ভ্রমণ ডায়েরি – ৯, ইউরোপের রীতিনীতি ও পরিবেশ ভাবনা

ভ্রমণ ডায়েরি - ৯, ইউরোপের রীতিনীতি ও পরিবেশ ভাবনা
লেখক মোহাম্মদ আজিজুল মওলা

মোহাম্মদ আজিজুল মওলাঃ

স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোর জনগণ সমাজ এবং রাষ্ট্র যৌথভাবে পরিবেশ নিয়ে খুবই সচেতন। ওদের সমাজের রীতিনীতি ও পরিবেশ ভাবনা আমাকে নতুন করে অনুপ্রাণিত করেছে ।

পরিবেশবান্ধব জনগোষ্ঠী পুরা দেশটিকে সবুজে আচ্ছাদিত করেছে। এরা খুবই পরিবেশ সচেতন এবং এখানকার পরিবেশ রক্ষার আইনও সেই লেভেলের । সুইডেনে আপনি হাঁস-মুরগি,গরু-ছাগল যে কোন গৃহপালিত পশু পাখি পালন করতে পারবেন ঠিকই কিন্তু জবাই করার কোন অনুমতি নাই। তবে মুসলমান কমিউনিটি যাতে হালাল মাংস খেতে পারে সে ব্যবস্থা তারা করে রেখেছে। এদেশের ধর্মীয় স্বাধীনতা দেখলে আপনি অবাক না হয়ে পারবেন না। এ দেশের বেশিরভাগ মানুষ প্রাক্টিক্যালি তেমন কোন ধর্ম কর্ম করতে দেখলাম না। তবে কেউ যদি ধর্ম পালনের কথা বলে সেক্ষেত্রে সবাই একে অপরকে সহযোগিতা করতে দেখলাম। আপনার ইচ্ছে হয়েছে আপনি বাসায় গান-বাজনা দিতে পারেন অথবা ধর্মীয় কোন ওয়াজ নসিয়ত দিতে পারেন ,শুনতে পারেন পবিত্র কোরআনের তেলাওয়াত, বা অন্য কোনো ধর্মীয় আলোচনা । তবে সেটির আওয়াজ বা সাউন্ড আপনার ঘরের সীমানার বাইরে যেতে পারবে না। যদি আপনার প্রতিবেশী মনে করে যে আপনার বাসার ব্যবহৃত লাউড স্পিকার তার বাসার কাজে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে তিনি ১১২ নম্বরে ডায়াল করে পুলিশের কাছে রিপোর্ট করলে আপনি মামলার মুখোমুখি হবেন। গুনতে হতে পারে বড় অঙ্কের জরিমানা।



সুইডেনের রাজধানী স্টকহোম এর এক কিশোরী -গ্রেটা থুনবার্গ , বর্তমানে গ্লোবাল ওয়ার্মিং নিয়ে কাজ করছে, সারাবিশ্বে গণ সচেতনতা তৈরি করছে কিভাবে সারা পৃথিবী কে সবুজ শ্যামলে সাজানো যায়, কার্বন নিঃসরণ কমানো যায় , কিভাবে মানব অধিকার রক্ষিত হয় । জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ দূষণ ঠেকাতে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে। পরিবেশ রক্ষার এ আন্দোলন সুইডেনে শুরু হলেও এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বব্যাপী, ইউরোপের সীমানা পেরিয়ে সর্বত্র। “ফ্রাইডে ফর ফিউচার” ব্যানারে ১৩৯ টি দেশের স্কুল শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অংশ নিয়েছিলেন নানা শ্রেণি-পেশার লক্ষ লক্ষ মানুষ। গ্রেটা’র এই আন্দোলন প্রভাব ফেলেছে বাংলাদেশেও। গত ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ এ রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে জড়ো হয়েছিল শত শত শিশু-কিশোর- প্ল্যাকার্ড হাতে যাতে লেখা, ‘ক্লাইমেট স্ট্রাইক ইন বাংলাদেশ’।



স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশ গুলোতে সাইকেলের ব্যবহার অত্যধিক। মালমো সেন্ট্রাল স্টেশন, সুইডেন-স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে জংশন । অনেক পুরাতন এবং গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশনটি সাথে লাগোয়া কয়েক তলা বেষ্টিত একটি পার্কিং স্পেস- এই দেশটির জনগণ পরিবেশের জন্য কতটা সতেচন সেটা স্বচক্ষে দেখবেন। পুরা দুই তিন তলা এলাকা জুড়ে শুধু সাইকেলের পার্কিং এরিয়া এই টি। অবাক হবেন, এখানে সাইকেল চালানোর জন্য আলাদা রাস্তা আছে-পুরা শহর জুড়ে। যেখানে আমাদের দেশে মানুষ চলাচলের রাস্তা গুলো পর্যন্ত অসাধু ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দখল করে রেখেছে। এতে করে জনদুর্ভোগ বাড়ছে, রাস্তায় এক্সিডেন্ট এর পরিমাণ বাড়ছে। এইতো কিছুদিন আগেও আমাদের দেশের ছোট ছোট স্কুল কলেজের ছেলে মেয়েরা “নিরাপদ সড়ক চাই” আন্দোলন করেছিল। আন্দোলনের পরে, আমাদের সরকার বিষয়টি আমলে নিয়ে অনেকগুলো নীতিমালা এবং কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।



স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশ গুলোতে পরিবেশ রক্ষার নিমিত্তে সাইকেলের জন্য আলাদা রাস্তার প্রচলন হয়েছে অনেক আগেই।এখানকার প্রায় সব পরিবারেই দুই তিনটা করে সাইকেল রয়েছে। তারা এই বাহন দিয়ে স্কুল কলেজ সহ তাদের কর্মস্থলে যাতায়াত করে যাতে করে তাদের শারীরিক ফিটনেস ঠিক থাকে,আর পরিবেশের কার্বন নিঃসরণের পরিমাণও কম হবে। আমার ইউনিভার্সিটির কয়েকজন শিক্ষককে দেখলাম ইউনিভার্সিটি তে সাইকেল নিয়ে আসতে। প্রথম প্রথম বিষয়টি আমাকে একটু অবাক করেছে। মনে মনে চিন্তা করতেছি আমাদের দেশে শিক্ষকরা ওদের চেয়ে অনেক ভাল জীবন যাপন করে। পরে দেখলাম ওরা সপ্তাহে তিন থেকে চারদিন সাইকেলে তাদের কর্মস্থলে আসেন আর বাকি দুই দিন গাড়ি নিয়ে আসেন । নিয়মিত সাইকেল চালালে শারীরিক ফিটনেস ও ঠিক থাকে এবং পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনেও একসাথে সামিল হওয়া যায় । আমি নিজেও সাইকেল চালাতে শুরু করি তাদের দেখাদেখি। প্রথম প্রথম একটু খারাপ লাগত এই শীতের দেশে সাইকেল কিভাবে চালাবো এই ভেবে। পরবর্তীতে অভ্যস্ত হয়ে যাই। পরে দেশে আসার পরেও আমি সাইকেল চালানো শুরু করি নিয়মিতভাবে।

আসলে ওদের কাছ থেকে শেখার আছে অনেক কিছুই ….

চলবে -Azizul Moula FACEBOOK টাইমলাইন থেকে নেওয়া

আরো পড়ুন>> বকশীগঞ্জে সড়ক দূর্ঘটনায় বৃদ্ধার মৃত্যু

আপনার মতামত লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here