1. durjoybangla24@gmail.com : durjoy bangla : durjoy bangla
  2. afzalhossain.bokshi13@gmail.com : Afjal Sharif : Afjal Sharif
  3. aponsordar122@gmail.com : Apon Sordar : Apon Sordar
  4. awal.thakurgaon2020@gmail.com : abdul awal : abdul awal
  5. sheblikhan56@gmail.com : Shebli Shadik Khan : Shebli Shadik Khan
  6. jahangirfa@yahoo.om : Jahangir Alam : Jahangir Alam
  7. mitudailybijoy2017@gmail.com : শারমীন সুলতানা মিতু : শারমীন সুলতানা মিতু
  8. nasimsarder84@gmail.com : Nasim Ahmed Riyad : Nasim Ahmed Riyad
  9. netfa1999@gmail.com : faruk ahemed : faruk ahemed
  10. mdsayedhossain5@gmail.com : Md Sayed Hossain : Md Sayed Hossain
  11. absrone702@gmail.com : abs rone : abs rone
  12. sumonpatwary2050@gmail.com : saiful : Saiful Islan
  13. animashd20@gmail.com : Animas Das : Animas Das
  14. Shorifsalehinbd24@gmail.com : Shorif salehin : Shorif salehin
  15. sbskendua@gmail.com : Samorendra Bishow Sorma : Samorendra Bishow Sorma
  16. swapan.das656@gmail.com : Swapan Des : Swapan Des
"মুক্তিযুদ্ধের অগ্নিকন্যা কাঁকন বিবি'র গল্প" - durjoy bangla | দুর্জয় বাংলা
বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২০, ১২:০৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
মিরকাদিম পৌরসভার নগর কসবা গ্রা‌মের বিশিষ্ট সমাজ আলহাজ্ব গিয়াসউদ্দিন মুন্সী আর নেই টঙ্গীবাড়ীতে বন্যা ও নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণ ইসলামপুরের চরপুটিমারী বিট পুলিশিং কার্যক্রম উদ্বোধন। সবুজায়ন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বাড়ীর আঙ্গিণায় ৫টি করে বৃক্ষরোপন করুন সমাজকল্যান প্রতিমন্ত্রী কলমাকান্দায় চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক ডিজি আজাদকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুদক আজ খুলছে সুপ্রিমকোর্ট ৩ নম্বর সতর্ক সংকেতসমুদ্রবন্দরকে কক্সবাজারের এসপি-ওসির বিরুদ্ধে মামলা করতে যাচ্ছেন সাংবাদিক মোস্তফার স্ত্রী বন্ধ হচ্ছে আজ থেকে স্বাস্থ্য বুলেটিন




“মুক্তিযুদ্ধের অগ্নিকন্যা কাঁকন বিবি’র গল্প”

দুর্জয় বাংলা ডেস্কঃ
  • শুক্রবার, ২৩ মার্চ ২০১৮, ৯:১৯ পূর্বাহ্ণ
  • ৪৮১ বার পঠিত

 

আল-আমিন আহমেদ সালমান (সুনামগঞ্জ থেকে): লিখাটা এমন সময় যাকে নিয়ে লিখতে বসেছি তিনি আর আমাদের মাঝে বেঁচে নেই। গেল বুধবার (২১ মার্চ)দিবাগত রাত ১১টার দিকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ বিভাগে গুরুতর অবস্থায় শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে গভীরভাবে শোক প্রকাশ করেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা, মাদার অব দ্য হিম্যুনিটি,জননেত্রী শেখ হাসিনা।

আমি বলছিলাম মুক্তিযুদ্ধকাল অগ্নিকন্যা, গুপ্তচর কাঁকন বিবির কথা————–

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের খুবই কাছে একটি গ্রাম, গ্রামের নাম নক্রাই৷ সেটি চেলা বাজার থেকে মাইল ছ’য়েকের পথ৷ সেখানেই ছিল এক খ্রীষ্টান খাসিয়া পরিবার৷ বাবা গিসয়, তিনি জুমচাষের সাথেই আজীবন জড়িত ছিলেন৷ মা মেলি, তিনি স্বামীকে জুমচাষে সহযোগিতা করতেন এবং গৃহ সামলাতেন৷ গিসয় মেলি দম্পতির ছিল ৩ ছেলে ও ২ মেয়ে৷ বড় ছেলে উহর, মেঝ ছেলে উসাল, ছোট ছেলে উফান৷ আর বড় মেয়ে কাফল, সবার ছোট মেয়ে কাঁতেক নিয়তা বা কাঁকন বিবি৷ বাবা মার আদুরে নাম কাকেট। কাঁকন বিবির জন্ম কোন সালে বা কোন তারিখে তা তিনি জানেন না৷ তাঁর ভাষ্যমতে তিনি এখন আশি ঊর্ধ্ব একজন বৃদ্ধা৷ জন্মেছিলেন বৃটিশ ভারতের মিজোরাম প্রদেশে৷ কাঁকন বিবির বয়স যখন ছয় মাস তখন এক দুরারোগ্য ব্যাধিতে তাঁর বাবা গিসয় মৃত্যুবরণ করেন৷ বাবার মৃত্যুর মাস ছ’য়েকের মাথায় চিরবিদায় নেন মা মেলিও৷ অভাবের সংসারে এই পাঁচটি এতিম সন্তান একেবারেই অসহায় হয়ে পড়ে তখন৷ গিসয়’র জমি-জিরাত বলতে তেমন কিছুই ছিল না৷ ফলে অল্প বয়েসি ভাইদের উপার্জনের জন্য কাজে লাগতে হয়৷ তাঁদের আর খুব বেশি পড়াশোনা করা সম্ভব হয়নি৷ প্রতিবেশীদের কেউ কেউ তখন পরিবারটিকে বাঁচিয়ে রাখতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন৷

কাঁকন বিবির বয়স যখন ৮/৯ মাস তখনই তাঁর বড় বোন কাফলের বিয়ে হয়ে যায় এক বাঙালি মুসলমানের সাথে৷ তাঁর নাম খুশি কমান্ডার৷ মূলত তিনি বৃটিশ আমলে সীমান্ত রক্ষী বাহিনীতে চাকরি করতেন৷ এ কারণেই লোকে তাঁকে কমান্ডার বলত৷ মা মারা যাবার পর দুগ্ধ শিশু কাঁকন বিবিকে দেখাশোনা করতেন তাঁর বড় বোন কাফল৷ কিন্তু তাঁর বিয়ের পর কাঁকন বিবিকে দেখাশোনা করার আর কেউ রইল না৷ অবশেষে কাফলই তাঁর স্বামীর সহযোগিতায় কাঁকন বিবিকে নিজের বাড়িতে নিয়ে এসে সন্তানের মতো মানুষ করতে থাকেন৷ খুশি কমান্ডার ছিলেন গোঁড়ামিমুক্ত একজন উদার প্রকৃতির মানুষ৷ঐ গ্রাম থেকে একটু দূরেই ছিল পাকিস্তান সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর ক্যাম্প৷ সেই ক্যাম্পে সৈনিক হিসাবে কাজ করত পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের আব্দুল মজিদ খান৷ দেখতে বেশ লম্বা-চওড়া৷ খুশি কমান্ডারের সাথে মজিদ খানের বেশ চেনা-জানা ছিল, বাড়িতেও আসতেন মাঝেমধ্যে৷ খুশি কমান্ডারই একসময় আবদুল মজিদ খানের সাথে কাঁকন বিবির বিয়ের ব্যবস্থা পাকা করেন৷ পারিবারিকভাবেই সে বিয়ে সম্পন্ন হয়৷ ধর্মান্তরিত হয়ে নাম হয় নূরজাহান বেগম। কাঁকন বিবির সেই বিয়ের সাল বা তারিখ কোনোটাই মনে নেই৷ তবে তিনি জানান, সময়টা মুক্তিযুদ্ধের ১২/১৩ বছর আগে৷ সেই অনুযায়ী ১৯৫৮/৫৯ সাল হতে পারে৷

বিয়ে হওয়ার পর কাঁকন বিবি ভগ্নিপতির বাড়ি ছেড়ে স্বামীর সঙ্গে কর্মস্থল বোগলা ক্যাম্পে এসে ওঠেন৷ সেখানেই নতুন করে সংসার শুরু করেন৷ এই বোগলা ক্যাম্পে তিনি প্রায় পাঁচ বছর ছিলেন৷ আব্দুল মজিদ খান বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে বদলিও হলে কাঁকন বিবিকেও সাথে নিয়ে যেতেন৷ সে সময় কাঁকন বিবি সুনামগঞ্জে প্রায় ছয় মাস, সিলেটে প্রায় ৭ মাস এবং ছাতকেও কিছুদিন স্বামীর সাথে কাটান৷ বিবাহিত জীবনের দীর্ঘ আট বছরে তাঁদের ঘরে তিনটি সন্তান জন্ম নেয়৷ কিন্তু জন্মের পরপরই তারা মৃত্যুবরণ করে৷ খুব সম্ভবত এ কারণেই আব্দুল মজিদ খান সিলেট আখালিয়া ক্যাম্পে থাকা অবস্থায় কাঁকন বিবিকে পরিত্যাগ করেন৷ হঠাৎ করেই আব্দুল মজিদ খান উধাও হয়ে যান৷

স্বামী নিরুদ্দেশ হওয়ার পর একা কাঁকন বিবি অসহায় হয়ে পড়েন। আবারো ভগ্নিপতি খুশি কমান্ডারের বাসায় ফিরে যান কাঁকন। সেখানে প্রায় বছর দেড়েক থাকার পর শাহেদ আলী নামে আরেকজনের সাথে বিয়ে হয় কাঁকন বিবির। দুই বছরের সেই সংসারে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়, নাম সখিনা বিবি। ঐসময় অসহযোগ আন্দোলনে পুরো দেশ টালমাটাল ছিল। কিছুদিনের মধ্যেই শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। এসময় ভগ্নিপতি খুশি কমান্ডারকেও পাকিস্তানিরা হত্যা করে ফেলে। মুক্তিযুদ্ধের সময় সুনামগঞ্জ-সিলেট অঞ্চলটি ছিল পাঁচ নম্বর সেক্টরের অধীন৷ এই সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন লে. কর্নেল মীর শওকত আলী৷ কাঁকন বিবি যে গ্রামে থাকতেন তার পাশেই মুক্তিযোদ্ধাদের একটি ক্যাম্প স্থাপন করা হয়৷ আবার এই ক্যাম্প থেকে খানিকটা দূরেই ছিল পাকিস্তানিদের ক্যাম্প৷ যা স্থানীয়ভাবে টেংরা ক্যাম্প নামে পরিচিত৷ মুক্তিবাহিনীর যে ক্যাম্প ছিল তার কোম্পানি কমান্ডার ছিলেন শহীদ মিয়া৷ মীর শওকত আলী একদিন এই ক্যাম্প পরিদর্শনে আসেন৷

তিনিই মূলত কাঁকন বিবিকে পাকিস্তানিদের ক্যাম্প থেকে খবর সংগ্রহের কাজে লাগানোর জন্য উৎসাহিত করেন৷ কাঁকন বিবির সাথে সাক্ষাত তিনি তাঁকে কাজের গুরুত্বও বুঝিয়ে বলেন৷ কাঁকন বিবির স্বামী যেহেতু আগে পাকিস্তানি ক্যাম্পে কাজ করত সুতরাং তাঁর পক্ষেই সম্ভব সেই পরিচয় কাজে লাগিয়ে সেখানকার খবরাখবর এনে মুক্তিবাহিনীর কাছে প্রেরণ করা৷ দেশের জন্য কিছু একটা করতে পারবেন এই ভেবে রাজি হয়ে যান কাঁকন বিবি৷ দুধের শিশুকে স্বামীর কাছে রেখে নেমে যান কাজে। সেই তার যুদ্ধ শুরু। কাঁকন বিবি মুক্তিযুদ্ধে সম্পৃক্ত হন একজন ‘গুপ্তচর’ হিসাবে৷ যাঁর কাজ ছিল পাকিস্তানি ক্যাম্পে ঢুকে তাদের হাতিয়ারের ধরন, সংখ্যা ও সৈনিকদের অবস্থান সম্পর্কে খবর সংগ্রহ করা৷ স্বামী শাহেদ আলী তাঁর এই কাজে বাধা দিলেও তিনি তা উপেক্ষা করেন৷ সেই কঠিন দায়িত্ব পালন করার জন্য তিনি কয়েক দিন সময় নেন৷ চিন্তা করেন৷ পরে নিজেই বুদ্ধি খাটিয়ে একটি ময়লা ও ছেঁড়া কাপড় পরে একদিন দিনের বেলায় ভিক্ষা করতে করতে রওনা দেন টেংরা ক্যাম্পের দিকে৷ এলাকার লোকজনদের অনেকেই তখন শরণার্থী হয়ে ভারতে চলে গেছে৷ ফলে তাঁকে খুব বেশি কেউ চিনতেও পারল না৷

প্রথমে টেংরা ক্যাম্পের বাইরে কয়েকটি বাড়িতে ভিক্ষা করেন৷ পরে কৌশলে এক সময় ঢুকে পড়েন টেংরা ক্যাম্পের ভিতর৷ ভিক্ষা করার পাশাপাশি মিলিটারিদের কাছে তাঁর প্রথম স্বামী আব্দুল মজিদ খানের খোঁজও করেন৷ নানা কায়দায় কিছুক্ষণ ক্যাম্পের ভেতর অবস্থান করে সবকিছু দেখার চেষ্টা করেন৷ এবং প্রথম দিন তিনি খুব ভালভাবেই তাঁর দায়িত্ব পালন করেন৷ টেংরা ক্যাম্পে তিনি যা দেখেছেন তা সবই এসে জানান কোম্পানি কমান্ডার শহিদ মিয়াকে৷ মুক্তিবাহিনী তখন সেই মোতাবেক তাঁদের অপারেশন চালায় এবং এতে তাঁরা সফলও হয়৷ দ্বিতীয় দিনও কাঁকন বিবি একই কায়দায় টেংরা ক্যাম্পে প্রবেশ করেন৷ তখন ক্যাম্পের একটি ঘরে কয়েকজন মেয়েকেও দেখতে পান৷ মেয়েরা ছিল ক্লান্ত এবং বিপর্যস্ত৷ কাঁকন বিবির বুঝতে বাকি থাকল না এদেরকে ধরে নিয়ে আসা হয়েছে এবং শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে৷ দ্বিতীয় দিন তিনি যখন মিলিটারির কাছে তাঁর স্বামীর খবর জানতে চান তখনই তাঁকে আটক করে ফেলা হয়৷ কয়েকজন পাক হানাদার বাহিনীর সদস্য মিলে তার উপরে চালায় অকথ্য শারীরিক নির্যাতন৷ কিন্তু তখনো পর্যন্ত তারা ভাবতে পারেনি কাঁকন বিবি একজন ‘গুপ্তচর’৷ নির্যাতন শেষে তারা কাঁকন বিবিকে ছেড়ে দেয়৷ সেদিন অত্যাচারের মুখেও কাঁকন বিবি ঠিকই সেদিন সমস্ত তথ্য এনে কোম্পানি কমান্ডারকে জানান৷

অত্যাচারে পোড় খাওয়া কাঁকন বিবি যেন আরো শক্তিশালী হয়ে উঠেন। তার সাহস দ্বিগুণ বেড়ে যায়। এদিকে নির্যাতনের খবর শুনে কাঁকন বিবিকে ‘নষ্টা মেয়ে’ বলে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন স্বামী শাহেদ আলী। একমাত্র মেয়ে সখিনাকে রেখে দেন নিজের কাছে। স্বামী সন্তানকে হারিয়ে গৃহহীন, সম্বলহীন কাঁকন বিবি ঝাঁপিয়ে পড়েন মুক্তিযুদ্ধে। এই দু:সময়েও কাঁকন বিবি ‘গুপ্তচর’ হিসেবে কাজ করার জন্য যান সুনামগঞ্জে অবস্থিত পাক হানাদার বাহিনীর ক্যাম্পে৷ সেখান থেকে যান সিলেট ক্যাম্পে৷ পরে যান গোবিন্দগঞ্জ, জাউয়া বাজার ক্যাম্পে৷ যেতেন সেই ভিক্ষা করার বেশেই৷পাকিস্তানি সৈন্যদের কাছে খোঁজ করতেন নিজের প্রথম স্বামীর৷ প্রায়ই পাকিস্তানি সৈন্যরা কাঁকন বিবিকে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন চালাত৷ এতকিছুর পরেও কাঁকন বিবি নিজের কাজ সম্পর্কে ছিলেন পূর্ণ মাত্রায় সচেতন৷ দীর্ঘদিন পর কোম্পানি কমান্ডার শহিদ মিয়ার নির্দেশে তৃতীয়বারের মতো তিনি আবার যান টেংরা ক্যাম্পে৷ টেংরা ক্যাম্পে তখন আরও অনেক বাঙালি মেয়েকেই বন্দি করে রেখেছে পাক হানাদার বাহিনী৷

এর মধ্যে কাঁকন বিবি ক্যাম্প থেকে খবর সংগ্রহ করে মুক্তিবাহিনীর কাছে প্রেরণ করছেন তা স্থানীয় কয়েকজন রাজাকার সন্দেহ করে৷ ওই রাজাকাররা পাকিস্তানি ক্যাম্পে গিয়ে অফিসারদের কাছে তাদের সেই সন্দেহের কথা জানায়৷ তাঁর ভগ্নিপতি খুশি কমান্ডার যে মুক্তিযুদ্ধের সমর্থক ছিল এবং তাঁকে যে এ কারণে হত্যা করা হয়েছে সে কথাও জানায়৷ এরপর পাকিস্তানি সৈন্যরা তাঁকে ধরে নিয়ে যেয়ে অকথ্য নির্যাতন চালায়৷ টানা সাতদিন অজস্র হায়েনার লালসার শিকার হন কাঁকন বিবি। বিবস্ত্র করে চলে অমানুষিক অত্যাচার। গাছের সাথে বেঁধে নিষ্ঠুরভাবে পেটানো হয় তাকে। সারা শরীর দিয়ে রক্ত ঝরতে থাকে। বিকৃত উল্লাসে সিগারেট দিয়ে ছ্যাঁকা দেয়া হয় হাতে উরুতে তলপেটে। এক পর্যায়ে পাকহানাদাররা মোটা লোহার শিক গরম করে তাঁর উরু দিয়ে ঢুকিয়ে দেয়৷ এই বীভৎস; নির্যাতনের পরও তাঁর মুখ থেকে কোনো কথা বের করতে পারেনি পাকিস্তানি সৈন্যরা৷ সাতদিন পরে কৌশলে তিনি পালিয়ে আসেন বালাট ক্যাম্পে। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে আবার ঝাঁপিয়ে পড়েন। তার বুকে তখন প্রতিশোধের আগুন।

মৃত্যুর দুয়ার দেখে এসে এবার তার সাহস দ্বিগুণ বেড়ে যায়, গুপ্তচরের পাশাপাশি শুরু করেন সম্মুখযুদ্ধ। রহমত আলীর কাছে অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ নিয়ে সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। আর ফাঁকে ফাঁকে চলতে থাকে গুপ্তচরের কাজ। নভেম্বর মাসে টেংরাটিলার যুদ্ধে উরুতে গুলিবিদ্ধ হন, যে দাগ এখনো বয়ে চলেছেন। তিনি টেংরাটিলাসহ আমবাড়ি, বাংলাবাজার, টেবলাই বালিউড়া, মহব্বতপুর, বেতুরা, দুরবিন টিলা, আঁধার টিলা মোট ৯টি যুদ্ধে সরাসরি অস্ত্র হাতে অংশগ্রহণ করেন। নভেম্বর মাসে শেষের দিকে রহমত আলীসহ আরও কয়েক যোদ্ধাকে সঙ্গে নিয়ে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের জাউয়া ব্রিজ অপারেশনে যান। একটি সফল অপারেশনের সাক্ষী হয়ে থাকেন কাঁকন বিবি। গ্রেনেড দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছিলেন জাউয়া বাজার ব্রিজ। তবে আমবাড়ি বাজারের যুদ্ধে তার পায়ে আবার গুলি লাগে।

স্বাধীন দেশে সবাই নিজের মতো করে আবার জায়গা করে নিলেও বীরাঙ্গনা কাঁকন বিবির কোথাও জায়গা হলো না৷ অবশেষে কাঁকন বিবি একদিন নিজেই ঢাকায় চলে এলেন৷ এর-ওর কাছে জিজ্ঞেস করে বঙ্গবন্ধুর বাড়ি খুঁজে বের করেন৷ বঙ্গবন্ধুর সাথে তাঁর কথাও হয়৷ একজন বীরাঙ্গনাকে বঙ্গবন্ধু তাঁর নিজের পরিবারেই আশ্রয় দেন৷ বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সাথে বেশ কিছুদিন ছিলেন কাঁকন বিবি৷ পরে ‘৭৫-এর শুরুর দিকে বঙ্গবন্ধুর আপত্তি সত্ত্বেও তিনি নিজ গ্রামেই ফিরে যান৷ নিজ গ্রামে বসেই মুজিব হত্যার খবর পান৷ কাঁকন বিবির বুকটা ভেঙে যায়৷ ‘৭৫-এর পর থেকে প্রায় ২২ বছর কাঁকন বিবির কেটেছে স্থানীয় বাংলাবাজারের পাশে একটি ছোট্ট কুঁড়েঘরে৷ এই সময়ে তিনি কিছুটা অপ্রকৃতিস্থও ছিলেন৷ পরে অবশ্য স্থানীয় কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা উদ্যোগ নিয়ে তাঁকে চিকিৎসা করান, ভরণ-পোষণেরও দায়িত্ব নেন।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর কাঁকন বিবিকে নিয়ে পত্র-পত্রিকায় কিছু লেখালেখি হয়৷ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা তাঁকে সরকারি সুযোগ-সুবিধা দেয়ার চেষ্টা করেন৷ শেখ হাসিনাও কাঁকন বিবির সঙ্গে দেখা করে তাঁকে বাসস্থানের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন৷ বর্তমানে (মৃত্যুর পূর্বপর্যন্ত)কাঁঠালবাড়ি গ্রামের সীমান্তবর্তী বাজারে সরকারি খাস জমির ৭০ শতাংশের উপর ঘর করেছিলেন কাঁকন বিবি৷ দ্বিতীয় স্বামীর মৃত্যুর পর মেয়ে সখিনাও এখন মায়ের সাথেই থাকত। কিন্তু ভালো নেই কাঁকন বিবি। বয়সের ভারে ন্যুব্জ শরীর। অভাবের সংসারে চিকিৎসা ব্যয় যেন বিলাসিতা। শেখের বেটি কথা দিয়েছিলেন বীর প্রতীক উপাধি দিবেন। দেয়া হয়নি। তবু কাঁকন বিবির আফসোস নেই, শেখ হাসিনার দেয়া জমিতে ঘর তুলে বেঁচে আছেন কোনোমতে। কাঁকন বিবির ভাইদের পরিবার এখনো মিজোরামেই থাকে৷ তাঁদের কেউ কেউ মাঝেমধ্যে কাঁকন বিবিকে দেখার জন্য এদেশে আসতেন৷ দু’ভাই ও একবোন গত হয়েছেন৷ এক ভাই জীবিত৷ তিনিই আসতেন৷ অসম সাহসী এই মাকে ভালোবাসে মানুষ নাম দিয়েছে ‘মুক্তিবেটি’। ‘মুক্তিবেটি’ ডাক শুনলে ফিক করে হেঁসে দেন।

আপনার মতামত লিখুনঃ
নিউজটি সেয়ার করার জন্য অনুরোধ রইল!
এই জাতীয় আরো সংবাদ
durjoybangla.com







©২০১৩-২০২০ সর্বস্তত্ব সংরক্ষিত | দুর্জয় বাংলা

কারিগরি সহযোগিতায় দুর্জয় বাংলা