,/ পিন্দন হতে খুলে কন্যার পুরুষেরও বেশ \/”
পতিপ্রাণা সখিনা সেই যে অজ্ঞান হয়ে ছিলেন আর জ্ঞান ফেরেনি। যুদ্ধের ময়দানে তার এ করুন মৃত্যুতে সৈনদের মাঝেও হাহাকার ধ্বনি হয়।
খবর পেয়ে উমরখাঁ ছুটে আসেন প্রাণাধিক প্রিয় কন্যার মৃতদেহের কাছে। উমরখাঁর ক্রন্দনধ্বনিতে সেদিন কেল্লাতাজপুরের আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠে। সর্বত্র বিরাজ করে শোকের ছায়া।
শোকের কালোছায়ায় ঢেকে যায় জঙ্গলবাড়ীও। সপ্তদশশতাব্দির সেই বীরনারী সখিনার শবদেহ কেল্লাতাজপুরের অদূরে কুমড়ি গ্রামের ছায়া সুনিবিড় স্থানে সমাহিত করা হয়। জনশ্রæতি রয়েছে, ফিরোজখাঁ মুক্ত হয়ে স্ত্রীর মরদেহের পাশে নির্জিব ছিলেন বহুক্ষন। তিনি প্রিয়তমা সখিনার কবরে প্রতি সন্ধায় মোমবাতি জ্বালিয়ে বিশেষ প্রার্থনা করতেন। জঙ্গলবাড়ী আর ফিরে না গিয়ে স্ত্রীর সমাধির পাশে একটি মসজিদ নির্মান করে ধর্মপ্রাণা অবস্থায় বাকি জীবন কাটিয়ে দেন।
বাংলার ইতিহাসের মহান স্থানে আশীন বীরকন্যা মহিয়সী এই নারী। যিনি স্বামীর মর্যাদা রক্ষায় আত্মত্যাগী দনুজ দলনী এই বীরঙ্গনা সখিনা।
মোঘল আশীষধন্য পরাক্রমশালী রাজা উমরখাঁ আজ আর নেই। কিন্তু তার রেখে যাওয়া অমর স্মৃতিবিজড়িত কেল্লাতাজপুর তথা কুমড়ি এলাকা আজো এক অবহেলিত জনপদ।
কেল্লাতাজপুরের মর্মস্পর্শী এ ঘটনা অনেকের জানা থাকলেও নতুন প্রজন্মের সম্মূখ ধারণা খুব কমই আছে। যদিও এই কাহিনী নিয়ে কবি সহিত্যিকগণ বহু গল্প-নাটক, কবিতা গীতিনাট্য ইত্যাদি রচনা করেছেন। তবুও বহুসংখ্যক মানুষের কাছে আজো অনেক কিছু অজানাই রয়ে গেছে।
শ্রদ্ধেয় লেখক গবেষকদের কাছে অনুরোধ থাকবে, ইহিতাস বিকৃত হওয়া রোধে সখিনার বীরত্বগাঁথা ও অমর কাহিনীর প্রকৃত সত্য, সঠিক ইতিহাস উদ্ধার পূর্বক গ্রন্থিত করে রাখুন।
এছাড়াও দাবী রাখছি ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার, সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, সমাজিক রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গ এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও সরকারের কাছে। সপ্তদশ শতাব্দির প্রাচীন এই গৌরবগাঁথা অমর স্মৃতিকে সংরক্ষন ও সৌন্দয্য বর্ধন করে এবং পর্যটন কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে দেশবাসীকে এই ইতিহাস-ঐতিহ্য জানার ব্যবস্থা করে দিন। এতে প্রিয় ময়মনসিংহবাসী গর্বিত হবে অপরদিকে সরকার ও লাভবান হবে।

তথ্যসূত্র: কাজী এমএ মোনায়েম এঁর লেখা ইতিহাস-ঐতিহ্য কিংবদন্তি ও পাক্ষিক সূবর্ণবাংলা পত্রিকা এবং লেখক ও সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন শাহীন। গৌরীপুর, ময়মনসিংহ।
অপরসূত্র: “ময়মনসিংহের বরেন্দ্র ব্রাহ্মন জমিদারদের ইতিহাস”
রচনা: শ্রী সৌরিন্দ্র কিশোর শর্মা।
রচনাকাল: ১৩১৮ বঙ্গাব্দ।
ড: দীনেশ চন্দ্র সেন মহাশায়ের পূর্ববঙ্গ গীতিকা।
তথ্য: শাহ আলীম চিশতী জালালী।

প্রকাশকালঃ ২২/০৫/২০২০ ইং

আপনার মতামত লিখুনঃ
নিউজটি সেয়ার করার জন্য অনুরোধ রইল!
এই জাতীয় আরো সংবাদ
durjoybangla.conlm_৮ বছরে







©২০১৩-২০২০ সর্বস্তত্ব সংরক্ষিত | দুর্জয় বাংলা

কারিগরি সহযোগিতায় দুর্জয় বাংলা