13.7 C
New York
মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২১

মধ্যনগরে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

বিজ্ঞাপন

মো. ইসহাক মিয়া স্টাফ রির্পোটার: সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলাধীন মধ্যনগর থানা যুবলীগের সভাপতি মোস্তাক আহমেদ ও আওয়ামীলীগ নেতা মোবারক হোসেন এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ভিত্তিহিন অভিযোগ এনে জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে যুবলীগের আয়োজনে এক সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন




শুক্রবার সকাল ১১ টায় মধ্যনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি এম এ মান্নান এর সভাপতিত্বে মধ্যনগর প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন,মধ্যনগর থানা কৃষকলীগের সভাপতি নেহার উদ্দিন,যুবলীগের সাধারন সম্পাদক বিদ্যুৎ কান্তি রায়,সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন, যুগ্মসাধারন সম্পাদক ওবায়দুল ইসলাম খান রনি,সাবেক ছাত্রলীগ নেতা পাখি চৌধুরী, মধ্যনগর প্রেসক্লাবের সাংবাদিকবৃন্দ ও ধর্মপাশা প্রেসক্লাবের সহসভাপতি সাংবাদিক গিয়াস উদ্দিন রানা, সাবেক সাধারন সম্পাদক মো.ইসহাক মিয়া। যুবলীগের সভাপতি মোস্তাক আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।জানা যায়, মধ্যনগর থানা যুবলীগের সভাপতি মোস্তাক আহমেদের বিরুদ্ধে চলতি ১৬ নভেম্বর দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় ‘এমপির ছোঁয়ায় ট্রলার মোস্তাক কোটিপতি’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রাকাশিত হয়।



বিজ্ঞাপন

যুবলীগের সভাপতি মোস্তাক আহমেদ থানা পুলিশের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা মাসোহারা আদায়,বিনিয়োগ ছাড়া প্রভাব খাটিয়ে জলমহাল থেকে অর্থ আদায়,ঠিকাদারি কাজে ভাগ বসানো, তদবির বাণিজ্য, মধ্যনগর বাজারে সরকারি জায়গায় তিনতলা ভবন নির্মান, অবৈধ ভাবে জায়গা দখল,ঢাকার অভিজাত এলাকায় বিলাশবহুল বাড়ির মালিক, দামী গাড়ীর মালিক, তার একাউন্টে ৬০ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে এবং ৩০ লাখ টাকা স্থিতি আছে।এ ছাড়াও বিভিন্ন মনগড়া ও ভিত্তিহিন অভিযোগ এনে সংবাদটি প্রকাশ করা হয়।লিখিত বক্তব্যে আরো জানা যায়,মধ্যনগর বাজারের চারজন ব্যবসায়ীর পরিচালিত যৌথ ব্যাবসা প্রিন্স এন্টারপ্রাইজ,মুনা এন্টারপ্রাইজ,আলিফ এন্টারপ্রাইজ,সরকার এন্টারপ্রাইজ ও যমুনা ওয়েল কোং নামীয় ব্যবসা প্রতিস্ঠানের টাকা লেনদেনর জন্য সোনালী ব্যাংক মধ্যনগর শাখায় দুটি হিসাব খোলা হয়েছে। এ দুটি হিসাবে যৌথ ব্যবসার টাকা লেনদেন হয়।এর একটি হিসাবে বর্তমানে ৩৯ হাজার টাকা ও অপর হিসাবে ৪৯ হাজার টাকা আছে। মধ্যনগর বাজারে অনেকেই সরকারী জায়গা লিজ নিয়ে বাড়ি করে বসবাস করছেন।সরকারি জায়গা দখল করেননি। তিনি ও লিজের জায়গায় বাস করছেন।




বিজ্ঞাপন

অপরদিকে মধ্যনগর থানা আওয়ামীলীগ নেতা মোবারক হোসেন তালুকদার এর বিরুদ্ধে ‘এমপি রতনের আশির্বাদে ধর্মপাশার মোবারকের হাতে আলাদীনের চেরাগ’শিরোনামে ১৭ নভেম্বর দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় সংবাদ প্রাকাশিত হয়। মোবারক হোসেন তালুকদার এর অনুপস্থিতিতে তার বড় ভাই হারুন ওর রশিদ জানান,স্থানীয় এমপির প্রভাব খাটিয়ে থানাপুলিশে তদবীর,টিআর-কাবিখায় ভাগ নেওয়া,জলমহাল দখল,ব্যাবসায়ীদের নিকট থেকে মোটা অংকের চাঁদা আদায় ও ঠিকাদারি ব্যাবসায় জড়িয়ে রাতারাতি অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়েছেন।সরকারী জায়গা দখল করে ভবন নির্মান,চাঞ্চল্যকর মিনতি মালাকার হত্যায় আসামীদের সহায়তা করা,মধ্যনগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী কর্তৃক প্রধান শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় দপ্তরিকে মদদ দিয়েছিলেন তিনি। এরকম বিভিন্ন ভিত্তিহিন অভিযোগ এনে মোবারক হোসেন তালুকদার এর বিরুদ্ধে সংবাদ প্রাকাশ করা হয়।




সংবাদে প্রকাশিত এসব অভিযোগ মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহিন বলে উল্লেখ করে তীব্রনিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন এ দুই নেতা মোস্তাক আহমেদ ও মোবারক হোসেন তালুকদার। সরেজমিন এলাকার সচেতন ও গণ্যমান্য লোকদের সাথে কথা বলে জানা যায়,মোস্তাক আহমেদ দলের প্রভাব খাটিয়ে কোন ধরনের অনৈতিক কার্যকলাপ, জোর পূর্বক জায়গা দখল করা, ঢাকা শহরে বাড়ি ও গাড়ী থাকার বিষয় কারো জানা নেই। পারিবারিক ভাবে পূর্ব পূরুষদের আমল থেকেই অবস্থাসম্পন্ন ছিল।তিনি কখনো ট্রলারচালক ছিলেন না।এক সময়ে লঞ্চ ও একাধিক ট্রলারের মালিক ছিলেন তিনি। পারিবারিক ভাবে দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী রাজনিতীর সাথে জড়িত ছিল। সেই ধারাবাহিকতায় মোস্তাক আহমেদ দলীয় নেতাকর্মীদের সমর্থনে বার বার ছাত্রলীগের সভাপতি ও যুবলীগের সভাপতির দ্বায়িত্ব পালন করে আসছেন।




আওয়ামীলীগ নেতা মোবারক হোসেন তালুকদার এর বিরুদ্ধে স্থানীয় এমপির প্রভাব খাঠিয়ে টিআর-কাবিখায় ভাগ নেওয়া,থানাপুলিশের সাথে তদবির বাণিজ্য, ব্যাবসায়ীদের নিকট থেকে চাঁদা আদায়, জোরপূর্বক জলমহাল দখল করার মতো কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি।মোবারক হোসেনসহ তার চার ভাইয়ের রয়েছে টিন রডসহ বিভিন্ন যৌথ ব্যবসা। পূর্ব থেকেই মধ্যনগর বাজারের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী তারা ।তিনি মধ্যনগর থানা আওয়ালীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির এক নম্বর সদস্য ও সাধারন সম্পাদক প্রার্থী। যার ফলে নিজ দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দের কারনে এরকম অভিযোগ ও আলোচনা সমালোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।মিনতি মালাকার হত্যা ও মধ্যনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রমেন্দ্র তালুকদারকে মারধরের ব্যাপারে মোবারক হোসেন তালুকদারের কোন রকম সম্পৃক্ততা বা আসামীদেরকে মদদ দেওয়ার মতো কোন কিছু জানা যায়নি।




নিহত মিনতি মালাকার মালাকারের বড় ভাই সুনীল মালাকার জানান,মিনতি মালাকার হত্যার ব্যাপারে মোবারক হোসেন কোন ভাবেই দায়ী নন।প্রধান শিক্ষক রমেন্দ্র তালুকদার এর সাথে যোগাযোগ করা হলে মোবারক হোসেন তালুকদারকে দায়ী করেননি তিনি।এ ব্যাপারে মধ্যনগর থানার ওসি মো. সেলিম নেওয়াজ বলেন,আমার থানা দালালমুক্ত। আওয়ামীলীগ নেতা মোবারক হোসেন তালুকদার ও যুবলীগের সভাপতি মোস্তাক আহমেদ কখনো অনৈতিক সুপারিশ করেননি।




উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান বলেন, টেন্ডারের মাধ্যমে জলমহল ইজারা দেওয়া হয়।জোরপূর্বক জলমহল দখল করার প্রশ্নই উঠেনা।সরকারি জায়গা দখলের কোন অভিযোগ পাইনি।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ সংবাদ

বিজ্ঞাপন
x