মঈনউদ্দিন খান বাদলের জীবনাবসান, এলাকায় শোকের ছায়া,বিভিন্ন মহলের শোক প্রকাশ

সিনিয়র রিপোর্টার আবদুল মতিন চৌধুরী (রিপন) :
প্রখ্যাত পার্লামেন্টারিয়ান ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মঈনউদ্দিন খান বাদল আর নেই। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ভারতের ব্যাঙ্গালুরুতে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। এ সময় স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে ‘সহ অসংখ্য আতœীয় স্বজন ও গুনগ্রাহী রেখে যান। সকালে তাঁর মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব মোছলেম উদ্দিন আহমদ, উপজেলা প্রশাসন, পৌর প্রশাসন, বোয়ালখালী প্রেসক্লাব, উপজেলা আওয়ামীলীগ, জাসদ, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বিভিন্ন স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসার পক্ষ হতে মরহুমের মৃত্যুতে শোক জানানো হয়। উল্লেখ্য দুই বছর আগে ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে কিছুটা অসুস্থ ছিলেন বাদল। হার্টেরও সমস্যা ছিল তাঁর। অসুস্থ শরীরে গত একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়ী হন তিনি। শত অসুস্থতায় এলাকাবাসির প্রতি দায়িত্বতাবোধ থেকে একটু বিচ্যুতি করতে পারেনি তাঁকে। এলাকাবাসির ডাকে সব- সময় সাড়া দিয়েছেন। নিয়মিতই সক্রিয় ছিলেন এলাকার বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমে। রুটিন চেকআপের অংশ হিসেবে গত ১৮ অক্টোবর ভারতে যান তিনি। সেখানে আবারো মাইল্ড স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে তাকে ব্যাঙ্গলোরের বিখ্যাত নারায়ণা হৃদরোগ রিচার্স ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালে প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ দেবীশেটি ও বিশিষ্ট নিউরোসার্জন ড. বিক্রম সিং এর তত্বাবধানে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। এ কয়দিনে তাঁর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি ঘটলেও গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর থেকে আবারো অবনতি ঘটতে থাকে। অবশেষে সকাল সাড়ে ৭.৪৫ টার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ( ইন্না লিল্লাহে….রাজেউন) এ সময় তারই সহধর্মিনী সেলিনা বাদল তাঁর শয্যা পাশে উপস্থিত ছিলেন। সেখান হতে তিনি জানান সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ করে আগামীকাল (আজ শুক্রবার) তাঁর মরদেহটি দেশে নিয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে একটি বিশেষ টিম পুরো প্রক্রিয়াটি তত্বাবধান করছেন। এখানকার এসব প্রক্রিয়া শেষ করে দেশে সরকারি কিছু আনুষ্ঠানিকতা ও কয়েকদফা জানাযা শেষে বোয়ালখালী উপজেলার সারোয়াতলীস্থ পারিবারিক কবরস্থানে পিতা-মাতার পাশেই তাকে শায়িত করা হবে বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবারের সদস্যরা।

ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে উঠে আসা বাদল ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় ভাবে অংশ নেন। বাঙালিদের ওপর আক্রমণের জন্য পাকিস্তান থেকে আনা অস্ত্র চট্টগ্রাম বন্দরে সোয়াত জাহাজ থেকে খালাসের সময় প্রতিরোধের অন্যতম নেতৃত্বদাতা ছিলেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে সমাজতান্ত্রিক রাজনীতির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েন তিনি। জাসদ, বাসদ হয়ে পুনরায় জাসদে ফিরে এ দলের একাংশের কার্যকরী সভাপতি হন তিনি।

স্বৈরচার বিরোধী আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ দল গঠনেও বাদলের উল্লেখযোগ্য ভূমিকার প্রতিদান স্বরুপ ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে সব কিছুকে ছাফিয়ে চট্টগ্রাম-৭ (বোয়ালখালী, চাঁন্দগাও – পাঁচলাইশ) আসনের নৌকা প্রতীক তুলে দেন শেখ হাসিনা তাঁর হাতে। সে নির্বাচনে জয়ী হয়ে সংসদে বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়ে সবার দৃষ্টি কারেন তিনি। এ সময় সংসদে অনলবর্ষী বক্তা ও দক্ষ পার্লামেন্টারিয়ান হিসেবে খ্যাতি লাভ করেণ তিনি। এর পরবর্তিতে একই আসন থেকেও নৌকা প্রতীকে পর-পর আরো দু’বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে মৃত্যুকালীন সময় পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেণ তিনি।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

Please enter your comment!
Please enter your name here