ভালুকায় মোহাম্মদীয়া হসপিটালে নবজাতক পরিবর্তনে তোলপাড়

রাকিবুল হাসান আহাদ, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

0
2

ময়মনসিংহের ভালুকায় মোহাম্মদীয়া হসপিটালে সিজারিয়ান অপারেশনের পর নবজাতক পরিবর্তনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনটি ঘটেছে গত শুক্রবার সকালে ভালুকা থানা মোড় হতে বাসস্ট্যান্ডের মাঝামাঝি মোহাম্মদীয়া মডেল হসপিটালে। এ ঘটনায় হাসপাতালের ভেতর রোগীর স্বজনদের মাঝে তোলপাড় শুরু হয়।

দৈনিক দুর্জয় বাংলা অনলাইন পোর্টালের বিশেষ প্রতিবেদনে রোগীর স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে উপজেলার বিরুনীয়া গ্রামের আবু রায়হানের স্ত্রী শাবনুরের প্রসব ব্যাথা শুরু হলে ভালুকা পৌরসভায় অবস্থিত ভালুকা সরকারী হাসপাতালের ডাক্তার রোকেয়া বেগমের স্বামী আব্দুর রাজ্জাকের মালিকানাধিন মোহাম্মদীয়া মডেল হসপিটালে নিয়ে যান। পরে সকাল সাড়ে ৯ টায় ডাক্তার রোকেয়া বেগম শাবনুরের সিজারিয়ান অপারেশন করেন। অপারেশনে ওই প্রসুতির কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। কিছুক্ষন পর সকাল সাড়ে ১০ টার সময় ভালুকা বাসস্ট্যান্ড এলাকার সুজন মিয়ার স্ত্রী ইসরাত জাহান মুন্নিরও সিজারিয়ান অপারেশন হওয়ার কথা। কিন্তু ক্লিনিকের নার্স শিল্পি আক্তার রহস্যজনক কারণে সদ্য অপারেশনে শাবনুরের ভূমিষ্ট হওয়া কন্যা সন্তানটি মুন্নির কুলে তুলে দেন। এ নিয়ে ক্লিনিকে তোলপাড় শুরু হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রকৃত মায়ের কুলে কন্যা সন্তানটি ফেরত দিয়ে উভয় রোগীর স্বজনদের বিশেষ অনুরোধে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

মুন্নির বাবা মজিবর রহমান জানান, আল্ট্রাতে তার মেয়ের ছেলে সন্তান হওয়ার কথা কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিছুক্ষণ আগে অপারেশন হওয়া অন্য একজন প্রসূতির সদ্য ভূমিষ্ট কন্যা সন্তান তার মেয়ের কুলে তুলে দেন। তিনি অভিযোগ করেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হয়তো বিশেষ সুবিধা নিয়ে এ ধরণের বেআইনী কাজ করে থাকতে পারেন।

বিরুনীয়া গ্রামের প্রসূতি শাবনুরের ভগ্নিপতি জাহাঙ্গীর আলম জানান, তিনবারের আল্ট্রাতে তাদের কন্যা সন্তান হওয়ার কথা এবং সিজারিয়ান অপারেশনে কন্যা সন্তানই হয়েছে। তবে কি কারণে তাদের কন্যা সন্তানটি আরেকজন প্রসুতির কুলে দেয়া হলো তার তাদের জানা নেই।

স্থানীয় লোকজন জানান, ডাক্তার রোকেয়া বেগম ভালুকা সরকারী হাসপাতালের একজন ডাক্তার। তিনি দীর্ঘদিন হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশন করে আসছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি তিনি নিজে তার স্বামী আব্দুর রাজ্জাকের তত্বাবধানে পৌরএলাকায় মোহাম্মদীয়া মডেল হাসপাতাল নামে একটি ক্লিনিক খুলে নিজেই এখানে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সিজারিয়ান অপারেশনসহ বিভিন্ন ধরণের অপারেশন করে থাকেন। তিনি হাসপাতাল করার পর থেকে সরকারী হাসপাতালে অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার থাকার পরও কোন সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়না। এ ব্যাপারে হাসপাতালের মালিক আব্দুর রাজ্জাকের সাথে কথা বলার জন্য বার বার চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

দৈনিক দুর্জয় বাংলার প্রতিনিধির সাথে এ বিষয়ে কথা বলেন, মোহম্মদীয়া হসপিটালের দ্বায়িত্বরত মোঃ মাহবুব হোসেন তিনি বলেন, উল্লেখিত ঘটনাটি সত্যি কিন্তু আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি উভয় পক্ষকে নিয়ে সমাধান করে ফেলেছি। এমন ঘটনা এ-র পূর্বে ঘটেছিল।

জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের হাসপাতালে অসহায় গরীব এক ব্যক্তির শিশু সন্তান বিক্রি করার মতো ঘটনা ঘটেছিলো। এনিয়ে কিছুদিন তোলপাড় হয়েছে। আমাদের হসপিটালের কোনো প্রকার সমস্যা হয়নি।

আরও পড়ুনঃ তারাকান্দায় প্রতিপক্ষের আঘাতে মৎস্য ব্যবসায়ী নিহত