ভ্রমণ ডায়েরি-৮ মানসিক প্রশান্তির জন্য ভ্রমণ

লেখক মোহাম্মদ আজিজুল মওলা

মোহাম্মদ আজিজুল মওলাঃ

পৃথিবীতে দশটি সুখী দেশের তালিকায় সুইডেন, ডেনমার্ক , নরওয়ে , ফিনল্যান্ড গত দুই দশক ধরে তাদের শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে। সুখের বিষয়টি আসলে আপেক্ষিক। পুরা ইউরোপের মানুষ দেখেছি, খুব বেশি ভ্রমণ করে। গ্রীষ্মকালে এক দেশের মানুষ চলে যাই অন্য দেশে । এখানে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দেশগুলোতে মানুষ আসে একটি সুন্দর জীবনের আশায়- সুখের জন্য, কিন্তু মানসিক শান্তির জন্য ভ্রমণ করে এই দেশগুলোতে। ভ্রমণে অনেক কিছু শেখা যায়, ভ্রমণে প্রশান্তি আসে মনে প্রানে। ইউরোপে এসে বিষয়টি আমাকে বেশি ভাবিয়ে তোলেছে।



মাঝে মাঝে আমি পাশের দেশ ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে চলে যাই। সারাদিন ঘোরাঘুরি করে আবার সুইডেনে চলে আসি রাত্রে। আবার দুই তিন দিনের টানা ছুটি পেলে ছুটে যায় ইউরোপের অন্য কোন দেশে। আসলে ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য মহান সৃষ্টিকর্তা কোন না কোন একটা ব্যবস্থা করে দেয়-ই ।

কোপেনহেগেন, ডেনমার্কের সিটি হলের পাশে ডেনমার্কের বিখ্যাত লেখক Hans Christian Andersen এর একটি মূর্তি আছে। তাঁর এই মূর্তি কোপেনহেগেনের দর্শকদের স্বাগত জানায়।
Hans Christian Andersen এর The Fairy Tale of My Life: An Autobiography তে লেখা দু-একটি লাইন মনে পড়ছে…..

“To move, to breathe, to fly, to float,
To gain all while you give,
To roam the roads of lands remote,
To travel is to live.”



ইউরোপে আসার পর মাঝে মাঝে আমি ভ্রমণের কিছু ছবি ফেসবুকে আপলোড করতাম। এদিকে বাংলাদেশে
আমার আত্মীয়স্বজন এবং সহকর্মীরা বলাবলি করছিল , আমি কি এখানে পড়তে এসেছি না ভ্রমণ করতে এসেছি। তাদেরকে আমি বলেছিলাম,” এখানে ভ্রমণ করেন আর যা ই করেন পড়ালেখা ঠিক রেখেই করতে হবে। পরীক্ষায় যদি অকৃতকার্য হন, সাথে সাথে প্লেনের টিকিট দিয়ে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দিবে। যেহেতু আমাকে ওরা এখনো দেশে ফেরত পাঠায় নি তার মানে আমার পড়ালেখা ঠিকমত চলতেছে আমি যাই করি না কেন ” ।বিশেষ করে শনিবার এবং রবিবার, আমি বিকালে অথবা সকালে সিটি বাস এর যেকোনো একটি বাসে উঠে পড়ি পুরা শহর ২ চক্কর ঘুরে আবার বাসায় চলে আসি এতে আমার দুই ঘন্টা আড়াই ঘন্টা সময় লাগে তখন আমি বাসে বসে কানে হেডফোন লাগিয়ে গান শুনি আর বিভিন্ন দৃশ্য অবলোকন করি আমার ভালো লাগে তাই আমি ঘুরি। ঘুরে আসার পর ফ্রেশ হয়ে খাওয়া-দাওয়া করে আমি পড়তে বসি। আমার মনটা ফুরফুরে লাগে তখন পড়াশোনায় ভালো মনোযোগ আসে।



সুইডেনে আসার পর, গাড়ির রোড এর ম্যাপ , গাড়ির নাম্বার অনুযায়ী যাত্রাপথ বুঝতে আমার সপ্তাহ দুয়েক সময় লেগেছিল। একবার একটি ভুল নাম্বারের গাড়িতে উঠে বসে ছিলাম। এটা স্বাভাবিক , ভুল নাম্বারে উঠলে ভুল জায়গায় নিয়ে যাবে। ড্রাইভার নিয়ে আসলো অনেক পথ পাড়ি দিয়ে Ön নামে একটি দ্বীপে। এখানে এসে তো আমার চোখ ছানাবড়া। সুইডেনে মালমো শহরের একেবারে শেষমাথায়, মূল ভূখণ্ডের সাথে ছোট্ট একটি ব্রিজ দিয়ে লাগোয়া Ön নামে একটি দ্বীপ আছে। সেটা হল, আসলে বিলাসবহুল বাড়িতে বাস করা মানুষের বসবাস। বাড়ি থেকেই বাল্টিক সাগর এর হিমেল হাওয়া পাওয়া যায়। ইংলিশ মুভি তে মাঝে মাঝে দেখতাম বাড়ির ছাদ থেকে সমুদ্র দেখে দেখে কফি পান করছে নায়ক নায়িকা-এখানেও তাই। সুন্দর ভাবে দেখা যায় বাল্টিক সাগর এর উপরে ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেন এর সাথে সংযুক্ত Öresund Bridge । এই দোতলা ব্রিজের তিন ভাগের এক ভাগ সমুদ্রের নিচে আর দুবার ভাগ সমুদ্রের উপরে। সুইডেন ও ডেনমার্কের মধ্যে সহজ যোগাযোগের জন্য নির্মিত হয়েছে ওরেসুন্দ সেতু (Öresund Bridge) । যেটা সাগরের ওপর দিয়ে নির্মিত প্রায় ১৬ কিলোমিটার (ওপর ও নিচের উভয় লেনসহ) দীর্ঘ একটি ব্রিজ। ব্রিজটি দুটি লেনে বিভক্ত। একটি গাড়ির, অপরটি রেল লাইনের জন্য। এটি পৃথিবীর দীর্ঘতম সেতুর মধ্যে একটি। দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বের নিদর্শন এই সেতু। ইউটিউবে সার্চ করে দেখে নিতে পারেন।



যা হোক এত সুন্দর দেশে, ভুলক্রমে হলেও এই সুন্দর দ্বীপ এ আসতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে হল। এই পারে সুইডেন, ওই পারে ডেনমার্ক। মাঝখানে বাল্টিক সাগর।
এই দ্বীপের বাড়ি,বাগান,মাঠ,সাজানো-গোছানো সবকিছুই। দ্বীপে প্রবেশমুখে একটি সুপার শপ দেখলাম। হাঁটতে হাঁটতে খিদা লেগে গিয়েছিল। ঝটপট খেয়ে নিলাম হালকা নাস্তা আর হাতে নিলাম কফি। শীতপ্রধান দেশের মানুষরা সবচেয়ে বেশি পান করে ব্ল্যাক কফি। কাগজের তৈরি কফির কাপ টি হাতে নিয়ে অনেক অনেক দূরে দেখতে থাকলাম, যতদূর চোখ যায়। সে এক অন্যরকম প্রশান্তি ভালোলাগা। পরবর্তীতে ভালো না লাগলে মাঝে মাঝে আমি এ দ্বীপটিতে চলে আসতাম। ঘন্টা খানিক থেকে আবার ফিরে যেতাম বাসায়।

দেশটির প্রতি দিন দিন দরদ বেড়েই চলেছে।

(চলবে) Azizul Moula ফেইসবুক টাইমলাইন থেকে নেওয়া …।

আরো পড়ুন>>> দেওয়ানগঞ্জের ডাংধরায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে সতর্কমূলক অভিযান

আপনার মতামত লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here