13.7 C
New York
শনিবার, মে ৮, ২০২১

মুন্সীগঞ্জের ঐতিহ্য বহন করছে বিক্রমপুর জাদুঘর

মোঃ মুজাহিদ খাঁন, শ্রীনগর (মুন্সিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

বিজ্ঞাপন

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সমাহার আড়িয়ল বিল। আর এই বিলের ধারেই রাঢ়ীখালের বালাশুর গ্রামে গড়ে তুলেছিলেন যদুনাথ রায় বাহাদুর তার জমিদার বাড়ি। মনোমুগ্ধকর পুরোনো বাড়িটিতে প্রবেশ করলেই চোখে পড়বে একই রকম দেখতে কারুকাজ সজ্জ্বিত মুখোমুখি দুটি জরাজীর্ণ প্রাসাদ। দেখা যাবে কাচারী ঘর, দূর্গা মন্দির, লক্ষী মন্দির। বিভিন্ন প্রজাতির দূর্লভ সব ফুল ও ফলজ গাছগাছালি। এক সময় বাড়িটিতে পূর্ণিমা তিথীতে খুব ঘটা করে পালন হতো রাশ উৎসব। বাড়িটির চারপাশ এক সময় রাতের আধাঁরে আলোয় জলমল করত।

বিজ্ঞাপন

প্রথা বিরোধী লেখক ভাষা বিজ্ঞানী ড. হুমায়ূন আজাদ তার লেখা এক প্রবন্ধে বাড়িটিকে প্যারিস শহরের সাথে তুলনা করে লিখেছেন বিলের ধারে প্যারিস শহর। সবুজ গাছ গাছালিতে ঢাকা। সকাল-সন্ধ্যায় পাখিদের কিচিরমিচির আওয়াজ। তার মাঝে বিশাল বিশাল পুকুর। পুকুরের চারপাশেই শে^তপাথরে নির্মাণ করা শানবাঁধানো ঘাট। ঘাটের চারপাশের সিঁড়িগুলো পুকুরের মাঝখানে এসে একত্রে মিলিত হয়েছে। পুকুরগুলো খুব গভীর যার কারণে সব সময়ই থাকে অথৈ পানি। জমিদার যদুনাথ রায়ের বাড়িটির স্মৃতি রক্ষার্থে প্রায় সাড়ে ১৩ একর জায়গা জুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে বিক্রমপুর জাদুঘর। অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ও সরকারি অর্থায়ণে নির্মাণ করা হয়েছে জাদুঘর, গেস্ট হাউজ। জাদুঘরের প্রথম তলায় দুইটি গ্যালারি করা হয়েছে। গ্যালারি দুইটির নামকরণ করা হয়েছে জমিদার যদুনাথ রায় ও বিজ্ঞানী স্যার জগদীশ চন্দ্র বসুর নামে। আর দ্বিতীয় তলায় করা হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা গ্যালারি।

ঘুরে আসতে পারেন: মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার রাঢ়ীখাল গ্রামে অবস্থিত জমিদার যদুনাথ রায়ের বাড়ি। যেখানে নির্মাণ করা হয়েছে বিক্রমপুর জাদুঘর। বিক্রমপুর সমন্ধে অনেক অজানা তথ্য হয়ত এই জাদুঘর ভ্রমণের মধ্যে দিয়েই আপনি জানতে পারবেন। দেখতে পাবেন শতশত বছর আগে জমিদার পরিবারের ব্যবহারিক সব আসবাবপত্র, ধাল-তলোয়াল, কাঠের নৌকা, কামানের অংশ বিশেষ, মূল্যবান পাথরের মূর্ত্তি/ভাস্কর্যসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র যা কিনা যুগ যুগ ধরে মুন্সিগঞ্জ তথা বিক্রমপুরের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বহন করে আসছে।

বিজ্ঞাপন

কিভাবে আসবেন: ঢাকার গুলিস্তান থেকে শ্রীনগর হয়ে দোহারের যাত্রীবাহী বাসগুলো কিছুক্ষণ পরপরই ছেড়ে আসছে। এছাড়াও ঢাকার পোস্তাঘোলা বুড়িগঙ্গা সেতু থেকেও শ্রীনগর-দোহারের বাসে করে আসা যায়। সময় লাগবে প্রায় ৪০-৬০ মিনিট। নামতে হবে ভাগ্যকুলে বালাশুর চৌরাস্তায়। এখান থেকে যে কোনও রিক্সা কিংবা ইজিবাইকে করে প্রায় ১০ মিনিটের রাস্তা শেষে জমিদার যদুনাথ রায়ের বাড়ি অথাৎ বিক্রমপুর জাদুঘরে আসা যায়। এসব পরিবহনে আসতে সর্বমোট ভাড়া লাগবে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত।

দর্শনার্থীর জন্য বিক্রমপুর জাদুঘরটি খোলা থাকে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পযর্ন্ত। শুধুমাত্র বৃহস্পতিবার বন্ধ থাকে। শুক্রবার জাদুঘরটি জুম্মা নামাজের পর থেকে বিকাল পর্যন্ত খোলা রাখা হয়। সাপ্তাহিক ছুটি হিসেবে বৃহস্পতিবার জাদুঘরটি বন্ধা থাকে। কোনরুপ প্রবেশ মূল্য নেই। এছাড়াও সময় পেলে ঘুরে দেখতে পারেন একই এলাকার রাঢ়ীখালের শ্রীনগর-দোহার সড়ক সংলগ্ন জগৎ বিখ্যাত বিজ্ঞানী স্যার জগদীস চন্দ্র বসুর পৈত্রিক বাড়িটিও। এখানে বিজ্ঞানীর স্মৃতি চারনে গড়ে তোলা হয়েছে স্যার জেসি বোস কমপ্লেক্স ও পিকনিক কর্নার। সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য পিকনিক কর্নার ও জাদুঘরটি খোলা রাখা হয়। প্রবেশ মূল্য জনপ্রতি মাত্র ২০ টাকা।

বিজ্ঞাপন

অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন শ্রীনগর কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক লেখক মুজিব রহমান জানান, বিক্রমপুরের রয়েছে হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য। এক সময় পূর্ব বঙ্গ বা সমতটের রাজধানী ছিল বিক্রমপুর। আর এই মাটিতেই জন্মগ্রহন করেছেন অনেক মনীষী। বিক্রমপুরের মাটি খুঁড়ে পাওয়া গেছে হাজার বছর আগের নৌকা, কাঠের ভাস্কর্য, পাথরের ভাস্কর্য, টেরাকোটাসহ অসংখ্য অমূল্য প্রতœবস্তু। এসব অতীত ঐতিহ্য সংরক্ষণ করে প্রদর্শনের জন্য অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন এখানে বিক্রমপুর জাদুঘরটি। ”আমরা আলোর পথযাত্রী” শ্লোগানকে সামনে রেখে দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনটি এই অঞ্চলে কাজ করে যাচ্ছে।

আরো পড়ুন: পূর্বধলায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পুনঃ সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

Please enter your comment!
Please enter your name here

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ সংবাদ

x