মদনে ঝগড়া থামাতে গিয়ে একজন নিহত

মদনে ঝগড়া থামাতে গিয়ে একজন নিহত
নিহত সবুজ মিয়া

সাকের খান, মদন (নেত্রকোনা) সংবাদদাতাঃ
নেত্রকোনার মদন উপজেলার বারড়ি পাঁচপাড়া গ্রামের প্রতিবেশীর ঝগরা থামাতে গিয়ে সোমবার সন্ধা ৭ ঘটিকার সময় কিল ঘুষিতে সবুজমিয়া (৫৫) নামে একজনের নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার বিকেলে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে আসামি করে নিহতের স্ত্রী হালিমা মদন থানায় ৫ জন কে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেছ। পুলিশ মতিবুর রহমান (৫০) কে আটক করেছে। অন্য আসামিরা হচ্ছেন বাকির (২৫), হাবিবুল ইসলাম (৪০), তাহেরা (৩৬) ও রিপন (২৫)।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় প্রতিবেশী হাবিকুল ইসলাম ও নজরুল মিয়ার মধ্যে ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে ঝগড়া হয়।



পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায় হাবিবুল ইসলাম ও নজরুল মিয়া মধ্যে জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত বিরোধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সন্ধ্যায় তাদের মধ্যে ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে ঝগড়ার সৃষ্টি হয় সবুজ মিয়ার প্রতিবেশী চাচাতো ভাই নজরুল মিয়ার বাড়িতে ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে সীমানা নিয়ে প্রতিবেশী হাবিকুল ইসলামের সাথে সোমবার সন্ধ্যায় ঝগড়া বাধে। প্রতিবেশী চাচাতো ভাই সবুজমিয়া ঝগড়া থামাতে যায় তখন তিনি নজরুল মিয়ার প্রতিপক্ষ হাবিকুল মিয়াকে ঘর সড়িয়ে নেবেন বলে আশ্বস্ত করেন। এরইমধ্যে এক পর্যায়ে উভয় পক্ষ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মাঝখানে তিনি এবং তার সহোদর ইসহাক মিয়া ও ভাবি কনা আক্তার ঝগড়া থামানোর চেষ্টা করেন এক পর্যায়ে হাবিকুল মিয়ার ও তাহেরার কিল ঘুষিতে সবুজ মিয়া মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে ইসহাক মিয়া ও কনা আক্তার তাদের বাড়িতে নিয়ে আসে তখন সেখানে সবুজ মিয়ার মৃত্যু হয়।
সবুজ মিয়ার স্ত্রী চট্টগ্রামে গার্মেন্টস কারখানায় চাকরি করার সুবাদে ওখানে থাকায় তাকে খবর দেয়া হয়। পরে নিহত সবুজ মিয়ার স্ত্রী হালিমা খাতুন মঙ্গলবার বিকালে বাড়িতে এসে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মঙ্গলবার বিকেলে ময়না তদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে নিহতের লাশ প্রেরণ করেন।



এলাকাবাসী ফাতেমা বেগম, জাহাঙ্গীর ও আজিজুল হক সহ অনেকেই বলেন, নজরুল মিয়া ও হাবিকুলের মধ্যে জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত বিরোধ চলছিল। এ ঘটনার সাথে মতিবুর বাকির জড়িত নয়। তাদের বাড়ি নজরুলের বাড়ি থেকে অনেক দূরে।

মতিউর রহমানের স্ত্রী আসমা আক্তার বলেন, আমার স্বামী ও ছেলে এই ঘটনার সাথে জড়িত নয়। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাদেরকে ক্ষতি করার জন্য সাজানো হয়েছে। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। যদি আমার স্বামী এবং সন্তান জড়িত থাকত তাহলে তারা বাড়িতে থাকত না। এছাড়াও আপনারা গ্রামে খোঁজ নিয়ে দেখেন এই ঘটনার সাথে আমাদের পরিবারের কেউ সম্পৃক্ত আছে কিনা। যদি সম্পৃক্ত থাকে তাহলে আমিও নিহতের ঘটনায় বিচার দাবি করছি অন্যথায় আমার স্বামী সন্তানকে হয়রানি না করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।



হাবিকুলের মা রহিমা বলেন, নজরুলের বাবার কাছ থেকে আমরা জায়গা কিনে ছিলাম তার বাবা মারা যাওয়ার পর নজরুল বড় হলে সেই জায়গা বিক্রির কথা অস্বীকার করে সালিশের মাধ্যমে পুনরায় আমাদের কাছ থেকে কিছু টাকা নেয় এবং ৮ কাঠা জায়গার মধ্যে এক কাঠা জায়গা তাকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এখন সে আমাদের জায়গার মধ্যে ঘর নির্মাণ করে। এ নিয়ে তর্ক বিতর্ক হয় একপর্যায়ে হাতাহাতি হলে সবুজমি ঝগড়া তামাতে আসে এর মধ্যে সবুজের শরীরে কিল-ঘুষি পরে। এছাড়া সবুজ দীর্ঘদিন যাবত বিভিন্ন রোগে ভোগছিল।

নিহতের ভাই ইসহাক, চাচাতো বোন জুৎস্না আক্তার ও প্রতিবেশী কবীর বলেন, নজরুল মিয়া তার জায়গায় ঘর নির্মাণের কাজ করে সেখানে সাবিকুল তার নিজের জায়গা দাবি করে ঘর নির্মাণ করতে নিষেধ করার এক পর্যায়ে ঝগড়া লেগে যায়। সবুজ মিয়া চাচাতো ভাই নজরুল মিয়ার ঘর সরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ঝগড়া থামানোর চেষ্টা করেন সবুজ এক পর্যায়ে হাবিকুল, তাহেরা ও রিপন কিল-ঘুষি মেরে আহত করে এখান থেকে সবুজ মিয়ার ভাবি কণা আক্তার নিহতের ছেলে নাসির ভাই ইসহাক মিয়া তাকে উদ্ধার করে ঘরে নিয়ে আসে। ঘরে নিয়ে আসার পর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।



নিহতের শিশু ছেলে নাসির ও আবু ভঙ্গি শাহ জানায়, চাচা নজরুল ইসলামের ঘর নির্মাণ কে কেন্দ্র করে হাবিকুল ও তাহেরার সঙ্গে ঝগড়া শুরু হলে আমার বাবা তাদের জগরা থামাতে গেলে হাবিবকুল ও তাহেরা আমার বাবাকে বুক এবং পিঠের মধ্যে কিল ঘুষি মারতে থাকে মাটিতে পড়ে যাওয়ার অবস্থা দেখে তখন আমার চাচা ইসহাক মিয়া ও ফুফু কণা আক্তার বাড়িতে নিয়ে এসে ঘরের ভিতরে নিয়ে শরীরে তেল মালিশ করতে থাকে এমতাবস্থায় আমার বাবার মৃত্যু হয়। আমরা চাই আমার বাবার হত্যাকারীদের কঠিন শাস্তি হোক।

নিহতের স্ত্রী হালিমা আক্তার বলেন, আমি চট্টগ্রামে চাকুরী করার কারণে ওখানে থাকি। মঙ্গলবার রাতে আমার দেবর ইসহাক মিয়া আমাকে সোমবার রাতে মুঠোফোনে দুর্ঘটনার কথা জানান। যারা আমার স্বামীকে হত্যা করেছে এবং আমার বাচ্চাদেরকে এতিম করেছে আমি তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।



মদন থানার ওসি আহমেদ কবীর হোসেন জানান, বাররি পাঁচ পাড়া গ্রামের ঘটনা থানায় একটি মামলা হয়েছে এবং লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরো পড়ুন>> অনলাইন পত্রিকা নিবন্ধনে ফি ১০ হাজার টাকা

আপনার মতামত লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here